রক্ত গোলাপ - আমীরুল ইসলাম

    আমার নাম কপোত। দূর আকাশের দিকে তাকিয়ে কখনো ভাবি, আমি যদি পাখি হতাম ! কোন এক সফেদ সকালে উঠে মনে মনে বলি, পৃথিবীর সবটুকু রং আমি শুষে নেবো। শৈশবের কিছু উজ্জ্বল স্মৃতি আমার হৃদয়ে জাগরুক। স্মৃতিভূক দুপুরে চিলেকোঠায় বই পড়তে পড়তে মন চলে যায় তেপান্তরে। 'তিমুর ও তার দলবল’ বইটা পড়েছি। আমার একটা বাগান আছে। প্রতি বছর শীতে আমি সেখানে রক্তগোলাপ লাগাই। লাল টকটকে ফুলে ছেয়ে থাকে বাগান। সেই ফুল আমার খুব প্রিয়।
    বাবার হাত ধরে একবার একটা সিনেমা দেখি। যুদ্ধে যায় এক কিশোর। একের পর এক শত্ৰুপক্ষের ট্যাংক ধ্বংস করে। মা'র টানে ঘরে ফিরতে চায়। কিন্তু স্বাধীনতার যুদ্ধ তার কাছে এখন মায়ের চেয়েও বেশি প্রিয়। দেশের মাকে মুক্ত করতে হবে। লালচে মেটে রঙের সেই ছবি মনে পড়লেই আমার বুকটা হু হু করে। মনে পড়ে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। একাত্তরের সেই টালমাটাল দিন। আকাশে শকুনের আনাগোনা। রাস্তায় টহলদার কনভয়। খাকী পোশাকের লোকজন। হঠাৎ করে জংগী প্লেনের চিৎকার। কুড়িয়ে পাওয়া গুলির খোলস। বাবা মা'র মুখে গাঢ় চিন্তার ছাপ।
    সেই যুদ্ধ, যখন আমার বয়স দশ, টানা নয় মাস চললো। শহর ছেড়ে ভাগছে সবাই। বাবা অনড়। তিনি যাবেন না। রাতে ঘুমোতে পারতেন না। রাত গভীরে বারান্দায় পায়চারি করতেন। ফিসফিস করে কথা বলতেন মায়ের সঙ্গে। আমার ভাইয়া তখন কলেজে পড়ে। অসম্ভব জেদী আর একগুঁয়ে। স্বদেশীরা তার আদর্শ–পরে তা বুঝেছি। যে কোন মিছিলের আগে থাকত। রাত জেগে পোস্টার লিখতো। কখনো কখনো ঘাড় গুঁজে বই পড়তো। এক চিলতে উঠোনে একটা বাগান করেছিলো ভাইয়া। লালগোলাপ.ভাইয়ার খুব প্রিয়। বাগান জুড়ে টকটকে লাল গোলাপ খুবই সুন্দর লাগতো!
    এক বিকেলে বাবা মা আর আপা বসে চা খাচ্ছিলো। তিন চাকার সাইকেল নিয়ে খেলা করেছিলাম আমি। আপার দিকে হাত বাড়িয়ে বাবা বললেন, ‘একটু টিপে দে’তো মা।’
    আপা বাবার খুব ভক্ত। হাত টিপতে টিপতে আমার সঙ্গে চোখে চোখে দুষ্টুমি করছিলো। ঝড়ের বেগে এমন সময় এলো ভাইয়া। উবু হয়ে সাত তাড়াতাড়ি বাবার পায়ে সালাম করলো। আপার বেণী ধরে টান দিলো। একছুটে চলে গেলো ভেতরবাগে। মাকে জাপটে ধরে আদর কুড়িয়ে নিলো। ব্যাপার কিরে, ব্যাপার কিরে—কেউ কিছুই জানতে পারলো না। ভাইয়া একটা হ্যাভারসাকে প্রয়োজনীয় জিনিশপত্তর ভরে নিলো। গোর্কীর ‘মা’ উপন্যাসটা ভাইয়া নিতে ভোলেনি। কারো মানা শুনলো না। ঝটিতে বেরিয়ে গেলো। কিছুদিন পরে আমি বুঝলাম—-ভাইয়া যুদ্ধে গেছে। বাবা চোখের জল মুছলেন---
    পাগলটা শেষ পর্যন্ত চলেই গেলো।
    মা কিন্তু সেই বিকেলে খুব কেঁদেছিলেন। কান্না দেখলেই কান্না আসে। দেখাদেখি আমি আর আপাও খুব কেঁদেছিলাম।
    এরপরই আমাদের বাসায় লুকিয়ে লুকিয়ে মানুষ আসতো। পরে শুনেছি, ওরা মুক্তিযোদ্ধা। ভাইয়ার খবর নিয়ে আসে। আমার মন আনন্দে নাচতো। ভাইয়ার কী মজা! সেই ছবিতে দেখা লোকটার মতো ভাইয়া বনে জংগলে, পাহাড়ে যুদ্ধ করে। মা কিছুতেই কিছু বুঝতে পারে না। মায়ের চেয়ে যুদ্ধ বড়ো—কে বোঝাবে এই কথা। একদিন শুনলাম—ভাইয়া ওপার বাংলায় চলে গেছে। গোটা গোটা অক্ষরে আমাকে এক লাইন চিঠি লিখেছে—লালগোলাপের যত্ব নিস। আমি শিগগির ফিরবো ।
    দ্বিগুণ উৎসাহে বাগানের যত্ন নেই। আমার সেই শৈশব চপলতায় মুখর হয়ে ওঠে সারা বাড়ি। কিন্তু বাবার চোখে আষাঢ়ের কালো মেঘ। মায়ের মনে অশান্তির ঢেউ।
    দিন গড়িয়ে চলে। স্বাধীনতা যুদ্ধ চলছে তোড়জোড়ে। খুব উন্মাতাল দিন। চারিদিকে বিপদের ঘনঘটা। বাবা জমানো পয়সা ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। অবসর সময়ে আপার সঙ্গে দাবা খেলেন। মন ভরা চিন্তা। তাই অমনোযোগের কারণে প্রায় হেরে যান। আপা খুব খুশি হয়। জয়ী হয় বলে আমার গালে টুসকি মারে। কান মলে ফুসফুস করে কথা বলে—
    তুই লক্ষ্মী সোনা ভাই! কত্তো ভালোবাসি  তোকে।
    মিথ্যে কথা। আপা কখনোই আইসক্রীমের ভাগ দেয় না আমাকে। কালিকলম নিয়ে ঘষাঘষি করলে রাগ করে। শখ করে নেলপালিশ মাখলে কান মলে দেয়।
    ফুর্তিতে থাকলে দাদা ডাকে। আর বলে,
    দাদা, আমাকে দিদি ডাকবি কিন্তু! কিছুদিন পর'আপা আর আমি মিলে নতুন একটা খেলা তৈরি করলাম। যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। দুজনেই মুক্তিযোদ্ধা হতে চাই। তাহলে চলবে কী করে। বাধ্য হয়ে টস করি। বারবার হেরে যাই। পাকবাহিনী সাজতে আমার একটুও ইচ্ছে করে না। স্কুল বন্ধ। হাতে অফুরন্ত সময়। বাবা আমাকে দশটা করে ইংরাজিতে শব্দ শিখতে বলেছেন। সন্ধেরাতে নীরস ওয়ার্ডবুক নিয়ে বসি। বাবা তখন কানের কাছে রেডিও নিয়ে কী সব শোনেন। বাসা থেকে বেরুনো নিষেধ।
    টিমে তেতালা ছন্দে আমার সময় কাটে। হঠাৎ করে ভাইয়ার খবর আসা বন্ধ হয়ে গেলো। সেই সময়েই বাবা মা জরীফ বুড়ো হয়ে গেলেন। কান্নাকাটি করতে করতে মায়ের চোখের জ্যোতি কমে গেলো। বাবা কথা বলা কমিয়ে দিলেন। পাড়ার কাকুরা বাসায় এলেও বাবা মুখচোরা থাকেন। আমাদের সেই উজ্জ্বল বাড়িতে নেমে এলো থকথকে নীরবতা।
    সেই আমি তখন এসবের কিছু কিছু বুঝেছিলাম। বাকিটা অনেক পরে। নয়মাস যুদ্ধের পর স্বাধীনতা আসে। লাখো মানুষের রক্তস্রোত। সবুজ দেশে উঠছে লাল সূর্য। দিকে দিকে সবার বিজয় উল্লাস। বুকে বুক মেলাবার দিন। রাস্তায় রাস্তায় মানুষের ঢল। রাইফেলের গুলির শব্দে মুখর হচ্ছে স্বাধীনতার চেতনা।
    আমার মন ভালো নেই। যুদ্ধ শেষে ভাইয়া আর ফেরেনি। আপাও আর যখন তখন সাজগোজ করে না। বেণী বাঁধে না এলোচুলে।
    আমার বোধে স্বাধীনতা দীপ্ত নয়। তবু আমি বুঝতে পারি—সবাই আজ মুক্ত। আবার আমি কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যাবো। বাবা অফিস থেকে ফিরবেন হাসিমুখে। সঙ্গে থাকবে ঠোঙাভর্তি মুখরোচক খাবার। ভাইয়ারা যুদ্ধ শেষে কেন ফিরবে? কোটি কোটি মানুষের জন্য ভাইয়ারা লড়াই করেছে। মৃত্যুর মধ্যেই সেই লড়াইয়ের আসল আনন্দ।
    একদিন ভাইয়ার এক বন্ধু এসে হস্তদন্ত হয়ে খবর দেয়—ও নেই। ছদিন আগে মারা গেছে। তিনদিন আমাদের বাসায় হাড়ি চড়েনি। মা আর আপা কেঁদেকেটে কাঁপিয়ে তুলেছে পুরো বাড়ি। বাবা চুপচাপ, নিরুত্তর। আমি কেঁদেছিলাম। ডিসেম্বরের সেই দুই তারিখ আমাদের হৃদয়ে খচিত উজ্জ্বল দিন। বছরের সুরুতেই নতুন ক্যালেন্ডারে আমি দাগ দিয়ে রাখি।
    সতেরো তারিখ ভাইয়ার বন্ধু পামেল আসে। কাঁধে স্টেনগান ঝুলিয়ে। যুদ্ধ ফেরত খাটি যোদ্ধা মনে হয় না পামেল ভাইয়াকে। যুদ্ধে গেলে আবার ফিরে আসা কী? পামেল ভাইয়া এসে একটা ডাইরি দিয়ে যায় বাবার হাতে। বারান্দার ওপর বসে তৃপ্তি ভরে ভাত খায়। পাড়ার সবাই এসে আমাদের উঠোনে ভীড় করে। একজন মুক্তিযোদ্ধার দিকে তাকিয়ে আশ মেটে না কারো।
    পামেল ভাইয়ার হাতে সময় কম।আমি সুযোগ বুঝে স্টেনগানটা একটু নাড়াচাড়া কবে দেখি। পাশের ঘর থেকে আপা ডাক দেয়—
    কপোত শুনে যা একটু, শিগগির—
    আপা আমার কানে কানে বলে দেয়,
    যন্ত্রটা একটু নিয়ে আয়।
    তারপর দু’ভাইবোন মিলে সেটা উল্টাই পাল্টাই।
    ভাইয়ার আরেকবন্ধু ইসমাইল আর্ট কলেজে পড়ত। ভাইয়ার একটা তেল রং-এ পোট্রেট এঁকে দেয় সে। সেটা আজো সযত্নে আমাদের ঘরে টাঙানো আছে। বাবা কখনো কখনো লাল মলাটের ডাইরি বের করে পড়েন। আর টপটপ করে চোখের পানি ফেলেন। ভাইয়ার মৃত্যুদিনে আমি ফুলের মালা দিয়ে ছবিটা সাজিয়ে দেই।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি অনেক কিছু জানতে পারি। একদিন লুকিয়ে পড়ে ফেলি ডাইরিটা। কিছুকিছু অংশ আমার হৃদয়ে চিরদিনের জন্য গেঁথে থাকে।
    ....আজকে আমরা বেনাপোল বর্ডারে পৌছেছি। পাকবাহিনীর ঘাটির ওপর কাল ভোরবেলা আক্রমণ চালাতে হবে। আমরা চৌদ্দজন। সঙ্গে ভারি অস্ত্রশস্ত্র নেই। তবু চালিয়ে যেতে হবে। বনগাঁ রেলস্টেশনে দাঁড়িয়ে হঠাৎ আমার মায়ের কথা মনে পড়লো। ইচ্ছে হলো, হাতে শান্তির রুমাল উড়িয়ে মার কাছে ফিরে যাই। দুহাত আঁকড়ে ধরে বলি মা, তোমার ছেলে ফিরে এসেছে। তোমাকে মুক্ত করেছে।
    তুমি প্রাণ খুলে হাসো না।.....
    ...গত কদিন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়েছে। অপারেশনে মারা পড়েছে পাচজন। মেরেছি সাতাশজন। বাবা যদি জানতেন—আ.ম মৃত্যুকে জড়িয়ে ধরার জন্য উন্মুখ! মুখ টিপে লাজুক হাসতেন। হয়তো বলতেন, ওগো, দেখো পাগল ছেলের কাণ্ড দেখো!
    যারা মারা পড়েছে ওদের দায়সারাভাবে কবর দিতে হয়েছে। আশপাশের লোকদের সাহায্য কোনদিন ভুলবার নয়। ইসমাইল এক ঝোপের ভেতর লুকিয়ে থেকে তিনদিন উপোস করে কাটিয়েছে। ডান হাতে গুলি খেয়ে পুরো একদিন অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকে। পরে গ্রামের লোকেরাই উদ্ধার করে। বাঁচিয়ে তোলে।
    আমি সূর্যসেনের জীবনী পড়তে বসেছি।
    ...বাড়ির কথা মনে পড়ছে খুব বেশী। আমার লক্ষ্মী বোনটাকে আদর করি না কতোদিন। ভাবুক ছেলে কপোতই বা কেমন আছে। ও নিশ্চয়ই এখনো খুব সকালে উঠতে চায় না। গল্প শোনার জন্য কার কাছে আবদার করে? বাড়ি ফিরে কপোতকে রাইফেল চালানো শিখিয়ে দেব। ও খুব খুশি হবে। বোনের জন্য আমার ভালোবাসার ঘাটতি নেই। কিছুদিন আগে টেনিদার সিরিজ পড়তে চেয়েছে। আমি মার্ক টোয়েনের বইগুলো ওকে কিনে দেব। বোনটির ফ্রকের আঁচল চিবুনো অভ্যেস। এখনো কিসে অভ্যেস আছে তার। অনেকদিন বাসার খবর পাই না। চার মাস যুদ্ধে এসে মনে হচ্ছে, যুগ যুগান্তর ধরে এখানে পড়ে গেছি। যেন কোনদিন আমি বাবা-মায়ের কাছে থাকিনি। আমার কোন ভাইবোন নেই।
    সেই আদিম যুগের মানুষের মতো শুধু যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। আর কতদিন খেলতে হবে।
    ....খুব ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। আমরা যশোরে পৌছেছি। পাকবাহিনীর বুদ্ধি ভোঁতা। সেই সুযোগে আমরা বিজয়ের স্থির লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। গত বিকেলে পাপ্পু, তপন আর লিটু মারা গেছে। পাপ্পুর কপালের খুলি উড়ে গেছে। কী বীভৎস সে চেহারা। কিন্তু ঠোঁটের হাসিটুকু লেগে রয়েছে। আমাদের ক্যাম্পের সামনে কবর দিলাম। আমি কবরের ওপর একটা রক্তগোলাপ পুতে দিলাম। ফুলটা হাতে নিতেই বাড়ির কথা মনে পড়লো। একা থাকা পৃথিবীতে অনেক সুখের। বাবা মা ভাইবোনদের নিয়ে যে অখণ্ড পরিবার তাতে আমরা লতায় পাতায় জড়িয়ে পড়ি। বাইরের বাতাসে বেরিয়ে এলেই হৃদয়ে টান লাগে।
    আমি ফিরে যাব। এক বুক স্বাধীনতা নিয়ে আমার সেই চিলতে উঠোনে দাঁড়াব। সবাইকে বলবো, আমি এসেছি। কপোত কি বাগানের যত্ব নিচ্ছে? বাবা কি চেহারা ভার করে অনাগত দিনের কথা ভাবছেন? আদুরে বোনটা কি গলে গলে পড়ছে ভালোবাসায়? মা তার দুরন্ত, পাগল ছেলেটার জন্যে এখনো কি কান্নাকাটি করে? কে জানে কে বলতে পারে এখন কেমন আছে ১৯৮ জগন্নাথ সাহা রোডের সেই বাড়িটি?
    ....আমার বাগানে নিশ্চয়ই শীতের সুরুতে অনেক রক্তগোলাপ ধরেছে। লাল টকটকে রঙের মধ্যে এক ধরনের উগ্রতা আছে। জেদী, দামাল, সাহসীজনের প্রিয় রং লাল। সূর্যে লাল স্নিগ্ধতা থাকলেও কখনো কখনো তা ভয়ংকর। অনেকগুলো রক্তগোলাপের দরকার আমার। খুব তাড়াতাড়ি কাছের মানুষরা চলে যাচ্ছে। কাল যার সঙ্গে এক পাতে ভাত খেলাম আজ সে পৃথিবীর সব মায়া কাটিয়ে চলে গেছে। রিটন, হেলাল, বাচ্চু, পলু সবাই আছে শান্তিতে। যাদের ছাড়া এই বিরাট যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের অস্তিত্ব কল্পনা করতে পারি না তারাও হারিয়ে যায়। আসলে তাই-ই শুধু আসা যাওয়া।
    এই আসা যাওয়ার মাঝখানে দুএকটি স্মৃতি, কিছু টুকরো ঘটনা। ছেড়া ছেড়া কথা। ওদের কবরে গুচ্ছ গুচ্ছ গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছে আমার। কিন্তু হাতের কাছে একটা রক্তগোলাপও পেলাম না। সময় ও সুযোগ পেলে সবাইকে রক্তগোলাপের ওপর শুইয়ে রাখতাম। কিছুদিন আগে কপোতকে তাই এক লাইনে লিখে দিয়েছি—বাগানের যত্ন নিস।
    বাবা আমার জন্য দোয়া করো। মা, তোমার ছেলে নিরুদ্দেশ নয়, ফিরে আসবে। শুধু দোয়া করো। . . . . .
    আমি সেই কপোত। বারো বছর আগে আমার ভাইয়া যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছে। আপা শ্বশুর বাড়ি থাকে। বাবা বুড়ো হয়ে গেছেন। মায়েরও বয়স হয়েছে অনেক।

    ভাইয়ার ডাইরিটা পুরো অংশই আমার মুখস্থ। ভাইয়ার জন্য আমি গর্ব করি। ছব্বিশে মার্চ আমার চেতরা জুড়ে থাকে ভাইয়া। ষোলই ডিসেম্বর ঢাকা শহরময় ছড়িয়ে পড়ে ভাইয়া অস্তিত্ব। .
    আজতক আমার উঠোনে বাগান রয়েছে। গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তগোলাপের সমারোহ। বাবা মাঝে মাঝে আমার খেয়াল দেখে হাসেন—
    ও ফিরে আসবে না কোনদিন। অযথা বুকে কষ্ট বাড়াস ফুল লাগিয়ে।


    আপা বাসায় এলেই ফুল ছিড়ে নিয়ে যায়। আর আমি অপেক্ষায় থাকি—ভাইয়া হয়তো আসবে। লাল রক্তগোলাপের পাপড়ি মাড়িয়ে বলবে—
    কপোত, তুই ভালো আছিস। দেশতো এখন স্বাধীন। তোরা সবাই বড় হয়ে গেছিস। কতো সুখে আছিস। আমাকে কিছু রক্তগোলাপের পাপড়ি দে। একটা একটা করে আমি সব শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের দেব। কেন না—ওদের জন্যে কেউ কিছুই করেনি।
    কিন্তু ভাইয়া ফিরে আসে না। কোনদিন আসবে না। আমি কপোত তবু অপেক্ষায় থাকি।


গল্পটি পড়া শেষ! গল্পটি কি সংগ্রহ করে রাখতে চাও? তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে তোমার পছন্দের গল্পটি ডাউনলোড করো আর যখন খুশি তখন পড়ো; মোবাইল, কস্পিউটারে কিংবা ট্যাবলেটে।

Download : PDF

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য