মোল্লার ইমামতি - মোল্লা নাসিরউদ্দিন

      মোল্লা নাসিরউদ্দিন বিজ্ঞ বা বুদ্ধিমান হলেও কোরাণ বা হদিশ সম্বন্ধে তেমন কোনো লেখাপড়া ছিল না। একবার পাড়ার সবাই গিয়ে বললো, ‘মোল্লা সাহেব, মসজিদের ইমামের এন্তেকাল হয়েছে । আপনি কিছুদিন আমাদের ‘এমামতি’ করুন।
       কোনমতেই ওদের অনুরোধ এড়াতে না পেরে মোল্লা রাজী হয়ে মসজিদে হাজির হলেন।
      গিয়ে বললেন, ‘তোমরা যখন এত করে ধরেছ, তাহলে আজ  আমি খোতবা পড়ি। কি বলো?
      —সবাই খুব খুশী । 
     “কিন্তু আজ কি বিষয় নিয়ে বলতে চাই, সে সম্বন্ধে তোমাদের কোনো জানা আছে কি?
     অবাক-বিস্ময়ে সবাই চুপ করে থাকে। অবশেষে একজন দাঁড়িয়ে বলে, ‘আজ্ঞে, ঐ বিষয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র জানা নেই।’
     মোল্লা এবারে রাগত স্বরে বলেন, ‘যারা অামার বক্তব্য সম্বন্ধে কোনো ধারণাই করতে পারে না, তাদের আর কি বলবো, বলো?
     সেদিনের মত পালিয়ে বাঁচলেন মোল্লা।
     পরের শুক্রবারে আবার সবাই মোল্লাকে পাকড়াও করে নিয়ে গেল। মোল্লা আজও কিছু বলতে চান না, কিন্তু সকলে যখন ধরে বসে, অগত্যা উঠতেই হয় ভাষণ দিতে।
‘     ভাইসব, আল্লার বান্দা সব, আজ তোমাদের কি বলবো, তা জানো কি?’
    সেবারের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকের শিক্ষা হয়েছে। তাই মোল্লাকে জব্দ করার জন্য একজন উঠে দাড়িয়ে বলে—“হ্যাঁ হুজুর, তা আমার জানা অাছে?
     ‘বাঃ, এই তো চাই। যা জানা আছে, তা আমি তার কষ্ট করে বলি কেন ভাই?--মোল্লা বসে পড়েন।
    এর পরের শুক্রবার। মোল্লা খবর পেয়েছেন নতুন এক ইমাম আগের সপ্তাহেই এসে যাবেন। কোনমতে এ শুক্রবারটা কাটিয়ে দিলেই নিশ্চিন্তি !
     দাঁড়িয়ে বলেন—’হে মোমেন বান্দাগণ, আজ খোতবায় আমি কি শোনাতে চাই?
    সেই লোকটি:গতবারে ঠকে গিয়ে এবারে নতুন এক ফন্দি এঁটে রেখেছে। দাঁড়িয়ে উঠে বলে—“আপনি কি বলতে চান তা আমাদের অর্ধেক লোকের জানা, কিন্তু বাকী অর্ধেক তা জানা নেই।’
     মোল্লাকে ঠকানো মুশকিল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন—‘খুব সুন্দর কথা। যারা জানে তারা ঐ খতবা পড়বে, আর বাকী অর্ধেক তা শুনবে –কেমন?
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য