চুরি করার উপায়

     একদিন রাত্রে একটি ঘোড়াচোর এক গৃহস্থের বাড়িতে ঘোড়া চুরি করতে এসে ঘোড়াশালায় ঢোকামাত্র সহিস এসে ধরে ফেলল তাকে। সারারাত চোরটিকে বেঁধে রেখে সকালে মনিব ওঠামাত্র চোরটিকে সামনে হাজির করল সহিসটি।
     মনিব শুনে চোরটিকে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি আজই প্রথম, না এর আগেও কোনওদিন চুরি করেছ? যদি সত্যি কথা বলো, তাহলে ছেড়ে দেব তোমাকে, নাহলে কিন্তু কোতোয়ালের হাতে তুলে দেব।
     চোর বিনয় সহকারে বলল,‘চুরিই আমার জীবিকা হুজুর। ছেলেবেলা থেকেই চুরি করছি। কতবার চুরি করেছি তার সংখ্যাও আর মনে নেই হুজুর। তবে চুরি আমি অনেক করেছি।
     মনিব বললেন, ‘তুমি শুধু ঘোড়া চুরি করো, না অন্য জিনিসও চুরি করার অভ্যেস আছে?
     চোর বলল,‘চোরে কি অত বাঝবিচার করলে চলে হুজুর? তবে ঘোড়া চুরিতেই আমি বেশ পাকা। তাছাড়া যখন যা পাই চুরি পরি।
     এ পর্যন্ত কত ঘোড়া ঢুরি করেছ তুমি? 
     ‘পঁচাত্তরটি? 
     ‘কখনও ধরা পড়েছ।’ 
     ‘না হুজুর। এবারই প্রথম ধরা পড়লাম আপনাদের হাতে।'
     মনিব বললেন, যদি আমার কাছে প্রতিজ্ঞা করো, আর কোনওদিন কোনও চুরি করবে না, তাহলে তোমাকে ছেড়ে দিতে পারি আমি।
     চোর বলল, আপনি হুজুর আগে কথা দিয়েছিলেন আমি সত্যি কথা বললেই আমাকে ছেড়ে দেবেন। আমি তাই আপনার কাছে সত্যি কথাই বলেছি, মিথ্যে একেবারেই বলিনি। কিন্তু এখন বলছেন, আর চুরি করব না বলে প্রতিজ্ঞা করলে ছাড়বেন। এতে কি আপনি সত্য থেকে পতিত হচ্ছেন না? আর আমি চুরি ছাড়লে খাবই বা কী? আমার কিছুই নেই।’
     মনিব বললেন, কিন্তু তোমার এই প্রতিজ্ঞা করতে আপত্তি কীসের? তোমার দেখাসাক্ষাৎ আর তো আমি পাব না।’
     চোর বলল, ‘চোর হলেও আমি কথার খেলাপ করতে পারব না হুজু ; খোদাতালা তাতে চটে যান। সেই ছেলেবেলা থেকে চুরি করছি, ওটাই এখন স্বভাবে দাঁড়িয়ে গেছে। মরার আগে পর্যন্ত সেই স্বভাব আমি ত্যাগ করার কথা বলতে যাব কেন? এতে আপনার যা অভিরুচি তাই করুন।’ .
      কৌতুহল হচ্ছে তুমি কীভাবে চুরি করো। তোমার কৌশলটা কী বলো তো? তোমার কৌশলটা জানতে আমার খুব ইচ্ছে করছে।’
     চোরটি সশ্রদ্ধ ভাবে বলল, আপনার যখন এতই কৌতুহল মালিক, কৌশলটা তাহলে আপনাকে দেখিয়েই দিচ্ছি। আপনি মনোযোগ দিয়ে দেখুন।
     এই বলে সোজা ঘোড়াশালার দিকে এগিয়ে গেল চোরটি। সবচেয়ে ভাল ঘোড়াটি বেছে বের করে আনল বাইরে। কারণ ঘোড়া সম্বন্ধে তার খুব জ্ঞান আছে। তারপর বলল, ‘এবার কৌশলটা দেখুন হুজুর। ঘোড়াশালা থেকে ভাল দেখে এইভাবে ঘোড়াটিকে নিঃশব্দে বের করে আনি। তারপর সেটার পিঠে এইভাবে চেপে বসি। বসে, এইভাবে ঘোড়ার পেটে একটা গোত্তা মেরে ঘোড়াটি নিয়ে ছুটে বেরিয়ে যাই। যে ঘোড়াটি সবচেয়ে ভাল, ভাল পয়সা পাওয়া যাবে এমন ঘোড়া।”
     ঘোড়ার পেটে গোত্তা মারতেই ঘোড়াটা তীরের বেগে ছুটে বেরিয়ে গেল। যেতে যেতেই চোরটি একবার ফিরে তাকিয়ে চিৎকার করে বলল,‘কীভাবে ঘোড়া চুরি করি, নিজের চোখেই দেখছেন তো হুজুর। চলি! আবার দেখা হবে।’
     সারাদিনের ভেতর চোরটি আর ঘোড়া নিয়ে ফিরে এল না। সহিস ও কর্মচারীদের পাঠালেন চোরের খোঁজে। অনেক অনুসন্ধান করেও আর পাত্তা পাওয়া গেল না ঘোড়া ও এবং ঘোড়াচোরের।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য