বেলগাছের মহাপ্ৰভু - ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়

     অনেকদিন আগেকার কথা বলছি। হাওড়া জেলার শিবানীপুরে বৈকুণ্ঠ বাঁড়ুজ্যে নামে এক সদাশয় ব্যক্তি থাকতেন। তিনি ছিলেন অগাধ সম্পত্তির মালিক। যে বাড়িতে তিনি থাকতেন সেই বাড়িটাকে লোকে রাজবাড়ি বলত। বলবে না-ই বা কেন? অতবড় বাড়ি তখন ওই অঞ্চলে আর একটিও ছিল না। সেই বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে পুকুর বাগান সবকিছুই ছিল। বৈকুণ্ঠবাবুকে গ্রামের লোকেরা সমীহ করত খুব ভক্তি-শ্রদ্ধাও করত। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাত্ত্বিক লোক। সামান্য অংশের জমিদারি দেখাশোনা করতেন। আর বাকি সময়টা আফিং খেয়ে বসে বসে ঝিমুতেন। বৈকুণ্ঠবাবুর রাজবাড়ির বাগানে একটা বেলগাছ ছিল। সেই বেলগাছে এক মহাপ্রভু থাকতেন। মহাপ্রভু বলতে কাকে বলছি তা নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ? বেহ্মদত্যি। ঠিক দুপুরবেলায় অথবা ভর সন্ধেয় কিংবা ফিনফিনে জ্যোৎস্নার রাতে ভাগ্যবান লোকেরা কখনও সখনও তাঁর দেখা পেত। যারা তাঁকে দেখত, তারা বলত তাঁর নাকি টকটকে ফর্সা গায়ের রং। পরনে ধুতি, গলায় পৈতে। অনিন্দ্যসুন্দর চেহারা। যাই হোক, বেলগাছের এই মহাপ্রভুর সুনাম ছিল খুব। তিনি কখনও কারও অনিষ্ট করতেন না। কাউকে ভয় দেখাতেন না। শুধু কেউ কোনও অনাচার করলে তিনি বিনয়ের সঙ্গে বৈকুণ্ঠবাবুর কাছে নালিশ জানাতেন।
     বৈকুণ্ঠবাবুর তিন ছেলে। হেমন্ত, জয়ন্ত ও শ্রীমন্ত। তা ছোট ছেলে শ্ৰীমন্ত অকালে মারা গেলে তিনি খুবই আঘাত পেয়েছিলেন। তার ওপর একদিন যখন তাঁর স্ত্রীও দেহরক্ষা করলেন তখন দারুণ ভেঙে পড়লেন তিনি। বছরখানেক বাদে শোকটা একটু সামলে নেওয়ার পর তিনি হেমন্ত ও জয়ন্তর বিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্ত হলেন। হেমন্ত ও জয়স্তর মধ্যে জয়ন্ত ছিল যেমন সৎ সজ্জন ও বিনয়ী, হেমন্ত ছিল তেমনই উগ্র বদমেজাজি ও উচ্ছৃঙ্খল। কাজেই হেমন্তকে নিয়ে বৈকুণ্ঠবাবুর দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না। এই হেমন্ত কিন্তু বেলগাছের ওই মহাপ্রভুকে সমীহ করত না একটুও। তাঁকে স্বীকারই করত না সে বলত, ওসব ব্ৰহ্মদত্যি-টত্যি আবার কী? সব বাজে। যতসব উদ্ভট কল্পনা। ওইসব আবার আছে নাকি? হেমন্তর মনোভাব মহাপ্রভু বুঝতে পারতেন। কিন্তু তার বিশ্বাস উৎপাদনের জন্য তাকে কখনও তিনি দেখাও দিতেন না বা কিছু বলতেনও না। তার অনেক অন্যায় তিনি ক্ষমা করে নিতেন। খুব অসহ্য হলে মাঝে মাঝে অভিযোগ করতেন।
     একদিন সন্ধেবেলা বৈকুণ্ঠবাবু ঝিম মেরে বসে আছেন। এমন সময় খড়মের শব্দ খট্‌ খট্‌ খট্‌। বৈকুণ্ঠবাবু বুঝতে পারলেন, মহাপ্রভু আসছেন। কী আদেশ করেন তাই শোনবার জন্য তিনি ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। একটু পরেই মহাপ্রভুর কণ্ঠস্বর কানে এল তাঁর, “বৈকুণ্ঠ।”
     বৈকুন্ঠবাবু করজোড়ে বললেন,“আদেশ করুন প্রভু।”
     “তোর বড় ব্যাটাকে একটু সাবধান করে দিস। একেবারে উচ্ছন্নে যাচ্ছে ওটা।”
     “আপনি ওকে ক্ষমা করুন প্রভু। আমি শাসন করছি ওকে।” বলেই হেমন্তকে ডেকে পাঠালেন তিনি।
     হেমন্ত কাঁচুমাচু হয়ে এসে দাঁড়াতেই বৈকুণ্ঠবাবু বললেন, “হতভাগা, কী করেছিস তুই?” 
     হেমন্ত অবাক হওয়ার ভান করে বলল, “কী আবার করব!” 
     “নিশ্চয়ই কোনও কুকীর্তি করেছিস। না হলে মহাপ্রভু হঠাৎ এসে তোকে সাবধান করে দেওয়ার কথা বললেন কেন? কিছু না করলে উনি কখনও শুধু শুধু অভিযোগ করেন?”
     হেমন্ত রেগে বলল, “কী করেছি না করেছি সে তোমার প্রভুই জানেন। আমার তো কিছু মনে পড়ছে না। তা ছাড়া ওসব প্রভু-টভু আমি বিশ্বাস করি না।”
     যেই না বলা, বৈকুণ্ঠবাবু অমনই ঠাস করে একটা চড় কষিয়ে দিলেন হেমন্তর গালে। বললেন, “তার মানে তুই আমাকে অবিশ্বাস করিস?”
     হেমন্ত গালে হাত বুলোতে বুলোতে বলল, “আমি কি তাই বললুম?” 
     বৈকুণ্ঠবাবু বললেন, “দূর হয়ে যা তুই আমার চোখের সামনে থেকে। যা—।” 
     হেমন্ত চলে গেল। বৈকুণ্ঠবাবু ডাকলেন, “ফাগু!” 
     বাড়ির পুরাতন ভূত ফাগু এসে বলল, “আমাকে ডাকলেন কত্তা?” 
     “হ্যাঁ বাবা। একবার যা তো, একটু খোঁজ নিয়ে দেখ তো, তোর বড়দাদাবাবু কোথায় কী করেছে? নিশ্চয়ই কোনও অপকর্ম করেছে ও।”
     ফাগু একটু ঘুরে এসে বলল, “কেলেঙ্কারি হয়েছে কতাবাবু। বড়দাদাবাবু আজ বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে বাগানে মুরগি রেঁধে খেয়েছেন। সেইসব মুরগির পালক উড়ে মহাপ্রভুর বেলতলা একেবারে নোংরা করে দিয়েছে।”
     শুনেই লাফিয়ে উঠলেন বৈকুণ্ঠবাবু, “সে কী রে! যা যা, শিগগির যা গিয়ে পরিষ্কার করে দিয়ে আয়।” বলে নিজেও চললেন ফাগুর সঙ্গে।
     বেলতলায় গিয়ে ঝটপট দিয়ে সব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে ধুনো গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধ করলেন জায়গাটকে। তারপর জোড়হাত করে মহাপ্রভুর উদ্দেশে প্রণাম করলেন। হাজার হলেও ওঁরা হলেন অলৌকিক শক্তির ধারক। একবার যদি অসন্তুষ্ট হন তা হলে কি রক্ষে থাকবে?
     একদিন দুপুরবেলা হেমন্তর বউ অর্থাৎ এ-বাড়ির বড় বউমা পুকুরে গেছে স্নান করতে। হঠাৎ চারদিক থেকে ফুলের গন্ধ ভেসে এল। বুকভরে শ্বাস নিয়ে বড় বউমা জল সপসপ কাপড়ে ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে, এমন সময় কে যেন বললেন, “কাপড়টা একটু নিংড়ে নে মা। না হলে গায়ে জলের ছিটে লাগবে।”
     বড় বউমার সর্বাঙ্গে কাটা দিয়ে উঠল। ভয়ে ভয়ে মুখ তুলে দেখল এক দিব্য পুরুষ খড়ম পায়ে ঘাটের সিঁড়ি বেয়ে প্রশান্ত বদনে নেমে আসছেন। তবে দৃষ্টি তাঁর বউমার দিকে নয়, পুকুরের জলের দিকে। বড় বউমা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী মেয়ে। তাই সে মহাপ্রভুকে চিনতে ভুল করল না। তাড়াতাড়ি কাপড় নিংড়ে ভয়ে কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
     মহাপ্রভুও থমকে দাঁড়ালেন। বললেন, “ভয় পেলি মা! ভয় কী? তুই না মনে মনে আমাকে দেখতে চেয়েছিলি? সন্ধেবেলা দেখলে যদি ভয় পাস, তাই দুপুরে দেখা দিলাম। যা, চলে যা।”
     বড় বউমা অবাক হয়ে চেয়ে রইল মহাপ্রভুর দিকে। মহাপ্রভুর জ্যোতির্ময় রূপ দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল সে। এই নাকি ব্রহ্মদৈত্য ওরে বাবা! না মানুষ না দেবতা। অথচ মানুষের মতো চেহারা। কিন্তু ছায়া ছায়া। যেন আয়নার ছবির মতো। যাকে ধরা বা ছোঁয়া যাবে না। বড় বউমাকে ওইভাবে অপলকে চেয়ে থাকতে দেখে মহাপ্রভু বললেন, “বেশি দেখিস না মা। পেছন ফিরেও তাকাস না। না হলে আমি যখন মিলিয়ে যাব তখন দারুণ ভয় পেয়ে যাবি।”
     বড় বউমা আর কোনওদিকে না তাকিয়ে তাড়াতাড়ি ঘরে চলে এল। এসে হেমন্তকে বলল, “তুমি যে বলো মহাপ্ৰভু নেই, সব মিথ্যে। আমি আজ নিজে চোখে তাঁকে দেখেছি। শুধু দেখেছি নয়, তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছি।”
     “তাই নাকি!”
     “সত্যি বলছি।”
     হেমন্ত বিদ্রুপ করে বলল, “ওইসব আবোল-তাবোল বকলে দেব একদিন গাছটা কেটে। যত্তসব— ।”
     বড় বউমা সভয়ে বলল, “না না। ও কাজ কোরো না। তোমার দুটি পায়ে পড়ি।”
     সেইদিন থেকে বড় বউমা মনে মনে মহাপ্রভুকে দারুণ ভক্তি করতে লাগল। সবসময় চারদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখত সে। মাঝে মাঝে মহাপ্রভুর দেখাও পেত। কখনও দেখত মহাপ্ৰভু বেলগাছে মিলিয়ে যাচ্ছেন। কখনও বা খড়ম পায়ে ঘাটে নামছেন। রাত্রিবেলা ছাদের ওপর গড়গড় করে মহাপ্রভুর ভাটা খেলার শব্দও শোনা যেত। মনে হত কে যেন ছাদের ওপর একটা লোহার বলকে বারবার গড়িয়ে দিচ্ছে।
     আর একদিনের কথা। বৈকুণ্ঠবাবু সন্ধের সময় আফিংয়ের নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে আছেন, এমন সময় মহাপ্রভু এলেন, “বৈকুণ্ঠ !”
     “বলুন প্রভু।”
     “তোদের মেজ বউমাটার কি কোনও কাণ্ডজ্ঞান নেই? দেখ দেখি ঘাটটাকে কেমন নোংরা করে এল। জানে তো এ সময় আমি ঘাটে বসে আহ্নিক করি। যা। কাউকে বল একটু পরিষ্কার করে দিতে। আর কাজের মেয়েটাকেও বলে দিবি এটো বাসনগুলো যেন ও ঘাটে না মাজে।”
     মহাপ্ৰভু চলে গেলেন।
    সঙ্গে সঙ্গে ডাক পড়ল মেজ বউমার। মেজ বউমা অর্থাৎ বৈকুণ্ঠবাবুর মেজ ছেলে জয়ন্তর বউ ডাকামাত্রই মেজ বউমা এল। এসে শ্বশুরকে প্রণাম করে বলল, “আমাকে ডেকেছেন বাবা?”
     “হ্যাঁ মা। তোমার কি এ-বাড়িতে থাকতে খুব অসুবিধে হচ্ছে?”
     মেজ বউমা মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়ে রইল। সে বুঝতে পারল নিশ্চয়ই কোনও অপরাধ হয়েছে তার। শ্বশুরমশাই রেগেছেন। না হলে এ-কথা তিনি বলতেন না।
     বৈকুণ্ঠবাবু আবার বললেন, “কী হল, উত্তর দিলে না যে?”
     উত্তর দেবে কি, মেজ বউমার তখন গলা শুকিয়ে উঠেছে। বৈকুণ্ঠবাবু এমনিতে ভাল মানুষ হলেও রাগলে তিনি কারও নন। মেজ বউমা বলল, “আমি কি কোনও অন্যায় করেছি বাবা?”
     বৈকুণ্ঠবাবু কঠিন গলায় বললেন, “তুমি ঘাটে গিয়েছিলে?”
     মেজ বউমা চমকে উঠে জিভ কেটে বলল, “হ্যাঁ বাবা।”
    “আমি বারবার বলেছি ঘাট সবসময় পরিষ্কার রাখবে। বড় বউমাকে দেখেও কি শিখতে পারো না। যাও এখুনি গিয়ে ঘাট পরিষ্কার করে দিয়ে এসো।”
     মেজ বউমা কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, “আমার ভয় করছে বাবা। আপনি একটু ফাগুকে বলুন।”
     “ভয় কী? যাও। কিছু বলবেন না উনি।" 
     ততক্ষণে বড় বউমাই চলে গেছে। গিয়ে নিজে হাতে ঘাট পরিষ্কার করে দিতেই খড়ম খটখটিয়ে নেমে এলেন মহাপ্রভু।
     কথাটা উঠল হেমন্তের কানে। বদমেজাজি হেমন্ত রেগে বলল,“তোমরা কী ভেবেছ বলো তো? যত্তসব আজগুবি ব্যাপার নিয়ে মাতামাতি করছ বাড়িসুদ্ধু লোক। আসলে বাবা নোংরা একদম দেখতে পারেন না। তাই নিজের আদেশটা মহাপ্রভুর নাম দিয়ে এইভাবে চালান আর তোমরাও তাই বিশ্বাস করছ?"
     বড় বউমা বলল, “না, আমরা বাড়িসুদ্ধ লোক মোটেই আজগুবি ব্যাপার নিয়ে মতামত করছি না। তুমি বিশ্বাস না করো নাই করলে। আমরা করি। আমি নিজের চোখে তাঁকে দেখেছি। একবার নয়, একাধিকবার দেখেছি। তিনি কথাও বলেছেন আমার সঙ্গে। অতএব তুমি চুপ করে থাকো।”
     হেমন্ত হেসে বলল, “তিনি যদি আছেনই, তবে আমি যে এত অবিশ্বাস করি তা আমাকে একবার দেখা দিচ্ছেন না কেন? আমাকে দেখা দিলেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। কাজেই আমি যতদিন না দেখতে পাব ততদিন বিশ্বাস করব না।”
     বড় বউমা আর কী করে! বাধ্য হয়েই নীরব হয়ে গেল।
     পরদিন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে হেমন্ত ঠিক করল, কাউকে কিছু না জানিয়ে বাগানে গিয়ে চুপিচুপি বেলগাছটাকে কেটে ফেলবে। তা হলেই অবসান হবে সমস্ত বুজরুকির। আপদের শান্তি হবে। এই ভেবে একটা কুড়ুল নিয়ে সবার অলক্ষ্যে বাগানে গেল সে। আবছা আলো-অাঁধারে বেলতলায় হাজিরও হল। তারপর যেই না দু-চার কোপ দেওয়া, অমনই দেখতে পেল বেলগাছের ভেতর থেকে এক বীভৎস চেহারার উৎকট মূর্তি ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে আবির্ভূত হল। সেই অতি ভয়ঙ্করের কোনও তুলনাই হয় না। মূর্তিটা কখনও বড় হচ্ছে, কখনও ছোট হচ্ছে, কখনও আগুনে পোড়া ঝলসানো রূপ নিচ্ছে, কখনও গলিত শবের মতো হচ্ছে, কখনও বড় বড় দাঁত বার করে কামড়াতে আসছে। কখনও বা আগুনের গোলার মতো চোখ বার করছে, চোখ দুটাে বলের মতো বড় হয়ে ঠেলে বেরিয়ে আসছে যেন হেমন্তর রক্তের ভেতর দিয়ে একটা হিম স্রোত বয়ে গেল। হাতের কুডুল খসে পড়ল হাত থেকে। ঘাড় গুজে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল সে। মুখ দিয়ে গাঁজলা উঠতে লাগল।
     মহাপ্ৰভু কিন্তু তার কোনও ক্ষতি করলেন না। বৈকুণ্ঠবাবুকে ঠিক সময়ে দেখা দিয়ে বললেন, “আমি এখান থেকে চলে যাচ্ছি বৈকুণ্ঠ। তোর বড় ছেলে বেলতলায় শুয়ে আছে ওকে তুলে নিয়ে আয়। আমি ওকে ভয় দেখিয়েছি। যা, শিগগির যা।”
     বৈকুণ্ঠ বাঁড়ুজ্যে ডুকরে কেঁদে বললেন, “ওর অপরাধ আপনি ক্ষমা করুন প্রভূ। কেন আপনি চলে যাবেন? আমি তো আপনার কোনও অমর্যাদা করিনি।”
     “তা করিসনি। তবে তোর ছেলে গাছটাকে এমনভাবে কুপিয়েছে যে, গাছটা হেল পড়েছে একেবারে। একটু জোরে হাওয়া দিলেই পড়ে যাবে। ও গাছে কী করে থাকব বল?
     তা ছাড়া তোরও দিন শেষ হয়ে এসেছে। সামনের মহাষ্টমীর দিন যেতে হবে তোকে।" বলে মহাপ্রভু চলে গেলেন!
     খবর পেয়ে সংজ্ঞাহীন হেমন্তকে সকলে মিলে ধরাধরি করে ঘরে নিয়ে এল। এর পর থেকে কীরকম যেন হয়ে গেল হেমন্ত। সামান্য একটু মাথার গোলমালও দেখা দিল। বৈকুণ্ঠ বাঁড়ুজ্যেও সে বছর মহাষ্টমীর দিন সন্ধিপূজা অন্তে দেহরক্ষা করলেন। মহাপ্রভুর কৃপালাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলেই হোক বা যে কোনও কারণেই হোক, শিবানীপুরের সেই সম্পত্তি হেমন্তরা রাখতে পারল না। ভাইয়ে ভাইয়ে মামলা-মোকদ্দমা করে একেবারে সর্বস্বাস্ত হয়ে গেল। সর্বস্বাস্ত হওয়ার পর হেমন্ত সপরিবারে কাশী চলে গেল। জয়ন্তও চলে গেল শিয়াখালার কাছে কোনও এক গ্রামে। পড়ে রইল পিতৃপুরুষের ভিটে। সেখানে ধুনো গঙ্গাজল দেওয়ারও আর কেউ রইল না।
     শিবানীপুরে বাঁড়ুজ্যেদের ভিটেতে এখন ঘুঘু চরে। বৈকুণ্ঠ বাঁড়ুজ্যের পুরনো বাড়ির ধ্বংসস্তুপে এখন আর কোনও মহাপ্রভুর আবির্ভাব হয়েছে কিনা তা অবশ্য জানা নেই।

গল্পটি পড়া শেষ! গল্পটি কি সংগ্রহ করে রাখতে চাও? তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে তোমার পছন্দের গল্পটি ডাউনলোড করো আর যখন খুশি তখন পড়ো; মোবাইল, কস্পিউটারে কিংবা ট্যাবলেটে।

Download : PDF

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য