ভূতের খপ্পরে - হরিদাস সাহারায়

    নেড়াদের বেলতলায় ছিল ভূতের মস্ত বড় আড্ডা। গেছো ভূত, মেছো ভূত, মামদো ভূত, সিটকে ভূত, শাকচুন্নী—সব কিছু কায়েমিভাবে বাসা বেঁধেছিল ঐ বেলগাছটার তলায়।
    নামেই ওটা বেলতলা, কিন্তু হিজল, তেঁতুল, তাল, তমাল—অনেকরকম গাছের মিলন ঘটেছে সেখানে। অর্থাৎ ভূতপ্ৰেতরা যে সব গাছে থাকতে ভালোবাসে সে সব গাছের মোটেই অভাব নেই। কাজেই ভূতদের ওখানে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত।
    দিনের বেলাই ওপথ দিয়ে যেতে বুক ধড়ফড় করে। আর রাতের বেলা...একা গেলে কাউকে আর প্রাণ নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হবে না।

    এই তো সেদিন হরু ঠাকুরের বাড়ি বেড়াতে এসেছিল তার ভাগনে চেতন ঠাকুর। ঠিক দুক্কুর বেলা। নেড়াদের বেলতলার কাছাকাছি যেই এসেছে অমনি তিনটে ভূত সুড়সুড় করে গাছ থেকে নেমে এসে বলল—পেন্নাম হই ঠাকুর। আপনি বুঝি এ গাঁয়ে নতুন এলেন?
    চেতন ঠাকুর তো চমকে গিয়ে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। দিনের বেলায় ভূত—এ যেন সে বিশ্বাস করতেই চাইল না। কিন্তু না বিশ্বাস করেই বা উপায় কি? চোখের সামনে জলজ্যান্ত ভূত। তাই তার মাথা গেল ঘুলিয়ে।
    ভূতরা খ্যানখেনে গলায় বলল—কি, আমাদের কথা বুঝি মশাইর কানেই যাচ্ছে না? বলি এ গাঁয়ে কি নতুন এলেন?
    চেতন ঠাকুরের তো চেতনা হারাবার যোগাড়। চোখ ছানাবড়া করে আমতা আমতা করে বলল— অ্যাঁ, অ্যাঁ হ্যাঁ—নতুন এসেছি।
    হাতে ওটা কি? ইলিশ মাছ বুঝি? একটি ভূত চেতন ঠাকুরের হাতে ঝুলানো মুখবাঁধা হাড়িটা দেখিয়ে জিগ্যেস করলে।
    অ্যাঁ—অ্যাঁ...হ্যাঁ, হ্যাঁ...চেতন ঠাকুরের এবার চেতনা হল—সত্যি হাতে হাড়ির ভেতর ইলিশ মাছ। মামা হরু ঠাকুর ইলিশ মাছ খেতে ভালোবাসেন বলে তার মা ইলিশ মাছ কুটে, নুন মাখিয়ে দিয়েছে।
    হেঁ—হেঁ—হেঁ...আমরা গাছের ডাল থেকেই গন্ধ পেয়েছি..আমাদের সঙ্গে চালাকি! কিন্তু মামার জন্য নিয়ে আসা ইলিশ মাছে ভাগ বসাবে এই ভূতেরা? সেটা কি প্রাণে সইবে? তাই সে বলল—না না, ইলিশ মাছ নয়!
    তবু মনে তার বড় ভয়। তাই ভূত তাড়াবার মন্ত্র আওড়াতে লাগল—
    ভূত আমার পুত
    পেত্নী আমার ঝি,
    রা-রা--রা...
    আর বলতে পারল না কিছু! সব কিছু যেন গুলিয়ে যেতে লাগল। ভূতেরা নাচতে লাগল ধেই ধেই করে।
    দাও দাও ইলিশ মাছ..
    খাব খাব ইলিশ মাছ.
    দাও দাও...
    খাব...খাব...
    চেতন ঠাকুর মাছের হাড়িটা আড়াল করতে চাইল। কিন্তু এবার ভূত তিনটি তার চারদিকে ঘিরে শুরু করল প্রলয় নাচ।
    তোর ঘাড় মটকে খাব!
    তোর পেটটি চিরে খাব!!
    তোর হাড় চিবিয়ে খাব!!!
    চেতন ঠাকুর দেখল ব্যাপারটা সুবিধের নয়। আগে নিজে বাঁচলে বাপের নাম। তাই মাছের হাড়িটা ছুড়ে ফেলেই দে ছুট। ছুটতে ছুটতে চেতন ঠাকুর একেবারে মামার বাড়িতে। আর এসেই একেবারে অচৈতন্য। মাথায় একুশ কলস জল ঢালবার পর নাকি চেতন ঠাকুরের চেতনা ফিরেছিল।
    চেতনা ফেরার পর হরু ঠাকুর ভাগনের মুখে শুনতে পেলেন সব কাহিনি। শুনেই তো চটে একেবারে আগুন। কি, ভূতের এত আম্পর্ধা! হরু ঠাকুরের ইলিশ মাছ খাবে ভূতেরা! আচ্ছা, রসো!
    হরু ঠাকুর ঝাড়ফুক মন্ত্র জানতেন অনেক। সেদিনই এক মুঠো সরষে মন্ত্র পড়ে ছড়িয়ে দিলেন বেলতলার সামনে। আর যায় কোথায়! হুড় হুড় করে গাছ থেকে নেমে এল ভূতের দল। আর কি নাচন-কুঁদন!
    হরু ঠাকুর বললেন—আমার ইলিশ মাছ নিয়েছিস কেন?
    ভূতেরা বলল—আপনার ইলিশ মাছ নেব কেন ঠাকুর? সে তো একটা উটকো লোকের মাছ!
    হরু ঠাকুর বললেন—আমার ভাগ্নের মাছ। আমার জন্যই তো এনেছিল।
    ভূতেরা বলল—দোহাই ঠাকুর। তোমার মাছ জানলে নিতাম না। এখনো সে মাছ খাইনি। নিয়ে যাও তোমার মাছ।
    একটি ভূত গাছের ডাল থেকে নিয়ে এল সেই হাড়ি। হরু ঠাকুর বললেন—দে, আমার এত সাধের ইলিশ মাছ! তবে তোরাও যখন আশা করেছিস, নে এর থেকে দু’চার টুকরো।
    হরু ঠাকুর নিজেই ল্যাজার আর মাথার কাছ থেকে দু’এক টুকরো পাতলা কাটাওয়ালা মাছ বেছে দিলেন।
    তবে আমাদের ছেড়ে দাও ঠাকুর। ভূতেরা কাকুতি-মিনতি করতে লাগল।
    হরু ঠাকুর আবার সরষেতে মন্ত্র ফুকে ভূতদের মুক্ত করে দিলেন। তারপর হনহন করে ইলিশ মাছের হাড়িটা নিয়ে ছুটে চললেন বাড়ির দিকে।
    ভূতেরা মুক্তি পেল বটে—কিন্তু হরু ঠাকুরের উপর মনে মনে চটে রইল। ভাবল—বাগে পেলেই তারা হরু ঠাকুরের ঘাড় মটকাবে।
    এইভাবে কেটে যায় দু’মাস—এক বছর।
    একদিন সন্ধ্যাবেলায় হরু ঠাকুর ফিরছেন কাজলগাঁয়ের হাট থেকে। হাতে ঝোলাভরতি হাটের সওদা—মাছ, তরিতরকারি আর ফলফলাদি। ফিরতে একটু দেরি হয়ে গেছে—তাই পথে আজ লোকজন নেই।
    বেলতলার কাছ দিয়ে যেতেই একটা যেন দমকা হাওয়া বয়ে গেল। গাটা ছমছম করে উঠল হরু ঠাকুরের। হঠাৎ দুম করে একটা শব্দ হল। হরু ঠাকুর চমকে উঠেই দেখলেন—একটা ভূত লাফ দিয়ে গাছ থেকে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে আর একটা দুম শব্দ। দেখলেন—আরও একটা ভূত লাফিয়ে তার সামনে পড়েছে।
    হরু ঠাকুর অবাক হয়ে জিগ্যেস করলেন–কিরে, ব্যাপার কি?
    প্রথম ভূত হাতজোড় করে বলল—আজ্ঞে ঠাকুর মশাই, আমরা বড় বিপদে পড়েছি।
    হরু ঠাকুর জিগ্যেস করলেন—কি বিপদ?
    ভূত বলল—আজ্ঞে আমাদের বাবা গত হয়েছেন।
    কবে?
    এই মঙ্গলবারে অমাবস্যার দিন।
    কি হয়েছিল?
    ঐ বাগদীপাড়ায় হাতিমাথাওলা বাগদীর উপর ভর করতে গিয়ে—
    হাতিমাথাওলা বাগদী? সে আবার কে?
    ঐ যে গো—তোমরা আবার ঠাকুর-দেবতার নাম রাখো কিনা—সে সব নাম যে আমাদের নিতে নেই—ঐ যে সেই গাঁজাখোর দেবতার ছেলের নাম—
    ওঃ, সেই গণেশের কথা বলছিস? গণেশ বাগদী?
    হ্যাঁ গো হ্যাঁ। ওর উপর ভর করতে গিয়েই তো এমন পেট খারাপ হল যে সেদিন রাত্রেই একেবারে অক্কা।
    হরু ঠাকুর মৌখিক শোক প্রকাশ করে বললেন—আহা, তোর বাবা মরে গেল! বড় ভালো লোক ছিল রে!
    ভূত গদগদ স্বরে বলল—হ্যাঁ কর্তা, বাবা তো আপনাকে খুব ভালোবাসত। তাই বলছি কি, তার সৎকাজটাও আপনি করে দিন।
    হরু ঠাকুর অবাক হয়ে জিগ্যেস করলেন—মানে? কি করতে বলিস আমাকে?
    আজ্ঞে বাবার শ্রাদ্ধটা শুদ্ধ ভাবে করতে চাই। আমরা তো আর তত্তর-মস্তর জানি না। কাজেই পুরোতগিরির কাজটা আপনাকেই করতে হবে।
    একথা শুনে হরু ঠাকুরের বুকটা টিপটিপ করতে লাগল। সর্বনাশ! মানুষ হয়ে করবেন ভূতের পুরোতগিরি!
    চোখে তিনি আকাশ-পাতাল দেখতে লাগলেন। এদিকে দুমদাম শব্দ করে আরও কয়েকটি ভূত গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ল। সবাই ঘিরে ধরল হরু ঠাকুরকে। বলল—ঠাকুর মশাই! রাজি হতেই হবে—নইলে পথ ছাড়ব না।
    হরু ঠাকুর দেখলেন—এ এক বিষম সংকট! এখন স্বীকার না হয়েও কোনো উপায় নেই। তাছাড়া পথে-ঘাটে রাত-বিরেতে কতরকম বিপদ ঘটতে পারে। কাজেই এদের মন খুশি না করলেও চলে না। তাছাড়া একটা বুদ্ধি করে বাঁচতে হবে। তাই জিগ্যেস করলেন—তোদের বাবার শ্রাদ্ধ কবে?
    আজকেই। সে কি রে! সন্ধ্যা তো হয়ে এল। সন্ধ্যাবেলা কি শ্রাদ্ধ হয়? দিনের বেলা তো শ্ৰাদ্ধ
করতে হয়।
    আপনাদের মানুষদের শ্রাদ্ধ হয় দিনের বেলা। আমাদের শ্রাদ্ধ রাত্তির বেলাতেই হয় কর্তা! হরু ঠাকুর দেখলেন মহা বিপদ। স্বীকার না হয়েও উপায় নেই। তাই বললেন—শ্ৰাদ্ধ করা তো মুখের কথা নয়। যোগাড়যন্তর সব করতে হবে—তবে তো—
    ভূতেরা বলল—আমাদের যোগাড়যন্তর সব ঠিক আছে কর্তা। আপনি বসে গেলেই হল। খাবারদাবারও সব তৈরি।
    হরু ঠাকুর দেখলেন—সত্যি গাছের তলায় বড় বড় মানকচুর পাতায়, মরা মানুষের মাথার খুলিতে কত সব জিনিসপত্তর সাজানো। কেঁচোর চড়চড়ি, মরা ইঁদুরের ঘণ্ট, শুকনো মরা কাকের কাবাব, আরো কত কিছু—
    হরু ঠাকুর ওসব দেখে বললেন—সত্যি তোরা পেল্লায় আয়োজন করেছিস্ রে! গাছের তলায় টিমটিম করে বাতি জ্বলছে। একটু পরেই হরু ঠাকুর বুঝলেন—ওটা বাতি নয়। কতগুলো জোনাকি পোকা ধরে গোবরের মধ্যে গুজে রাখা হয়েছে—তার মধ্য থেকেই ঠিকরে বেরুচ্ছে সেই আলো ।
    একটা জায়গা নিকিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে। একটা খড়ের আসনও পাতা হয়েছে সেখানে। একটি ভূত বলল—এখানে বসুন কর্তা।
    হরু ঠাকুর সেখানে বসলেন। মনে মনে ভাবলেন, আচ্ছা ফ্যাসাদে পড়া গেছে। আজ বুঝি ভূতের হাতেই বেঘোরে প্রাণটা যায়!
    হঠাৎ হরু ঠাকুরের মাথায় একটা বুদ্ধি গজাল। তিনি বললেন—আরও একটা আসন লাগবে যে ! যে পিণ্ডি দেবে তাকেও তো এখানে বসতে হবে।
    সঙ্গে সঙ্গে হুকুম তামিল হল। একটা ভূত হাত বাড়িয়ে দিল—সেই হাতটা লম্বা হতে হতে গিয়ে ঠেকল জলার ধারের কাশবনে—সেখান থেকে এক মুঠো কাশ ছিড়ে আনল। চোখের নিমেষে আসন তৈরি হয়ে গেল। চোখ ছানাবড়া করে হরু ঠাকুর ব্যাপারটা দেখলেন।
    পাশেই আসন পাতা হয়ে গেল। হরু ঠাকুর বললেন—তোরা একজন এখানে বোস, মন্ত্র পড়তে হবে।
    একটা ভূত এগিয়ে এসে জিগ্যেস করল—পিণ্ডি দেবার সময় ঐ আকাশের ওপরে যারা থাকে তেনাদের নাম বলতে হবে না তো?
    হরু ঠাকুর বললেন—কাদের নাম? ওঃ, সেই দেবতাদের নাম? না না, তা বলতে হবে না।
    হরু ঠাকুরের হাতে যে ঝোলাটা ছিল তাতে ছিল অনেক খাবার-দাবার। সেটার উপর দৃষ্টি সব ভূতেরই পড়েছিল—আর লোভও ছিল সকলেরই। তারা ভেবেছিল ঠাকুরমশাই যেই মন্ত্র পড়তে আসনে গিয়ে বসবেন তখনই ঐসব জিনিসের সদগতি করবে। কাজেই হরু ঠাকুর ঝোলাটা পাশে রেখে আসনে বসতেই কয়েকটি ভূত উঁকিঝুকি মারতে লাগল।
    হরু ঠাকুর তা বুঝতে পেরে বললেন—শোন সবাই তোরা উপূস করে আছিস তো? শ্ৰাদ্ধ শেষ না হওয়া অবধি উপুস থাকতে হয়।
    এবার আর কোনো ভূতের মুখে রা নেই।
    হরু ঠাকুর বললেন—আমার ঝোলায় আছে সন্দেশ, মিহিদানা, গজ আর দরবেশ। তোদের শ্রাদ্ধের জন্যই এনেছি। যে উপুস থেকে শ্রাদ্ধের মন্তর পড়বে সে-ই শুধু ওগুলো খাবে। অন্য কারুর আজ ওসব খেতে একেবারে নিষেধ।
    কথা শেষ করতে না করতে একটি সিটকে ভূত আসনের উপর গিয়ে বসে পড়ল। বলল— আমি মন্তর পড়ব।
    সঙ্গে সঙ্গে আর একটি মামদো ভূত তাকে টেনে তুলে ফেলল। বলল—কি, তুই পড়বি মস্তর? তুই উপুস করেছিস?
    করিনি?
    হুম, গয়লাবাড়ির গরুর বাচ্চাটাকে আজ খেল কে? ওঠ ওঠ, আমি মস্তর পড়ব। বলেই দুপ করে মামদো ভূত আসনে বসে পড়ল।
    অমনি পাশ থেকে একটা মেছে ভূত তার গালে বসিয়ে দিল একটা থাপ্পড়। বলল—কি, তুই পড়বি মস্তর? তুই আবার উপুস করলি কখন? পচা ডোবা থেকে পচা শামুকগুলো তুলে খেয়েছিস না? যা যা—আমি পড়ব মস্তর!
    হঠাৎ গাছ থেকে আর একটা গেছে ভূত লাফ দিয়ে ওর ঘাড়ের উপর পড়ে বলল—ফের মিছে কথা বলছিস গোবরা? তুই আবার কোথাকার উপোসী? আজ সকাল বেলাতেই তো গোসাইদের আঁস্তাকুড় ঘেটে কত কিছু খেয়ে এলি। মন্তর যদি পড়ি তো আমিই পড়ব।
    গোবরাও ছাড়বার পাত্র নয়। সে বিরাশি সিন্ধা ওজনের এক থাপ্পড় বসিয়ে দিল গেছে ভূত নন্টের গালে। বলল—আমার উপর কর্তালি করতে আসিস কোন সাহসে রে? তুই কি খেয়েছিস আমি দেখিনি?
    কি খেয়েছি?
    ব্যাঙ খেয়েছিস। ওদিকে আগের ভূতগুলোও হাতাহাতি শুরু করে দিয়েছে। তুমুল হাতাহাতি। যে আসনে বসতে চায় তাকেই মারে। চোখের নিমেষে এক প্রলয় কাণ্ড বেঁধে গেল।
    হরু ঠাকুর বুঝলেন, এই সুযোগ। তিনি তাড়াতাড়ি উঠে ঝোলাটা হাতে নিয়েই সেখান থেকে ছুট্‌। মুখে মুখে রামনাম আওড়াতে লাগলেন। যত দূরে যান ততই জোরে জোরে রাম রাম বলে চেঁচান। ভয় যেন আর কাটে না। শেষ অবধি বাড়িতে এসে নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচলেন।

গল্পটি পড়া শেষ! গল্পটি কি সংগ্রহ করে রাখতে চাও? তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে তোমার পছন্দের গল্পটি ডাউনলোড করো আর যখন খুশি তখন পড়ো; মোবাইল, কস্পিউটারে কিংবা ট্যাবলেটে।

Download : PDF

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য