জাদুর থলি, টুপি আর শিঙা - জার্মানির রূপকথা

        এক সময় ছিল তিন ভাই। ক্রমশ তারা ভারি গরিব হয়ে পড়ে। শেষটায় তাদের অবস্থা এমন খারাপ হয়ে পড়ল যে, দু-মুঠো খাবারও জোটে না। নিজেদের মধ্যে তখন তারা বলাবলি করল, "এভাবে আর চলে না। বেরিয়ে পড়ে আমাদের ভাগ্য পরীক্ষা করা যাক৷” এই-না বলে তারা বেরিয়ে পড়ল৷ নানা পাহাড় আর উপত্যকা পেরিয়ে অনেক দূর--তারা গেল। কিন্তু তবুও কপাল তাদের ফিরল না। আরো যেতে যেতে তারা পৌছল এক গহন বনে। সেই বনের মাঝখানে ছিল একটা ঢিবি। কাছে গিয়ে তারা দেখে ঢিবিটা রুপোয় ঠাসা। বড়ো ভাই তখন বলল, “জীবনের সব আনন্দ এখন পেলাম।” এই-না বলে যতটা পারল রুপো নিয়ে সে বাড়ি ফিরে গেল। কিন্তু অন্য দুভাই বলল, “রুপোর চেয়ে বেশি কিছু না পেলে আমরা সুখী হব না।” তাই তারা রুপো না নিয়ে চলল এগিয়ে।

        আরো দুদিন হাঁটার পর তারা আর-একটা টিবির কাছে পৌছল। সেটা সোনায় ঠাসা। মেজো ভাই দাঁড়িয়ে পড়ে ভাবতে লাগল। কী করবে স্থির করতে পারল না। বলল, “কী করি? জীবনে যত সোনার দরকার তত সোনা নেব, নাকি এগিয়ে যাব?” শেষটায় পকেট বোঝাই করে সোনা নিয়ে, ছোটো ভাইকে বিদায় জানিয়ে সে-ও বাড়ি ফিরে গেল।
        ছোটো ভাই কিন্তু বলল, “সোনা-রুপোয় আমার দরকার নেই। অন্য জায়গায় আমার আনন্দ খুঁজতে যাই। হয়তো আমার ভাগ্যে আরো ভালো কিছু আছে।” তিনদিন হাঁটার পর সে পৌছল একটা বনে। বনটা এত বড়ো যে, মনে হয় সেটার বুঝি শেষ নেই। তার সঙ্গে খাবারদাবার কিছুই ছিল না মনে হল ক্ষিদের জ্বালায় সে মারা পড়বে। বনটা কোথায় যে শেষ হয়েছে , দেখার জন্য সে একটা গাছে চড়ল। কিন্তু যতদূর চোখ যায় সে দেখে শুধু গাছের চুড়ো। গাছ থেকে সে নেমে পড়ল আর ক্ষিদের জ্বালায় অস্থির হয়ে এই কথাগুলো না বলে সে পারল না, “ক্ষিদে মেটাবার জন্যে যদি কিছু পেতাম।” আর কি আশ্চর্য, সঙ্গে সঙ্গে সে দেখে গাছের তলায় একটা টেবিল আর সেই টেবিল ভরা গরম-গরম নানা মুখরোচক খাবারে। গরম খাবারের ধোঁয়া তার মুখে এসে লাগল। “ঠিক সময়েই আমার ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছে", বলে চেঁচিয়ে উঠে সে বসে পড়ে পেট ভরে খেল। খাবারগুলো কোথা থেকে এল বা কে সেগুলো রেঁধেছে—এ-সব প্রশ্ন নিয়ে একবারও সে মাথা ঘামাল না। খাওয়া শেষ হতে সে ভাবল, “এই সুন্দর টেবিল-ঢাকাটা বনের মধ্যে ফেলে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে। সেটা খুব দুঃখের কথা।” এই-না ভেবে টেবিলটার-ঢাকাটা পরিপাটি করে ভাঁজ করে সে পকেটে পুরল।
        তার পর সে হেঁটে চলল। সন্ধেয় আবার ক্ষিদে পেলে সে স্থির করল ছোট্টো টেবিল-ঢাকাটা পরখ করে দেখবে। তাই সেটা বিছিয়ে সে বলল, “আমি চাই আবার ভালো-ভালো খাবারে তুমি ভরে ওঠো।” কথাগুলো তার মুখ থেকে খসতে-না-থসতেই আবার ভালো-ভালো খাবারে সেটা ভরে গেল। এবার খাবারের পরিমাণ আগের চেয়ে দশগুণ বেশি। কতগুলো যে ডিশ গুণে সে শেষ করতে পারল না।
        সে বলে উঠল, “এবার বুঝলাম কোন রান্নাঘরে আমার খাবার রান্না হয়েছে। রুপোর সোনার পাহাড়ের চেয়েও এ-কাপড়টা দামী।” কারণ সে বুঝল এই ছোট্টো কাপড়টার মধ্যে একটা জাদুর ক্ষমতা আছে—নিজে থেকেই এটা পারে খাবারে ভরে উঠতে। কিন্তু এই অমূল্য সম্পদ নিয়ে একই জায়গায় বসে থাকতে তার ইচ্ছে করল না। সে চেয়েছিল ঘুরে ঘুরে পৃথিবীকে দেখতে আর আনন্দকে খুঁজে বার করতে ৷
        এক সন্ধেয় সে পৌছল ভারি এক নিজন নিরানন্দ বনে। সেখানে কুচকুচে কালো একটি লোকের সঙ্গে তার দেখা। লোকটির পেশা কাঠ পুড়িয়ে কাঠকয়লা তৈরি করা। রাতের খাবারের জন্য কয়লার আগুনে সে আলু ঝলসে নিচ্ছিল। ছোটো ভাই বলল, “শুভসন্ধ্যা নিগ্রোভায়া; এই নির্জন জায়গায় সময় কাটাও কী করে?”
        সে বলল, “একটা দিন হুবহু অন্যটার মতো। প্রতি সন্ধেয় আমি আলু দিয়ে খাওয়া সেরে নিই। আলু যদি পছন্দ হয় তা হলে আজ সন্ধেয় আমার অতিথি হবে?”
        ছোটো ভাই বলল, “অনেক ধন্যবাদ। তোমার খাবারে আমি ভাগ বসাতে চাই না । আপত্তি না থাকলে আমিই তোমাকে খাওয়াব।” এই— না বলে ঝোলা থেকে টেবিল-ঢাকাটা বার করে সে মাটিতে বিছালো।
        লোকটি বলল, “তোমার কাছে ঐ টেবিল-ঢাকা ছাড়া অন্য কিছু না থাকলে আমাকে কী করে তুমি খাওয়াবে জানি না। কাছে পিঠে একটাও বাড়ি নেই যেখান থেকে তুমি খাবার জোগাড় করতে পায়।”
        ছোটো ভাই বলল, “তা সত্ত্বেও তোমাকে আমি এমন খানা খাওয়াব জীবনে সেরকম খানা খাও নি।” তার পর সে বলল, “ছোটো টেবিলঢাকা, ভালো-ভালো খাবারে ভরে ওঠো ।” আর কী আশ্চর্য, সঙ্গে সঙ্গে সেটা ভরে গেল মাংসর নানারকম খাবারে। সেগুলো এত গরম, যেন সবে রান্নাঘর থেকে এসেছে।
        কাঠ পুড়িয়ে কাঠকয়লা বানানো যার পেশা সে লোকটি দারুণ অবাক হয়ে গেল। তাকে আর দ্বিতীয়বার বলতে হল না। সঙ্গে সঙ্গে বসে পড়ে কালিঝুলি মাখা মুখের মধ্যে সে ভরতে লাগল মাংসর বড়ো-বড়ো টুকরো। পেট ভরে খেয়ে বোকা হাসি হেসে লোকটি বলল, “টেবিল— ঢাকাটার ওপর আমার শ্রদ্ধা জন্মে গেছে। এই নির্জন বনে এটার সাহায্যে বিনাপয়সায় এরকম ভালো-ভালো খাবার পাওয়া যেতে পারে বলে আমার কাছে এটা এক অমূল্য সম্পদ। তাই আমি একটা বিনিময়ের প্রস্তাব করছি। কাছেই একটা পুরনো মিলিটারি থলি খুলছে। দেখতে কুচ্ছিত হলেও সেটার মধ্যে জাদুর গুণ আছে। কিন্তু সেটা সম্বন্ধে আমার আর কোনো কৌতুহল নেই। তাই সেটার বদলে তোমার টেবিল-ঢাকাটা চাই।”
        ছোটো ভাই বলল, “আমাকে কিন্তু প্রথমে জানতে হবে সেটার কী ধরনের জাদুর গুণ আছে।”
        লোকটি বলল, “খুলেই বলছি। ওটা প্রত্যেকবার হাত দিয়ে চাপড়ালেই বেরিয়ে আসবে সশস্ত্র এক সেনাপতি আর ছজন সৈনিক। তুমি যা আদেশ দেবে সঙ্গে সঙ্গে তারা সেটা করবে।”
        ছোটো ভাই বলল, “বদলাতে আমার আপত্তি নেই।” এই-না বলে লোকটিকে টেবিল-ঢাকাটি দিয়ে গাছের ডাল থেকে ঝুলন্ত থলিটা নিয়ে বিদায় জানিয়ে ছোটো ভাই চলে গেল ।
        খানিক দূর গিয়ে তার মনে হল থলিটার গুণ পরীক্ষা করে দেখা দরকার। তাই সেটা চাপড়াল আর চাপড়াতেই বেরিয়ে এল সশস্ত্র ছজন সৈনিক আর একজন সেনাপতি। সেনাপতি বলল, “প্রভুর আদেশ কী?” “যে-লোকটার কাঠ কুড়িয়ে কাঠকয়লা বানানো পেশা, ছুটে গিয়ে তার কাছ থেকে আমার টেবিল-ঢাকাটা নিয়ে এসো।”
        সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘুরে দাঁড়াল আর মুহুর্তের মধ্যে কাজ হাসিল করে ফিরল। তাদের বিশ্রাম নিতে বলে ছোটো ভাই আবার চলল এগিয়ে। তার মনে হল ভবিষ্যতে তার কপালে আরো ভালো-ভালো জিনিস জুটবে।
সূর্য তখন অস্ত যাচ্ছে। এমন সময় তার সঙ্গে দেখা হল আর একটি লোকের। তারও পেশা কাঠ পুড়িয়ে কাঠকয়লা বানানো। আগুন জ্বালিয়ে সে রাতের খাবার তৈরি করছিল। ছোটো ভাইকে সে বলল, “আমার সঙ্গে খাবে? খাবার বলতে আলু আর নুন। পছন্দ হয় তো বসে পড়।”
        ছোটো ভাই বলল, “না না। আমিই তোমায় নেমন্তন্ন করছি।” এই-না বলে টেবিল-ঢাকাটা মাটিতে সে বিছালো আর সঙ্গে সঙ্গে সেটা ভরে গেল নানা মুখরোচক খাবারে।
        খুব তৃপ্তি করে তারা খাওয়া-দাওয়া করল। তার পর কাঠকয়লা বানানো যার পেশা সে ধলল, “কাছেই একটা ছেঁড়াখোড়া পুরনো টুপি পড়ে আছে। সেটার আশ্চর্য ক্ষমতা। সেটা মাথায় পরে ঘোরালেই এক-এক বারে বারো জনের গোলন্দাজ-বাহিনী বেরিয়ে এসে তাদের সামনের সবাইকে উড়িয়ে দেয়। টুপিটা আমার কোনো কাজে লাগে না। তোমার টেবিল ঢাকার সঙ্গে খুশি হয়েই সেটা আমি বদলাতে রাজি।”
        ছোটো ভাই বলল, “ঠিক আছে।” এই-না বলে টুপিটা নিয়ে মাথায় পরে টেবিল-ঢাকা তাকে দিয়ে সে চলে গেল। খানিক গিয়ে থলিটা সে চাপড়াল আর তার সৈন্যরা গিয়ে টেবিল-ঢাকাটা উদ্ধার করে আনল। ছোটো ভাই ভাবল, মনে হচ্ছে আরো ভালো জিনিস কপালে আছে।
        আর সত্যিই তাই। কারণ আর একদিন হাঁটার পর তার সঙ্গে দেখা হল তৃতীয় কাঠকয়লা ব্যবসাদারের। অন্যদের মতো সে-ও তার সঙ্গে সেদ্ধ আলু খাবার নিমন্ত্রণ জানাল। আর অন্য বারের মতো টেবিল-ঢাকা দিয়ে ছোটো ভাই-ই তাকে খাওয়াল দারুণ ভোজ। ভারি খুশি হয়ে কাঠকয়লার ব্যবসাদার টেবিল-ঢাকার সঙ্গে বদলাতে চাইল একটা শিঙা, যেটার ছিল আশ্চর্য জাদুর গুণ। সেটা বাজালে সব দেওয়াল ধসে পড়ে, শহর আর গ্রাম যায় গুড়িয়ে। শিঙার বদলে ছোটো ভাই তাকে দিল টেবিলঢাকাটা, কিন্তু সৈন্যদের পাঠিয়ে আনাল সেটা উদ্ধার করে। এইভাবে শেষপর্যন্ত সে পেল একটা থলি, টুপি আর শিঙা। তখন সে ভাবল, ‘জীবনে আমি সফল হয়েছি। এইবার বাড়ি ফিরে ভাইদের সঙ্গে দেখা করা যাক৷” বাড়ি ফিরে সে দেখে সেই রুপো আর সোনা দিয়ে একটা সুন্দর বাড়ি বানিয়ে সুখে-স্বচ্ছন্দে তার বড়ো দু ভাই রয়েছে। কিন্তু তার গায়ে ছেড়া কোট মাথায় ছেড়া টুপি আর পিঠে কুচ্ছিত একটা থলি থাকায় তারা তাকে আপন ভাই বলে স্বীকার করতে চাইল না।
        “তুই রুপো আর সোনা উপেক্ষা করেছিলি। বলেছিলি তার চেয়েও ভালো জিনিস আনবি। আমরা তো ভেবেছিলাম অন্তত রাজা হয়ে ফিরবি। এখন দেখছি ফিরেছিস ভিখিরি হয়ে।” এই-না বলে তারা তাকে বাড়ি থেকে দিল তাড়িয়ে।
        তখন সে ভীষণ রেগে ক্রমাগত চাপড়ে চলল তার থলিটা। দেখতে দেখতে দেড়শো সৈন্য বেরিয়ে এসে সারবন্দী হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল৷ তাদের সে আদেশ দিল ভাইদের বাড়িটা ঘিরে ফেলতে। আর দুজনকে বেছে নিয়ে বলল ভাইদের এমন চাবকান চাবকাতে যাতে তাদের গায়ের ছালচামড়া উঠে যায়। দারুণ হৈচৈ পড়ে গেল। পাড়া-পড়শি ছুটোছুটি করে চেষ্টাটা করতে লাগল তার ভাইদের বাঁচাতে। কিন্তু সৈন্যদের জন্যে তারা এগুতে পারল না। শেষপর্যন্ত রাজার কাছে খবরটা গেল। একজন অফিসারের সঙ্গে তিনি সশস্ত্র বাহিনী পাঠালেন জনসাধারণের শান্তি ভঙ্গকারীকে শহর থেকে তাড়িয়ে দিতে। কিন্তু ছোটো ভাই থলি থেকে আরো সৈন্য বার করে তাদের হটিয়ে দিল। রাজার সৈন্যদের অনেকেই মরল। রাজা বললেন, “এই ভবঘুরে নচ্ছার লোকটাকে খতম করে দাও।” তিনি আরো সৈন্য পাঠালেন। কিন্তু তারাও কিছু করতে পারল না। থলি থেকে আরো সৈন্য বেরুল। বিপক্ষ দলকে চট্‌পট্‌ খতম করার জন্য ছোটো ভাই তার টুপিটি বার দুই ঘোরাল । সঙ্গে সঙ্গে কামানের এমন গোলা ছুটতে লাগল যে, রাজার সৈন্যরা প্রায় নিশ্চিহ হয়ে গেল । যারা বাচঁল ছত্রভঙ্গ হয়ে তারা গেল পালিয়ে।
        ছোটো ভাই তখন বলল, “একমাত্র শর্তে আমি সন্ধি করতে রাজি— রাজকন্যের সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে হবে আর রাজ্য-শাসন করার ভার দিতে হবে আমার হাতে।”
        এ কথা শুনে রাজা তার মেয়েকে বললেন, “এটা মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় কী? শান্তির স্বার্থে আর রাজমুকুট যাতে আমার মাথায় থাকে তার জন্যে লোকটাকে বিয়ে করতে তোকে রাজি হতেই হবে।”
        অতএব তাদের বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু একটা ভবঘুরে বাজে লোককে বিয়ে করতে বাধ্য হওয়ায়—যে-লোকটার মাথায় ছেড়া টুপি আর কাঁধে কুচ্ছিত থলি—রাজকন্যে মনে মনে উঠল ভীষণ চটে। দিন-রাত তার মাথায় একমাত্র চিন্তা–কী করে লোকটাকে দূর করা যায়। সে ভাবল লোকটার অসাধারণ ক্ষমতার সঙ্গে ঝোলাটার হয়তো কোনো যোগাযোগ আছে। তাই একদিন বরকে অনেক আদর-টাদর করে তার মন ভিজিয়ে সে বলল, “ঝোলাটা তুমি কাঁধ থেকে নামালে বাঁচি। তোমার কাধে ওটা এমন বিশ্রী দেখায় যে আমার লজ্জা করে।”
        তার বর বলল, “বউ, এই থলিটাই আমার অমূল্য সম্পদ। এটা কাছে থাকলে পৃথিবীতে কাউকে আমি পরোয়া করি না ।” তার পর থলিটার আশ্চর্য ক্ষমতার কথা রাজকন্যেকে সে বলল।
        তাই-না শুনে তার গলা জড়িয়ে ধরে রাজকন্যে এমন ভান করল— যেন তাকে চুমু খেতে যাচ্ছে। কিন্তু চুমু খাওয়ার বদলে বরের পিঠ থেকে থলিটা খুলে সেটা নিয়ে দৌড়ে পালাল। আর একলা হয়ে পড়তেই:থলিটা চাপড়ে সৈন্যদের সে আদেশ দিল তাদের আগেকার প্রভুকে বন্দী করে রাজপ্রাসাদের বাইরে নিয়ে যেতে। আদেশ তারা পালন করল। তখন সেই কুচুটে মেয়ে একদল লোককে লেলিয়ে দিল ছোটো ভাইয়ের উপর, যাতে তারা তাকে মেরে দেশ থেকে দূর করে দেয়। সেই ছেঁড়া টুপিটা না থাকলে ছোটো ভাই-য়ের নির্ঘাত সর্বনাশ হয়ে যেত। কোনোরকমে নিজের হাত দুটো মুক্ত করে টুপিটাকে তার মাথার উপর ঘোরাল। সঙ্গে সঙ্গে কামানগুলো গর্জে উঠল। গোলার ঘায়ে মরল প্রত্যেকে। রাজকন্যে তখন বাধ্য হল তার কাছে এসে অনুনয় বিনয় করে ক্ষমা ভিক্ষে করতে। রাজকন্যে ভারি করুণস্বরে ক্ষমা চাইল আর প্রতিজ্ঞা করলে জীবনে কখনো সে আর ওরকম শয়তানী করবে: না । তাই ছোটো ভাই তাকে ক্ষমা করল। তার পর রাজকন্যে আবার তাকে খুব আদর-টাদর করে জেনে নিল টুপিটার গোপন রহস্য। তার পর ছোটো ভাই ঘুমিয়ে পড়লে টুপিটা সে খুলে নিয়ে পথে দিল ফেলে। জেগে উঠে রাজকন্যের প্রতারণা দেখে ভীষণ ক্ষেপে গেল ছোটো ভাই। শিঙাটা তখনো তার কাছে ছিল। সেটায় প্রাণপণে সে ফুঁ দিতে লাগল। সঙ্গে সঙ্গে গুড়িয়ে যেতে লাগল প্রাচীর, দুর্গ, শহর আর গ্রাম আর মারা পড়লেন। রাজা আর তার মেয়ে। শিঙাটা সে বাজিয়ে চললে সমস্ত রাজত্বই ধ্বংস হয়ে যেত। একটা পাথর খাড়া থাকত না। কিন্তু সেটা সে চায় নি। সে চেয়েছিল রাজা হতে। আর শেষপর্যন্ত রাজাই হল সে। কেউ আর বাধা দিতে এল না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য