জাদু আয়না ও সুন্দরী মেয়ে -১ - আদিবাসী লোককথা

      সবুজ ঘন বনভূমি আর গান-গাওয়া নদীর পাশে এক গ্রাম ছিল। সেই গ্রামের রাজার ছিল একটিমাত্র মেয়ে। সে ছিল খুব সুন্দরী। তার আলো-করা রূপে মানুষ পশুপাখি সবাই অবাক হয়ে যেত। এমন রূপ তারা আগে কোনদিন দেখেনি।
      মেয়ে কিশোরী হল। একদিন তার বিয়ে হল। বিয়ে হল ভিন গাঁয়ে। তার ছিল একটা জাদু আয়না, এই আয়না কথা বলতে পারত। ঠিক মানুষের মতো। যখনই সে সাজগোজ করত, শধু এই আয়নাতেই মুখ দেখত। আর বাইরে বেড়াতে যাওয়ার সময় কিংবা নাচের আসরে যাওয়ার আগে এ আয়না না হলে তো তার সাজগোজই হত না। বড় প্রিয় আয়না।
      একটা ঘরে সে এই আয়নাকে রেখে দিত। কাউকে ঢুকতে দিত না সেই ঘরে। এমন কি আপনজনদেরও না। সেই ঘরে একা একা সে আয়নাকে জিজ্ঞেস করত, “ও আমার প্রাণের আয়না, ও আমার আদরের আয়না, বলতো, এই দুনিয়ায় আমার চেয়ে সুন্দরী আর কেউ আছে কিনা!" আয়না সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিত, “কেউ না কেউ না। কেউ নেই কেউ নেই।"
      যখনই সে সাজগোজ করত, তখন একই প্রশ্ন করত। একই উত্তর পেত। রোজ রোজ একই প্রশ্ন, একই উত্তর। শুনে শুনে তার বিশ্বাস হল,—তার মতো সুন্দরী দুনিয়ায় আর কেউ নেই। নিজের রূপের গর্বে সে হয়ে উঠল ভীষণ হিংসুটে। দেমাকে যেন মাটিতে তার পা পড়ে না। আর হবেই বা না কেন? আয়না যে সে কথাই বলে। আর এ আয়না যে জাদু আয়না।
      দিন কাটে। অনেক দিন কেটে গেল। এমন সময় সেই সুন্দরী মেয়ে একদিন মা হল। তার একটা ফুটফুটে মেয়ে হল। কচি শিশুর রূপ দেখে মা চমকে উঠল। মেয়ের এ কি রূপ? এ যে তার থেকেও সুন্দরী! মায়ের মাথাটা কেমন টলমল করছে।
      শিশু মেয়ে বড় হচ্ছে। পুকুরের ফুল যত ফোটে, দেখতে হয় তত সুন্দর! এ মেয়ে যত বড় হচ্ছে রূপও যেন ফেটে পড়ল। এ কি রূপের বাহার। মা বুঝল, রূপে এ মেয়ে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। তার ওপরে মেয়ের মিষ্টি কথা। দুয়ে মিলে অপরূপ। কিন্তু মেয়ে তার রূপ জানে না, তা নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই, গর্বও নেই। তাকে তাই আরও মিষ্টি লাগে।
      মেয়ের বয়স হল বারো বছর। মা ভয় পেয়ে যাচ্ছে, এই বুঝি তার মেয়ে জেনে ফেলে সে কত সুন্দরী ! মেয়ে যদি জেনে ফেলে?
      একদিন মেয়েকে ডেকে মা বলল, “ওই ঘরে তুমি কখনও ঢুকবে না। কেউ ঢোকে না। তুমিও ঢুকবে না। মনে রাখবে আমার কথাটা " মেয়ে মাথা নাড়ল ।
      এমনি করে আবার দিন বয়ে যায়। মা রোজ রোজ একই প্রশ্ন করে, জাদু আয়না একই উত্তর দেয়। উত্তর শুনে শান্তি পায় মা।
       একদিন মেয়ের খুব কৌতুহল হল। তাকে সবাই ভালোবাসে, সে সব ঘরে যায়, ঘোরে। শুধু ওই ঘর বাদে। কেন? ও ঘরে কি আছে? সে গেলে কি হবে? সে কেন যেতে পারবে না? সে তো কোন খারাপ কাজ করে না কখনও। তবে? এ নিষেধ তার ভালো লাগে না। কৌতুহল বাড়ে।
      মা গিয়েছে নাচের আসরে। বাড়িতে সে একা। সে চাবির গোছা নিয়ে সেই ঘরের কাছে গেল। খুলে ফেলল দরজা। ঘরে ঢুকেই তার খুব আনন্দ হল। কেন এতদিন বাধা দিয়েছে তাকে? কিন্তু ঘরে বিশেষ কিছুই দেখতে পেল না। এমন কিছু নেই যাতে নিষেধ মানতে হবে। সে চাবি দিয়ে দরজা বন্ধ করে ফিরে গেল।
      পরের দিন। মা বেড়াতে গিয়েছে। মেয়ে মনে মনে ভাবল, “আচ্ছা, ওই ঘরে যদি কিছু না-ই থাকবে তাহলে মা কেন নিষেধ করল? কেন আমায় ঘরে ঢুকতে বারণ করল? নিশ্চয়ই কিছু আছে।" এই ভেবে সে আবার ঘরে ঢুকল। চারদিকে তাকাতে লাগল। হঠাৎ দেখতে পেল, একপাশে সুন্দর একটা কাঠের ঝুড়ি রয়েছে। ঝুড়িতে কি সুন্দর লতাপাতা নকশা করা। ঢাকনা খুলেই সে একটা আয়না দেখতে পেল। হাতে তুলে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করে সে আয়না দেখছে। হঠাৎ আয়না মানুষের মতো কথা বলে উঠল। বলল, “ও মেয়ে! তোমার মতো সুন্দরী তো এই দুনিয়ায় আর কেউ নেই।" মেয়ে তাড়াতাড়ি আয়নাকে ঝুড়ির মধ্যে রেখে দিল। দরজা ঠিকমতো বন্ধ করে নিজের ঘরে চলে গেল।
      পরের দিন মা আয়না হাতে সাজগোজ করতে বসেছে। অন্য দিনের মতো মা জিজ্ঞেস করল, “ও আমার প্রাণের আয়না, ও আমার আদরের আয়না, বলতো, এই তোমার চেয়েও একজন সুন্দরী আছে কিনা।’
      জাদু আয়না উত্তর দিল,‘হ্যা, তোমার চেয়েও একজন সুন্দরী আছে। সে অনেক বেশি রূপসী।’
      ঝড়ের বেগে মা ঘর থেকে বেরিয়ে এল। খুব ব্যথা মনে, মুখ শুকনো। সন্দেহ হল, এ ঠিক মেয়ের কাজ। ওই সুন্দরী নিশ্চয়ই তার মেয়ে। রাগে কপাল দপদপ করছে। মেয়ের কাছে গিয়েই ফেটে পড়ল মা, “তুই ঘরে ঢুকেছিলি?
      মেয়ের তো বুক কাঁপছে। বলল, “কই না তো! আমি কখন ঢুকলাম?" 
     মা বলল, “মিথ্যে কথা। তুই ঢুকেছিলি। হাঁ তুই, জাদু আয়না নইলে বলল কি করে আমার চেয়েও সুন্দরী আর একজন আছে। আর তুই-ই শুধু আমার চেয়ে সুন্দরী। আর কেউ নেই। তুই ঢুকিসনি ঘরে?”
      মা শুধু যে মেয়েকে ওই ঘরেই ঢুকতে দেয়নি তা নয়, এত বয়স পর্যন্ত কোনদিন তাকে প্রাসাদের বাইরে যেতে দেয়নি। বাইরের কোন লোক মেয়েকে চেনে না, জানে না, দেখেওনি। কেউ যদি মেয়েকে দেখে বলে, মায়ের চেয়েও সুন্দরী ! তাহলে! মা রাগে-দুঃখে দিশেহারা হয়ে গেল।
      রাতে স্বামীর কয়েকজন বিশ্বাসী সৈন্যকে ডেকে পাঠল মা। তাদের কাছে মেয়ে দিয়ে মা বলল, “এই হতভাগীকে গভীর জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলবে। কেউ যেন না জানে৷”
      সৈন্যরা আর কি করবে। তারা মেয়েকে নিয়ে প্রাসাদের বাইরে এল। সঙ্গে দুটো কুকুর। অাঁধার রাতে কষ্টে তারা পথ চলতে লাগল। শেষকালে পৌঁছল গভীর জঙ্গলে।
       মেয়ে একটি কথাও বলছে না। সৈন্যরা বলল, “কেউ না জানলেও আমরা প্রাসাদ প্রহরীরা জানি তুমি কার মেয়ে। তোমার মা বড় নির্দয়, সে তোমাকে মেরে ফেলতে বলেছে। সে কাজ আমরা কেমন করে করি? তুমি এত ভালো মেয়ে, তুমি এত রূপসী, তেমার কথা এত সুন্দর। আমরা তোমাকে মারতে পারি না। তোমাকে ছেড়ে দিলাম। তুমি বনে বনে ঘুরে বেড়াও। বনের দেবতা তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি ভালো থেকো।”
      সৈন্যদের চোখের পাতা ভিজে এল। মেয়ে বনের পথে হাঁটতে লাগল। বন থেকে বেরুবার আগে সৈন্যরা সঙ্গের কুকুর দুটোকে মেরে ফেলল। তাদের তরবারিতে টাটকা রক্ত লেগে রইল। তারা ফিরে এল প্রাসাদে। মাকে বলল, “আমরা হতভাগী মেয়েটাকে মেরে ফেলেছি। তার দেহের রক্ত লেগে রয়েছে আমাদের অস্ত্ৰে " মা বেজায় খুশি। লাফিয়ে লাফিয়ে সে চলতে লাগল।
      মেয়ে গভীর বনের কিছুই চেনে না। আপন মনে এদিক-ওদিক ঘুরতে লাগল। বড় একা লাগছে, ভয়ও করছে। গা ছমছম করছে। এমন সময় সে একটা সুন্দর ছোট বাড়ি দেখতে পেল। একটাই বাড়ি, আশেপাশে আর নেই। সে দরজার সামনে গেল, দরজায় তালা নেই, ভেজানো রয়েছে। সে ভেতরে ঢুকল, কাউকে দেখতে পেল না। চারিদিকে তাকিয়ে দেখে ঘরটা বড় আগোছালো রয়েছে। কি আর করে। সে ঘর গোছাতে লাগল, সব জিনিস পরিপাটি করে সাজিয়ে রাখল। সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠল। তার পরে একটা খাটের নীচে চুপটি করে লুকিয়ে থাকল। মেয়ে তো জানত না এই বাড়ি আসলে একদল ডাকাতের। ডাকাতেরা দিনের বেলায় নানা দূর দূর জায়গায় ডাকাতি করতে যেত, আর সন্ধেবেলা ফিরে আসত এই ডেরায়। সেদিনও লুটের মালপত্র নিয়ে ডাকাতরা ফিরে এল। ঘরে ঢুকেই সবাই অবাক হয়ে গেল। একি? সবকিছু এমন সাজানো-গোছানো কেমন করে হল? এরকম তো থাকে না? তারা অবাক হয়ে বলল, “কে ঢুকেছিল আমাদের ঘরে? কে-ই বা এমন করে সব গুছিয়ে রাখল?”
      বড় ক্লান্ত তারা। রান্নবান্না করে খেয়ে-দেয়ে তারা শুতে গেল। আর ঘুমিয়ে পড়ল। যেখানে তারা খেয়েছিল সে জায়গা তেমনই রইল, পরিষ্কার করল না। সকাল হতেই তারা বেরিয়ে পড়ল ডাকাতি করতে। এইতো তাদের নিত্য দিনের কাজ।
      ডাকাতের দল চলে যেতেই মেয়ে খাটের তলা থেকে বেরিয়ে এল। ভয়ে তার বুক দুরদুর করছে, খিদেতে মাথা ঘুরছে। নীচের ঘরে এসে সে রান্নবান্না করল আর মনের সুখে খাওয়া-দাওয়া করল। আগের দিনের মতোই ঘর গুছিয়ে রাখল। এটো বাসন-কোসন ধুয়ে রাখল, খাওয়ার জায়গা পরিষ্কার করল। এমনি করে দুপুর গড়িয়ে বিকেল এল। সে রাতের জন্য অনেক কিছু রান্না করে সাজিয়ে রাখল। ডাকাতরা এসে খাবে। সব ঠিকঠাক আছে কিনা ভালোভাবে দেখে নিয়ে অাঁধার হতেই সে আবার লুকিয়ে পড়ল।
      ডাকাতরা ফিরে এল। তাদের আজ খুব আনন্দ । অনেক জিনিস আজ তারা পেয়েছে। ঘরে ঢুকেই তারা অবাক হয়ে গেল। আগের দিনের মতোই সব গোছানো। শুধু কি তাই? তাদের জন্য রান্না-করা খাবার সাজিয়ে রাখা হয়েছে। আর কি পরিপাটি করে। তারা বলল, “কে এমন করে সবকিছু গুছিয়ে রাখছে?”
      বেশি কথা বলার সময় নেই। ক্লান্তি আর খিদে। তারা খেতে বসে গেল। এই ডেরায় আসার পরে কেউ কোনদিন তাদের জন্য এমন করে খাবার তৈরি করে রাখেনি। খাওয়া শেষ হলে তাঁরা খোঁজাখুঁজি করতে লাগল। অনেকক্ষণ ধরে খুঁজল। কিন্তু কাউকেই দেখতে পেল না। নাঃ, কেউ কোথাও নেই।
      পরের দিন সকালে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে ইচ্ছে করেই সবকিছু আরও বেশি করে অগোছালো করে রাখল। দেখাই যাক না কি হয়।
      তারা চলে যেতেই মেয়ে আবার বেরিয়ে এল লুকোনো জায়গা থেকে। হায় কপাল। ডাকাতগুলো যে কি অগোছালো মানুষ। আহা! ওদের কেউ নেই যে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখবে। মেয়ে সব ঠিকঠাক করে রাখল। ভালো ভালো রান্না করল। নিজে খেল। ওদের জন্য গুছিয়ে রাখল। সকালবেলার সে ঘরবাড়ি এখন আর চেনাই যাচ্ছে না। ঘন উঁচু গাছের ওপারে সূর্য ডুবে যেতেই মেয়ে আবার লুকিয়ে পড়ল। বড় ভয় করে যে। আঁধার হতেই ফিরে এল ডাকাতরা। নাঃ, সেই একইরকম সাজানো-গোছানো, তাদের জন্য রান্না করা। অবাক কাণ্ড। তারা বলল, ‘রোজরোজ কে এমন করছে? এত গুছিয়ে রাখছে কে? যদি সে মেয়ে হয়, তাহলে সে হবে আমাদের বোনের মতো। বোন ভাইয়ের সবকিছু দেখাশোনা করবে, বাড়ি আগলাবে। আমরা প্রাণ দিয়ে তাকে ভালোবাসব। তার গায়ে আঁচড় পড়তে দেব না। আমাদের মধ্যে কেউ তাকে বিয়ে করতে চাইবে না—সে যে আমাদের আদরের বোন। আর যদি সে ছেলে হয় তবে তাকেও আমাদের ডাকাতদলে ডুকে পড়তে হবে, ছাড়াছাড়ি নেই। সেও হবে ডাকাত। পরের দিন খুব ভোরবেলা ডাকাতরা বেরিয়ে পড়ল। কিন্তু আজ তারা ভুল করল না। তাদের মধ্যে একজনকে রেখে গেল। সে বাড়ির পাশে এক ঝোপে লুকিয়ে রইল। আজ ধরতেই হবে, রোজ রোজ কে তাদের ঘরদের এমন গুছিয়ে রাখে। যে তাদের এমন উপকার করছে তাকে দেখা দরকার, তাকে জানা দরকার।
      মেয়ে তো আর জানে না তাকে ধরবার জন্য কেউ লুকিয়ে রয়েছে। তাই সে লুকোনো জায়গা থেকে বেরিয়ে কাজকর্ম করতে শুরু করল। সবকিছু গুছিয়ে রেখে রান্না চাপিয়ে একটু বাইরে এসে দাঁড়াল। কেউ তো নেই। তাকে তো কেউ দেখছে না। বাড়ি তো ফাঁকা। মেয়েকে দেখতে পেয়েই ঝোপ থেকে বেরিয়ে এল সেই লুকিয়ে থাকা ডাকাত। ডাকাতকে দেখতে পেয়েই ভয়ে দৌড় দিল সেই মেয়ে। তাকে ছুটতে দেখে ডাকাত চিৎকার করে বলল, ‘ভয় পাচ্ছ কেন? কোথায় যাচ্ছ তুমি? ভয় পাওয়ার কি আছে? তুমি তো কোন খারাপ কাজ করনি। বরং আমাদের কতই না উপকার করেছ। তুমি যে কি ভালো মেয়ে। পালিয়ে যেয়ো না, কাছে এসো।
      দূরে দাঁড়িয়ে থেকে মেয়ে বলল, 'ভীষণ ভয় করছে। তোমরা কি আমাকে মেরে ফেলবে?
     ডাকাত বলল, সে কি? ও কথা মুখেও এনো না। তুমি যে আমাদের বোন। কি সুন্দর তোমাকে দেখতে। তেমনি তুমি ভালো। কিন্তু, তুমি এই গভীর বনে এলে কেমন করে? তুমি কে? কাদের মেয়ে?
      মেয়ে আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে ডাকাতের কাছে এল। বলল, ঘরের অনেক কাজ বাকি। তোমাদের জন্য রান্নাবান্নাও হয়নি। আগে সব শেষ করি, পরে সব বলব ?
       ডাকাত অবাক হল। এমন বোন হয়? তাদের ভাগ্য। মেয়ে সব কাজ শেষ করল।
     রান্না করে দুজনে খেল। অন্যদের জন্য গুছিয়ে রাখল। তারপরে বসল গল্প করতে। সব কথা তাকে খুলে বলল। মায়ের কথা, সৈন্যদের কথা, লুকিয়ে থাকার কথা।
      সন্ধ্যা হয়ে আসছে। এখনও তেমন অন্ধকার হয়নি। বাইরের উঠোনে দুজন গল্প করছে। এমন সময় ডাকতরা ফিরে এল। আজ তারা বেশ তাড়াতাড়ি ফিরে এসেছে। বাড়িতে কি হল জানার জন্য সবাই ব্যস্ত। দেখে, দুজনে বসে আপনমনে গল্প করছে।
      কাছে এসে তারা বলল, তাহলে খুঁজে পেয়েছ? 
     ডাকাতটি মাথা নেড়ে শুধু বলল, ‘হ্যাঁ। 
    ডাকাতরা বলল, 'আঃ কি সুন্দর মেয়ে। আমাদের আদরের বোন। কোন ভয় নেই তোমার। আমরা প্রাণ দিয়ে তোমাকে আগলে রাখব। আজ থেকে তুমি আমাদের বোন হলে। আদরের বোন।
     ঘরে এসে তারা বোনকে সবকিছু বুঝিয়ে দিল। সব জিনিসের ভার দিল তার ওপরে। সব কিছু সেই দেখাশোনা করবে। এমন বিশ্বাসী আর কে আছে? তাদের বোন যে এই মেয়ে। তারা ডাকাতি করে সব এনে দেয় বোনকে। বোন তাদের দেখাশোনা করে। এমনি করে সুখে দিন কেটে যেতে লাগল।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য