বনের তিনটি ছোট্টো মানুষ - জার্মানির রূপকথা

        অনেক দিন আগে একটি লোক ছিল। তার বউ গিয়েছিল মারা। আর ছিল এক বিধবা মহিলা। লোকটির একটি মেয়ে ছিল। বিধবারও ছিল একটি মেয়ে। এই দুটি মেয়ের বেশ ভাবসাব। এক সঙ্গে তারা বেড়াতে যেত। আর বেড়িয়ে ফিরে তারা যেত বিধবার বাড়িতে চা খেতে। একদিন সেই বিধবা লোকটির মেয়েকে বলল, “শোন, তোর -বাবাকে গিয়ে বলিস আমি তাকে বিয়ে করতে চাই। বিয়ে হলে রোজ সকালে তুই দুধে চান করবি আর খেতে পাবি আঙুর-রসের মদ। কিন্তু আমার মেয়ে চান করবে জলে আর খাবে জল।” মেয়েটি বাড়ি ফিরে তার বাবাকে বিধবার কথাগুলো জানাল৷
        লোকটি বললে, “কী করা যায়? বিয়ে করাটা আনন্দের হতে পারে আবার যন্ত্রণার ব্যাপারও হতে পারে। শেষটায় মনস্থির করতে না পেরে নিজের পা থেকে একটা বুট খুলে মেয়েকে সে বলল, “এই বুটটা নে। এটার শুকতলায় একটা ফুটো আছে। এটা পায়ে দিয়ে মেঝেয় খানিক হাট। তার পর ঐ বড়ো পেরেকে ঝুলিয়ে এটার মধ্যে জল ঢাল। এটায় জল থাকলে আবার আমি বিয়ে করব। কিন্তু জল ঝরে গেলে বিয়ে করব না।”
        মেয়েটি তার বাবার কথামতো কাজ করল। জল কিন্তু ঝরে গেল না। জলে বুজে গেল সেই ফুটো আর কানায়-কানায় ভরে উঠল বুটটা। সে কথা মেয়েটি জানাতে তার বাবা নিজে গেল দেখতে। যখন দেখল মেয়েটির কথা ঠিক তখন সেই বিধবাকে বিয়ে করে সে নিয়ে এল।
        পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠলে লোকটির মেয়েকে স্নানের জন্য দেওয়া হল দুধ আর খাবার জন্য আঙুর-রসের মদ। কিন্ত সেই বিধবার মেয়ের স্নানের আর খাবার জন্য ছিল শুধু জল। দ্বিতীয় সকালে স্নান করার জন্য দুটি মেয়েকেই দেওয়া হল শুধু জল। কিন্তু তৃতীয় দিন সকালে সেই লোকটির মেয়ের স্নান আর খাবার জন্য এল শুধু জল। আর বিধবার মেয়ের স্নানের জন্য এল দুধ, খাবার জন্য আঙুর-রসের মদ। এইভাবে দিন কাটে। ক্রমশ সেই বিধবার সৎমেয়ে হয়ে উঠল তার দু চক্ষের বিষ। তাকে এমন সে কষ্ট দিতে শুরু করল যার লেখাজোখা নেই। তার যত হিংসে গিয়ে পড়ল সেই মেয়েটির উপর। কারণ তার সৎমেয়ে ছিল সুন্দরী আর নিজের মেয়ে কুচ্ছিত।
        তখন শীতকাল। বরফে ঢেকে গেছে পাহাড় আর উপত্যকা। এমন সময় একদিন কাগজের পোশাক বানিয়ে লোকটির মেয়েকে ডেকে সৎমা বলল, “এটা পরে বনে গিয়ে আমার জন্যে এক ঝুড়ি স্ট্রবেরি নিয়ে আয়—সেগুলো খেতে আমার খুব ইচ্ছে করছে।”
        মেয়েটি আঁতকে উঠে বলল, “কী সর্বনাশ। শীতকালে স্ট্রবেরি ফলে না—মাটি এখন ঠাণ্ডায় জমে গেছে, বরফে সব-কিছু ঢাকা। তা ছাড়া কাগজের পোশাক পরে যাব কেন? বাইরে এমন ঠাণ্ডা যে নিশ্বেস পর্যন্ত জমে যায়। বাতাসে পোশাকটা যে ছিড়ে যাবে, ঝোপঝাড়ের কাঁটায় গা থেকে এটা যে খসে পড়বে!”
        তার সৎমা চেঁচিয়ে ধমকে উঠল, “তোর এত সাহস—আমার মুখে-মুখে চোপা করিস? এক্ষুনি বেরিয়ে পড়। স্ট্রবেরিতে ঝুড়িটা ভরার আগে তোর মুখ যেন না দেখি।” তার পর তাকে এক টুকরো বাসি রুটি দিয়ে বলল, “এই রইল তোর আজকের মতো, খাবার।” আর মনে মনে ভাবল, “বনের মধ্যে ক্ষিদেয় আর ঠাণ্ডায় নিশ্চয়ই মেয়েটা মরবে—ওর মুখ আমাকে আর দেখতে হবে না।’
        মেয়েটি আর কোনো,আপত্তি না করে কাগজের পোশাক পরে ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। "
        চার দিকে শুধু বরফ আর বরফ । সবুজ ঘাসের একটা ডগাও চোখে পড়ে না। বনে পৌছে মেয়েটি দেখল ছোটো একটা বাড়ি আর তার ভিতর থেকে উঁকি দিচ্ছে ছোট্টো তিনটি মানুষ, বনেই যাদের বাস। মেয়েটি তাদের শুভকামনা জানিয়ে ভয়ে-ভয়ে দরজায় টোকা দিল। তারা দরজা খুলে মেয়েটিকে নিয়ে গেল তাদের বসার ঘরে। মেয়েটি গিয়ে বসল উনুনের পাশে। ভাবল সেখানে শরীরটা সেঁকে নিয়ে রুটির টুকরোটা খাবে।
        বনের সেই ছোট্টো তিনটি মানুষ বলল, “তোমার রুটি থেকে আমাদের খানিকটা দাও।”
        মেয়েটি বলল, “নিশ্চয়ই।” রুটির টুকরো দু ভাগ করে অর্ধেকটা তাদের দিল মেয়েটি। তারা জানতে চাইল ঐরকম পাতলী পোশাকে এই শীতকালে বনের মধ্যে সে কী করছে?
        মেয়েটি বলল, “আমাকে এক ঝুড়ি স্ট্রবেরি তুলতে হবে। না হলে বাড়ি ফেরা বারণ।”
        মেয়েটির রুটি খাওয়া হলে একটা ঝাঁটা দিয়ে তাকে তারা বলল খিড়কি-দরজার সামনেকার তুষার ঝেঁটিয়ে পরিষ্কার করতে। মেয়েটি বাইরে যেতে সেই ছোটো তিনটি মানুষ আলোচনা করতে লাগল—তাকে কী বর দেওয়া যায়। কারণ তার স্বভাব ভারি মিষ্টি আর নম্র। আর রুটি ভাগ করে দেবার ব্যাপারে বোঝা গেছে মোটেই সে স্বার্থপর নয়।
        প্রথমজন বলল, “আমি বর দিলাম—তার জীবনের সব দিন যেন আগের দিনের চেয়ে বেশি আনন্দময় হয়।”
        দ্বিতীয়জন বলল, “আমি বর দিলাম—প্রতিটি কথার সঙ্গে তার মুখ দিয়ে যেন মোহর ঝরে।”
        তৃতীয়জন বলল, “আমি বর দিলাম—এক রাজা এসে যেন তাকে বিয়ে করে।”
        বনের সেই ছোট্টো তিনটি মানুষের কথামতো ঝাঁটা দিয়ে ঝেঁটিয়ে বরফ সরিয়ে মেয়েটি এক জায়গায় জড় করল। আর তার পর সে কী দেখল ভাবতে পার? দেখল—বরফের মধ্যে রয়েছে টুকটুকে জাল অজস্র পাকা ষ্ট্রবেরি। মনের আনন্দে ঝুড়ি ভরে, সেই ছোট্টো তিনটি মানুষের হাত ঝাঁকিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে, সৎমাকে খুশি করার জন্যে দৌড়ে সে বাড়ি ফিরল। যেই না “শুভ সন্ধ্যা” বলার জন্য সে  মুখ খুলেছে অমনি সোনার একটা মোহর গড়িয়ে পড়ল তার মুখ দিয়ে। বনের সব ঘটনার কথা সে জানাল আর তার প্রত্যেকটি কথার সঙ্গে ঝরতে লাগল মোহর। দেখতে-দেখতে মোহরে-মোহরে ছেয়ে গেলে সমস্ত মেঝে৷
        মুখ ঝামটা দিয়ে তার সৎবোন বলল, “দেমাকে একেবারে মট্‌মট্‌ করছেন—কথায়-কথায় মোহর ছড়ান।” কিন্তু মনে মনে হিংসেয় সে জ্বলতে-পুড়তে লাগল। তারও ইচ্ছে হল স্ট্রবেরির খোঁজে বনে যেতে। তার কথা শুনে প্রথমটায় তার মা বলল, “না বাছা৷ এখন ভারি ঠাণ্ডা। গেলে হয়তো ঠাণ্ডায় জমে মারা পড়বি।” কিন্তু বায়নার জ্বালায় শেষপর্যন্ত তার মা রাজি হল। ফার-এর একটা মোটা কোট পরিয়ে পথে খাবার জন্য তার সঙ্গে দিল রুটি, মাখন আর কেক।
        বনে পৌছে সৎবোন সোজা গিয়ে হাজির হল সেই ছোট্টো বাড়িতে। আবার সেই ছোটো তিনটি মানুষ উঁকি দিয়ে মুখ বাড়াল। কিন্তু তাকে কোনোরকম সাদর সম্ভাষণ জানাল না।
        দরজায় টোকা না দিয়ে দড়াম করে দরজা খুলে সে ভিতরে গেল। তার পর তাদের অনুমতি না নিয়েই সোজা বসার ঘরে গিয়ে উনুনের পাশে বসে সে খেতে শুরু করল তার কেক রুটি আর মাখন। সেই ছোটো তিনটে মানুষ বলল, “আমাদের কিছুটা দাও।” সৎবোন বলল, আমারই পেট ভরবে না—এর থেকে তোমাদের দি কী করে?”
        সৎবোনের খাওয়া শেষ হলে তারা বলল, “ঝাঁটাটা নিয়ে খিড়কিদরজার সামনেকার দুয়ার ঝেঁটিয়ে সরাও।”
        শুনে সৎবোন খেঁকিয়ে উঠল, “তোমরা নিজেরা ঝাঁট দাও গে। আমি তোমাদের দাসী নই।” যখন সে দেখল তারা তাকে কিছুই দেবে না তখন বাড়ি থেকে সে বেরিয়ে পড়ল।
        সৎবোন চলে যেতে সেই ছোট্টো তিনটি মানুষ আলোচনা করতে লাগল—তাকে কি অভিশাপ দেওয়া যায়। কারণ সে ভারি দাম্ভিক, অবাধ্য আর অভদ্র।
        প্রথমজন বলল, “আমি অভিশাপ দিলাম-- তার জীবনের সব দিন যেন আগের দিনের চেয়ে বেশি দুঃখের হয়।”
        দ্বিতীয়জন বজলে, “আমি অভিশাপ দিলাম-প্রতিটি কথার সঙ্গে তার মুখ দিয়ে যেন ব্যাঙ লাফিয়ে পড়ে।”
        তৃতীয়জন বলল, “আমি অভিশাপ দিলাম—তার মৃত্যু যেন খুব দুঃখের হয়।”
        সৎবোন স্ট্রবেরির জন্য অনেক খোঁজাখুঁজি করল, কিন্তু একটাও না পেয়ে দারুণ চটে সে বাড়ি ফিরল। তার মাকে সব কথা বলার জন্য যেই-না সে মুখ খুলেছে অমনি তার প্রত্যেকটি কথার সঙ্গে থপথপ করে লাফিয়ে বেরুতে লাগল ব্যাঙ। ফলে ঘেন্নায় সবাই তার কাছ থেকে সিটিয়ে সরে গেল।
        তার পর থেকে সেই সৎমা তার স্বামীর মেয়ের উপর ভীষণ খ্যাপা হয়ে উঠল। তার মাথায় তখন একমাত্র চিন্তা–কী করে মেয়েটিকে যন্ত্রণা দেওয়া হয়। এদিকে দিনকের দিন মেয়েটি হয়ে উঠতে লাগল আরো বেশি সুন্দর। শেষটায় সেই সৎমা একটা কেতলিতে টোন সুতো ভরে উনুনে চাপিয়ে সেটা ফোটাল। সেটা ফোটবার পর কেতলিটা সেই বেচারি মেয়ের কাঁধে ঝুলিয়ে একটা কুড়াল দিয়ে বলল, ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া নদীতে গিয়ে কুড়লটা দিয়ে গর্ত করে মাছ ধরতে৷
        সৎমার কথামতো নদীতে গিয়ে কুড়াল দিয়ে বরফ খুঁড়ে সে যখন গর্ত করছে—সেখানে পৌছল ঘোড়ায়-টানা ভারি সুন্দর চার চাকার একটা গাড়ি। সেই গাড়ির মধ্যে ছিলেন স্বয়ং রাজা।
        রাজা বললেন, “বাছা, কে তুমি? কী এখানে করছ?”
        মেয়েটি বলল, “আমি গরিব মেয়ে। টোন সুতো দিয়ে মাছ ধরছি।”
        মেয়েটির জন্য ভারি দুঃখ হল রাজার। তার পর তার রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি বললেন, “আমার সঙ্গে গাড়িতে চেপে যাবে?”
        মেয়েটি বলল, “হ্যাঁ যাব। আমাকে নিয়ে গেলে খুব খুশি হব।”
        তার সৎমা আর সংহবোনের কাছ থেকে চলে যাবার কথা ভেবে সে খুব খুশি হয়ে উঠল।
        সেই গাড়িতে উঠে রাজার সঙ্গে সে পৌছল রাজবাড়িতে। আর তার পর বনের সেই তিনটি ছোট্টো মানুষের বর অনুযায়ী খুব ধুমধাম করে রাজার সঙ্গে তার বিয়ে হয়ে গেল। বছর খানেক বাদে সেই তরুণী রানীর জন্মাল একটি ছেলে। তার স্বামীর মেয়ের এই-সব সৌভাগ্যের কথা শুনে সেই সৎমা নিজের মেয়েকে নিয়ে একদিন রাজপুরীতে হাজির হল। বলল বেড়াতে এসেছে। কিন্তু রাজপুরী থেকে রাজা বেরুবার পর, কেউ যখন তাকে লক্ষ্য করছিল না—সেই পাজি সৎমা রানীর মাথায় আর পায়ে লাঠির বাড়ি মেরে টানতে টানতে বিছানা থেকে নামিয়ে জানলা দিয়ে তাকে ফেলে দিল নদীর দুরন্ত স্রোতের মধ্যে। তার পর নিজের কুচ্ছিত মেয়েকে বিছানায় শুইয়ে তার মুখে দিয়ে দিল ঢাকা। রাজবাড়িতে ফিরে রানীর সঙ্গে রাজা কথা কইতে গেলে সেই বুড়ি সৎমা বলল, “চুপ! চুপ। রানীর জ্বর হয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলা বারণ ৷ এখন তার বিশ্রামের দরকার।”
        রাজা কিছু সন্দেহ না করেই চলে গেলেন। কিন্তু পরদিন সকালে তিনি যখন রানীর সঙ্গে কথা কইলেন আর রানী যখন তার কথার উত্তর দিতে লাগল আগের মতো তখন আর মোহর ঝরতে লাগল না। তার বদলে রানীর মুখ দিয়ে থপথপ করে লাফিয়ে বেরুতে লাগল ব্যাঙের পর ব্যাঙ। এটার কারণ কি রাজা জানতে চাইলে সেই বুড়ি সৎমা জানাল অসুখের জন্য এমনটা হচ্ছে। জ্বর ছাড়লেই আবার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
        রাতে কিন্তু বাসন-মাজা দাসী দেখল পুকুরে একটা হাসঁ সাঁতার কাটছে । হাসটা বলল :
  
        “রাজামশাই জেগে
        নাকি রাজামশাই ঘুমিয়ে?”
        কোনো উত্তর না পেয়ে আবার সে প্রশ্ন করল :
        “কি করছে আমার অতিথিরা?”
        বাসন-মাজা দাসী উত্তর দিল :
        “গভীর ঘুম ঘুমচ্ছে।”
        হাঁস আবার প্রশ্ন করল ?
        “আমার ছেলে কোথায় আছে?”
        “দোলনায় ঘুমচ্ছে।” উত্তর দিল বাসন-মাজা দাসী।
       
        তথন সেই হাস রানীর বেশে উপরতলায় গিয়ে ছেলেকে দুধ খাওয়াল, বিছানাটা ঠিকঠাক করে তার গায়ের চার পাশে চাদর গুজে দিয়ে আবার হাঁস হয়ে পুকুরের মধ্যে সাঁতরে চলে গেল। এই ঘটনা ঘটল পর-পর দু-রাত। তৃতীয় রাতে কিন্তু বাসন-মাজা দাসীকে হাসটা বলল, “রাজাকে গিয়ে বল চৌকাঠের ওপর দাঁড়িয়ে আমার ওপর তার তরোয়াল তিনবার দোলাতে।”
        সঙ্গে সঙ্গে বাসন-মাজা দাসী দৌড়ে গিয়ে রাজাকে সব কথা জানাল ৷ রাজা তাই করলেন। আর তৃতীয়বার সেই হাঁসের উপর তরোয়াল দোলাতেই তিনি দেখলেন সুস্থ দেহে সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে তার স্ত্রী।
        রাজার আনন্দ আর ধরে না। কিন্তু রবিবার পর্যন্ত রানীকে তিনি লুকিয়ে রাখলেন একটা আলমারির মধ্যে—যেদিন তাঁর ছেলের নামকরণ উৎসবের কথা। নামকরণ অনুষ্ঠান শেষ হবার পর রাজা বললেন, “কেউ কাউকে বিছানা থেকে নামিয়ে নদীতে ফেলে দিলে—তার কি শাক্তি হওয়া উচিত?”
        সৎমা উত্তর দিল, “আমি জানি কী শাস্তি হওয়া উচিত। সেরকম মানুষকে ভেতর দিকে গজাল-আটকানো পিঁপেতে ভরে পাহাড় থেকে -গড়িয়ে নদীতে ফেলে দেওয়া দরকার।”
        শুনে রাজা বললেন, “তবে তাই হোক। নিজের শাস্তির কথা নিজেই তুমি বলেছ।” তিনি আদেশ দিলেন একটা পিঁপে এনে সেই শয়তান বুড়ি সৎমা আর তার মেয়েকে সেটার মধ্যে পুরতে। পিঁপের মধ্যে তাদের ভরা হলে সেটার তলায় অসংখ্য গজাল গেঁথে পাহাড়ের উপর থেকে সেটা নদীতে গড়িয়ে ফেলা হল ।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য