বিদূষক মোল্লা - মোল্লা নাসিরউদ্দিন

     সারা রাজ্যের জ্ঞানী আর পণ্ডিতেরা নাসিরউদ্দিনের মত স্বল্পশিক্ষিত্ত দরিদ্র ব্যক্তিকে বিদূষক করার জন্য হিংসে করতেন মনে-মনে।
     —বাদশার কানে কথাটা পৌছেছে। তাই একদিন তিনি আদেশ দিলেন সমগ্র রাজ্যের পণ্ডিতেরা হাজির হয়ে যেন তার কয়েকটি মাত্র প্রশ্নের উত্তর দেন। যিনি সঠিক উত্তর দেবেন, তাকে পুরস্কৃত করা হবে।
     বিরাট সভা। পণ্ডিতেরা হাজির৷ বাদশার প্রথম প্রশ্নঃ ‘পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু কোথায়?’
    কেউ উত্তর দিতে পারলেন না। এমন সময় মোল্লার ডাক পড়লে। অদূরে গাধটি বাঁধা ছিল, তা দেখিয়ে মোল্লা উত্তর দিলেন পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু আমার গাধাটার সামনের দিকের বাঁ পায়ের নীচের জমিতে।’
     ‘একদম বাজে কথা।’—পণ্ডিতেরা সমস্বরে আপত্তি জানান।
     তাঁদের দিকে তাকিয়ে নাসিরউদ্দিন বললেন, ‘বিশ্বাস না হয়, আপনারা মাপ-জোক করে দেখে নিন।’
     এবারে বাদশার দ্বিতীয় প্রশ্ন : ‘আকাশে তারার সংখ্যা কত?’
     কেউ বলতে পারছেন না দেখে শেষে নাসিরউদ্দিন দাঁড়িয়ে উত্তর পেশ করেন,—সাহেনশা বাদশার দাড়িতে যত চুল, আকাশে তারার সংখ্যা ঠিক তত, একটিও কম বা বেশী নয়।’
     বাদশা এবারে রেগে বলেন– ‘এ হতেই পারে না মোল্লা। কোনমতেই না। আচ্ছা, তুমি তো এত হিসেব করে চুলের সংখ্যা বলছে, এবারে বল দেখি আমার দাড়িতে মোট কত সংখ্যক চুল আছে?’
     ‘গোস্তাকি মাফ করবেন জাহাপনা’, বারংবার কুর্ণিশ করতে করতে মোল্লার জবাব, ‘হুজুর আমার ঐ গাধাটার লেজে যত চুল, আপনার দাঁড়িতেও ঠিক ততসংখ্যক চুল, একটাও কম বা বেশী নয়।’
     ‘বেয়াদৰ! বেত্তমিজ! —যতো সব ডাহা মিছে কথা।’ বাদশা রেগে গেছেন ।
     ‘জাঁহাপনা, খামোখা গোসা করবেন না। আপনার দরবারে তো এতসব পণ্ডিত আছেন। তাদেরকে লাগিয়ে দিন একটি একটি করে গাধার লেজের চুল গুণতে, তারপর আপনার দাড়ির। দেখবেন আমার কথা সত্যি কিনা।’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য