রূপালী মাকড়সা - পর্ব : ২

গল্পটির আগের অংশ পড়তে এখানে যাও: পর্ব : ১

দিন কয়েক পর।
    হেডকোয়ার্টারে বসে আছে তিন গোয়েন্দা।
    পাশা স্যালভিজ ইয়ার্ডের ভেতর আবর্জনার স্তূপের তলায় চাপা পড়ে আছে একটা ট্রেলার—মোবাইল হোম। ভাঙাচোরা। ওটাকে মেরামত করে নিয়ে নিজেদের গোপন আস্তানা বানিয়েছে তিন গোয়েন্দা। কয়েকটা গোপন পথ আছে, ওরা তিনজন ছাড়া আর কেউ জানে না।
    কয়েক মিনিট আগে পিয়ন নিয়ে এসেছে সকালের ডাক। ইতিমধ্যেই মোটামুটি নাম ছড়িয়ে পড়েছে তিন গোয়েন্দার, অভিনেতা জন ফিলবি আর তার ‘টেরর ক্যাসলের’ সৌজন্যে। অনেকেই চিঠি লেখে এখন ওদের কাছে। বেশির ভাগই বাচ্চা ছেলেমেয়ে, কিংবা ধনী বিধবা। কারও হয়ত বল হারিয়ে গেছে, কেউ এক বাক্স চিউইং গাম খুঁজে পাচ্ছে না, কিংবা কোন বিধবার আদরের বিড়ালটা হয়ত কয়েকদিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়েছে, আর ফেরেনি। খুঁজে বের করে দেবার ডাক আসে। গ্রাহ্য করে না কিশোর। এসব সাধারণ কাজ হাতে নেবার কোন ইচ্ছেই নেই তার—যদিও মুসার খুবই আগ্রহ, চিঠিগুলো সোজা ময়লা ফেলার ঝুড়িতে নিক্ষেপ করে গোয়েন্দাপ্রধান।
    হারিয়ে যাওয়া প্রিয় কুকুরটা খুঁজে দেবার অনুরোধ করে চিঠি পাঠিয়েছে এক বিধবা। এটাই পড়ছে রবিন, এই সময় বাজল টেলিফোন।
    তিন গোয়েন্দার ব্যক্তিগত টেলিফোন। ইয়ার্ডের কাজে চাচা-চাচীকে সাহায্য করে ওরা অবসর সময়ে। পারিশ্রমিক হিসেবে মেরিচাচীর হাতে তৈরি আইসক্রীম-কেক আর হট-চকলেট ছাড়াও নগদ কিছু টাকা পায় রাশেদ চাচার কাছ থেকে। ওখান থেকেই টেলিফোনের বিল দেয় ওরা। গোয়েন্দাগিরি করে স্রেফ শখে, এর জন্যে টাকা পয়সা নেয় না মক্কেলের কাছ থেকে।
    ছোঁ মেরে রিসিভার তুলে নিল কিশোর।
    ‘হ্যালো,’ বলল গোয়েন্দাপ্রধান। ‘তিন গোয়েন্দা। কিশোর পাশা বলছি।’
    ‘গুড মর্নিং কিশোর,’ স্পীকারে গমগম করে উঠল ভারি কণ্ঠস্বর। আগের মত মাইক্রোফোনের সামনে আর রিসিভার ধরতে হয় না, নতুন ব্যবস্থা করে নিয়েছে কিশোর। টেলিফোন লাইনের সঙ্গে কায়দা করে স্পীকারের যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়েছে। ওপাশ থেকে কেউ কথা বললেই বেজে উঠে স্পীকার। হেডকোয়ার্টারে বসা সবাই একসঙ্গে শুনতে পায় কথা।
    রিসিভারে চেপে বসল কিশোরের আঙুল। চোখ বড় বড় হয়ে গেছে মুসা আর রবিনের। কান খাড়া হয়ে গেছে। মিস্টার ডেভিস ক্রিস্টোফার!
    ‘কিশোর, তোমাকে পেয়ে যাওয়ায় ভালই হল,’ আবার বললেন চিত্র পরিচালক, ‘শিগগিরই একজন দেখা করতে যাচ্ছে তোমাদের সঙ্গে।’
    ‘দেখা করতে আসছে? কোন কেস, স্যার?’
    ‘টেলিফোনে কিছুই বলা যাবে না,’ জবাব দিলেন চিত্রপরিচালক। ‘খুব গোপন ব্যাপার। তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছি আমি। অনেক কিছু জেনেছি, বুঝেছি। তোমাদের পক্ষেই সুপারিশ করেছি আমি। আশা করি, নিরাশ করবে না। হ্যাঁ, বিস্ময়কর এক প্রস্তাব আসছে তোমাদের কাছে। আগে থেকেই হুঁশিয়ার করে রাখছি। ভেবেচিন্তে কাজ কর।...রাখলাম।’
    লাইন কেটে গেল ওপাশে। রিসিভারের দিকে এক মুহূর্ত চেয়ে রইল কিশোর। ধীরে ধীরে নামিয়ে রাখল ক্রেডলে। স্তব্ধ নীরবতা ট্রেলারের ভেতর।
    ‘কি মনে হয়? আরেকটা কেস?’ অনেকক্ষণ পর কথা বলল রবিন।
    কিশোর কিংবা মুসা কিছু বলার আগেই বাইরে শোনা গেল মেরিচাচীর ডাক। ট্রেলারের স্কাইলাইটের খোলা জায়গা দিয়ে বাতাস ঢোকে, ওখান দিয়েই আসছে।
    ‘কিশোর! বেরিয়ে আয় তো! একজন লোক দেখা করতে এসেছে তোর সঙ্গে।’
    কয়েক মুহূর্ত পর। দুই সুড়ঙ্গের মস্ত পাইপের ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছে তিন গোয়েন্দা। একজনের পেছনে আরেকজন। চল্লিশ ফুট লম্বা পাইপ, হাঁটুতে খুব ব্যথা পেত আগে। তাই পুরানো কার্পেট কেটে পেতে দিয়েছে ওরা ভেতরে।
    লোহার পাতটা সরাল কিশোর। বেরিয়ে এল তাদের ওয়ার্কশপে। তার পেছনে বেরোল মুসা, তারপর রবিন। পাতটা আবার পাইপের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বেরিয়ে এল ওরা জঞ্জালের বেড়ার অন্য পাশে।
    মেরিচাচীর কাচঘেরা অফিসের পাশে একটা ছোট্ট গাড়ি। বনেটে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক তরুণ।
    দেখামাত্রই তাকে চিনল তিন গোয়েন্দা। দিমিত্রির সঙ্গে কালো এসকর্ট কারে ছিল ওই যুবক।
    ‘হাল্লো!’ তিন গোয়েন্দাকে দেখেই সোজা হয়ে দাঁড়াল যুবক। হেসে এগিয়ে এল। ‘আবার আমার সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে, নিশ্চয় ভাবনি? সেদিন তো পরিচয় হয়নি, আজ হয়ে যাক। আমি বব ব্ৰাউন।...এই যে, আমার আইডেনটিটি।’
    পরিচয়পত্র দেখাল যুবক। সরকারী সিল-ছাপ্পর মারা।
    ‘আমি সরকারী লোক,’ কার্ডটা আবার পকেটে রাখতে রাখতে বলল যুবক। ‘জরুরি কিছু কথা আছে। নিরাপদে বলা যাবে কোথায়?’
    ‘আসুন!’ ভাবনা চলছে কিশোরের মাথায়। সরকারী লোক, তিন গোয়েন্দার কাছে এসেছে! জরুরি কথা! মিস্টার ডেভিস ক্রিস্টোফারও বার বার হুঁশিয়ার করেছেন। নাহ্, কিছু বুঝতে পারছে না সে।
    তিন গোয়েন্দার ওয়ার্কশপে ববকে নিয়ে এল কিশোর। পুরানো দুটো চেয়ারের একটাতে বসতে দিল অতিথিকে। নিজে বসল আরেকটায়। মুসা আর রবিন বসল দুটো বাক্সের ওপর।
    ‘হয়ত বুঝতে পারছ, কেন এসেছি?’ কথা শুরু করল বব। তাকাল তিন গোয়েন্দার দিকে।
    কেউ কোন কথা বলল না।
    ‘ব্যাপারটা ভ্যারানিয়ার প্রিন্স দিমিত্রিকে নিয়ে,’ বলল আবার বব।
    ‘প্রিন্স দিমিত্ৰি!’ ভুরু কুঁচকে গেছে মুসার। ‘কেমন আছে সে?’
    ‘ভাল। তোমাদেরকে তার শুভেচ্ছা জানিয়েছে।’ কিশোরের দিকে তাকাল বব। ‘দু’দিন আগে ওর সঙ্গে কথা হয়েছে আমার। আগামী দু’হপ্তার মধ্যেই অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হবে। তোমাদেরকে দাওয়াত পাঠিয়েছে সে।’
    ‘ইয়াল্লা!’ চেঁচিয়ে উঠল মুসা। ‘ইয়োরোপে যাব! সত্যি বলছেন তো?’
    ‘সত্যিই বলছি,’ হাসল বব। ‘তোমরা তার বন্ধু। আমেরিকার আর কোন ছেলেকেই সে চেনে না। দেশেও বন্ধুবান্ধব নেই খুব একটা। তাছাড়া, ভ্যারানিয়ায় কে যে তার বন্ধু, আর কে নয়, বোঝা খুবই মুশকিল। রাজকুমারের সঙ্গে ভাল ব্যবহার করবে সবাই, তাকে তোয়াজ করে খুশি রাখতে চাইবে, এটাই স্বাভাবিক। এতে আর যাই হোক, বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে না। তাই, সত্যিকারের কয়েকজন বন্ধুকে কাছে রাখতে চায় অভিষেকের সময়।...আসল কথা কি জান, আইডিয়াটা আমিই ঢুকিয়েছি তার মাথায়।’
    ‘আপনি?’ রবিন কথা বলল। ‘কেন?’
    ‘কারণ, আমাদের, মানে আমেরিকানদের কিছু স্বাৰ্থ জড়িত রয়েছে,’ বলল বব। ‘শান্তির দেশ ভ্যারানিয়া, অন্তত এতদিন তাই ছিল। কোন শত্রু নেই, সুইজারল্যান্ডের মত। ওভাবেই থাকুক, এটাই চায় আমেরিকান সরকার। কোন শক্ৰ-দেশ ওখানে আস্তানা গেড়ে আমাদের অসুবিধে করুক, এটা মোটেই কাম্য নয়।’
    ‘কিন্তু,’ এতক্ষণে কথা বলল কিশোর। ‘ভ্যারানিয়ার মত ছোট দরিদ্র একটা দেশ কি এমন দিতে পারে আমেরিকাকে?’
    ‘পারে, পারে। ছোট বলে ইঁদুরকে উপেক্ষা করা উচিত না সিংহের। ভ্যারানিয়া একটা স্পাই বেস, দুনিয়ার সব দেশের গুপ্তচরদের স্বর্গ। যাকগে, ওসব বলার দরকার নেই এখন। তো, তোমরা যাবে?’
    চোখ মিটমিট করছে তিন কিশোরই। যাবার জন্যে ওরা এক পায়ে খাড়া। কিন্তু কিছু সমস্যা আছে। যেমন, এতদূরে অজানা অচেনা জায়গায় যেতে মত দেবেন কিনা অভিভাবকেরা, খরচ দেবেন কিনা ইত্যাদি। বব ব্রাউনকে জানাল ওরা সে কথা।
    ‘ওসব কোন সমস্যাই না,’ বলল বব। ‘রবিন আর মুসার বাবাকে ফোন করবেন মিস্টার ক্রিস্টোফার। তোমাদের সব দায়িত্ব আমার ওপর, সেকথা বলে দেবেন। কিশোরের চাচীর সঙ্গে আমি কথা বলব। মনে হয় না অরাজী হবেন। আর টাকা পয়সার কোন ভাবনা নেই। সব খরচ বহন করবে আমাদের সরকার। দেশের একটা সম্মান আছে, সেটা বজায় রাখতে হবে। যত খুশি খরচ কর ভ্যারানিয়ায়, পুরোদস্তুর আমেরিকান সেজে থেক, কোন বাধা নেই।’
    হাসি একান-ওকান হয়ে গেল মুসার। রবিনের চোখও চকচক করছে। কিন্তু কিশোরের চেহারা দেখে বোঝা গেল না খুশি হয়েছে কি না।
    ‘কিন্তু,’ ভ্রূকুটি করল কিশোর, ‘আমেরিকান সরকারের এত গরজ কেন? টাকা পয়সা খরচের ব্যাপারে কোন দেশের কোন সরকারই দরাজহস্ত নয়। আমাদের সরকারও এর বাইরে নন।’
    ‘মিস্টার ক্রিস্টোফার বলেছেন, তোমরা খুব বুদ্ধিমান,’ হাসল বব। ‘বুঝতে পারছি, ঠিকই বলেছেন। ঠিক আছে, বলেই ফেলছি। জুনিয়র এজেন্ট হিসেবে তোমাদেরকে ভ্যারানিয়ায় পাঠাতে চান ইউ এস সরকার।’
    ‘তারমানে...তারমানে প্রিন্স দিমিত্রির ওপর গুপ্তচরগিরি করতে...’ হতবুদ্ধি হয়ে গেছে যেন মুসা।
    জোরে জোরে মাথা নাড়ল বব। ‘মোটেই না। তবে চোখ খোলা রাখবে। সন্দেহজনক যে-কোন ঘটনা চোখে পড়ুক, কিংবা কথা কানে আসুক, সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করবে। ভেতরে ভেতরে সাংঘাতিক কিছু একটা ঘটছে ভ্যারানিয়ায়। শিগগিরই হয়ত বিস্ফোরণ ঘটবে। কি হচ্ছে বা হবে, কিছু জানি না আমরা। সেটা জানতে আমাদেরকে সাহায্য করবে তোমরা।’
    ‘আশ্চর্য!’ ভুরু কুঁচকে আছে কিশোর। ‘আমি জানতাম, গোপন খবর জানার অনেক উৎস আছে সরকারের...’
    ‘মানুষ নিয়েই গঠিত হয়েছে সরকার,’ বাধা দিয়ে বলল বব। ‘তাছাড়া, ভ্যারানিয়ায় কোন গোপন খবর খুবই শক্ত ব্যাপার। ছোট্ট দেশ ওটা, কিন্তু এমন কিছু মানুষের জন্ম দিয়েছে, দেশের জন্যে বিনা দ্বিধায় যারা প্রাণ দিয়ে দিতে পারে। দরিদ্র, তবু লোভী নয় ওদেশের মানুষ। বাইরের কোন সাহায্য ছাড়াই চালিয়ে নিয়েছে এতদিন। ওদের ভাঙা হয়ত সহজ, কিন্তু মচকানো প্রায় অসম্ভব। না খেয়ে থাকতে রাজি, তবু কারও কাছে হাত পাতবে না। যেচে পড়ে কেউ সাহায্য দিতে গেলেও নেবে না। দেশের স্বাধীনতাকে বড় বেশি মর্যাদা দেয় ওরা!’ থামল সে। তারপর বলল, ‘তবে মক্কায়ও খারাপ লোক আছে। ভ্যারানিয়ার বর্তমান রিজেন্ট, ডিউক রোজার বুরবন, তেমনি এক লোক। এটা অবশ্যই আমাদের সন্দেহ। তা না-ও হতে পারে। আমাদের সন্দেহ, দিমিত্রিকে প্রিন্স হতে দেবে না সে কিছুতেই। অভিষেক অনুষ্ঠানই হতে দেবে না। রাজ্য শাসন করছে অনেক দিন থেকে, এই লোভ সে ছাড়তে পারবে বলে মনে হয় না। যদি কোন অঘটন ঘটে ভ্যারানিয়ায়, সেই হবে এর হোতা।’
    নীরব রইল তিন কিশোর। খুশি খুশি ভাবটা চলে গেছে মুসা আর রবিনের চেহারা থেকেও।
    ‘নিরপেক্ষ একটা দেশ, এর ঘরোয়া ব্যাপারে বাইরের কারও নাক গলানো উচিত না,’ আবার বলল বব। ‘কিন্তু গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, শিগগিরই সাংঘাতিক কিছু একটা করতে যাচ্ছে ডিউক রোজার, তখন আর ঘরোয়া থাকবে না ব্যাপারটা। বুঝতেই পারছ, আমাদের অস্বস্তির যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আমরা জানতে চাই, কি ঘটাতে যাচ্ছে রোজার। আমরা, বড়রা প্যালেসের ধারেকাছে ঘেঁষতে পারব না। দিমিত্রিও আমাদের কাছে মুখ খুলবে না কিছুতেই। তবে, তোমরা সহজেই ঢুকতে পারবে প্যালেসে, ওখানেই থাকতে পারবে, তোমাদের কাছে মনের কথা বলেও ফেলতে পারে প্রিন্স। গোলমালটা কি ঘটতে যাচ্ছে, আগেভাগে একমাত্র তোমাদের পক্ষেই জানা সম্ভব। তাছাড়া, ক্ষমতায় যারা রয়েছে, তোমাদেরকে সন্দেহ করবে না। অসতর্ক হয়ে কিছু একটা করে বসতে পারে তোমাদের সামনেই, যাতে অনেক কিছুই ফাঁস হয়ে যাবে।’
    এবারও কেউ কিছু বলল না শ্রোতারা।
    ‘তো, আসল কথায় আসা যাক,’ বলল বব। ‘কাজটা নিচ্ছ তোমরা?’
    কিশোরের দিকে চেয়ে অপেক্ষা করে রইল মুসা আর রবিন। সিদ্ধান্তের ভার গোয়েন্দাপ্রধানের ওপরই ছেড়ে দিল ওরা নীরবে।
    গভীর চিন্তায় ডুবে আছে কিশোর, নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটছে একনাগাড়ে।
    ‘রাজনীতিতে জড়ানোর কোন ইচ্ছেই আমার নেই,’ হঠাৎ বলে উঠল কিশোর। ‘তাছাড়া ওসব করার বয়েসও হয়নি এখনও, কিছুই বুঝি না। দেশের জন্যে ঘামানোর অনেক বড় বড় মাথা রয়েছে। আমাদের কাজ ওসব নয়। তবে হ্যাঁ, আমাদের অভিভাবকদের খুলে বলতে হবে সব কথা। তাঁরা যদি মত দেন, যাব। সে-ও শুধু প্রিন্স দিমিত্রিকে সাহায্য করতেই, আর কোন কারণে নয়।’
    ‘ব্যস ব্যস, ওতেই চলবে,’ হাত তুলল বব। ‘বন্ধুকেই সাহায্য কর তোমরা। তবে একটা কথা। নিজে থেকে ঘুণাক্ষরেও বিপদের আভাস দেবে না দিমিত্রিকে। সে যদি বলে, বলুক। তোমরা কি কারণে গেছ, এটাও যেন কেউ না জানে। প্যালেসের সবাই জানবে, তোমরা বেড়াতে গেছ। খবরদার, অপরিচিত কারও কাছে প্রিন্স দিমিত্রি সম্পর্কে কোনরকম আলোচনা করবে না। জানিয়ে রাখছি, আট বছর আগে এক মোটর দুর্ঘটনায় মারা গেছেন তার বাবা। তখন থেকেই কোন কারণে ডিউকের উপর খেপে আছে ভ্যারানিয়ার জনসাধারণ। ওকে দেখতে পারে না তারা। যদি জানে, তোমরা স্পাই, বারুদে জ্বলন্ত ম্যাচের কাঠি পড়বে। কাজেই চোখ খোলা রাখবে, কান সজাগ রাখবে, মুখ বন্ধ রাখবে।’
    ‘তাহলে এবার অভিভাবকদের...’ বলতে গিয়ে বাধা পেল রবিন।
    ‘বলেছিই তো, সে ভার আমার,’ বলে উঠল বব। ‘তাহলে উঠি। তোমরা যাবার জন্যে তৈরি হওগে। কালই ফ্লাইট।’

গল্পটির পরের অংশ পড়তে এখানে যাও: পর্ব : ৩
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য