রানুর দুঃখ, ভালোবাসা - মাহমুদ আল জামান (বড় গল্প)

      রানু ১০-১২ বছরের একটি ছোট্ট মেয়ে। পা ভেঙে প্রায় দু মাস হলো বিছানায় শুয়ে থাকে। উঠতে গেলেই পায়ে ব্যাথা হয়। ক্রাচ পড়ে হাঁটতে হয়ে। রানুর বাবু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। রানুর বাবা রানুকে খুব ভালবাসেন। কিন্তু রানু অসুস্থ বলে কোথাও যেতে পারে না, খেলাধুলা করতে পারে না। স্কুলে যেতে পারে না। রানু যখন এসব ভাবে তখন তার দুখ কষ্ট হয় কিন্তু আবার অন্য দিক দিয়ে তার ভালও লাগে। কেননা অসুস্থ হওয়ার আগে সে তার চারপাশের পরিবেশ, মানুষজন সম্পর্কে এতো ভাবেনি। অসুস্থ হওয়ার পর তার চারপাশের প্রতিটি জিনিস কে উপলব্ধি করে। সে স্বপ্ন দেখে।


      এদিকে ভাষা আন্দোলন চলছে, পাকিস্তানিরা আমাদের মায়ের ভাষাকে কেড়ে নিয়ে উর্দূকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাইছে। রানুর বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়াতে তিনিও এই আন্দলনের নেপথ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এদিন পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করল কিন্তু ছাত্ররা তা শুনল না। তারা মিছিলে গেল, মারা পড়ল অনেকে। সেদিন সন্ধায় রানু তার অসুখ থেকে সেড়ে উঠেছে। পায়ে তার আর ব্যাথ্যা নেই। সে কয়েকদিন পরেই আবার বাবার হাতের আঙুল ধরে স্কুলে যাবে। কিন্তু সেইদিন সন্ধায় দশ বারোজন খাকি পোশাক কিছু লোক এল তাদের বাড়িতে। রানুর বাবাকে তুলে নিয়ে চলে গেল গাড়িতে। রানু সেদিন অনেক করে কাঁদল, বলল তার পা ঠিক হয়ে গেছে... বাবা শুধু জীপে ওঠার সময় রানুর মুখের দিকে একটিবার তাকাল।


এই অসাধারন গল্পটি তোমার সংগ্রহে রাখার জন্য নিজের ডাউনলোড লিঙ্কে ক্লিক করো


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য