পুণ্যাত্মা পাখি

    বীরবল কেবল বাদশাকেই নানা বিপদ থেকে উদ্ধার করতেন না। যে কেউ বিপদে পড়লে বীরবলের কাছে ছুটে আসত।
    একদিন আকবরের সভাসদদের একজন প্রায় কাঁদো-কাঁদো হয়ে বীরবলের কাছে এসে বললেন, ‘বীরবল, আমায় এ যাত্রা বাঁচাও। একমাত্র তুমিই আমায় বাঁচাতে পারো।’
    বীরবল বললেন, কী হয়েছে সব খুলে বলো।’
    আজ থেকে প্রায় মাসখানেক আগে সম্রাট আকবর আমাকে একটি তোতাপাখি দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোমার ওপর ভার দিলাম পাখিটার দেখাশুনা করার, মনে রেখো পাখিটা খুব ভাল জাতের। কিন্তু যে এসে আমায় খবর দেবে যে পাখিটা বেঁচে নেই আমি তাকে শূলে দেব।’ আমি একমাস সাধ্যমতো পাখিটার সেবা যত্ন করেছি, কিন্তু গতকাল পাখিটা মারা গেছে।’
    বীরবল বললেন, এই সামান্য ব্যাপার। তুমি কোনও চিন্তা কোরো না। খবরটা আমিই বাদশাকে দেব অথচ আমায় শূলে চড়তে হবে না।’
    তারপর বীরবল বাদশার কাছে এসে বললেন, ‘হুজুর, মনে আছে আপনি এক সভাসদকে একটা তোতাপাখি দিয়েছিলেন। পাখিটা সত্যিই পুণ্যাত্মা। আমি আজ ওকে দেখতে গিয়েছিলাম, দেখি পাখিটা আকাশের দিকে মুখ তুলে, চোখ বুজে ধ্যান করছে।’
    কথাটা শুনে বাদশা খুব অবাক হলেন। তিনি তখনই বীরবলকে নিয়ে পাখিটা দেখতে গেলেন।
   পাখিটা দেখে বাদশা বুঝতে পারলেন যে ও মারা গেছে।
    তিনি বীরবলকে বললেন,‘তুমি ভাল করেই জানো যে পাখিটা মারা গেছে, তবু আমার সঙ্গে রসিকতা করছিলে!”
    বীরবল বললেন, ‘হুজুর, তা আমি জানতাম বটে, কিন্তু আমি তো শূলে চড়তে চাইনি।’
   আকবার এবার বুঝলেন সেই সভাসদকে কী বলেছিলেন। তিনি খুশি হয়ে বীরবলকে বললেন, শাবাশ বীরবল, তুমি অন্য একজনের মাথাও বঁচিয়েছ আর আমাকেও একটা ভুলের হাত থেকে রেহাই দিয়েছ।’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য