কুড়ানো টাকার কুরু ক্ষেত্র - ইমরুল চৌধুরী

      কুড়ানো টাকা নিয়ে কুরুক্ষেত্ৰ ! 
      পুরো দশটা দিন দিশেহারা নারু কাণ্ড-জ্ঞানহীন কাণ্ডকারখানা ঘটিয়ে বসে। জানা মতো সকল চাতুরী খাটিয়ে চতুর নারু আমাকে ফতুর করে দেয়। যুক্তিযুক্তহীন যুক্তিতর্কে আমাকে ভড়কে দিতে চায়ঃ দ্যাখ ইমু, মানিব্যাগটা কুড়িয়ে পাওয়ার সময় আমিও তোর সংগে ছিলুম। পাওয়া টাকার পাওনা অংশ আমাকে দিতেই হবে।
      বলে স্থির সংকল্প নারু পাওয়া টাকার আশায় পাওনাদার হবার ভান করে। 
     নারুর কচকচানি আমি তৎক্ষণাৎ নাকচ করে দিইঃ টাকাটা তুই কুড়িয়ে পাসনি। ফাঁকা রাস্তা থাকলেই টাকা কুড়িয়ে পাওয়া যায়না। এর জন্যে বাঁকা চোখ থাকা চাই। টাকা পাওয়ার ব্যাপারে তোর কোনো অবদান আছে তা আমি স্বীকারই করি না। আমি হককথার মতো নারুকে সাফ সাফ জানিয়ে দিই। নারু তথাপি নিজের হক ছাড়তে রাজী হয়না। বরং হক কথার হকিকত শুনিয়ে আমার সাথে হঠকারী করতে চায়ঃ ‘তুইতো রোজই খালি হাতে ফিরিস। আমি সংগে ছিলুম বলেই তো মানিব্যাগটা তোর নজরে এলো। আমিই তো তোকে মানির মাণিক্য দেখালুম।" বলে নারু চানক্যের মতো আমার দিকে তাকায়। বাক্যবাণে আমাকে বাঁকা করতে চায়। বাক্যের চাকচিক্যে বাকায়দা ফায়দা ওঠাতে চায়।
      আমি কায়দামতো নারুকে ‘নো’ করার চেষ্টা করি ; তুই আমার সংগে ছিলি ওটা নেহাৎ কোইলিডেন্ট। তুই আমার সংগে না থাকলেও সেদিন কালিচরণ রোডে মানিবাগের মাণিক্য ঠিকই চিকচিক করতো। তুই ভেবেছিস ওই চাকচিক্য ছেড়ে আমি খালি হাতে হাততালি দিয়ে বাড়ী ফিরতাম। আর তুই কি কম বিট্রেই না করতে চেয়েছিলি আমার সংগে। ছোঁ মেরে মানিব্যাগটা ছিনিয়ে নিয়ে পুরো টাকাইতো আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলি। ঠিক সময় মতো পা দিয়ে তর্জনী চেপে না রাখলে পুরো টাকার মালিকতো তুই হতিস।
      বলে আমি নারুর আসল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করি। কিন্তু যেখানেই মানির প্রশ্ন সেখানে কোনো ক্ষীণ আশাও নিরাশ হতে দেয় না নারু। প্রয়োজনবোধে মুনি হতেও দ্বিধাবোধ করে না। মানির প্রশ্নে রক্তাক্ত হানাহানি ঘটাতেও তৎপর হয়ে ওঠে নারু। ফাও টাকার ফিফটিপার্সেন্ট তোকে দিতেই হবে ইমু।’ রক্তচক্ষু নারু শক্তভাবে কথাগুলো উচ্চারণ করে। ফিফটিপার্সেন্ট আদায় করার জন্যে যেন শক্তভাবে গাঁট হয়ে দাঁড়ায়। ব্যাপারটা মিটমাট করে নিজের ভাগ নিয়ে নারু ভেগে পড়তে চায়।
      নারুর আচরণ আমাকে বিস্মিত করে। আমি যতই স্মিতমুখে জবাব দিই নারু যেন ততই আমাকে ভীত করে তুলতে চায়। যতই নির্ভয় হবার ভাণ করি ততই নারু ভয় দেখিয়ে আমাকে রীতিমত পেরেশান করে তোলে। নারুর সকল চাতুরী প্রয়োগ সত্ত্বেও ওর ব্ল্যাকমেইলের মুখে টিকে থাকার চেষ্টা করি। একে একে ওর সকল প্রচেষ্টাই ফেইল হতে থাকে।
      ‘তার মানে পুরো টাকাটা তুই একাই আত্মসাৎ করবি। নারু যেন শেষ কথা জানতে চায়। আমিও সর্বশেষ কথা নারুকে জানিয়ে দিতে দেরী করিনেঃ “তোর এখনও কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় নারু। প্রয়োজন হলে বেমালুম তাই করবো। পুরো টাকাটাই আমি দুহাতে দেদারভাবে উড়িয়ে ফুর্তি করে বেড়াবো। এটা তোর অনেক আগেই মালুম হওয়া উচিত ছিলো।’
      বলতে বলতে নারুকে আমার শেষ কথাটা প্রচণ্ডভাবে মালুম করাবার চেষ্টা করি। নারুর মুখের সামনে বজ্রপাতের মতো দরজার খিল এঁটে খিলখিল করে উঠি।
      ‘দুরহ’ বলে দুরূহ নারুকে দূর হয়ে যেতে বলি। আর নারু রাগে দু'হাত রগড়াতে থাকে। খিল বন্ধ দরজায় প্রচণ্ড ঢিল মেরে সব লণ্ডভণ্ড করার জন্য যেন মারমুখো হয়ে ওঠে। তারস্বরে তারবার্তার মতো সংক্ষেপে ক্ষ্যাপা নারু তথাপি জানতে চায়, তাহলে এই তোর শেষ কথা ইমু।’ 
      আমি দরজার খিল ধরে সেই রকম খিলখিলিয়ে উঠিঃ আর কথার বাড়াবাড়ি হওয়া উচিত নয় নারু। এখন তুই ভালোয় ভালোয় কেটে পড়তে পারিস।
      বন্ধ দরজার ওপাশে রাগাম্বিত নারুকে যেন সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাই আমি। উপায়ান্তর না দেখে যেন মন্ত্র উচ্চারণের মতো নারু বলে যায়ঃ আমি খেটে খাওয়া ছেলে ইমু পাওয়া টাকায় আমার কোনো লোভ নেই। জেনে রাখিস কেবল কুঁড়ে লোকের জন্যেই কুড়ানো টাকা। তুই কুড়িয়ে পেয়েছিস আমি খেটে ওই টাকা আনবো। এই টাকা তোর পেটে সইবে না ইমু বলে যাচ্ছি।
      বলতে বলতে নারু যাবার ভান করে। আমিই আবার নারুকে থামাই। কোনো বদহজম হবে বলতে চাস? হ্যামবার্গার-চিকেন রোস্ট-ফ্রাইডপ্রন বদহজমের কিছু নেই নারু। না হয় কয়েকটা ফুটসল্ট লাগবে বড়ো জোর।
      বলে আমি জোর শব্দ তুলে নারুকে ফলস ঢেকুর শোনাই। নারু শুনতে পায় কিনা জানিনে। তবে আমি স্পষ্ট শুনতে পাই নারুর জিভের চুকচুক শব্দ। রসনার রসে যেন আস্ত রসমালাই অনুভব করে নারু। নারুর সবটাই ফাও। ফাও টাকা। ফাও খাওয়া।
      উল্টো নারুই আমাকে উপদেশ দেয়ঃ ফাও টাকার ভোগ তোর হবে নাইমু। বরং ভোগান্তিই হবে বলে যাচ্ছি।
     বলে নারু যাবার জন্যে আবারও পা বাড়ায়। আমি নারুকে আবারও থামাইঃ তাহলে এও শুনে যা নারু, তুই সেদিন মাহবুব ক্লথ মার্কেটে ড্রবল নীটের যে জাপানী প্যান্ট পীসটা দেখেছিলি আর সেদিন ফারাডাইস মার্টে লংকলার রেডস্ট্রাইপ সার্টটা দেখার পর থেকে তোর যে রকম হার্টবিট হচ্ছিল কাল থেকে আমাকে দেখা মাত্রই তোর সেই হার্টবিট মানে ... ।
      বলে আমি সম্পূর্ণ কমা সারার আগেই নরুকে ওর হার্টফেল করার চেষ্টা করি। কিন্তু নারু উল্টে নিজের বুক দাপড়ে দাপট দেখায়ঃ কাল থেকে কার হার্টকে বিট করবে তা তুই নিজেই টের পাবিনে ইমু।
     বলতে বলতে নারু একেবারেই অদৃশ্য হয়ে যায়। আমি যেন হাফ ছেড়ে বাঁচি। পাওয়া টাকা ছেড়ে ওর চলে যাওয়ায় খটকা লাগলেও আমি আপাততঃ নিৰ্ভয়ে দরজা খুলে দিই। আপনমনে খোলা দরজার খোলা হাওয়া খাই। ভুলে যাই নারুও যে একজন অংশীদার। আমি কুড়ানো টাকার পুরোটা একাই ভোগ করতে গিয়ে ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলি। নারুর কথাই ঠিক। যেন ক্ষণিকের মধ্যেই অদৃশ্য নারুর অদৃশ্য হাতের কারসাজি দৃশ্যময় হয়ে ওঠে। পরের দিনই টের পাই। বন্ধ দরজায় প্রচণ্ড শব্দে আমারই হার্টফেল হবার উপক্রম হয়। বন্ধ দরজা যেন খোলার অপেক্ষায় থাকে না। যেন আপনাতেই খুলে যায়। আর অপর প্রান্তের ষণ্ডা লোকের পাণ্ডা দেখে কাপুনী ধরে যায় আমার। শর্টহ্যান্ডের মতো শর্টকাটে কাজ সেরে ফেলতে চায়—মানে, মানিব্যাগ নিয়ে মানে মানে কেটে পড়তে চায়।
      আমি বিনা বজ্রপাতে আকাশ থেকে পড়ি। কার মানি ব্যাগ! আমি কিছুই না জানার ভান করি। তাহলে কি নারু টাকা আদায় করার জন্যে গুণ্ডা লাগিয়েছে। ভেবে আমার গণ্ডদেশ থেকে যেন ঘাম ঝরতে থাকে। হীন নারুর হীন কার্যকলাপে আমার ঘেন্না ধরে যায়।
      এদিকে ষণ্ডা লোকটা ষাঁড়ের মতো চেঁচিয়ে ওঠে। পাওয়া টাকা নিয়ে হাওয়া হয়ে যেতে চায়। স্বীয় কথা বিশ্বাস করাতে গিয়ে আমাকে দ্বিগুণ বিস্মিত করে তোলেঃ আমি কি হাওয়া থেকে বাত্ম করছি। এই দেখুন না আজকের খবরের কাগজেইতো রয়েছে বলে সে বগলদাবা খবরের কাগজ সবলহাতে আমার দিকে বাড়িয়ে দেয়। আমি একদিকে বড়ো হাত করে তার দিকে দু’হাত বাড়িয়ে দিই অপর দিকে আমার ভেতরটা আস্তে আস্তে জড় হয়ে যেতে থাকে। ত্বরিতে আমার হার্টবিট তড়াক করে বেড়ে যায়, যেন তড়িতাহতের মতো আমি শুধু হাত বাড়িয়েই থাকি নির্জীবের মতো। আড়ষ্ট জিভে আমি স্পষ্ট করে বলতে পারিনে কিছুই।
      কেবল বুঝতে পারি নারুরই দেয়া মরণ পণ বিজ্ঞাপন এবং তাও নিজের নামে নয় অপরের নামে। নারু পরকে দিয়ে অপরের ধন আর পরকেই দিতে চায়। বিজ্ঞাপন দেখে আমিও পণ করি। পাই পাই করে পাওনাদারদের পইপই জবাব দিই। কথার খই ছুটাই। মানে মানে সকলকে মানিয়ে অপরের মানিব্যাগ নিজের জেবে আগলে রাখি। পাওয়া টাকার পাওনা লোকদের ধাওয়া করে ফিরি। ধাওয়া করি আর দায় সারি। তাড়া করা লোকদের তাড়া খেয়েও তোড়া নোট হাত ছাড়া করিনে।
      এক সময় নারুও তাড়া করেঃ ‘তার মানে তুই অন্যায়ভাবে টাকাটা ভোগ করবি মানিব্যাগটা মেরে দিয়ে একটা গৰ্হিত কাজ করবি।’ বলতে বলতে নারু যেন আমাকে হিতোপদেশ দেয়। হিতে বিপরীতের মতো আমি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। নারুর অপকর্মের একটা বিহিত করতে চাইঃ তাই বলে তুই যার তার নামে যাতা একটা বিজ্ঞাপন দিবি। অবিবেকজনিত অবিজ্ঞ কাজ করবি। নারু তথাপি বিজ্ঞলোকের মতো ভান করেঃ বিজ্ঞাপনটা নিশ্চয়ই বিফলে যায়নি। যার টাকা সে নিশ্চয়ই সন্ধান পেয়েছে। "
      বলে আমাকে কিঞ্চিৎ সন্দিগ্ধ করে তুলতে চায়। একটা পুলিশী কাণ্ডকারখানা না ঘটিয়ে নাকি আমি নিস্তার পাবো না এই বলে নারু আমাকে সতর্ক করে। সবিস্তারে আমাকে ক্রিমিন্যাল এ্যাক্ট সম্পর্কে অবহিত করে নারু। আমাকে ভয় দেখায় এবং ভাবিয়ে তোলে।
      তথাপি টাকার মায়াডোর আমাকে বিভোর করে রাখে। আমি সহজেই কুড়ানো মানিব্যাগের মায়া ছাড়তে পারিনে। মানির মাণিক্য আমি কাঁকড়ার মতো আকড়ে থাকতে চাই।
      নারু আমার ভাবসাব দেখে প্রীত হয় না। বরং হৃত টাকা পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় আমাকে আরও ভীত করে তুলতে চায় "টাকার আসল মালিক কে তা তুই নিজেও জানিসনে ইমু। আসল মালিক তোর কাছ থেকে টাকা আদায় করে নেবেই। পাওয়া টাকা ভোগ করার আশা তুই এখনও ছেড়ে দে। নিজের সর্বনাশ তুই নিজেই নে - আনছিস ইমু।
      বলে নারু আমার সর্বনাশা পরিণতির ইংগিত দেয়। আসল মালিককে টাকা না দেয়া পর্যন্ত খবরের কাগজে নাকি বিজ্ঞাপন বেরুতেই থাকবে—এই বলে নারু আমাকে সচেতন করতে চায়। আমার মাকি চেতনা ফেরা দরকার বলে নারু আমার চেতনায় আঘাত করতে চায়।
      নারুর সদুপদেশ যেন আমার বিবেকে ঝড় তুলে দেয়। আমি সৎকাজে নিজেকে মনোনিবেশ করি এবং নারুকে শেষ কথা জানিয়ে দিইঃ দেখ নারু পাওয়া টাকা দিয়ে বরং মেকি কাজ করা ভালো। পুরো টাকাটাই চেয়ে গেনডারিয়া মসজিদে দান করে নেকি হাসিল করবো ।
      নারু আমার কথা শুনে ন্যাকা সাজার চেষ্টা করে। উদগ্রীব হয়ে উৎসাহ দেয়ঃ তাই ভালো ইমু। সকলের নেক নজরে থাকার চেষ্টা কর। অপরের টাকার ওপর যে লোভ দেখিয়েছিস তাতে তোর কৃতপাপের কোনো ক্ষোভ থাকবে না। তোর বরং প্রায়শ্চিত করা দরকার।
      মেকি নারু আমাকে উপদেশ দেয়। নেক কাজে দেরী করা উচিত নয় বলে নারু আমার নেক নজর থেকে উধাও হয়ে যায়। আমি সহজেই নারুর মেকআপ বুঝতে পারিনে।
      তথাপি মেকি সিদ্ধান্তে অটল থাকি আমি। পাওয়া টাকা ও মেকি নারু—এ দুয়ের প্রাণান্তকর অবস্থা থেকে আমি আশু মুক্তি চাই। মুক্তি চাই গেনডারিয়ার জামে মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে যার সফেদ শ্বশ্রু গুম্ফময় অলৌকিক মুখাবয়বের দিকে তাকিয়ে তুলে দিই কালিচরণ রোডে কুড়িয়ে পাওয়া কালো মানিব্যাগ। নেকি হাসিল করি এবং কপর্দকহীন শূন্যহাতে ঘরে ফিরেও পুণ্য অর্জনের এক অলীক চেহারায় উদ্ভাসিত হই।
      কিন্তু সেই অলীক উদ্ভাসিত চেহারা যেন ক্ষণিকের মধ্যেই মিলিয়ে যায়। মেকি নারু ওর মেকআপ নিয়ে স্মিতমুখে খিলখিল করে ওঠেঃ ভালোই হলো ইমু। তোরও নেকি হাসিল হলো আমিও চরিতার্থ হলাম।
      আমি অর্থহীন সন্দিগ্ধ নারুর দিকে তাকাইঃ তাহলে কি ... । 
     পুরো মানিব্যাগটা কেড়ে নেয়ার মতো নারু আমার মুখের কথাও কেড়ে নেয়ঃ আসল মালিককেই শেষ পর্যন্ত টাকাটা দিলি তবে ....
      আমিও নারুর কথার গ্রাস কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করি। বিশ্বাস করি না নারুর কথায়ঃ তবে কি ইমাম সাহেবই...।
      নারু যেন থাম থাম বলে চিৎকার করে ওঠে। পকেট থেকে কালিচরণরোডের কুড়ানো কালো মানিব্যাগ বের করে রীতিমত আমার ঘাম ছুটিয়ে দেয়ঃ তুই আমাকে ইমামসাহেব বললেও আমার আপত্তি নেই। প্রয়োজন হলে আমি ইমামতিও করতে পারি। হাঃ হাঃ ইমু, তুই যেন কি বলছিলি। হ্যামবার্গার ফ্রাইডপ্রণ রেডস্ট্রাইপ লংকলার সার্ট। নারুর কথাগুলো আমার হার্টের ভেতর সূক্ষ্ম পিনের মতো চিন চিন করে বাজতে থাকে।

গল্পটি পড়া শেষ! গল্পটি কি সংগ্রহ করে রাখতে চাও? তাহলে নিচের লিঙ্ক থেকে তোমার পছন্দের গল্পটি ডাউনলোড করো আর যখন খুশি তখন পড়ো; মোবাইল, কস্পিউটারে কিংবা ট্যাবলেটে।

Download : PDF

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য