বারো বছর আগে - আবু কায়সার

      রোকনপুর গাঁয়ের পূবপ্রান্তে অনেক দিনের পুরনো একটা বটগাছ। ডাইনীবুডির জটার মতো তার পাকানো ঝুরি নেমে এসেছে মাটির ওপর। বুড়ো বটের অজস্র ডালপাতার ফাঁকে ফাঁকে হাজারো পাখি দিনভর কিচির মিচির করে। রাত্রে আবার কিন্তু টু-শব্দটিও নেই। যখন বটফল পেকে ওঠে—তখন যেন শুরু হয়ে যায় পাখিদের মহোৎসব। সকাল থেকে সন্ধ্যে পর্যন্ত সুইট-বলের মতো লাল লাল বটফলে মস্ত গাছের ছড়ানো ছায়াটা রংচঙে হয়ে ওঠে। জায়গাটা খুবই নিরিবিলি। দিন-দুপুরেও এদিকটায় কেউ সহজে পা বাড়ায় না। রোকনপুরের প্রকাণ্ড মাঠ পেরিয়ে, যদি কেউ কখনো এ পথে আসেই, তবে নিবিড় বটের ঠাণ্ডা ছায়ায় বসে একটুখানি জিরিয়ে না নিয়ে সে পারে না।

      বারো বছর হয়ে গেলো। কিন্তু এই প্রকাণ্ড বটগাছের ঢেউ ওঠা শরীরের ওপর অনেকগুলো কালো কালো ফুটো এখনও মিলিয়ে যায়নি। বারো বছর আগে ওই গাছের ছাল-বাকলের ওপর শুকনো রক্তের দাগ ছিলো বেশ স্পষ্ট। কিন্তু গুড়ির ওপরকার ফুটোগুলো অ্যাদিনে মিইয়ে এলেও একেবারে মিলিয়ে যায়নি। ফুটোগুলোর দিকে একবার চোখ পড়লেই বারো বছর আগেকার সেই অঘটনটির কথা মনে পড়ে যায়। মনে পড়ে, ছোট নামের ছোট্ট একটি ছেলের কথা, যার বুকে পিঠে ওই রকম এক ঝাঁক ফুটে হয়েছিলো। আহা, বছর-বারো বয়সের সেই ছোট আজ বেঁচে থাকলে চব্বিশ বছরের যুবক হতো। বারো বছর কি কম সময় !
      মিলিটারীরা ছোটকে হুড-খোলা জীপে তুলে এইখানটায় এনে বলেছিলো, আভি যাও, ভাগো হিয়াসে। ছোট প্রথমটায় কেমন যেন একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলো। চমক ভাঙ্গতেই এক লাফে জীপ থেকে নেমে দৌড় দিয়েছিলো বটগাছটার নিচ দিয়ে। ভেবেছিলো, মাঠ পেরিয়ে নদীর দিকটায় চলে যাবে; কিন্তু জীপ থেকে সে গজ পনেরো যেতেই একটা কর্কশ শব্দে চমকে উঠলো গাছের ঝিমিয়ে পড়া পাখিরা। শব্দ হবার সঙ্গে সঙ্গে ছোট্ট একটা লাফ দিয়েই মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছিলো ছেলেটা। দরকার ছিলো না। তবু স্টেনগানের পুরো ম্যাগাজিনটা এক নিমেষে খালি করে ফেলেছিলো আর্মিরা। অস্ফুট শব্দ করে দুমিনিটে স্থির হয়ে গেলো ছোটর ছোট্ট শরীর। তার পিঠের ওপর অনেকগুলো ফুটো—বুকের দিকে ক্ষতগুলো বড়ো।
      পাখিরা স্তব্ধ হয়ে গেছে। রক্তে রাঙা হয়ে উঠেছে বটতলার ঠাণ্ডা মাটি। ফোয়ারার ধারার মতো টুকটুকে লাল শিশুর রক্ত ফিনকি দিয়ে উঠে বোবা বটের বুড়ো চামড়ায় আলপনা আঁকলো। রক্তমাখা বেশ কটা বুলেট গাছের গুড়িতেই ঢুকে পড়েছে। চরাচর স্তব্ধ। যেন কিছুই ঘটেনি, এরকম সহজভাবে শিস দিয়ে বাজখাই গলায় কথা বলতে বলতে দুটি হুডখোলা জীপ নিয়ে জনাবারো দখলদার সৈন্য শহরের দিকে চলে গেলো। কিছুক্ষণ পর ছোটর রক্তমাখা নিথর শরীরটার দিকে দলে দলে ছুটে আসতে লাগলো অগুনতি লাল পিঁপড়ে। খুনীরা অবশ্য পরক্ষণেই বিপদে পড়েছিলো শহরে যাবার পথের ওপর। তাহলে, গোড়া থেকেই বলতে হয়।
      মায়ের নিষেধ ছোট মানেনি। এই তুলকালাম তাণ্ডবের মধ্যে ও রোজকার মতো খেলতে গিয়েছিলো সেই পূবের মাঠে। নদীর ওপারে গোলাগুলির শব্দ হচ্ছে দুদিন ধরে। পাকি সৈন্যরা শহর ছেড়ে ঢুকে পড়েছে এমন পাণ্ডববর্জিত গায়ে গঞ্জেও। ভয়ে দুশ্চিন্তায় সারা রোকনপুর তটস্থ। কখন ওরা এপারে এসেও হানা দেয়, কে বলবে। গ্রাম অবশ্য এর মধ্যেই প্রায় ফাঁকা হয়ে এসেছে। বেশির ভাগ পরিবার তাদের গাটরি-বোছকা গরু-ছাগল নিয়ে পশ্চিমের দিকে সরে যাচ্ছে। কিন্তু প্রাইমারী স্কুলের হেডমাস্টার গোলাম রসুল সাহেব দো-টানায় পড়ে কি করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। ঢাকার কোনো সঠিক খবর পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয় নেতারা ক'দিন আগেও হাটখোলায় এসে বক্তৃতা দিলেন। বললেন—কাজ একটাই, রুখে দাঁড়াতে হবে। জানালেন, ঢাকার রাস্তাঘাটে জোর লড়াই চলেছে—পাঞ্জাবীরা পিছু হটতে হটতে ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে।
      এইরকম খবর পেয়ে গাঁয়ের মানুষ, বিশেষ করে কম বয়েসী ছেলেগুলো উত্তেজিত হয়ে উঠেছিলো। কেউ কেউ দুএকটা পাখি-মারা বন্দুক আর লাঠি-বল্লম যোগাড় করে কাছের জেলা-সদর আক্রমণ করারও পরিকল্পনা নিয়েছিলো। গোলাম রসুল অনেক কষ্টে জঙ্গী-যুবকদের হাত থেকে গাঁয়ের মধু মেম্বারকে রক্ষা করেছেন। পাকিস্তানের দালালী করছে বলে মারমুখো ছাত্ররা মধু মেম্বারকে এই মারে তো সেই মারে। কিন্তু নদীর ওপারে মিলিটারী আসবার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। গ্রামবাসী এমন ঘাবড়ে গেছে যে তারা ঘরোয়া কথাও ফিস ফিস করে বলে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে শোনা গেলো, জঙ্গী-ছাত্রদের নিয়ে নেতারা সীমান্তের দিকে রওয়ানা হয়ে গেছেন।
      আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে গোলাম রসূলও সিদ্ধান্ত নিলেন গ্রাম থেকে সরে যেতে হবে। সেদিন দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর সামান্য বাধাছাদা শেষ হলে দেখা গেলো, ছোট নেই। কী ব্যাপার? না, সঙ্গী-সাথী নিয়ে রোজকার মতো সে যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলতে নদীর ধারে গেছে। বিরক্ত হলেন গোলাম রসূল। এটা একটা কথা হলো? এমন দুর্বিপাকের মধ্যেও ছেলেপিলেরা খেলতে যাবে? বাধাছাদা শেষ। এবার ঘরের দরজায় তালা দিয়ে বেরিয়ে পড়াই কেবল বাকি। ছোটর মা রাগে বিড়বিড় করছেন। বকাঝকা করছেন দুই মেয়ে রুমকি-ঝুমকিকে। ওদের অপরাধ, ওরা ছোটকে আটকে রাখেনি, আগলে রাখেনি।
      এতো দুঃখের মধ্যেও বেদনার হাসি ফুটে উঠলো গোলাম রসূলের মুখে। ছেলেটা শার্প। খুবই মেধাবী। লেখায় পড়ায় খেলার মাঠে ওর জুড়ি সারাটা ইস্কুলে নেই। কিন্তু ওই এক দোষ—বড়ো দুরন্ত, বড়ো ছটফটে। দেশ জুডে ধুন্ধুমার শুরু হবার পর থেকেই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলার হিড়িক লেগেছে ওদের ভেতর। একদল হয় মুক্তি বাহিনী—অন্য দল সাজে পাকিস্তানী সৈন্য! নদীর পারে ঝাউবনের মধ্যে দূর্গ বানিয়ে গাছের ডালের বন্দুক-কামান নিয়ে সেকি যুদ্ধ! বেলা আর একটু পড়লে নদীর ওপারে সারাটা গ্রাম জুড়ে কালো ধোয়ার কুণ্ডলী জেগে উঠলো। গোলাগুলির শব্দ ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ির সামনে, কাঁচা রাস্তায় তিনটে মালপত্র-বোঝাই গরুর গাড়িতে সপরিবারে যেতে যেতে আলতাফ পেশকার অবাক হয়ে তাকালেন গোলাম রসূলের মুখের দিকে ! লোকটা পাগল নাকি? লটবহর নিয়ে দাওয়ার ওপর বসে ভাবছেটা কি? চেঁচিয়েই উঠলেন পেশকার সাহেব—কী ব্যাপার হেডমাস্টার। মনস্থির করতে পারছে না বুঝি? আরে,যদি বাঁচতে চাও তো চলে এসো। ভাইরে, জানে বাঁচলে বাড়ি ঘর দোর আবার হবে।
      স্নান হেসে গোলাম রসুল বললেন—হাঁ আলতাফ ভাই, এখুনি সব বেরিয়ে পড়বো। এতোক্ষণ রওয়ানা হয়ে যেতাম। গোল বাঁধালো পাঁজিছেলেটা।ও ফিরে এলেই—তার মুখের কথা শেষ হতে না-হতেই ব্যস্তভাবে পেশকার বলে উঠলেন--হাঁ হাঁ আর দেরী করা ঠিক হবে না। অবস্থা খুব খারাপ। শীগগির চলে এসো তোমরা। আমরা তাহলে এগোই।—বাঁশঝাড় পেরিয়ে আঁধার আঁধার তেঁতুল তলা দিয়ে গরুর গাড়িগুলো এগিয়ে গেলো জেলা বোর্ডের রাস্তার দিকে।
      ধৈর্যচ্যুতি ঘটলে বেরিয়েই পড়লেন গোলাম রসূল। রাগত গলায় বললেন—তোমরা বসো। আমি পাজিটার ঘাড় ধরে নিয়ে আসি গিয়ে। তিনি পথে নামলেন। বেলা এখন আরো হেলে পড়েছে। নিকারি পাড়ায় পালিয়ে যাবার তাড়া নেই। মধু মেম্বারের বাড়ির কামলারা বেগুন ক্ষেতে কঞ্চির বেড়া দিচ্ছে। ব্যাপারটা অদ্ভুত লাগলো গোলাম রসুলের কাছে। এদের কি কোনো চিন্তাভাবনা নেই? এমন দুর্বিপাকে এরকম ঠাণ্ডা মাথায় কাজকাম করছে কিভাবে? একি সাহস, না কি নির্লিপ্ততা? তিনি জোর পায়ে হাঁটা দিলেন মাঠের ওপর দিয়ে। মাথাটা যেন দপ দপ করছে। গলা শুকিয়ে খাঁ খাঁ । এরকম অবস্থার কথা সত্যি কেউ কল্পনাও করেনি। আলোচনা ভেঙ্গে গেলেই স্বাধীনতা-যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আন্দোলন চলছে তো কতোকাল ধরেই। কিন্তু এবার এমন কি হলো যে আন্দোলন ঢাকা ছাড়িয়ে সারাটা দেশে ছড়িয়ে পড়লো এতো তাড়াতাড়ি ! বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজন প্রায় সবাই সরে পড়েছে রোকনপুর থেকে। প্রবীণ শিক্ষক বীরেন পাঠক গতকাল গ্রাম ছাড়লেন। সদর দরজায় তালা দেবার সময় ভদ্রলোকের সে কি কান্না। ধরা গলায় উচ্চারণ করলেন–জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরিয়সী! মেয়েরা তুলসীতলায় মাথা খুঁড়তে লাগলো। বীরেন বাবু বাড়ির আঙ্গিনার একমুঠো মাটি দামী স্বর্ণরেণুর মতো পাঞ্জাবীর পকেটে ভবতে ভরতে বললেন—মা, আবার কি তোমার কোলে ফিরে আসতে পারবো?
      গোলাম রসুল নিজে গিয়ে বীরেন বাবুকে হিজলী পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে এসেছেন। অনেকেই গেছে। কিন্তু কয়েকটি দুর্দান্ত ছেলে এখনো গ্রাম ছাড়েনি। শহর থেকে পালিয়ে আসা পুলিশ-কনস্টেবলদের দুটি থ্রী-নট-গ্রী রাইফেল যোগাড় করেছে ওরা ! জেলা শহর অবশ্য ফল করেছে। নেতা ও কর্মীরা নেই। ডিস্ট্রিক্ট হাই-কমাণ্ডের বাড়িটা হানাদাররা বিস্ফোরক দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। শহরে মারা গেছে অনেক মানুষ। সারাটা শহর এখন মিলিটারীদের কবজায়। ওদিকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সক্ষম বাঙালীদের মুক্তিযুদ্ধে সামিল হবার আহ্বান শোনা যাচ্ছে ঘন ঘন। কিন্তু কোথায় গিয়ে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা স্পষ্ট বোঝার উপায় নেই।
      মধু মেম্বার বাল্যবন্ধু হলেও বর্তমান অবস্থায় তাকে খুব একটা বিশ্বাস করেন না গোলাম রসুল! তাল তলার মজে-আসা দীঘি আর তারই লাগোয়া অনাবাদী জমিটুকুর ওপর লোভ আছে মধুর। অনেক দিনের লোভ। অবশ্য ন্যায্য দাম দিয়েই জমি আর দীঘিটা সে কিনে নিতে চায়। গোলাম রসুল একদিন কথায় কথায় বলেছিলেনঃ জমিটা অবশ্য পড়েই থাকে। তুমি লাঙ্গল দেওয়াতে চাও—দাওগে। কিন্তু দীঘিটা আমি পরিষ্কার করাবো। জমিটাও সাফকবালা করে দিতে চাইনা মধু—চষতে চাও চষো—আমাকে কিছু ধান দিও, তাহলেই হবে। ইকো টানতে টানতে মধু মেম্বার তখন বললোঃ শুনলাম, বেঁচে দিচ্ছে। দক্ষিণ পাড়ার আইনুদ্দিন মণ্ডল বলছিলো সেদিন। তা বেঁচবেই যখন ... আমি কি দোষ করলাম হেডমাস্টর !
      গোলাম রসুল একটু সতর্ক হলেন। গলা ঝেড়ে বললেনঃ আইনুদ্দিন একেবারে বানিয়ে বলেনি হে মধু। তবে কিনা—একটু ফাড়া ছিলো—কেটেও গেলো হঠাৎ। তাই বিক্রিবাটার কোনো কথাই ওঠেনা। তবে হা—কখনো যদি বিক্রি করতেই হয়—তোমাকে না জানিয়ে কিছু করবো না |
      কিন্তু এখন? হেলে পড়া সূর্যের স্নান আলো নিজের বিষন্ন মুখটায় মেখে নদীর ওপারে পাক খেয়ে ওঠা ধোয়া দেখতে দেখতে মনে মনে হাসলেন গোলাম রসুল। ভালোই হয়েছে। এবার আর টাকা দিয়ে জমি কেনার ঝামেলা থাকবে না মধুর। যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, তাতে হেডমাস্টারের নিজের আর ক’বিঘে,—পাঠক বাড়ির দোতলা দালান সুদ্ধু গাঁয়ের বেশির ভাগ ঘরবাড়ি আর জমিজমা এবার মধুর হবে। ভাবতে ভাবতে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে নদীর ধারে ঝাউগাছগুলোর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন গোলাম রসূল। এখানে, নদীর এই খাড়িতেই পাড়ার ছেলেরা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে। নিকারীদের ছেলেরা খুঁজতে আসে মাছরাঙার ডিম। কিন্তু কোথায় কি! নির্জন নদীতটে কাক পক্ষিটি নেই। এক অজানা আশঙ্কায় বুকের ভেতরটা দুলে উঠলো গোলাম রসুলের। কোথায় গেলো পাড়ার ছেলেরা? কোথায় গেলো ছোট? কী করবেন তিনি এখন ! গলা ছেড়ে কয়েকবার ডাকলেন—ছোট, ছোট,—ছোটন রে— ! গেলি কোথায় তোরা? কিন্তু আঁকাবাকা নদীর খাড়িতে কারো সাড়া শব্দই পাওয়া গেলো না। কেবল প্রতিধ্বনি ফিরে এলো কাঁপতে কাঁপতে—ছোটন—কোথায় গেলি তোরা !
      আবির-রাঙা হয়ে উঠেছে পশ্চিমের আকাশ। বেলা যেতে আর কতোক্ষণ ! ওরা কি তবে খালের ধার দিয়ে গাঁয়ে ফিরে গেছে! চিন্তিতভাবে ফিরে চললেন গোলাম রসূল। সারা গ্রাম নীরব নিঝুম। কেবল নিকারী পাড়ায় টেমির আলো জ্বলছে। আলো দেখা যায় দূরে—মধু মেম্বারের বাড়িতেও । আর প্রায় সব দিকেই কাঁচা সন্ধ্যার আবছা আধার। আশ্চর্য—এমন দিনেও ঝি ঝিঁ ডাকে,জোনাক জ্বলে! গোলাম রসুলের মনটা ছেয়ে যাচ্ছে বিষন্নতায়। কতো প্রিয়, কতো পরিচিত এ পথ। আজ যেন অচেনা, অন্য রকম লাগছে সবকিছুই। মনে হয়, এ রাস্তা, এই গাছপালা কিছুই আর তার নয়।
      গোলাম রসুল নানা কথা চিন্তা করতে করতে কখন নিজের বাড়ির সামনে এসে পড়েছেন, ঠাহর করতে পারেন নি।
হঠাৎ চমকে উঠে থমকে দাড়ালেন তিনি। এ কি? ওরা কোথায়? বৈঠকখানার দাওয়ার ওপর তো কেউ নেই। একটা আলো পর্যন্ত জ্বালানো হয়নি। বাধাছাদা শেষ করে ছোটর মা আর রুমকি-ঝুমকিকে এখানেই তো বসিয়ে রেখে গেছেন ; কিন্তু গেলো কোথায় সব! নাঃ সারা বাড়ির আনাচে-কানাচে খুঁজে কোথাও কাউকে দেখতে পেলেন না গোলাম রসুল। বিবি ডাকা আঙ্গিনার ওপর দাঁড়িয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় তিনি ডাক দিলেন—রুমকি! ..ঝুমকি! ডাকলেন—ছোট, ছোটন, ফিরে এসেছিস, বাবা? যেন মাটি ফুড়েই দুটি ছায়ামূর্তি তাঁর সামনে এসে দাঁড়ালো। চমকে উঠে কোনো কিছু জিজ্ঞেস করবার আগেই দুলালের চাপা গলা শোনা গেলোঃ আস্তে কথা বলুন চাচা, আস্তে কথা বলুন। চাচীরা নিরাপদেই আছেন। একটু আগেই গাঁয়ে চুপে চুপে ঢুকেছে দুটাে আর্মি-জিপ। শহরের দিক থেকে দক্ষিণ-পাড়ার জঙ্গলে রাস্তা দিয়ে এসেছে ওরা ! আমরা মোকাবেলা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা দলে ভারী। বেশ কখানা অটোম্যাটিন রাইফেল আর স্টেনগান আছে ওদের সঙ্গে। আমাদের সম্বল দু’টো থ্রী নট গ্রী। তা-ও আবাল অ্যামুনিশান নেই।
      একদমে এতোগুলো কথা বলে হাঁফাতে লাগলো দুলাল। ঠাহর করে গোলাম রসুল বুঝলেন, দুলালের পেছনে আরো একটি রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে আলতাফ পেশকারের মেজো ছেলে আসলাম। চাপা ক্রোধে, যেন ছায়াছন্ন পাথরের মতো দাঁড়িয়ে আছে সে।
      ওরা কোথায়? জিজ্ঞেস করলেন গোলাম রসূল। 
      দুলাল বললোঃ আলতাফ চাচাদের সঙ্গে ওদের সবাইকে চর-হিজলীর মাঝি-পাড়ার দিকে পাঠিয়ে দিয়েছি। অবশ্য চাচী বারবার ছোট আর আপনার কথা ভেবে আপত্তি করছিলেন যেতে। জায়গাটা সেফ। খুবই দুর্গম। খালবিল ভেঙ্গে জীপটিপ যেতে পারবে না ওদিকে। আপনি কোনো চিন্তা করবেন না।
      হঠাৎ প্রায় চেঁচিয়েই উঠলেন গোলাম রসুলঃ কিন্তু আমাদের ছোট কোথায়। ওকে তো কোথাও খুঁজে পেলাম না!
      নিজের ঠোঁঠের ওপর তর্জনি চেপে দুলাল শব্দ করলোঃ শ-শ-শ! চাপা গলায় আসলাম বললোঃ ছোট আছে মধু মেম্বারের বাডিতে। ওই বাড়ির ছেলেদের সঙ্গে খেলা শেষে ফিরে এসে ও দেখে, ঘরদোর তালাবন্ধ। কেউ কোথাও নেই। দাওয়ার ওপর বসে ফুঁপিয়ে তাই কাদছিলো। আপনার খোঁজে এদিকে এসে আমরা কেবল ছোটকে পেলাম। আমাদের দেখে ভেউ ভেউ করে কাঁদতে শুরু করেছিলো। আমরা ওকে সব কথা খুলে বলবার আগেই কানে এলো জীপের আওয়াজ। তখন বাড়ির পেছনের জঙ্গলে-পথে ওকে মধু মেম্বারের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েই আমরা সরে পড়েছিলাম। ছোট আমাদের সঙ্গে ছুটে পারবে না। আর আমাদেরই বা কখন কি ঘটে। এইসব ভেবে আপাতত ওকে মধু মেম্বারের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে আমরা এখানে ঘাপটি মেরে বসে আছি। অপেক্ষা করছি আপনার জন্যে। কিন্তু ওদিকে—আসলাম কথা বলতে বলতে হঠাৎ থেমে গেলো।
      হারানো কথার খেই ধরলেন গোলাম রসুলঃ ওদিকে কি ! ওদিককার কথা কী বলছে? দুলাল বললোঃ আর্মিরা মেম্বারের বাড়িতে চা খাচ্ছে। মহা হৈ হল্লা সারা বাড়ি জুড়ে। যেন খুশির তুফান ছুটছে। ব্যাটা দালাল। আর ওই কামলাগুলোও মহা উজবুক। হুঁকোটানতে টানতে বলাবলি করছেঃ গাঁ-টা পুড়ে ছাই হয়ে যেতো। মেম্বর সাব ছিলেন বলে রক্ষা। মেম্বর সাবই বাঁচালেন। সে যাই হোক, এখানে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মোটেই নিরাপদ নয়। আপদগুলো বিদায় হলেই ছোটকে ডেকে নিয়ে আমরা চর হিজলীর দিকে রওয়ানা হয়ে যেতে পারি। গঞ্জের মোড়ে রিকশাটিক্সা এখন বোধহয় আর নেই! হেঁটেই যেতে হবে আমাদের।
      আসলাম ভরসা দিলোঃ সঙ্গে টর্চ আছে। কাদাপানি ভেঙ্গে ঝোপঝাড় ডিঙ্গিয়ে চলে যেতে কোনো অসুবিধা হবে না। একটু থেমে সে আবার বললোঃ আপনারা দুজন দাঁড়ান একটু। আমি ছোটকে নিয়েই আসি গিয়ে। 
      আসলাম ওর হ্যাণ্ডব্যাগ আর রাইফেলটা উঠোনের শিউলি গাছের সঙ্গে ঠেস দিয়ে রেখে অন্ধকারে মিলিয়ে গেলো।
     আসলাম ততোক্ষণে বোধহয় অর্ধেক পথও যায়নি—দূরে জীপের ইঞ্জিন গর্জে উঠলো। চমকে উঠলেন গোলাম রসুল। আঁধারে নড়ে উঠলো দুলালের ছায়া-শরীর। সে আশ্বস্তের মতো বললোঃ যাক। ব্যাটারা ফিরে যাচ্ছে এবার। গাঁ-টা আগুনের হাত থেকে বেঁচেও যেতে পারে হয়তো!—গোলাম রসুল দেখলেন—সত্যি, হেডলাইটের উজ্জ্বল আলোয় মেম্বারবাড়ির গাছ-গাছালি আর ঝোপঝাড়গুলোকে যেন ঝলসে দিয়ে আঁকাবাকা মেঠো-রাস্তায় নেমে গেলো জীপ দুটি। তারপর গোঁ গোঁ শব্দ করতে করতে উঁচু নিচু রাস্তায় এগিয়ে শহরের দিকে না গিয়ে উল্টো দিককার মাঠ-বরাবর ছুটলো। আশ্চর্য! গোলাম রসুল বুঝতে পারলেন না, ওদিকে ওরা যাচ্ছে কোথায়। ওদিকে তো বিরাণ প্রান্তর-পান্তরের মাঠ। মাঠের পরে নদী। তাইতো, ওরা ওদিকে যাচ্ছে কেন? নিচু স্বরে দুলাল বললোঃ কী ব্যাপার। ব্যাটাদের মতলব কি? জবাবে গোলাম রসুল কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ মুখের ওপর তীব্র আলোর ঝলকানিতে চমকে উঠে থেমে গেলেন। দুলাল বললোঃ চাচা সর্বনাশ। আমিরা এই দিকেই এগিয়ে আসছে। হ্যাঁ হ্যাঁ এই বাড়ির দিকেই। ওই তো গাড়ির মুখ ঘুরেছে। শিউলী গাছের সঙ্গে ঠেস দিয়ে রাখা আসলামের রাইফেল আর ব্যাগটা এক ঝপকায় তুলে গোলাম রসুলের হাতে দিয়ে দুলাল এক দৌড়ে বাড়ির পেছনকার জংলা জায়গাটায় চলে এলো। গোলাম রসুলও বিব্রত অবস্থায় অনুসরণ করলেন দুলালকে। যা ভেবেছেন, তাই। ঝুপসি আমগাছের নিবিড় জঙ্গলে, কচু ঝোপের আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখা গেলো, জীপ দুটো তারই বাড়ির সামনে এসে থেমেছে। হেডলাইট নিভে যাবার সঙ্গে সঙ্গে দপ দপ করে জ্বলে উঠলো কয়েকটা টর্চ ! শক্তিশালী
      বিজলী-মশালের চড়া আলোয় ফালা ফালা হচ্ছে ঘনায়মান অন্ধকার। এতো দূর থেকে এদের কথাবার্তা কিছুই শোনা যায় না। টর্চের চঞ্চল আলোয় দশ বারোজন খাকি ইউনিফর্ম পরা সৈন্যকে দেখা গেলো দ্রুতপায়ে ছোটাছুটি করতে। সবার হাতেই রাইফেল আর স্টেনগান।
      হঠাৎ দখিনা-হাওয়ায় ভেসে এলো কাঁচা পেট্রোলের তীব্র ঘ্রাণ! শির শির করে উঠলো গোলাম রসুলের সারাটা শরীর। তার আর বুঝতে বাকি রইলো না যে মিলিটারীরা তাদের বড়ো দুশমনের আস্তানাটির খোঁজ পেয়েছে। বিপদজনক রাজনৈতিক দলের স্থানীয় সদস্যের বাড়ি হাজার মাইল দূর থেকে আসা সৈন্যদের চেনার কথা নয়। কীভাবে এটা সম্ভব হয়েছে—তা বুঝতে কি আর দেরী হয়? মধু মেম্বারের লোভাতুর মুখ আর হিংসাকুটিল চোখ দুটি মনে পড়ে গেলো গোলাম রসুলের। মনে পড়লো, মাত্র ক'দিন আগে জঙ্গী-ছাত্রদের রোষ থেকে তিনিই রক্ষা করেছেন মধু মেম্বারকে। তার প্রতিদান এই? সারা বাড়িটায় প্রায় একসঙ্গে আগুন জ্বলে উঠলে দু'চোখে ঝরঝর করে পানি এসে গেলো গোলাম রসুলের। তিন পুরুষের ভিটেবাড়ি। বাপদাদার কতো শ্রম আর যত্ন দিয়ে গড়া। দাউ দাউ করে জ্বলছে। পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে মজবুত টিনের ঘরগুলো। কেমন যেন মোহাচ্ছন্নের মতো, ভূতগ্রস্তের মতো পিছিয়ে এলেন গোলাম রসূল, দুলালের হাত ধরে, প্রায় টলতে টলতে। আসলামের রেখে-যাওয়া রাইফেল আর ব্যাগটা তার কাছে এতো ভারি মনে হচ্ছে, যেন হাত দু’টো ছিড়ে পড়বে !
      অন্ধকার খালপাড়ে আসতে না-আসতেই আসলামের দেখা পেয়ে গেলেন ওঁরা। আসলাম খুব দ্রুত, অথচ নিঃশব্দে ছুটে এসেছে। খুব হাফাচ্ছে এখন সে। বললোঃ মধু মেম্বার বেঈমানী করেছে। কেবল আপনার বাড়িটাই দেখিয়ে দেয়নি আরো এক সর্বনাশ করেছে সে।
      আসলাম—। —প্রায় অভিভূতের মতো বলে উঠলেন গোলাম রসুল—বাড়ি গেছে যাক ; কিন্তু ছোট? ছোটকে যে নিয়ে এলে না— ?
      আসলাম গোলাম রসুলের কাঁপা কাঁপা হাত দু'টি সজোরে চেপে ধরে বললোঃ চাচা, আপনি ঘাবড়াবেন না। আপনি কিন্তু একটুও ঘাবড়াবেন না। ছোটকে চিনিয়ে দিয়েছে মধু মেম্বার। ওরা ছোটকে নিয়ে এসেছে কেবল বাড়িটা দেখিয়ে দিতে। মেম্বারের এক বুড়ো কামলার কাছে চুপে চুপে গিয়ে তো তাই-ই শুনে এলাম। এই দুধের বাচ্চাকে আর কি করবে ওরা? দোহাই চাচা আপনি চিন্তা করবেন না।
      কিন্তু কোনো কথা না-বলে, একটুও শব্দ না করে গোলাম রসুল দুহাতে মাথা চেপে মাটিতে বসে পড়লেন। দুরে বাড়িটা পুড়ছে। ঠাস ঠাস শব্দে ফাটছে জ্বলন্ত কাঠকুটো—ছিপি আঁটা শিশি বোতল। আগুনের লকলকে জিহ্বা সম্পূর্ণ বাড়িটা খেয়ে ফেলে এখন যেন একটু স্তিমিত, নিস্তেজ। আরো দূরে নদীর ওপারেও কোনো অগ্নিশিখা আর চোখে পড়ে না! হয়তো ধোঁয়া সেখানে এখনও উঠছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে তো ধোঁয়া দেখা যায় না। বাড়িটা প্রায় ভস্মস্তুপে পরিণত হবার পর আর্মিরা আবার জীপে উঠে পড়লো টপাটপ। এতোটা তফাৎ থেকে ওদের ভালোভাবে দেখাও যায় না। সঙ্গে ছোট আছে কিনা—তা-ও বোঝবার উপায় নেই। বোধহয় গাড়ির ওপর বসে রয়েছে। কাদছে অথবা ছটফট করছে।
      এদের তিন জনকে আরো বিমূঢ় করে দিয়ে জীপ দুটো শহর-মুখো না-হয়ে মধু মেম্বারের বাড়ির দিকেও না-গিয়ে মাঠের মাঝখানে, যেন লাফ দিয়ে নামলো।
      তারপর কি হলো? না, পরের ঘটনা খুব বিস্তারিতভাবে বলার দরকার নেই। রোকনপুর গায়ের পূব-প্রান্তের পুরনো বটগাছের নিচে এসে মিলিটারীরা ছোটকে জীপ থেকে নামিয়ে দিয়েছিলো। বাজখাই গলায় চেঁচিয়ে উঠেছিলো একজন—দুশমান কা আওলাদ। আভি যাও। ভাগো হিয়াসে। ঘর খতম হো চুকা। আভি বাংলাদেশ মে চলা যা—ভাগ!—
      ছোট কিন্তু এসব কথা বুঝতে পারলো না। কেবল বাংলাদেশ শব্দটাই বুঝলো। আরো অনুমান করলো, এরা তাকে এক্ষুণি এখান থেকে চলে যেতে বলছে। সে ভয়ে ভয়ে চারদিকের নিশিছদ্র অন্ধকার দেখলো। তারপর জীপের ওপর থেকে লাফ দিয়ে নেমে অনেক দিনের চেনা বটগাছের নিচ দিয়ে ছোট ছোট পায়ে দৌড় দিলো। কিন্তু পনেরো ষোলো গজ ছুটে যেতেই বিদঘুটে—ডারা—রা-রা শব্দে চমকে উঠলো দশদিক। সঙ্গে সঙ্গে ভিজে স্যাতসেঁতে মাটির ওপর নেতিয়ে পড়লো হাফপ্যান্ট পরা, গেঞ্জি গায়ে ছোট্ট ছেলেটির দেহ। তার ছোট্ট পকেট থেকে ছিটকে পড়লো একটা গুলতি আর তিনটে ম্লান মার্বেল।
      বটগাছের অজস্র পাতার ভীড়ে পাখিরা তখন নিশ্চুপ। বিঝিরা নীরব। জোনাকিরাও ফেরার। তীক্ষ একটা শিসের শব্দ বেজে উঠলো হঠাৎ। হাসির হররা উঠলো দু'তিনবার। তারপর মৃদু যান্ত্রিক গুঞ্জন তুলে দুটি আততায়ী জীপ কাঁচা রাস্তায় গিয়ে উঠলো।
      বলা দরকার, জীপ দুটো জেলা বোর্ডের রাস্তার ওপর আচমকাই আক্রান্ত হয়েছিলো। রাইফেলের চোরাগোপ্তা গুলিতে টায়ার ফেটে উল্টেও গিয়েছিলো একটা জীপ। হতভম্ব এবং ভীত সন্ত্রস্থ সৈন্যরা হতাহত সঙ্গীদেরকে টেনে হিচরে অন্য জীবটায় তুলে বৃষ্টিধারার মতো ব্রাশ-ফায়ার করতে করতে পিছু হটে গিয়েছিলো। গুলি ফুরিয়ে যাওয়ায় আর কিছু করার ছিলোনা দুলাল এবং আসলামের। অর্ধমূৰ্ছিত গোলাম রসূলকে ধরাধরি করে দ্রুত পায়ে নদীর দিকটাতে পিছিয়ে যেতে হয়েছিলো ওদের ।
      তোমরা যদি কখনো রোকনপুর যাও—সেই গুলিবিদ্ধ বটগাছটা এখনো দেখতে পাবে। কিন্তু ছোট্ট ছেলে ছোটর ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া শরীর থেকে ছিটকে পড়া রক্ত আজ আর দেখতে পাবে না। আঁতিপতি করেও খুঁজে পাবে না একটি বিষন্ন গুলতি কিংবা তিনটে রাঙা মার্বেল। বারোটা বছর তো কম সময় নয়— ! রক্তের দাগ কি এতোদিন থাকে?

গল্পটি পড়া শেষ! গল্পটি কি সংগ্রহ করে রাখতে চাও? তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে তোমার পছন্দের গল্পটি ডাউনলোড করো আর যখন খুশি তখন পড়ো; মোবাইল, কস্পিউটারে কিংবা ট্যাবলেটে।

Download : PDF

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য