কাকাতুয়া রহস্য - পর্ব : ৬

গল্পটির আগের অংশ পড়তে এখানে যাও: পর্ব : ৫

ইংরেজি ভাল বলতে পারে না স্যানটিনো, তাই কিশোরের সঙ্গে কথা বলার সময় দোভাষীর কাজটা নিতে হলো ডিয়েগোকেই।
শুরুতে কয়েকটা সাধারণ প্রশ্ন করল কিশোর, মাথা নেড়ে শুধু ‘সি সি,’ করল স্যানটিনো।
তারপর আরেকটা প্রশ্নের জবাবে চাচার হয়ে ডিয়েগো বলল, ‘দু-বছর আগে এখানে এসেছে চাচা। মেকসিকো থেকে এসেছে গাধার গাড়িতে চড়ে। হ্যাঁ, ডিয়েগোই নিয়ে এসেছে। চাচা মালীর কাজ খুব ভাল জানে, বিশেষ করে ফুল চাষে ওস্তাদ। কিন্তু হলিউডে এসে কোন কাজ পেল না। তারপর একজন বলল, ফুলের ব্যবসা করতে। খোঁজ করতে করতে চাচা চলে এল এখানে, ভাঙা গ্রীনহাউসটার কথা শুনে। হাউসের বেশির ভাগ কাচই ভাঙা। তবু দেখেটেখে চাচার মনে হলো, কোন কোন জাতের ফুল জন্মানো সম্ভব। মাসিক পাঁচ ডলারে ভাড়া নিয়ে নিল।
‘পুরানো টিন জোগাড় করে লাগাল ভাঙা কাচের জায়গায়, বাতাস আর তাপ মোটামুটি ঠেকানো গেল এতে। ভাল জাতের দুর্লভ কিছু ফুলের চাষ করল ভেতরে, বাইরে লাগাল সাধারণ ফুল, আবহাওয়া আর তাপমাত্রার কমবেশিতে যেগুলোর কিছু হয় না। সেই ফুল গাধার গাড়িতে করে শহরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে, খাওয়াপরা চলে যেত কোনমতে।
‘চলে যাচ্ছিল। এই সময় একদিন লম্বা, রোগা এক লোক এল এখানে। তার নাম ক্যাপ্টেন লঙ জন সিলভার। রোগে ভুগে কাহিল, টাকাপয়সা নেই। এসে থাকতে চাইল। লোকটার অবস্থা দেখে মানা করতে পারল না চাচা।
‘সিনর সিলভারের সঙ্গে ছিল একটা নাবিকদের ব্যাগ, তাতে তার পুরানো কাপড়-চোপড়, আর একটা বাক্স। ধাতুর তৈরি, চ্যাপ্টা। এই এত বড়,’ হাত ছড়িয়ে দেখাল ডিয়েগো, বাক্সটা কত বড় ছিল।
‘সি সি,’ বলে মাথা নাড়ল স্যানটিনো, বোঝাল, ডিয়েগো ঠিকই বলেছে।
‘চোদ্দ ইঞ্চি বাই চব্বিশ,’ মনে মনে দ্রুত হিসেব করে নিয়ে বিড় বিড় করল কিশোর। ‘হ্যাঁ, বলো, তারপর?’
‘শক্ত তালা লাগানো থাকত বাক্সটায়,’ বলল ডিয়েগো। ‘মাথার নিচে রেখে ঘুমাত। রোজ রাতে ডালা খুলে বাক্সের ভেতর তাকাত। খুব সুখী মনে হত তখন তাকে, মুখে হাসি ফুটত।’
আবার মাথা নাড়ল স্যানটিনো, ‘সি, সি। খুব সুখী।’
‘চাচা একদিন সিনর সিলভারকে জিজ্ঞেস করল, বাক্সে কি আছে,’ ঘন চুলের বোঝায় আঙুল চালাল ডিয়েগো, মনে করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘লোকটা রহস্যময় হাসি হেসে বললঃ বাক্সে আছে রামধনুর একটা টুকরো, তার তলায় একপাত্র সোনা।’
‘রামধনুর একটা টুকরো, তার তলায় এক পাত্র সোনা,’ ডিয়েগোর কথার প্রতিধ্বনি করল যেন কিশোর, ভুরু কুঁচকে গেছে। ‘রহস্যময় বর্ণনা। হ্যাঁ, তারপর?’
‘চাচা অসুখে পড়ল, ভীষণ কাশি। আমাকে আসার জন্যে খবর পাঠাল মেকসিকোয়, তাকে দেখার কেউ ছিল না এখানে। এলাম। কিন্তু ফুলচাষের ব্যাপারে সাহায্য করতে পারলাম না, কাজ জানি না। আমাকে এনেও বিশেষ লাভ হয়নি চাচার।’
‘কি বলিস লাভ হয়নি?’ বাধা দিয়ে ভাঙা ইংরেজিতে বলল স্যানটিনো। ‘তুই না এলে, আমাকে না দেখলে তো এতদিনে মরে যেতাম।’
‘চাচা বাড়িয়ে বলে, আমাকে ভালবাসে তো,’ উজ্জ্বল হলো ডিয়েগোর মুখ। ‘যাই হোক, সিনর কিশোর, আমি এসেও সিনর সিলভারকে দেখেছি। চাচার চেয়ে বেশি অসুস্থ। কি অসুখ জিজ্ঞেস করলাম। শুধু বলল, এমন এক অসুখ, যা কোনদিন সারবে না। কেন সারবে না, জিজ্ঞেস করলাম। বাক্স খুলে সোনার পাত্র থেকে সোনা বিক্রি করে ভাল ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিলাম। হাসল সে। কিন্তু আমার মনে হলো, হাসি নয়, কাঁদল। বলল, দুনিয়ার তাবৎ সোনা বিক্রি করেও তার রোগ সারানো যাবে না।
‘ও বলল...’ লম্বা দম নিল ডিয়েগো, মনে করার চেষ্টা করছে ঠিক কি কি বলেছিল সিলভার। ‘ও বলল তাছাড়া পাত্রের সোনা বিক্রিও করা যাবে না। নাম ভাড়িয়ে বেআইনী ভাবে আমেরিকায় ঢুকেছে সে। বেচতে গিয়ে ধরা পড়লে পুলিশ আবার তাকে পাঠিয়ে দেবে ইংল্যান্ডে—যেখান থেকে এসেছে, যতদিন বাঁচে, রোজ রামধনুটা দেখে দেখে দুঃখ ভোলার চেষ্টা করবে। তারপর একদিন বলল, শিগগিরই চলে যাচ্ছে সে।’
মেঘ জমল ডিয়েগোর সরল নিষ্পাপ চেহারায়। ‘তখন বুঝিনি কি বলতে চেয়েছে। একদিন বাইরে থেকে সাতটা খাঁচা নিয়ে ফিরল সিনর সিলভার, সাতটায় সাতটা কাকাতুয়া। সব কটার হলদে ঝুঁটি। গ্রীনহাউসে রেখে কথা শেখাতে শুরু করল ওগুলোকে।’
দ্রুত চোখে চোখে তাকাল একবার কিশোর আর মুসা। কাকাতুয়া-রহস্যের অন্ধকারে আলোর আভাস দেখা যাচ্ছে।
‘পাখি পোষ মানাতে জানত সিনর সিলভার,’ বলে গেল ডিয়েগো। ‘বলতে ভুলে গেছি, ব্ল্যাকবিয়ার্ডকে আগেই নিয়ে এসেছিল সে, প্রথম যখন এখানে আসে, তখনই কাঁধে ছিল কালো পাখিটা। সারাক্ষণ তার কাঁধে বসে থাকত পাখিটা, আর মুখ খারাপ করে গালাগাল করত, খুব মজা পেত সিনর সিলভার, জোরে জোরে হাসত।
‘গ্রীনহাউসে কাজ চলল। দিনের পর দিন ওখানে কাটাতে লাগল সিনর সিলভার। একেকটা কাকাতুয়ার একটা করে বিচিত্র নাম দিল। বিচিত্র সব বুলি শেখাতে লাগল। আমার কাছে খুব কঠিন মনে হত কথাগুলো, ঠিক বুঝতাম না।’
‘হ্যাঁ, কঠিনই,’ মাথা দোলাল কিশোর। ‘ইংরেজি সাহিত্য আর ইতিহাস থেকে নেয়া হয়েছে। সেজন্যেই দুর্বোধ্য ঠেকেছে তোমার কাছে। মনে আছে কোনও বুলি?’
‘না,’ ফোঁস করে নিঃশ্বাস ফেলল ডিয়েগো। ‘বুঝিইনি, মনে রাখব কি? একদিন একটা কাকাতুয়া মারা গেল। খুব মুষড়ে পড়ল সিনর সিলভার। শেষে আপনমনেই বলল, কি আর করা? ওটার জায়গা দখল করবে ব্ল্যাকবিয়ার্ড।
‘যাই হোক, ছ-টা কাকাতুয়া আর কালো কাকাতুয়াটাকে, তোমরা যেটাকে ময়না বলছ, বুলি শেখানো শেষ হলো। সিনর সিলভার নিজেও ময়নাটাকে বলত ‘রেয়ার’ প্যারট।’
‘কি জানি,’ নাক চুলকাল কিশোর। ‘কোন ব্যাপারকে ঘোরালো করার জন্যেই হয়তো বলত। তারপর?’
বিষণ্ণ ভঙ্গিতে হাত নাড়ল ডিয়েগো। ‘তারপর আর কি? চলে গেল সিনর সিলভার। যেদিন কাকাতুয়াগুলোকে বুলি শেখানো শেষ করল, সে-রাতেই। সঙ্গে নিয়ে গেল তার প্রিয় বাক্সটা। ফিরে এল তিন দিন পর আরও কাহিল, আরও রোগা হয়ে। এসেই বলল, আবার চলে যাবে। বাক্সটা সঙ্গে আনেনি কেন জিজ্ঞেস করায় বলল, ওটা নিয়ে বিপদে পড়ব আমরা। নইলে নাকি যাওয়ার আগে আমাদেরকেই দিয়ে যেত।
‘লম্বা একটা চিঠি লিখল সে। পোস্ট করার জন্যে দিল আমার হাতে।’
‘ঠিকানাটা মনে আছে?’ জিজ্ঞেস করল কিশোর।
মাথা নাড়ল ডিয়েগো। ‘না, সিনর কিশোর। অনেকগুলো টিকেট লাগাতে হয়েছে। খামের চারধারে লাল-নীল অনেক ডোরা ছিল।’
‘এয়ার মেইলে গেছে মনে হচ্ছে,’ বলল মুসা। ‘এত বেশি স্ট্যাম্প যখন লাগানো হয়েছে, ইউরোপে পাঠিয়েছে হয়তো।’
‘কাহিল হয়ে বিছানা নিল সিনর সিলভার,’ বলল আবার ডিয়েগো। ‘হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলাম। বলল দুনিয়ার কোন হাসপাতালই তাকে ভাল করতে পারবে না। বলল, আমরা তার সত্যিকার বন্ধু, আমাদের মাঝেই সে থাকতে চায়।’
ভিজে এল ডিয়েগোর চোখ। খানিকক্ষণ কোন কথা বলতে পারল না।
‘অদ্ভুত লোক ছিল সিনর সিলভার,’ ধরা গলায় বলল ডিয়েগো। ‘কিন্তু মনটা ছিল বড় ভাল। অদ্ভুত রসিকতা করত, ধাঁধা বলত, এমনকি কথাও বলত ঘুরিয়ে। আজব বুলি শিখিয়েছিল কাকাতুয়াগুলোকে। কিন্তু ভালবেসেছিল আমাদেরকে, আমরাও...’ কণ্ঠরুদ্ধ হয়ে এল তার। সামলে নিয়ে বলল, ‘সিনর সিলভার বলল, একজন খুব মোটা লোক আসবে। আমাদেরকে এক হাজার ডলার দিয়ে কাকাতুয়াগুলো কিনে নিয়ে যাবে। তারপর হাসতে শুরু করল। কাকাতুয়াগুলোকে কথা শেখানোই নাকি তার জীবনের সবচেয়ে বড় রসিকতা। তার কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝিনি। বলল, এই রসিকতা নাকি ঘাম ঝরিয়ে ছাড়বে মোটা লোকটার। হাসতে হাসতেই ঘুমিয়ে পড়ল সে।
‘পরদিন সকালে আর জাগল না সিনর সিলভার,’ ঢোক গিলে চুপ হয়ে গেল ডিয়েগো।
দুই গোয়েন্দাও চুপ করে রইল। মেকসিকান ছেলেটার দুঃখ বুঝতে পারছে।
‘মোটা লোকটা আসেনি?’ জিজ্ঞেস করল কিশোর।
মাথা নাড়ল ডিয়েগো। ‘সিনর সিলভার আমাদের বন্ধু ছিল, তার লাশ দাফন করার ভারও পড়ল আমাদের ওপর। রাস্তার ওদিকে ছোট একটা গির্জা আছে। ওখানেই তাকে কবর দিলাম। টাকা ছিল না আমাদের কাছে, বাকিতেই সব কাজ সারতে হলো। মোটা লোকটার আসার অপেক্ষায় রইলাম। এক হপ্তা গেল, দুই হপ্তা গেল, তিন হপ্তা গেল, সে এল না। ওদিকে বাকি থাকার জন্যে চাপ দিচ্ছে লোকে। শেষে বাধ্য হয়ে কাকাতুয়াগুলো নিয়ে বেরোল চাচা। হলিউডে গিয়ে বিক্রি করে এল।
‘লোকে কাকাতুয়া পছন্দ করে দেখলাম। একদিনেই বিক্রি হয়ে গেল সব। টাকা খুব বেশি পাওয়া গেল না, দরাদরি করলে হয়তো যেত, কিন্তু সময় একদম ছিল না। তাড়াহুড়োয় যা পেল তাতেই দিয়ে চলে এল চাচা। সিনর সিলভারের কবরের দাম শোধ করল। ভেবেছিলাম, হাজার ডলার পেলে কুঁড়েটা ঠিক হবে...’ অনেকক্ষণ পর হাসি ফুটল ডিয়েগোর মুখে। ‘যাই হোক, এখন আর দুঃখ নেই। দরজা-জানালা কিনে ফেলেছি। লাগিয়ে নিলেই হলো। চাচা ভাল হয়ে আবার ফুলের চাষ শুরু করবে। আপনাকে এক হাজার ধন্যবাদ, সিনর কিশোর।’
‘তথ্য যা জানিয়েছ, তাতে আরও কিছু পাওনা হয়ে গেছে তোমার,’ আশ্বাস দিল কিশোর, ‘ভেব না। আচ্ছা, শেষতক তো মোটা লোকটা এসেছে?’
‘এসেছে,’ বলল ডিয়েগো।
‘সি, সি,’ মাথা নেড়ে ভাতিজার কথায় সায় জানাল স্যানটিনোও।
‘কাকাতুয়াগুলো বিক্রি করে ফেলার দুই হপ্তা পর এল লোকটা,’ জানাল ডিয়েগো। ‘বেচে দিয়েছি শুনে রেগে লাল। বকাবকি শুরু করল চাচাকে, শাসাল। যেখান থেকে পারে এনে দিতে বলল। শেষে নরম হলো। অনুরোধ করতে লাগল, পারলে পায়ে ধরে। কি আর করি? শেষে পেট্রল স্টেশনে থেকে গিয়ে একটা ম্যাপ চেয়ে আনলাম। চাচা লেখাপড়া জানে না, ম্যাপের কিছুই বুঝল না। তার কাছ থেকে ধারণা নিয়ে অনুমানে বের করলাম, কোন এলাকায় পাখিগুলো বিক্রি করেছে। দেখালাম মোটা লোকটাকে, ম্যাপে। আর একদণ্ড দেরি করল না সে। রেঞ্জার হাঁকিয়ে চলে গেল।
‘যাওয়ার আগে কার্ডটা রেখে গেল। বলে গেল, কাকাতুয়াগুলার কোন খবর পেলেই ফোনে জানাতে। কিন্তু কোথায় পাবে চাচা খবর? পেলে তো কাজের কাজই হত। একহাজার ডলার সোজা কথা? তবে ওই টাকা ছাড়াও বাঁচতে পারব আমরা,’ মাথা উঁচু করে বলল ডিয়েগো। ‘বন্ধুর কবর দিয়েছি। ঘর মেরামতের ব্যবস্থা করেছি। কোনভাবে এ-মাসের ভাড়াও জোগাড় করব। ভাল হয়ে উঠে চাচা কাজে লাগবে। মোটকা সিনর তখন আর অপমান করার সাহস পাবে না চাচাকে।’
তার শেষ কথাটায় না হেসে পারল না মুসা।
গভীর চিন্তায় মগ্ন কিশোর। ঘনঘন চিমটি কাটছে নিচের ঠোঁটে। কাকাতুয়াগুলোর ব্যাপারে অনেক কথা জেনেছে, তবে এখনও অনেক কিছু জানা বাকি। ডিয়েগোকে প্রশ্ন করতে যাচ্ছিল, এই সময় দরজায় দেখা দিল বোরিস।
ডিয়েগোর কাহিনীতে এতই মগ্ন ছিল দুই গোয়েন্দা, বোরিসের কথা ভুলে গিয়েছিল।
‘সব নামিয়েছি,’ জানাল বোরিস। ‘যাওয়া দরকার। ইয়ার্ডে অনেক কাজ।’
‘আরেকটু। হয়ে গেছে,’ বলল কিশোর। ‘ট্রাকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাপ আছে না?’
‘কয়েকটা। লাগবে?’
‘আপনি ট্রাকে বসুন গিয়ে। মুসার কাছে দিয়ে দিন।’
ম্যাপ নিয়ে এল মুসা।
‘ডিয়েগো,’ ম্যাপ বিছিয়ে বলল কিশোর, ‘দেখাও তো, কোন জায়গা?’
খানিকক্ষণ দেখে নিয়ে এক জায়গায় আঙুল রাখল ডিয়েগো, ‘মনে হয়, এখানে।’
পেন্সিল দিয়ে একটা এলাকায় গোল বৃত্ত আঁকল কিশোর। ভাঁজ করে পকেট রেখে দিল ম্যাপটা।
‘থ্যাংকস, ডিয়েগো,’ বলল সে। ‘বিলি আর বো-পীপকে কোথায় বিক্রি করেছেন তোমার চাচা, জানি। অন্যগুলোও দূরে কোথাও নয় নিশ্চয়। অনেক কথা জানা গেল তোমার কাছে, কিন্তু রহস্যের কোন কিনারা তো হলোই না, আরও জটিল হলো।’
‘ঠিক বলেছ,’ আঙুল তুলল মুসা।
‘ইস্, হাতে পেয়েও হারালাম ব্ল্যাকবিয়ার্ডকে...’ আফসোস করল কিশোর। ‘যাকগে, যা গেছে তা নিয়ে ভেবে লাভ নেই।’ হাত মেলাল ডিয়েগোর সঙ্গে। ‘আশা করি, শিঘ্রী ভাল হয়ে যাবেন তোমার চাচা। আর হ্যাঁ, মোটকা যদি আবার বিরক্ত করতে আসে, সোজা পুলিশে খবর দেবে।’
‘পুলিশ?’ জ্বলে উঠল ডিয়েগোর কালো চোখের তারা। ‘মোটকা সিনর আবার এলে...’ বিছানার তলা থেকে মোটা একটা লাঠি বের করল সে। ‘হাসপাতালে যাওয়ার অবস্থা করে ছেড়ে দেব।’
হাসল তিনজনেই।
ছুটে চলেছে ট্রাক। নিচের ঠোঁটে চিমটি কাটছে কিশোর।
‘কি ভাবছ?’ জবাব না পেয়ে কনুই দিয়ে বন্ধুর গায়ে গুঁতো দিল মুসা। ‘হেই, কিশোর?’
‘অ্যাঁ?’
‘কি ভাবছ?’
‘কেসটা জটিল।’
‘শুধু জটিল?’
‘না, বেশ জটিল।’
‘কেন, মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মত বলতে লজ্জা লাগছে?’
‘না, লাগছে না,’ স্বীকার করল কিশোর। ‘মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার মতই।’

গল্পটির পরের অংশ পড়তে এখানে যাও: পর্ব : ৭
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য