আলো-ছায়া

    বাদশা আকবর বীরবলকে খুবই ভালবাসতেন আর তাই আশকারা পেয়ে বীরবল মাঝে মাঝে এমন এক-একটা কাজ করে বসতেন যাতে বাদশার মান-সম্মান একেবারে ধুলোয় মিশে যেত। এর ফলে সেইরকম অবস্থায় বাদশা তাকে প্রাসাদ থেকে তাড়িয়ে দিতেন এবং আদেশ দিতেন তাকে যেন প্রাসাদে ঢুকতে দেওয়া না হয়।
    এমনি একটি ঘটনার পর বাদশা বীরবলকে তাড়িয়ে দিলেন। বীরবলও মনের দুঃখে সেবার লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গেলেন।

    কয়েকদিন পরেই বীরবলের খোঁজ করলেন বাদশা, কিন্তুু কেউ বীরবলের খোঁজ দিতে পারল না। কেউ তাকে রাজধানীতে দেখেনি। বাদশা তার পাত্ৰ-মিত্র এবং রাজপ্রতিনিধিদের বললেন, বীরবলকে যে করেই হোক খুঁজে আনতে।
কোনও খবরই যখন পাওয়া গেল না তখন বাদশা বুদ্ধি করে এমন এক আদেশ প্রচার করলেন যে, রাজ্যের সব লোক থরহরি কম্পমান। আদেশটি হল— দশদিনের মধ্যে রাজ্যের সকল লোককে আলো-ছায়ার মধ্যে এসে বাদশার সঙ্গে দেখা করতে হবে। যে দেখা করবে না তার হবে শাস্তি, আর যে দেখা করবে সে পাবে পুরস্কার।
    রাজ্যের কেউ বাদশার এই আদেশ পালন করতে এগিয়ে এল না। এদিকে দশদিন উত্তীর্ণপ্রায়। কেউই বুঝতেই পারছে না বাদশা কী বলতে চাইছেন।
    বাদশাও চিন্তিত হয়ে পড়লেন। বাদশার আদেশের নড়চড় হওয়ার নয়। কথায় বলে হাকিম নড়ে তো হুকুম নড়ে না। দশদিনের মধ্যে কেউ না এলে তিনি রাজ্যের সমস্ত লোককে কি শাস্তি দেবেন। তা কি দেওয়া সম্ভব আর দিলে তো বাদশার এমন সুনাম আর মানসম্মানের কিছুই থাকবে না।
    এমনি সময় দেখা গেল কয়েকজন লোক খাটিয়া মাথায় করে প্রাসাদের দিকে আসছে। তারা এসে উপস্থিত হল সভাগৃহে, খাটিয়ার আলো-ছায়ায়।
    এই দৃশ্য দেখে বাদশার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি বুঝলেন এ বুদ্ধি বীরবলের ছাড়া আর কারও নয়। এবার বীরবলের নিশ্চয়ই সন্ধান পাওয়া যাবে।
    বাদশা বললেন, ‘তোমাদের এ বুদ্ধি কে দিয়েছে, সত্যি করে বলো তো।’
    তাদের মধ্যে একজন হাতজোড় করে বলল, ‘জাঁহাপনা, এ বুদ্ধি বীরবলই আমাদের দিয়েছেন।’
তখন বাদশা তাদের পুরস্কৃত করলেন ও মন্ত্রীকে আদেশ দিলেন এদের সঙ্গে গিয়ে বীরবলকে যেন তার সামনে নিয়ে আসার জন্য।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য