জামাতার বুদ্ধি

     বীরবলের কন্যা বেশ লেখাপড়া শিখেছিল, কিন্তু জামাইটি ছিল নিতান্তই মূর্খ ও বোকা।
     বীরবলের কন্যা একদিন রান্না করতে করতে স্বামীকে বলল, কাজের লোক কাউকেই তো বাড়িতে দেখছি না। শিগগির দোকান থেকে আমাকে দু’আনার তেল এনে দেবে? এখনি না হলে চলবে না।’
     বীরবলের জামাই বেশ সমীহ করত বউকে তাই বউ বলামাত্র একটি বাটি নিয়ে দোকানে তেল আনতে গেল।
     দোকানদার তেল মেপে বাটিতে ঢালতে গিয়ে দেখল, সব তেল বাটিতে আঁটছে না। তাই জিজ্ঞেস করল,‘বাকি তেলটা কীসে নেবেন? আর জায়গা কই? এতে ধরবে না।’ 
     জামাইটি সঙ্গে সঙ্গে বাটিটি উলটে বলল, বাকি তেলটা বাটির এই খুরায় দাও। নীচেও জায়গা আছে দেখতে পাও না।’
       এদিকে বাটির সব তেল যে পড়ে গেল, সেদিকে কোনও হুঁশ নেই জামাইয়ের।
      দোকানদার ক্রেতার এই মূর্খতা দেখেও কিছু বলল না। বাকি তেলঢুকু বাটির খুরায় ঢেলে দিয়ে পয়সা নিয়ে নিল।
      বাড়ি ফিরে তেলের বাটি স্ত্রীর দিকে এগিয়ে দিয়ে জামাই বলল, “এই নাও তেল। বাটির দিকে তাকিয়ে বীরবলের মেয়ে অবাক! বলল, দুআনায় মাত্র এইটুকু তেল? বাকি তেল কোথায়? আর কীসে এনেছ তেল?
     ‘কেন, বাটির ভেতরে আছে? তাও কি দেখতে পাওনি!’
      বলে বাটিটা উলটোতেই এবার খুরার তেলচুকুও নীচে পড়ে গেল। এক ফোটাও তেল রইল না।
     স্বামীর বুদ্ধির দৌড় দেখে নিজের কপালে করাঘাত করে সে বলল, হা আমার কপাল!
     আর এতক্ষণে ঘটনাটা উপলব্ধি করতে পেরে বিস্মিত হয়ে বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকে বীরবলের জামাতা।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য