সোনার গাছ - মোল্লা নাসিরউদ্দিন

     বাদশার কাছে নাসিরউদ্দিন বাকচাতুর্যের জন্য বখশিষ পেলেও তিনি সে টাকা খাওয়া-দাওয়া, দান-খয়রাতে খরচ করে ফেলতেন।
     হঠাৎ কিছু টাকার দরকার পড়ায় নাসিরউদ্দিন এক ফন্দী আঁটলেন। একদিন খবর পেয়েই বাদশার আসার পথের ধারে গর্ত খুড়ে গিন্নীর কিছু গয়না মাটিতে পুতিতে লাগলেন।
     ঘোড়া থেকে নেমে বাদশা জিগ্যেস করেন—গর্তে কি পুতছে নাসিরুদ্দিন?
    ‘অজ্ঞে, সোনা –সোনার বীজ । বড় হয়ে সোনার গাছ হবে। বেশীদিন নয়, দিন পনেরো পর অন্ততঃ তিন সের সোনা পাওয়া যাবে।’ 
     বাদশার লোভ হোল এহেন ফলনের পরিণতি শুনে৷ তক্ষুণি কোষাগার থেকে মোল্লাকে বেশ কিছু সোনা দিলেন বীজ পোতবার জন্যে।
     দু'সপ্তাহ পরে--নাসিরউদ্দিন এখান-ওখান থেকে ধার করে কিছু সোনা যোগাড় করে বাদশাকে খুশী করলেন,—‘এই হোল আপনার ফসল।’
     লোভী বাদশা তো অবাক । অতঃপর আরো বেশী কিছু সোনা ফলনের জন্য দিলেন।
    দিন যায়, মাস যায়।—নাসিরউদ্দিনের দেখা নেই। তাঁকে ডেকে পাঠানো হলে নাসিরউদ্দিন এসে হাঁউমাঁউ করে কেঁদে ওঠে ।
     ‘কি ব্যাপার নাসিরউদ্দিন?’
     ‘আজ্ঞে, এবারে বৃষ্টি না হওয়ায়, সব সোনার বীজই শুকিয়ে গেছে হুজুর!’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য