গরিব ক্ষুদে চাষী - জার্মানের রূপকথা

        এক সময় এক গ্রামে আর সবাই ছিল ধনী, একজন মাত্র গরিব। লোকে তাকে বলত ‘ক্ষুদে চাষী’। তার না ছিল কোনো গোরু, না ছিল গোরু কেনবার টাকা। কিন্তু তার আর তার বউয়ের একটা গোরুর খুবই দরকার ছিল। ক্ষুদে চাষী একদিন তার বউকে বলল, “আমার মাথায় খুব ভালো একটা ফন্দি এসেছে। তুমি তো জানো গাফফের শ্রেইনার নামে এক ছুতোর আছে। সে কাঠ থেকে এমন একটা বাছুর বানিয়ে বাদামী রঙ করে দিতে পারে যেটাকে দেখতে হবে অবিকল বাছুরের মতো। কালে সেটা বড়ো হয়ে আমাদের জন্যে একটা গোরুর বাচ্ছা পাড়বে।”
        কথাটা বউয়ের মনে ধরল। আর গাফফের শ্রেইনার কাঠ কেটে রঙ করে তাদের জন্য এমন একটা বাছুর বানিয়ে দিল যেটার মাথা নাড়ানো যায়। মাথাটা নীচের দিকে নামিয়ে দিলে মনে হয় সেটা ঘাস খাচ্ছে।
        পরদিন সকালে রাখাল যখন গোরু চরাতে নিয়ে যাচ্ছে, চাষী তাকে ডেকে বলল, “এই শোন। আমার একটা বাছুর আছে। কিন্তু এতই সেটা ছোটো যে, কোলে করে নিয়ে যেতে হবে।”
        রাখাল বলল, “ঠিক আছে।” এই-না বলে বাছুরটাকে কোলে করে মাঠে নিয়ে গিয়ে ঘাসের মধ্যে সে নামিয়ে দিল।
        বাছুরটা এমনভাবে দাঁড়িয়ে রইল যে দেখে মনে হয় ঘাস খাচ্ছে। তাই দেখে রাখাল বলল, “এটা ঘাস খেতে পারলে হাঁটতেও পারবে।”
        সন্ধেয় গোরুর পাল নিয়ে ফেরার সময় বাছুরটাকে সে বলল, “তুই তো সারাদিন ঠায় দাঁড়িয়ে ঘাস খেয়েছিস। এবার নিজের চার-পায়ে বাড়ি ফিরে যা। তোকে কোলে করে নিয়ে যাবার দরকার নেই।”
        বাছুরের অপেক্ষায় দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়েছিল চাষী। গ্রামের মধ্যে দিয়ে গোরুর পাল নিয়ে ফিরতে দেখে রাখালকে সে প্রশ্ন করল, বাছুরটা কোথায়।
        রাখাল বলল, “তোমার বাছুর বাড়ি না ফিরে যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখানে দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে খেতে ব্যস্ত।”
        চাষী বলল, “কিন্তু বাছুরটা যে আমার চাই। যেখানে সেটা রয়েছে সেখানে আমাকে নিয়ে চল্‌ ৷”
        তারা দুজন মাঠে গেল। কিন্তু গিয়ে দেখে বাছুরটা চুরি গেছে। রাখাল বলল, “নিশ্চয়ই সেটা পালিয়ে গেছে।” চাষী বলল, “তোর কথা তামার বিশ্বাস হচ্ছে না।” এই-না বলে পাহারাওয়ালার কাছে রাখালকে সে ধরে নিয়ে গেল। পাহারাওয়ালা রাখালকে আদেশ দিল বাছুরের বদলে চাষীকে একটা গোরু খেসারতি দিতে।
        গোরু পেয়ে চাষী আর তার বউয়ের আনন্দ ধরে না। কিন্তু ভালো করে খাওয়াতে না পারার দরুন কিছুদিনের মধ্যেই গোরুটাকে কাটতে হল। গোরুর মাংস নুনে জরিয়ে সেটার চামড়া বিক্রি করে একটা বাছুর কেনার জন্য চাষী চলল শহরে ৷ যেতে-যেতে সে দেখে একটা বাতাস-কলে ডানা-ভাঙা একটা দাঁড়কাক বসে। তাকে দেখে চাষীর দয়া হল। সেটাকে তুলে গোরুর চামড়ার মধ্যে নিল জড়িয়ে। কিন্তু তার পর শুরু হয়ে গেল এমন ঝড় জল যে, শহরের দিকে না এগিয়ে মিল-এর মধ্যে গিয়ে চাষী আশ্রয় চাইল।
        জাঁতাওয়ালার বউ বাড়িতে ছিল একা। চাষীকে সে বলল, “ঐ খড়ের উপর শুয়ে পড়ো।” তার পর চাষীর জন্য নিয়ে এল রুটি আর পনীর।
        খাওয়া-দাওয়া সেরে চামড়াটা পাশে রেখে চাষী শুয়ে পড়ল। জাঁতাওয়ালার বউ ভাবল, লোকটা বেজায় ক্লান্ত। এক্ষুনি ঘুমিয়ে পড়বে।”
        এমন সময় পুরুতমশাই এল দেখা করতে। তাকে দেখে জাঁতাওয়ালার বউ বলল, “আমার স্বামী বাড়ি নেই। আসুন আমরা ভোজে বসি।”
        ‘ভোজ" কথাটা শুনে চাষী কান খাড়া করে রইল। মনে-মনে ভাবল, তাকে শুধু রুটি আর পনীর খেতে দেওয়া অন্যায় হয়েছে।
        মাংসের রোস্ট, স্যালাড, কেক আর আঙুর-রস দিয়ে টেবিল সজালো জাঁতাওয়ালার বউ। আর তার পর যেই-না তারা দুজন খেতে বসতে যাবে অমনি দরজায় পড়ল টোকা। টোকা শুনে জাঁতাওয়ালার বউ আঁতকে চেঁচিয়ে উঠল, “কী সর্বনাশ! আমার বর ফিরেছে।” এই-না বলে তাড়াহুড়ো করে কয়লা রাখার জায়গায় মাংসের রোস্ট, বালিসের তলায় আঙুর-রস, বিছানার মধ্যে স্যালাড, খাটের নীচে কেক আর বারান্দায় কাপড়ের আলমারির মধ্যে পুরুতমশাইকে সে লুকিয়ে ফেলল। তার বর বাড়ির ভিতর এসে বলল—বাইরে খুব দুর্যোগ, আবার বন্যা আসছে। তার বউ বলল, “ভগবানের খুব দয়া-নিরাপদে বাড়ি ফিরেছ।”
        জাঁতাওয়ালা তখন খড়ের গাদায় চাষীকে শুয়ে থাকতে দেখে প্রশ্ন করল, “ও-লোকটা কে?”
        তার বউ বলল, “ও একটা গরিব ভবঘুরে। জল-ঝড়ের জন্যে আশ্রয় চেয়েছিল। তাই ওকে আমি রুটি আর পনীর খেতে দিয়ে বলেছি ঐখানে শুতে।”
        তার বর বলল, “আমার আপত্তি নেই। আমাকে চট্‌পট্‌ কিছু খেতে দাও।”
        তার বউ বলল, “রুটি আর পনীর ছাড়া আর কোনো খাবার নেই।”
        জাঁতাওয়ালা বলল, “যা হোক কিছু হলেই চলবে। কিন্তু চট্‌পট্‌ দাও।” তার পর চাষীর দিকে তাকিয়ে সে চেঁচিয়ে উঠল, “ওহে, আমাদের সঙ্গে খেতে এসো।”
        চাষীকে দুবার বলতে হল না। দাঁড়িয়ে উঠে সে গেল খাবার টেবিলের সামনে।
        যে-চামড়ায় দাঁড়কাক জড়ানো ছিল সেটা দেখিয়ে সেই জাঁতাওয়ালা প্রশ্ন করল, “ওটায় কী আছে?”
        চাষী বলল, “ওর মধ্যে একজন ভবিষ্যদ্বক্তা আছে।”
        জাঁতাওয়ালা প্রশ্ন করল, “আমার ভবিষ্যৎ সে কি বলতে পারবে?”
        চাষী বলল, “নিশ্চয়ই, কেন পারবে না? কিন্তু সে চারটে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। পঞ্চমটা বলে না।”
        জাঁতাওয়ালার কৌতুহল বেড়ে উঠল। সে বলল, “ওকে ভবিষ্যদ্বাণী করতে বল।”
        চাষী তখন দাঁড়কাকের মাথায় টোকা দিতে সেটা ডেকে উঠল, .--কা-কা।”
        জাঁতাওয়ালা প্রশ্ন করল, “কী বলছে?”
        “প্রথমত, ও বলছে বালিশের তলায় আঙুর-রস আছে।”
        “তার মানে, উঁকি মেরে দেখো,” জাতাওয়ালা বলল। তার পর। গিয়ে বার করল আঙুর-রস।
        “আবার ওকে বলতে বল,” অনুরোধ করল জাঁতাওয়ালা। চাষী দাঁড়কাকের মাথায় টোকা দিতে আবার সেটা ডেকে উঠল। চাষী বলল, “দ্বিতীয়ত, ও বলছে কয়লা রাখার জায়গায় আছে মাংসর রোস্ট ৷”
        “তার মানে, উঁকি মেরে দেখো,” চেঁচিয়ে উঠল জাঁতাওয়ালা। তার পর গিয়ে বার করল মাংসর রোস্ট।
        দাঁড়কাকের মাথায় তৃতীয়বার টোকা দিতে সেটা ডেকে উঠল।" চাষী বলল, “তৃতীয়ত, ও বলছে বিছানার মধ্যে আছে স্যালাড।”
        “তার মানে, উকি মেরে দেখো।” এই-না বলে সে গিয়ে বার করল স্যালাড।
        দাঁড়কাকের মাথায় চতুর্থবার টোকা দিতে সেটা ডেকে উঠল। , চাষী বলল- “চতুর্থত, ও বলছে খাটের নীচে আছে কেক।”
        “তার মানে উকি মেরে দেখো।” এই-না বলে খাটের তলায় তাকিয়ে জাঁতাওয়ালা বার করল কেক।
        তার পর তারা দুজন গিয়ে বসল খাবার ভতি টেবিলের সামনে। কিন্তু জাঁতাওয়ালার বউ ভীষণ ভয় পেয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল আর ' শুয়ে-শুয়েই লাগল খেতে। তার পর দাঁড়কাকের পঞ্চম ভবিষ্যদ্বাণী জাতাওয়ালা শুনতে চাইলে চাষী বলল, “যে-চারটে জিনিস পাওয়া গেছে আগে সেগুলো খেয়ে নেওয়া যাক। পঞ্চমটা এগুলোর মতো ভালো নয়।”
        পেট ভরে তারা খাওয়া-দাওয়া করল। তার পর স্থির হল "ভবিষ্যদ্বাণীর জন্য চাষীকে জাঁতাওয়ালা দেবে তিনশো মোহর।
        দাঁড়কাকের মাথায় পঞ্চমবার টোকা দিতে সেটা ডেকে উঠল। চাষী বলল, “ও এখন বলছে বারান্দায় শয়তান লুকিয়ে আছে কাপড়ের আলমারিতে।”
        জাঁতাওয়ালা বলল, “তা হলে শয়তানকে তাড়ানো দরকার।" আলমারির চাবি দিতে বাধ্য হল জাঁতাওয়ালার বউ আর চাষী গিয়ে সেটা খুলতে পড়ি-মরি করে দৌড় দিলেন পুরুতমশাই।
        জাঁতাওয়ালা বলল, “কালো শয়তানটাকে স্পষ্ট আমি দেখেছি।” পরদিন ভোরের আলো ফুটতে-না-ফুটতেই সেই তিনশো মোহর নিয়ে চলে গেল চাষী।
        কিছুদিন বাদে সেই চাষী, এক সময় যে ছিল খুব গরিব—সে বানালো সুন্দর একটা বাড়ি। সেটা দেখে গ্রামের লোকেরা ঠাট্টা করে বলাবলি করতে লাগল, “এমন দেশে ও নিশ্চয় গিয়েছিল যেখানে তুষারের বদলে ঝরে মোহর। আর লোকে বস্তা বোঝাই করে সেই মোহর নিয়ে যায়।” তাই চাষীকে হাজির করা হল পাহারাওয়ালার কাছে ৷ পাহারাওয়ালা জানতে চাইল কোথা থেকে আত মোহর সে পেয়েছে।
        চাষী বলল, “তিনশো মোহরে আমার গোরুর চামড়াটা বিক্রি করেছি।”
        তার কথা শুনে গ্রামের লোকেরা ছুটে নিজেদের বাড়ি গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলল তাদের গোরুগুলো আর গোরুর চামড়া নিয়ে শহরে ছুটল মোটারকম দাও মারতে। সবাইকার আগে পাহারাওয়ালা পাঠাল তার ঝিকে, যাতে শহরে সে প্রথম পৌছয়।
        চামড়ার ব্যবসাদার একটা গোরুর চামড়ার জন্য পাহারাওয়ালার ঝিকে দিল তিনটে মোহর। তার পর অন্যরা যখন চামড়া নিয়ে হাজির তাদের দিল আরো কম দাম। বলল, “গোরুর এত চামড়া নিয়ে কী করব?”
        গ্রামের লোকেরা এবার ক্ষুদে চাষীর উপর ভীষণ চটে গেল। সে সে তাদের ধাপ্পা দিয়েছে তাতে কারুর সন্দেহ রইল না। তারা স্থির করল উপযুক্ত প্রতিশোধ নেবে আর তাকে পাহারাওয়ালার সামনে হাজির করে এই ধাপ্পার জবাবদিহি চাইবে। বিচারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল সেই নির্দোষ চাষীকে এমন একটা পিপেয় ভরে নদীতে গড়িয়ে ফেলা হবে যেটার তলা নেই। তাই তাকে ভগবানের নাম শোনাবার জন্য ডেকে পাঠানো হল এক যাজককে। সেই যাজক আর চাষীকে একসঙ্গে রেখে সবাই দুরে সরে গেল। যাজক কাছে আসতে চাষী চিনল-ইনিই সেই পুরুতমশাই, জাঁতাওয়ালার বউয়ের যিনি অতিথি হয়েছিলেন।
        চাষী তাকে বলল, “কাপড়ের আলমারি থেকে আপনাকে পালাতে আমি সাহায্য করেছিলাম। আপনি এখন পিপে থেকে পালাতে আমায় সাহায্য করুন।”
        ঠিক তখনি ভেড়ার পাল নিয়ে পথ দিয়ে যাচ্ছিল এক রাখাল। , পাহারাওয়ালা হবার তার বহুকালের ইচ্ছে।
        “না-না, কখনো আমি রাজি হব না। কক্ষনো না, কক্ষনো না,” বলে সেই ক্ষুদে চাষী প্রাণপণ জোরে চেঁচিয়ে উঠল।
        তার চীৎকার শুনে কাছে গিয়ে রাখাল প্রশ্ন করল, “কিসে তুমি। কক্ষনো রাজি হবে না?”
        চাষী বলল, “ওরা বলছে এই পিপেয় বসলে আমাকে পাহারাওয়ালা করে দেবে। আমি বলছি এতে বসতে কক্ষনো রাজি হব না।”
        রাখাল চেঁচিয়ে উঠল, “তাই নাকি! পাহারাওয়ালা হতে হলে শুধু এটাই দরকার? খুশি হয়েই পিপের মধ্যে বসছি।”
        চাষী বলল, “বোসো, বসলেই পাহারাওয়ালা হয়ে যাবে।” খুশি হয়ে পিপের মধ্যে বসল রাখাল আর সঙ্গে সঙ্গে সেটার ঢাকনা বন্ধ করে দিল ক্ষুদে চাষী। তার পর রাখালের ভেড়ার পাল নিয়ে গেল চলে।
        পুরুতমশাই তখন গ্রামের লোকদের কাছে গিয়ে বললেন—ভগবানের নাম চাষীকে তিনি শুনিয়েছেন। তার কথা শুনে গ্রামের লোকেরা ছুটে এল পিপেটাকে গড়িয়ে জলের মধ্যে ফেলতে।
        পিপেটা গড়াতে শুরু করলে রাখাল চেঁচিয়ে উঠল, “আমি খুব খুশি , পাহারাওয়ালা হচ্ছি।”
        তারা ভাবল ক্ষুদে চাষী বুঝি চেঁচাচ্ছে। তাই তারা বলল, “কিন্তু তার আগে নদীর তলাটা তালিয়ে দেখো গে।” এই-না বলে পিপেটা তারা গড়িয়ে ফেলল জলের মধ্যে।
        তার পর গ্রামের লোকেরা ফিরে চলল যে যার বাড়িতে। আর যেতে-যেতে তারা দেখে সেই গরিব ক্ষুদে চাষী এমন শান্তভাবে এক পাল ভেড়া চরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে—যেন কিছুই ঘটে নি।
        ভীষণ অবাক হয়ে তারা চেঁচিয়ে উঠল, “ক্ষুদে চাষী, কোথা থেকে আসছ? জল থেকে বেরিয়ে এলে?”
        চাষী বলল, “ঠিক ধরেছ। ভুবতে-ভুবতে নদীর একেবারে তলায় পৌছই। তার পর পিপে থেকে গুড়ি মেরে বেরিয়ে দেখি জলের নীচে সুন্দর-সুন্দর মাঠ আর সেখানে চরে বেড়াচ্ছে পাল-পাল ভেড়া। সেখান থেকে এক পাল ভেড়া নিয়ে তাই ফিরে এলাম।”
        সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের লোকেরা প্রশ্ন করল, “সেখানে আরো ভেড়া আছে?”
        ক্ষুদে চাষী বলল, “আছে বৈকি! যত চাও তত—গোণা-গুনতি নেই।”
        তাই-না শুনে গ্রামের লোকেরা দল বেঁধে ছুটল ভেড়া আনতে। কিন্তু পাহারাওয়ালা বলল, “আমি যাব প্রথম ৷”
        নদীর তীরে তারা যখন পৌছল তখন নীল আকাশ জুড়ে ভেড়ার পালের মতো ছেড়া-ছেড়া হালকা-হালকা সাদা-সাদা মেঘ। সেই মেঘগুলোর ছায়া পড়েছিল জলে।
        সেই ছায়া দেখে গ্রামের লোকেরা চেঁচয়ে উঠল, “ঐ যে। ভেড়াগুলোকে এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে!”
        পাহারাওয়ালা তাদের ঠেলে এগিয়ে গিয়ে বলল, “নদীর তলায় আগে যাব আমি। সেখানে সব-কিছু ঠিকঠাক আছে দেখলে তোমাদের ডাকব।”
        এই-না বলে ঝপাং করে নদীতে দিল ঝাঁপ। সেই শব্দটা শুনে গ্রামের লোকদের মনে হল পাহারাওয়ালা বলছে, “চলে এসো।”
        সঙ্গে সঙ্গে গ্রামের সবাই নদীতে দিল ঝাঁপ। সেই গ্রামে এখন আর কেউ নেই। এইভাবে গরিব ক্ষুদে চাষী হয়ে উঠল ধনী।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য