সে আমার ছোট বোন - লুৎফর রহমান রিটন

    হস্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো বিন্তি। চোখে মুখে ওর ঝিলিক দিচ্ছে দুষ্টুমি। আমি নিজেকে তৈরি করে নিই মোটামুটি। এক্ষুণি কিছু অদ্ভুত প্রশ্নের জবাব দিতে হবে আমাকে। বিন্তির এই এক স্বভাব, রাজ্যির যতো অদ্ভুত জিনিস ওর মাথায় ঘুর ঘুর করে। আর ও ঘুর ঘুর করে আমাদের পেছনে—ছোড়দা এটার মানে কি, ছোড়দা ওটা কেনো হলো? আব্বু তুমি অফিসে ঠিক ঠিক পড়া বলতে পারোতো? নাকি দাঁড়িয়ে থাকো কান ধরে? মামনি তুমি রাঁধতে গিয়ে চুপি চুপি চাকুম চুকুম করে খেয়ে নাও কেনো? ছোড়দা পাখির গায়ে ঢ়িল ছুড়লে পাখিরা কি ব্যথা পায়? আচ্ছা, শীতে পাখিদের ঠাণ্ডা লাগেনা বুঝি? পিংপিং বল লাফায় কেনো? মুরগির ডিম ফুটে নাকি ছানা বেরোয়—কই, আমার হাত থেকে পড়ে গিয়ে ডিমটা যে ভেঙে গেলো ফটাস করে, কোনো ছানা তো বেরোলো না, তোমরা কচু জানো কচু।

বিন্তি এসেই আমার হাত ধরে ঝাঁকুনি দিতে দিতে বললো, ছোড়দা, তুমি লাল কালিতে কালো লিখতে পারো?
    বোঝো ঠ্যালা। আমি বিরক্ত হয়ে বলি, কে কবে লাল কালিতে কালো লিখতে পেরেছে? দেবো এক গাট্টা। যা ভাগ—
    বিন্তিতো গেলোই না উল্টো ঠোঁট বাঁকিয়ে ধমকে উঠলো আমাকে—পড়াশুনো কিছু করবে না সারাদিন টইটই করে ঘুরে বেড়াবে, জানবে কোত্থেকে? দ্যাখো—
    উপুড় হয়ে মেঝের ওপর রাফ খাতাটা উল্টে ফেলে তার ওপরে লাল রঙা মোম পেন্সিল ঠেসে ধরে আমার দিকে কটমটিয়ে তাকিয়ে বিন্তি বললো, দ্যাখো ছেলে শিখে নাও—এই যে আমার হাতে লাল কালির পেন্সিল, এই যে আমি লাল কালিতে লিখছি—ক এ আকার কা—ল এ ওকার লো—কালো। কি, হলো তো এবার?
    ওরে দুষ্টু—আমি ওর রিবন বাঁধা বেণী ধরে টান দিই—তুই এতো কিছু জানিস কোত্থেকে রে?
আদর পেয়ে আরেক কাঠি ওপরে উঠলো একরত্তি মেয়েটা। প্রথমে আমার কোলে, কোল থেকে চেয়ারের হাতলে, চেয়ারের হাতল থেকে সোজা একেবারে আমার কাঁধে। ছোড়দার কাঁধে চড়াটা বিন্তির একটা হবি। চান্স পেলেই কাঁধে চড়বে। সকাল দুপুর সন্ধ্যে নেই। ইচ্ছে হলেই ব্যাস—আমার কাঁধে চড়ে নরম নরম পিচ্চি দুহাতে আমার ঝাঁকড়া চুল খামচে ধরে হুকুম করবে—চালাও ঘোড়া।
    আমি তখন ঘোড়া হই। ঘোড়ার পিঠে বিন্তি তখন রাজকন্যে। শুধু ঘোড়ায় চড়ে ওর শখ মেটেনা। ওকে ছড়া বলতে হবে বানিয়ে বানিয়ে। একেকদিন একেক রকম। আজও রক্ষে নেই—কই ছোড়দা, ছড়া কই?
    কি আর করি। ছড়া রানাই—
বিন্তি সোনা ভালো
ঘর করেছে আলো
বিন্তি ভীষণ পাজি
খায় সে পটল ভাজি।
    আমার চুলে হ্যাচক টান দিয়ে আমার কাঁধে বসে বিন্তি প্রতিবাদ করে—এ্যাই ছোড়দা। আমাকে পাজি বললে কেনো? আমি কি পাজি? হুঁ? পাজি?
    চুল বাঁচাতে ভুল শুধরে আমি আবার নতুন করে ছড়া বানাই—
ইন্তি মিস্তি পিন্তি
লক্ষ্মী সোনা বিন্তি।
    ইন্তি মিস্তি পিন্তি মানে কি ছোড়দা?
    আমি বলি—তাইতো ! এর তো কোনো মানে হয়না। আচ্ছা আরেকটা বলি—
বিন্তি সোনা লক্ষ্মী
কিচির মিচির পক্ষী
    মানে কি? আমি ছড়ার মানে বোঝাই—বিন্তি খুব লক্ষ্মী মেয়ে। পাখির মতো সারাক্ষণ কিচির মিচির করে। ছোড়দাকে কাজ করতে দেয়না।
    কি? আমি কাজ করতে দিইনা। আচ্ছা তুমি কাজই করো। আমাকে নামাও। আমি নামবো। অভিমানী মেয়েটাকে নামাই কাঁধ থেকে। মুখ ভার করলে ওর গাল দুটো কেমন ফুলো ফুলো লাগে।
    নেমেই গম্ভীর গলায় বললো বিন্তি—কই, কাজ করো। শিগগির কাজ করো। কণ্ঠে ওর আদেশের সুর।
    আমি বইটা টেনে নিয়ে পড়ায় মনোযোগী হবার ভান করি।
    বিন্তি বললো, পড়ছে যে? পড়াটা কি কোনো কাজ হলো?
    বারে, পড়াটা কাজ না?
    মোটেও না। কাজতো করে বুয়া। যাও ঘর ঝাড় দাও। প্লেট মাজো। কাপড় ধুতে যাও। যাও।
    আমিতো অবাক! ওরে পিচ্চিবুড়ি এতোসব কথা কে শেখালে তোকে?
    কেউ শেখায়নি বিন্তি সব নিজেই শিখেছে। খুব তো পড়া হচ্ছে। দেখি, আমি তোমার পরীক্ষা নেবো বলে টিচারের মতো ভঙ্গি করে বিভি শুধোয়—
    কোন কেলাশে পড়ো?
    আমি সুবোধ বালকের মতো জবাব দিলাম, আই এ, ঢাকা কলেজে।
    আচ্ছা। বেশ। পড়াশুনো করো তো?
    জ্বি আপা করি।
    মুখস্ত-টুখস্ত করে তো না খালি খালি বাবার মতো বইয়ের দিকে তাকিয়েই থাকো? শব্দ করে পড়ো?
    বললাম,জ্বি আপা শব্দ করেই পড়ি মাঝে মধ্যে। আর মুখস্তও করি।
    খুব ভালো। লক্ষ্মী ছেলে। তা লক্ষ্মী ছেলে এবার ঝপটপ ডিকশনারী মুখস্ত বলো তো?
    আমি চমকে একেবারে চেয়ার থেকে পড়ে যাবার যোগাড়। বলে কি মেয়েটা ! ডিকশনারী মুখস্ত?
    কি ব্যাপার, চুপ করে আছো যে? কথা কানে যায়না?
    বললাম, যায়। কিন্তু ডিকশনারী মুখস্ত বলা যায়না।
    যায়। একশবার যায়। হাজারবার যায়। আমি পারি।
    তুই পারিস?
    জিগেশ করেই দেখোনা।
    আচ্ছা আপা ডিকশনারী মুখস্ত বলুন তো?
    বিক্তি বললো—ডিকশনারী।
    আমি বললাম, তাতো বুঝলাম। তারপর?
    বিন্তি যথারীতি বললো—ডিকশনারী।
    মানে?
    মানে এই তো—আমি ডিকশনারী মুখস্ত বললাম না?
    ওরে দুষ্ট বলে আমি ওর বেণী ধরতে হাত বাড়াতেই হরিণ ছানার মতো তিড়িং বিড়িং লাফাতে লাফাতে পালিয়ে গেলো বিন্তি—পারেনা ধুয়ো পারেনা ধুয়ো...।
    তো এই হচ্ছে আমার একরত্তি বোন বিন্তি।
    ওর সঙ্গে আমার একটা চুক্তি আছে। কলেজ থেকে ফেরার পথে একমুঠো চকোলেট আনতে হবে ওর জন্যে। রোজ রোজ। একদিন না আনলে রক্ষে নেই।
    ওর অভ্যেস আমার পকেট হাতড়ানো। চকোলেটগুলো আমি তাই রেখে দিই পকেটে। কলেজ থেকে এসে জামা কাপড় ছেড়ে আমি যখন খেতে বসি বিন্তি তখন পকেট থেকে চকোলেটগুলো ছাড়িয়ে নেয়।
    আজ আমি ওর জন্যে চকোলেট আনিনি। এনেছি মিমি। মিমি ওর খুব পছন্দ। মিমি খেতে গিয়ে ওর মুখে ল্যাপ্টালেপ্টি কাণ্ড। মিমি টিমি মাখিয়ে ওর মুখ একাকার।
    আমি খবরের কাগজে চোখ বোলাচ্ছি, বারান্দায়। শিশু অপহরণ ইদানিং বেড়ে যাচ্ছে শহরে। রোজ রোজ একটা দুটো এরকম খবর থাকবেই কাগজে। বিন্তির মতোই মিষ্টি একটা মেয়ের ছবি ছাপা হয়েছে আজ। ছবির দিকে তাকিয়ে আমি বিন্তির কথা ভাবি। ছবির মেয়েটা হঠাৎ করে বিন্তি হয়ে যায়—ছোড়দা। আমি পাগল হয়ে উঠি—বিন্তি বিন্তি বিস্তি—
    ছুটে আসে বিন্তি। ওর হাতে মিমি মুখে মিমি জামা কাপড়েও লেগে আছে মিমি। আমি ঝটকায় কোলে তুলে নিই ওকে। ওর গালে চুমু খাই টুক করে। ওর গালে লেগে থাকা মিমি আমার ঠোটে লাগে। আমি ওকে বলি—বিস্তি, তুই কক্ষণো একা একা রাস্তায় বেরোবিনা, বুঝলি?
    কেনো ছোড়দা?
    ছেলেধরা। ধরে নিয়ে যাবে।
    বারে, আমি তো মেয়ে !
    আমি কথায় হেরে যাই ওর সঙ্গে। তবুও বলি, ছেলে হোক মেয়ে হোক, ছোটরা একলা রাস্তায় বেরোলে ওরা ধরে নিয়ে যায়।
    আচ্ছা।
    কোল থেকে নামাই ওকে। ও পালিয়ে যায়।
    একটু পরে আবারো এসে হাজির বিন্তি। দুহাত পেছনে, কি যেনো লুকিয়ে রেখেছেও। আমি শুধোই, কিছু বলবি ?
    হুঁ।
    বল।
    তুমি তো রোজ আমার জন্যে এতো এতো চকোলেট আনো। আজ আমি তোমার জন্যে একটা মজার জিনিস এনেছি। খাবে ছোড়দা?
    খাবোনা মানে? অবশ্যই খাবো। দেখি কি এনেছিস—
    হাত বাড়িয়ে বিন্তি আমার দিকে যা এগিয়ে দিলো তা দেখে আমার তো চোখ ছানাবড়া। ওর হাতে বাবার সিগারেটের প্যাকেট। ট্রিপল ফাইভ। সঙ্গে লাইটার।
    নাও। খাও।
    বলিস কি? সিগারেট খাবো আমি?
    বারে, বাবা খায়তো। কি সুন্দর ফুকফুক করে ধোয়া বের করে মুখ দিয়ে। নাক দিয়ে। তুমিও খাওনা ছোড়দা।
    আমি ওকে বোঝাই—আগে বড় হয়ে নিই তারপর খাবো। এখন এগুলো রেখে আসো যাও—
    বারে, তুমি বুঝি বড় হওনি? বাবার মতোই তো গোঁফ হয়েছে তোমার, বলে আমার গোঁফ ধরে হ্যাচকা টান মারে বিন্তি।
    ওর কথায় কেমন লজ্জা পেয়ে যাই আমি। লাজুক লাজুক ভঙ্গিতে আয়নার সামনে এসে দাঁড়াই। নিজেকে দেখি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। তাইতো!
    দেখতে দেখতে সেদিনের একরত্তি মেয়েটা কি রকম ধাইধাই করে বড় হয়ে উঠেছে। ফ্রক ছেড়ে শাড়ি পড়েছে ও আজ প্রথম। গুটি গুটি পায়ে শাড়িপরা বিন্তি আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। আমি অপেক্ষা করি—এক্ষুণি বিন্তি আমার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমার চুলগুলো এলোমেলো করে দেবে। বায়না ধরবে কাঁধে চড়ার।
    কিন্তু না। বিন্তি আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে কি রকম ছলছল হয়ে উঠছে।
    আমি উঠে দাঁড়াই। কিরে বিস্তি, রীতিমতো মহিলা হয়ে গেছিস মনে হচ্ছে?
    বিস্তি আমার গলা জড়িয়ে ফুপিয়ে ওঠে—ছোড়দা, আমাকে তোমরা এতো তাড়াতাড়ি বড় বানিয়ে ফেললে? আমাকে সালোয়ার কামিজ এনে দাও—এনে দাও—অঝোরে কাঁদতে থাকে বিন্তি ।
    আমি কেমন হতভম্ব হয়ে যাই। আজ হঠাৎ কি হলো বিন্তি? মা বকেছে?
    আমি তোমাদের খুব বোঝা হয়ে গেছি না? আমাকে তাই পর করে দিতে চাও?
    আমি ওর কথার কোনো মানে বুঝিনা। ওকে আদর করি—তা কেনো? মেয়েরা তো শাড়ি পড়েই। ঠিক আছে, কালই তোর জন্যে মেরুন রঙের সালোয়ার কামিজ এনে দেবো।
    বিন্তি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকলো অনেকক্ষণ। তারপর ছুটে গেলো ওর ঘরে। বালিশটাকে আঁকড়ে ধরে কেঁদে একাকার হচ্ছে মেয়েটা। দেখে আমার বুকটা কেমন করে। - আমি মায়ের ঘরে যাই। আমাকে দেখেই উচ্ছাসের সঙ্গে মা বলে, আছিস তো শুধু পলিটিক্স নিয়ে। ঘরের খোঁজ খবর কিছু রাখিস?
    আমি বোকার মতো মাথা নাড়াই, কি হয়েছে মা?
    কি আর হবে? আজ বিস্তিকে ওরা দেখতে এসেছিলো। পছন্দ হয়েছে ওদের। ওর বিয়েটা ঠিক করে ফেললাম। ছেলে ইঞ্জিনিয়ার। কুয়েত ফেরৎ।
    আমি চমকে উঠি—বলো কি মা! সবে তো নাইনে পড়ে বিন্তি! এরই মধ্যে বিয়ে দিয়ে দেবে? এতোটুকুন মেয়ে কি পারবে সংসার করতে?
    বাবা বললো, পারবে। নিশ্চয়ই পারবে। তোর মার যখন বিয়ে হয় তখন তো তোর মা পড়তো ক্লাশ সিক্সে, তাইনা খোকার মা?
    আমি চিৎকার করে বলি—এ বিয়ে তোমরা ভেঙে দাও।
    কি পাগলের মতো বকছিস ! যা এখান থেকে। তুই এসবের কি বুঝবি? বাবা ধমকে ওঠেন।
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেলে যে মেয়ে কেঁদেকেটে একাকার হয়, নায়না খায়না, সেই মেয়ের কি সাজে নিজেই বধুর বেশে শ্বশুরবাড়ি যাওয়া? আমি এর কোনো জবাব খুঁজে পাইনা।
    বিন্তির বিয়ে হয়েছে আজ এক বছর। ও এখন কুয়েতে থাকে ওর স্বামীর সঙ্গে। কতোবার যে চিঠি লিখেছে বিস্তি—
    ছোড়দা—আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাও, আমি আর পারছিনা, আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, এতো দূরে, তোমরা কেউ নেই, আমার কিছু ভাল্লাগেনা, ছোড়দা আসার সময়ে আমার জন্যে চকোলেট এনো, মিমি এনো, মেরুন রঙের ঝুঁটিদার ওড়না আর সালোয়ার কামিজ, ছোড়দা, আমার জন্যে ববিক্লিপ আর টুকটুকে লাল ফিতে আনবে কিন্তু, আচ্ছা ছোড়দা, ঢাকার আকাশে এখনও কি রবীন্দ্রনাথ শুয়ে থাকে? কুয়েতের আকাশে আমি রবীন্দ্রনাথকে কত্তো খুঁজেছি, পাইনি ছোড়দা ...
    নীল আকাশে শাদা টুকরো মেঘগুলো একেক সময় একেক রকম হয়। একবার বিন্তি আমাকে দেখিয়েছিলো—-দ্যাখো ছোড়দা, আকাশে রবীন্দ্রনাথ শুয়ে আছে...
    আমি কিছু করতে পারিনা। আমার কোনো কাজে মন বসেনা। আজকাল বিন্তির কথা মনে হলেই বুকের বা দিকে চিনচিনে ব্যথাটা মোচড় দিয়ে ওঠে। একেকবার মনে হয় ছুটে যাই কুয়েত। নিয়ে আসি ওকে। কিন্তু পারিনা। মেয়েরা স্বামীর কাছে থাকবে এটাই যে নিয়ম!
    প্রজাপতির মতো চঞ্চল মেয়েটা আজ দেশ ছেড়ে বহুদূরে সংসার পেতেছে ভাবতেই মনটা দুঃখে ভরে ওঠে।
    সেদিন চিঠি এসেছে কুয়েত থেকে। আমাদের বিস্তি মা হবে। আমি ছটফট করি। একরত্তি মেয়েটা কি সারাদিন জানলার গ্রিলে গাল ঠেকিয়ে ছোড়দা ছোড়দা বলে কাঁদে? আমি শুনতে পাই যে !
    একটু আগে পিওন এসে চিঠি দিয়ে গেলো। কুয়েতের চিঠি। বিন্তির চিঠি ভেবে আমি খুলে ফেলি খাম। না। বিন্তির ইঞ্জিনিয়ার স্বামী লিখেছে বাবার কাছে। ছোট্ট চিঠি। মা হতে গিয়ে বিন্তি হারিয়ে গেছে চিরদিনের জন্যে।
    আরেকটা চিঠি আছে সঙ্গে। আমাকে লেখা হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে আমাকে লিখেছিলো মৃত্যুর কদিন আগে। বিন্তি লিখেছে—
    ছোড়দা কাল রাতে তোমাকে স্বপ্ন দেখলাম। তুমি আমাকে একটা চিঠিও লিখলে না কেনো? আমার কি দোষ ছিলো ছোড়দা... । ছোড়দা জানো, কাল দুপুরে কুয়েতের আকাশে আমি রবীন্দ্রনাথকে দেখেছি। আমার আর কোনো কষ্ট নেই ছোড়দা... ।
    আমি আকাশের দিকে তাকাই। অইতো, আকাশে শুয়ে আছে ধবধবে শাদা দাড়িঅলা রবীন্দ্রনাথ। বাতাস শাদা মেঘের টুকরোগুলোকে ভাসিয়ে নেয়। রবীন্দ্রনাথ ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ওখানে তৈরি হয় আরেকটি মুখ। হ্যাঁ, বিস্তির মুখ। আমি তাকিয়ে থাকি। তাকিয়েই থাকি। আমার চোখ দুটাে জল টলমল পুকুর হয়ে যায়। আমি কাঁদতে থাকি। সে আমার ছোটবোন, বড় আদরের ছোটবোন।

গল্পটি পড়া শেষ! গল্পটি কি সংগ্রহ করে রাখতে চাও? তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে তোমার পছন্দের গল্পটি ডাউনলোড করো আর যখন খুশি তখন পড়ো; মোবাইল, কস্পিউটারে কিংবা ট্যাবলেটে।

Download : PDF

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য