বীরবল বীরবলই

    আকবর বীরবলকে বেশি ভালবাসতেন বলে অন্যান্য অমাত্যরা সকলেই বীরবলকে মনে মনে ঈর্ষা করতেন। বীরবল ওঁদের মনের কথা ভাল করেই বুঝতেন।
      একদিন তাঁরা বাদশাকে বললেন, ‘খোদাবন্দ আমরা বীরবলের চেয়ে কোন বিষয়ে কম নই। কিন্তু আপনি সব কথা বীরবলকে জিজ্ঞেস করেন, আমাদের করলে আমরা কি পারি না?
      আকবর বললেন,‘তাই নাকি, তোমরা বীরবলের সমান? এ তো অতি উত্তম কথা, আমি তোমাদের একটি কাজের দায়িত্ব দিচ্ছি। তোমরা আমাকে এমন একটি বীজ এনে দাও যাতে সমস্ত বনস্পতি অঙ্কুরিত হয়। যদি পারো জানব তোমরা বীরবলের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।’
      সবাই নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রইলেন। আনা তো দূরের কথা, এমন কথা, এমন বীজের কথা তারা কেউ ভেবেও পাচ্ছিলেন না! কী করবেন এখন? সবাই এ ওঁর মুখের দিকে চেয়ে ভাবতে থাকেন কে কী বলবেন, কে কী করবেন এই ভেবে। আকবরও মনোযোগ দিয়ে সকলের দিকে বারবার চাইছিলেন। কে কী করেন?
      বাদশা তখন বীরবলকেও একই অনুরোধ জানালেন।
      বীরবল একটি পাত্রে জল নিয়ে এসে বাদশাকে বললেন, ‘এই সমুদয় বনস্পতির বীজ। নিন হুজুর।
      বাদশা অমাত্যদের বললেন, এবার বুঝলে তো, তোমরা বীরবলের সমকক্ষ কি না! বীরবল বীরবলই, সে তোমাদের বুদ্ধির কত ওপরে ভেবে দেখো শুধু।’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য