Home Top Ad

Responsive Ads Here

Search This Blog

     রবিবারের এক চমৎকার দিন। জনকয়েক চাষী দাওয়ায় বসে গল্প করছিল।      গ্রামের দোকানদারও এসে  ‍জুটল সেখানে। এসেই হেন করেছে, তেন করেছে, বড়া...

জমিদারের সঙ্গে কাঙালের ভোজন - রাশিয়ার উপকথা

     রবিবারের এক চমৎকার দিন। জনকয়েক চাষী দাওয়ায় বসে গল্প করছিল।
     গ্রামের দোকানদারও এসে  ‍জুটল সেখানে। এসেই হেন করেছে, তেন করেছে, বড়াই সুরু করে দিল, বলল সে নাকি জমিদারের খাস-কামরাতেও গিয়েছে।
     দলের সবচেয়ে কাঙাল চাষীটি কিন্তু বসে বসে হাসে।
    ‘ভারি তো ব্যাপার – না, জমিদারের খাস-কামরায় গেছি! আমি ইচ্ছে করলে জমিদার বাবুর সঙ্গে একাসনে খেয়েও আসতে পারি।’
     ‘কী, জমিদার বাবুর সঙ্গে ভোজন? সারা জীবনেও পারবে না হে!” পয়সাওয়ালাটা বলল চীৎকার করে।
     ‘বলছি খেয়ে দেখিয়ে দেব!’ 
     কিছুতেই পারবে না!’
     তর্ক লেগে গেল ওদের। শেষকালে কাঙাল বলল : আচ্ছা, এক হাত বাজি হয়ে যাক। যদি জমিদার বাবুর সঙ্গে বসে খেতে না পারি তবে তিন বছর বিনা পয়সায় তোমার কাছে খাটব।’
     দোকানদার তো ভারি খুশী ।
     ‘ঠিক আছে, আমার কালো ঘোড়াটা, বাদামী ঘোড়াটা বাজী, তার সঙ্গে একটা বাছুরও ফাউ রইল! তোমরা সব সাক্ষী!”
     সাক্ষীদের সামনে হাতে হাতে চাপড় মেরে বাজি ধরা হল। 
     তারপর কাঙাল গেল জমিদার বাবুর কাছে। কিছু কথা আছে হুজুর, গোপনে জিজ্ঞেস করতে চাই – একটা সোনার তাল, ধরন এই আমার টুপির মতো, কত দাম হবে?
     জমিদার বাবুর মুখে আর রা নেই। হাততালি দিয়ে ডেকে বলল: ‘ওহে, কে আছো হে, আমাদের জন্যে কিছু মদ পাঠিয়ে দাও শীগগির! খাবার টাবারও সব দিয়ে যাও! বসো, বসো, লজ্জা করো না, খাও, দাও, যা মন চায় নাও!’
     কাঙালের সে কী আদর আপ্যায়ন, যেন এক সম্মানিত অতিথি, আর মনে মনে, ছটফট করে জমিদার। কেবল চিন্তা কতক্ষণে ওই সোনার তালটি হস্তগত করবে।
     ‘এবার তাহলে যাও তো বাপ, দৌড়ে সোনার তালটি নিয়ে এসো। তার বদলে আমি এক  ‍পুদ* (* পুদ – প্রায় ষোল সের ওজনের রশীয় মাপ) ময়দা আর একটি আধলি দেব তোমায়।’
     কিন্তু সোনার তাল তো আমার কাছে নেই। আমি কেবল জিজ্ঞেস করছিলম আমার টুপির মতো এক তাল সোনার দাম কত হবে।’
     জমিদার বাবু তো একেবারে রেগে কাঁই: ‘বেরিয়ে যা, হতভাগা! হাঁদা কোথাকার!’
     ‘বারে, হাঁদা কোথায়, দেখুন না, আপনি নিজেই আমায় সম্মানিত অতিথির মত আপ্যায়ন করলেন। তাতে আবার এই খাওয়ার জন্যেই দোকানদারও আমায় দুটো ঘোড়া আর একটা বাছুর দেবে।’
     এই বলে মনের আনন্দে ফিরে গেল চাষী।

0 coment�rios: