সেই হীরে প্রস্তুতকারক - এইচ. জি. ওয়েলস

গল্পটি শেয়ার করেছেন : নাজমুস সাকিব

নদীর ধারে ল্যাম্প পোষ্টের আলোতে গল্পের নায়কের সঙ্গে দেখা হয় এক ভিখিরি গোছের লোকের। সে নাকি হীরে তৈরি করতে পারে! জীবনের যাবতীয় সম্বল গবেষণার পিছনে শেষ করেও শেষ পর্যন্ত বার করেছে কৃত্রিমভাবে হীরে তৈরির পদ্ধতি। তার কথা কি ঠিক? তবে কেন তার এই চরম দারিদ্র্য?


ব্যবসার কারণে সেদিন রাতে আমার দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাছাড়া সামান্য মাথাব্যথাও করছিল। মোটকথা, কাজ করতেও ইচ্ছে ছিল না আবার যে ফুর্তি করতে কোথাও যাব তারও সামৰ্থ্য ছিল না। ঠিক করলাম, নদীর ধারে বসে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিই। নদীর ওপরে পড়া রাতের আলোয় মাথা ঠাণ্ডা করে নিই। নদীর কালো জলে ঢেউ ভাঙার মৃদু আওয়াজ যা একটু নীরবতা ভঙ্গ করছিল। মনে হচ্ছিল আলো যেন জলের ওপরে সাঁতরে বেড়াচ্ছে।
'বেশ উষ্ণ সন্ধ্যা,’ আমার পাশ থেকে কেউ বলে উঠল।
মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম। আমার পাশে বসা লোকটার ফ্যাকাশে মুখ, পিন দিয়ে আটকানো কোট লোকটার দীনদশা সহজেই বুঝিয়ে দেয়। বুঝতে পারলাম এর সঙ্গে কথা বললেই এর থাকা খাওয়ার সংস্থান আমাকেই করতে হবে।
আমি কৌতুহলের সঙ্গে লোকটাকে দেখছিলাম। লোকটার চোখে-মুখে বুদ্ধিমত্তার ছাপ।
'হ্যাঁ, বেশ উষ্ণ, তবে আমাদের সেরকম গরম লাগার কথা নয়'-বলে উঠলাম। 'তা ঠিক। এখানে এখন বেশ আরামদায়ক'-লোকটা জলের দিকে তাকিয়ে বলল।
খানিকবাদে ফের বলে উঠল-'লণ্ডনের আশেপাশে এত শান্ত জায়গা সত্যিই ভালো লাগে। সারাদিন ব্যবসার ব্যস্ততায় কাটানোর পর এরকম শান্ত জায়গা না পেলে কি হত বলা মুস্কিল। মাঝে মাঝে আমার ইচ্ছা হয় নাম-অৰ্থ-প্রতিপত্তি সবকিছুর মোহ ত্যাগ করি। আর সামান্য কোন ব্যবসা শুরু করি। কিন্তু জানি উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করলে জীবনের বাকি কটা দিনও শান্তিতে কাটাতে পারব না।'
ও চুপ করে গেল। আমি অবাক হয়ে ওর দিকে তাকালাম। ওর পোশাক ছিঁড়ে গেছে। গায়ে নোংরা, দাড়িও ক'দিন কামায়নি। মনে হচ্ছে এক সপ্তাহ যেন ডাস্টবিনে কাটিয়ে উঠে এসেছে। আর ও এসেছে বড় ব্যবসা সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করতে।
আমি হেসেই ফেলেছিলাম প্রায়। হয় লোকটা পাগল; না হয় নিজের দারিদ্র নিয়েই রসিকতা করছে।
'কিন্তু উঁচু পদে খাটুনি আর দুশ্চিন্তা থাকলেও কি হবে, নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধাও তো পাওয়া যায়। প্রভাব-প্রতিপত্তি, অন্যের ভালো করার ক্ষমতা, গরীবদের সাহায্য করার ক্ষমতা'-আমি প্ৰায় উল্টো সুরে বলে উঠলাম আর বলেই খারাপ লাগল।
খুব সংযতভাবে লোকটা বলে উঠল—'আমি মাঝে মাঝে নিজেকে ভুলে যাই। আপনি হয়ত ব্যাপারটা বুঝতে পারছেন না। বললেও বিশ্বাস করবেন না। তাই আপনাকে বলাই নিরাপদ। আমার হাতে সত্যিই বিশাল ব্যবসা আছে-বিশাল ব্যবসা। কিন্তু বর্তমানে নানান অসুবিধের মধ্যে আছি। সত্যি বলতে কি- আমি হীরে তৈরি করতে পারি!'
'মনে হয়, আপনার বর্তমানে কোন চাকরি নেই। না?'-সহানুভূতির সঙ্গে বলে উঠলাম।
'অসহ্য! কেউই আমাকে বিশ্বাস করতে চায় না।'-অধৈর্যের সঙ্গে ও এটুকু বলে ওর ছিন্ন কোটের তলা থেকে একটা ছোট ব্যাগ বার করল। তার ভেতর থেকেও খয়েরী রঙের একটা নুড়ি পাথর বার করল। 'এটা কী জান?'
লন্ডনে সায়েন্সে ডিগ্রি নেওয়ার সময় আমার পদার্থবিদ্যা আর আকরিক বিজ্ঞানে সামান্য আগ্রহ ছিল। তারই দৌলতে বুঝলাম এ পাথরটা অনেকটাই না কাটা কালচে হীরের মত। তবে অবিশ্বাস্য রকম বড়। প্রায় আমার বুড়ো আঙুলের উপর দিকটার মত। অষ্টভুজ পাথরটা হাতে নিয়ে দেখলাম। সত্যিই সবথেকে মূল্যবান পাথরের মত দেখতে। ছুরির ডগা দিয়ে পাথরটায় আচড় কাটার ব্যর্থ চেষ্টা করলাম। আমার ঘড়ির কাঁচে ওটা দিয়ে সহজেই একটা দাগ কেটে ফেললাম।
অবাক হয়ে বলে উঠলাম।-'হ্যা, এটা অনেকটাই হীরের মত। কিন্তু, এত বড় হীরে? আপনি কোথায় পেলেন?'
'বললাম তো, আমি বানিয়েছি। দিন আমাকে ফেরৎ দিন।'
ও তাড়াতাড়ি ফিসফিসিয়ে বলে উঠল-'আমি আপনাকে একশ পাউণ্ডে বিক্রি করতে পারি।' বলতেই আমার ফের সন্দেহ হল। হয়ত এটা অন্য কোন শক্ত কিছুতে গড়া। ঘটনাচক্ৰে আকারটাও অনেকটা হীরের মতোই। আর সত্যিই যদি হীরে হয় তাহলে ও সামান্য একশ পাউন্ডে আমাকে বিক্রি করবে কেন?
আমরা পরস্পরের চোখের দিকে তাকালাম। ওকে বিক্রির ব্যাপারে আগ্রহী মনে হল। তবে সে আগ্রহে সততার ছাপ আছে। বিশ্বাস করলাম না হয় যে, এটা একটা হীরে। কিন্তু আমিও তো বড়লোক নই। একশ পাউণ্ডের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই আর তাছাড়া রাস্তার গ্যাসলাইটে একটা অপরিচিত ভিখারীর কাছ থেকে তার কথায় বিশ্বাস করে হীরে কেনার ভুল কোন লোক করবে না। তবু ভাবলাম, হয়ত এ হীরেটার দাম বহু হাজার পাউন্ড।
'কী করে পেলেন?' ফের জিজ্ঞাসা করলাম।
'আমি বানিয়েছি।'
আমার মাথা ঘুরে গেল। আমি কৃত্রিম হীরের কথা পড়েছি কিন্তু সে তো খুব ছোট হয়!
'আপনি নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে খানিকটা জানেন । আমি আমার সম্বন্ধে আপনাকে একটু বলি। তারপরে না হয় কেনার কথা ঠিক করবেন।' দীর্ঘশ্বাস ফেলে ও ফের বলে উঠল-'অবশ্য আমি জানি আপনি আমাকে বিশ্বাস করবেন না।'
'হীরে'-ওর সংযত গলায় শিক্ষিত লোকের আশ্বাস পেলাম। ফের বলে উঠল-'হীরে কার্বনের সঙ্গে অপদ্রব্য মিশিয়ে ছাপ প্রয়োগে পাওয়া যায়। কার্বন এভাবে কেলাসাকার ধারণ করে। গুঁড়ো চারকোলের জায়গায় ছোট ছোট হীরের টুকরো পাওয়া যায়। এটা রসায়নবিদরা জানে। কিন্তু ঠিক কী অপদ্রব লাগে বা ঠিক কী চাপে কার্বনকে গলিয়ে সবথেকে ভালো হীরে পাওয়া সম্ভব তা এখনও জানা যায়নি। তাই রসায়নবিদরা যে হীরে তৈরি করতে পেরেছেন তা ছোট আর কালো। অলঙ্কার হিসেবে তার কোন মূল্যই নেই। আমি ওই সমস্যার অনুসন্ধানে সারা জীবন কাটিয়ে দিয়েছি। সতেরো বছর বয়সে এ কাজে হাত দিই। আর আজ আমার বত্রিশ। মনে হয় ওই দশ কি বারো বছরের আমার সব চিন্তা-ভাবনা উদ্যম আমি এর পিছনে ঢেলে দিয়েছি । কিন্তু এখন মনে হয় তার মূল্য আমি পেয়েছি। এর রহস্য ফাঁস হলে হীরে কয়লার মতোই সাধারণ হয়ে উঠবে। কিন্তু তার আগেই যে-কেউ কোটি কোটি টাকা এ থেকে আয় করে নিতে পারে। হ্যা, আর আমিই তা আয় করতে চলেছি।
আমার বয়স যখন একুশ, আমার কাছে এক হাজার পাউণ্ড ছিল। মনে হয়েছিল, এ দিয়েই আমাৰ গবেষণার খরচ চলে যাবে। প্রধানত বার্লিনে আমি এক থেকে দুবছর এ বিষয়ে পড়াশুনো করি। কিন্তু সমস্যা ছিল গবেষণার গোপনীয়তা নিয়ে। দেখ, আমি যদি আমার এ গবেষণার কথা জানাতাম তাহলে রাতারাতি অনেক লোকই এ ধারণার বশবর্তী হয়ে গবেষণায় নেমে পড়ত। সবার আগে আমিই যে এ আবিষ্কার করতে পারব সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না, কারণ অতটা প্রতিভা আমার নেই। আর লোকেদেরও জানতে দেওয়া উচিত নয় যে, আমি কৃত্রিমভাবে এই হীরের স্তুপ বানাতে পারি। তাহলে তো তার দাম কমে যাবে। তাই আমি একাই কাজ করতাম। আমার ছোট ল্যাবরেটরি ছিল। কিন্তু কিছুদিনেই আমার প্রায় সবটাকা শেষ হয়ে গেল। বাধ্য হলাম, সেটা ছেড়ে কোনটিস শহরে এসে একটা ভাঙা আসবাবহীন ঘরে পরীক্ষা চালাতে। মাদুর পেতে চারদিকের যন্ত্রপাতির মধ্যে আমি শুতাম । টাকা জলের মতো বেরিয়ে গেল। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ছাড়া আমার আর কিছুই থাকল না। ছাত্ৰ পড়িয়ে যা সামান্য পেতাম তাতে কোনক্রমে চলতে লাগল। তার মধ্যেই ক্রমশ ঠিক লক্ষ্যে এগোতে থাকলাম। অপদ্রবের গঠন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করলাম। একদিন আমার তৈরি অপদ্রব আর কিছু কার্বন আকরিক বন্ধ বন্দুকের নলের মধ্যে রেখে বাকিটা জলে ভর্তি করে শক্ত করে সীল করলাম। তারপর তাপ দিয়ে প্রায় ওই প্রয়োজনীয় চাপে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম'-ও থামল।
'কিন্তু এতো অত্যন্ত বিপজ্জনক'-আমি বললাম।
'হ্যা, ওটা বাস্ট করল। আমার জানলা আর নানান যন্ত্রপাতি চুরমার হয়ে গেল। কিন্তু আমি হীরের গুড়ো পেলাম। বুঝতে পারলাম দ্রবণের উপর উচ্চচাপ সৃষ্টি করে আমি কেলাসাকার গঠন তৈরি করতে পারব। ডব্‌রির প্যারিস ল্যাবরেটরিতে করা গবেষণার কথা আমার খেয়াল হল। ও বন্ধ স্টিটল সিলিণ্ডারে ডায়নামাইট ফাটাতে সক্ষম হয়েছিল। কোনক্রমে প্রায় সর্বস্বাস্ত হয়ে ওরকম একটা স্টিল সিলিণ্ডার আমার পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তৈরি করলাম। আমি আমার পরীক্ষামূলক দ্রবণকে বিস্ফোরণের সাহায্যে ফার্নেসে উত্তপ্ত করতে দিয়ে পুরো ব্যবস্থাটাকে স্টিল সিলিণ্ডারে ঢুকিয়ে একটু হাটতে বেরোলাম।'
আমি না হেসে পারলাম না-'আপনার কী মনে হয়েছিল পুরো বাড়ি উড়ে যেতে পারে? আর কেউ ছিল ও জায়গায়?'
'সবই বিজ্ঞানের আগ্রহে। আমার নিচের তলায় থাকত এক ভিখিরি গোছের চিঠিপত্র লেখক। ওপরে থাকত দুই ফুলওয়ালী। হয়ত খানিকটা না ভেবেই কাজটা করে ফেলেছিলাম। আমি যখন ফিরে এলাম, তখন সবই ঠিক আগের অবস্থায় আছে।
কোন বিস্ফোরণ ঘটেনি। জানো নিশ্চয়ই, কেলাসায়নে সময়টা বড় ভূমিকা পালন করে। যত সময় লাগবে তত বড় আকারের কেলাস পাবে। আমি ওই পুরো যন্ত্রটাকে ঠাণ্ডা হতে দুবছর সময় দিয়েছিলাম। যাতে আস্তে আস্তে ঠাণ্ডা হয়। এই দুবছর ঘরের ভাড়া দিতে দিতে আর গবেষণার কাজ চালাতে গিয়ে আমি এখন প্রায় সর্বস্বান্ত।
এর মাঝে আমি কাগজ বিক্রি করেছি, ঘোড়া টেনে বেড়িয়েছি, ভিক্ষা করেছি- সবই করেছি এর জন্য।
অবশেষে তিন সপ্তাহ আগে আমি সিলিন্ডারটা খুলে ফেললাম। এখনও এত গরম যে আমার হাত পুড়ে গেল। হাতুড়ি আর ছেনী দিয়ে সেই জ্বলন্ত লাভা সরিয়ে দেখি তার মধ্যে তিনটে বড় আর পাঁচটা ছোট ছোট হীরে। মেঝের ওপর বসে আছি এমন সময় দরজা খুলে আমার প্রতিবেশী প্রবেশ করল। সেই চিঠি লেখক। ও পুরো মত্ত অবস্থায়। ওর কথা থেকে জানলাম ও সেদিন সকালেই আমার সব কথা, গবেষণার কথা পুলিশে জানিয়েছে। বুঝলাম আমি ফাঁদে পড়ে গেছি। পুলিশ এলে আমাকে সব কথা জানাতে হবে, আর সব জানাজানি হয়ে যাবে। নয়তো দেশদ্রোহীর মতো পালিয়ে পালিয়ে থাকতে হবে। আমি উত্তেজিত হয়ে ওই লোকটাকে মারধর করলাম। তারপর হীরের টুকরোগুলো নিয়ে সোজা হাঁটা দিলাম। সান্ধ্য কাগজে দেখলাম আমার আস্তানাকে কেন্‌টিস শহরের বোমের ফ্যাক্টরি বলে বলা হয়েছে। এখন আমি এগুলোর আকর্ষণেই বল, টাকার টানেই বল এ জিনিসগুলো সঙ্গে নিয়ে ঘুরছি।
এগুলো নিয়ে বড় জহুরীর কাছে গেলে ওরা আমাকে অপেক্ষা করতে বলে চলে যায়। শুনতে পাই ফিসফিসিয়ে কর্মচারীকে পুলিশ ডাকতে বলছে। আমি পালিয়ে আসি। বুঝতে পারি সবাই সন্দেহ করছে আমাকে চোর বলে। আমার কাছে হাজার পাউণ্ডের হীরে অথচ সামান্য খাওয়া-থাকার পয়সা নেই। ভাগ্যের কী পরিহাস! আপনিই প্রথম যে আমার কথা বিশ্বাস করেছেন।'-ও এতটা বলে আমার দিকে তাকাল।
বললাম-'দেখুন, আমি তো এখন হীরে কেনার পাগলামি করতে পারি না, একশ পাউণ্ড পকেটে নিয়েও ঘুরি না। আমি আপনার কাহিনিকে অনেকটা বিশ্বাস করি। আপনি বরং কাল আমার অফিসে আসুন।'
'আপনি নিশ্চয়ই আমাকে চোর ভাবছেন। আমি গেলেই আপনার ফাঁদে পড়ব। আপনি নির্ঘাৎ পুলিশে জানাবেন।'
'না, যে কোন কারনেই হোক, আমি আপনাকে চোর মনে করি না। আপনি বরং আপনার সুবিধামত যে কোন সময় আসুন। এই নিন আমার কার্ড। আপনি আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন।'
ও কার্ড নিয়ে মাথা নাড়িয়ে বলল-'আমি আপনার ঋণ অবশ্যই একদিন না একদিন শোধ দেব। এত টাকা সুদ দেব যে আপনি কল্পনাই করতে পারবেন না। কিন্তু আপনি এ খবর গোপন রাখবেন। ঠিক? আর, আমার পিছু পিছু আসবেন না।'-বলে ও রাস্তা পার হয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল । সেই শেষ দেখা।
পরে আমার সঙ্গে ওর দু'বার যোগাযোগ হয়েছিল। একটা চিঠি এসেছিল ওর দেওয়া ঠিকানায় ড্রাফ্‌ট পাঠাতে বলে। আমি পাঠাই নি। আর একবার ও এসেছিল। তখন আমি ছিলাম না। আমার কাজের মেয়েটির বর্ণনায় বুঝেছিলাম ও আরও রোগা হয়ে গেছিল। ছেঁড়া পোশাকে এসেছিল আর টিবি রুগীর মতো খকখিক করে কাশছিল। ও কোন খবর রেখে যায় নি।
তারপরে আর ওর সঙ্গে কোন যোগাযোগ হয়নি। কে জানে ও সত্যিই হয়ত হীরে তৈরি করেছিল। কিম্বা ও হয়ত এক প্রতিভাবান পাগল বা পাথরের চোরাকারবারী ছাড়া আর কিছু নয়! সে যাক্‌গে, খুব সম্ভবত আজ ও আর নেই। চারদিকে দামী হীরে ছড়িয়ে রেখে ও হয়ত মারা গেছে। অথচ হয়ত এখনও বিক্রির চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে আমার মাঝে মাঝেই মনে হয় আমি ওই হীরের টুকরোটার জন্য অন্তত পাঁচ পাউন্ডের ঝুঁকি নিতে পারতাম।
অনুবাদ : অনিরুদ্ধ চৌধুরী
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য