হরিণ কত ভয়ঙ্কর-- ময়ুখ চৌধুরী

     স্বভাব চরিত্রের দিক দিয়ে হরিণ নিতান্তই নিরীহ, ভীতসন্ত্রস্ত প্রাণী। অরণ্যে, শিং, দাঁত এবং নখের রাজত্বে, আত্মরক্ষার প্রয়োজনে এই প্রাণীটির সম্বল শুধুই গতি, সুতরাং পালিয়ে বাঁচা ছাড়া নিজেকে রক্ষা করার দ্বিতীয় কোন অস্ত্র হরিণের একরকম নেই বললেই চলে কিন্তু এগুলো হল সাধারণ নিয়মের কথা! শহরের বুকে চিড়িয়াখানার আবদ্ধ গণ্ডি পেরিয়ে অরণ্য সাম্রাজ্যের মুক্ত পটভূমিতে যেখানে নিয়মের রাজত্বে মাঝে মাঝেই ব্যতিক্রমের দেখা মেলে, সেখানে আমাদের পূর্বোক্ত কথাগুলো হয়ত বহুক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য নয়। নীচে আমি সেরকম দুটি ঘটনার বিবরণী পেশ করলাম। লক্ষ্যণীয় বিষয়, উক্ত কাহিনীকারদের ধারণা সঙ্গে আমাদের প্রাথমিক ধারণা এবং অভিমত সম্পূর্ণ পৃথক—
     জীবতত্ত্বের একটি সাধারণ কথা এইখানে জানিয়ে রাখা উচিত, নচেৎ প্রতিশব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। ডিয়ার এবং অ্যান্টিলোপ, এই দুইটি প্রজাতির ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশব্দের প্রচলন বাংলা ভাষায় নেই, ফলে উভয় ক্ষেত্রেই হরিণ কথাটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অ্যান্টিলোপ' এবং হরিণের মূল আকৃতিগত পার্থক্য তাদের শিং-এ। হরিণের শিং ডালপালা ছড়ানো গাছের মত, ইংরাজীতে বলে ‘এ্যান্টলার।
     অ্যান্টিলোপের শিং অপেক্ষাকৃত সোজা, ধারাল, ডালপালাহীন, ইংরাজী প্রতিশব্দ হৰ্ণ। অধিকন্তু, হরিণের শিং খসে পড়ে এবং পুনরায় নির্গত হয়, অ্যান্টিলোপের শিং একবারই ওঠে, খসে না। কাহিনী পড়বার সময় এই  ক’টি কথা মনে রাখতে হবে।

চীন মুলুকের শয়তান

     না, বই পড়ে শিকার হয় না। বই পড়া আর শিকার করা দুটো পুরোপুরি আলাদা ব্যাপার। ‘ইয়াংজে’ নদীর তীরবর্তী উপত্যকায় একটা ‘সেরাও’ অ্যান্টিলোপ শিকার করতে গিয়ে শ্বেতাঙ্গ শিকারী ক্রিশ্চিয়ান কোহল যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন তারই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ঐ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি সেই ভয়বহ অভিজ্ঞাতার যে বিবরণ পেশ করেছিলেন, নীচে তার কিছু অংশ তুলে দিলাম---
     ইয়াংজে নদীর তীরেই আমি প্রথম সেরাও দেখলাম। তার আগে চিড়িয়াখানাতেও কোনদিন ঐ দুর্লভ প্রাণীটিকে চাক্ষুষ দেখবার সৌভাগ্য হয়নি। শিকারের নেশা আমাকে পেয়ে বসবার আগে ঐ বিষয়ে যাবতীয় বই নিয়ে আমি বিস্তর পড়াশুনা করেছিলাম এবং প্রাণীবিষয়ক আমার সেই পুস্তকলব্ধ জ্ঞানের তালিকায় ‘সেরাও' নামক বিশেষ শ্রেণীর অ্যান্টিলোপটিও বাদ পড়েনি। ফলে এই ঘটনার আগে কোনদিন সেরাও না দেখলেও, প্রাণীটির আকৃতি, প্রকৃতি, সম্বন্ধে আমার কোন ধারণা ছিল না। প্রথমতঃ, ঐ প্রাণীটির ভয়ংকর স্বভাব চরিত্র এবং দ্বিতীয়তঃ, সাঁতারে তার অসাধারণ দক্ষতার কোন উল্লেখ বইয়ে ছিল না। আর এই দুটি অস্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কোন ধারণা না থাকার ফলে হয়েছিল প্রাণঘাতী, মর্মান্তিক।"
     “ন্‌’ গেই লা-ৎজে"। আক্ষরিক অর্থে পাহাড় গাধা ! এই হল সেরাও অ্যান্টিলোপের চীনে নাম। জন্তুটির প্রধান চারণক্ষেত্র পূর্ব হিমালয়র সুউচ্চ শিখরদেশে। প্রায়শঃই দশ হাজার ফুট অথবা তারচেয়ে উচ্চতায়। ভয়ংকর গিরিখাত ও তুষারটালের বুকে এরা স্বচ্ছন্দ দ্রুততায় ঘুরে বেড়ায়, সমতল উপত্যকার বহু বিপদের সীমানা এড়িয়ে।
     মহাযুদ্ধের কিছু আগে। চীনের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ইয়ুনান প্রদেশের কুনমিঙ অঞ্চলে আমাদের কাহিনীকার মিঃ ক্রিশ্চিয়ান কোহল ব্যবসার প্রয়োজনে ঘুরছিলেন। শিকার ছিল কোহলের সবচেয়ে প্রিয় নেশা। ফলে ব্যবসার কাজে ঘুরলেও চীন দেশের উক্ত অঞ্চলে, ব্যাপক অংশ জুড়ে তিনি বহু দুপ্রাপ্য জাতের ছাগল এবং হরিণ ঐ সময়ে শিকার করেছিলেন। আমরা যে সময়ের কথা বলছি তখন কোহল একটি ‘সেরাও শিকারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন পূর্ব-হিমালয়ের দুরারোহ শিখরে শিখরে। কিন্তু আশ্চর্য পর্বত চূড়ায় সেরাও এর দেখা মিলল না, দেখা পেলেন অদ্ভুতভাবে ইয়াংজে নদীর তীরবর্তী সমতল উপত্যকার বুকে । বিচিত্র এই অনুসন্ধানের ইতিহাস–
স্থানীয় গাইড বা পথপ্রদর্শক চেন'-কে সঙ্গে মিয়ে শেতাঙ্গ ক্রিশ্চিয়ান কোহল দিনের পর দিন অক্লান্ত পরিশ্রমে কুনমিঙ এর সন্নিহিত পর্বত শিখরগুলির সুউচ্চ চূড়ায় ঘোরাঘুরি করেছিলেন । হাল্কা বাতাসে শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণাদায়ক উপসর্গকে অগ্রাহ্য করেও তারা ঐ দুর্লভ প্রাণীটিকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। চেন-এর প্রচেষ্টা ছিল প্ৰসংশনীয়। কিন্তু ভাগ্য মন্দ।
জন্তুগুলোর পুরের ছাপ মিললেও, চাক্ষুষ দর্শন মিলল না।
একটি দিনের কথা । শ্বেতাঙ্গ কোহল এবং চেম উভয়ে দুটি পর্বতশিখরের মধ্যবর্তী কয়েকশ ফুট গভীর সঙ্কীর্ণ গিরিখাতের পাশে কাজে ব্যাপৃত ছিলেন । হঠাৎ শিষের মত তীক্ষ্ণ এক নাসিক্যধ্বনি কোহলের কানে এল, এবং সঙ্গে সঙ্গে একটা পাথর আলগা হয়ে মাথার উপর থেকে গড়িয়ে পড়ে অদৃশ্য হল গিরিখাতের অতলে। এক জীবন্ত ছায়ামূর্তি উপরের একটি গিরিশিখর থেকে অন্য পর্বতচূড়ায় লাফ দিয়ে চলে গেল ।
“লাই-ৎজে"। চেন-এর কণ্ঠস্বর উত্তেজিত । কিন্তু ঐ পর্যন্তই। এরপর প্রায় চৌদ্দদিন ধরে বহু খোজাখুজির পরও সেরাও এর দেখা পাওয়াতো দূরের কথা, কোন হদিশই পেলেন না তারা । পরিশেষে হাল ছেড়ে দিলেন কোহল । সেরাও খোঁজায় ইস্তফা দিয়ে সমতলভূমিতে নেমে আসাই সমীচীন মনে হল তার।
কুনমিঙে ফেরার পথে হোয়াইলি নামক একটি স্থানে রাত কাটাতে হল কোহলকে । চেন-এর জনৈক আত্মীয় ছিল স্থানীয় অধিবাসী । হোয়াইলি অঞ্চলের অনতিদূরে বয়ে চলেছে পীত রঙের ইয়াংজে নদী । সেই ইয়াংজের তীরবর্তী অঞ্চলেই উক্ত আত্মীয়টির বাসস্থান। কোহলের অনুমতি নিয়ে সে রাত্রেই চেন তার সঙ্গে দেখা করতে গেল ।
পরদিন ভোরে সে যখন ফিরে এল, তখন সে উত্তেজনায় ফেটে পড়ছে । তার দীর্ঘ বক্তব্যে সারমর্ম হিসাবে কোহল বুঝলেন যে, ইয়াংজের নদীর পার্শ্ববর্তী উপত্যকায় প্রায়শঃই একটা সেরাও এর আবির্ভাব ঘটে বলে চেন-এর আত্মীয়টি তাকে জানিয়েছে । প্রায়দিনই সে নাকি ক্ষেতে কাজ করতে করতে জন্তুটাকে দেখতে পায় । খাবার লোভে জন্তুটা রাত্রে নদী পার হয়ে এপাড়ে আসে এবং সারারাত ধরে ভোঝনপর্ব সমাধা করে ভোর হওার সঙ্গে সঙ্গে সাঁতরে নদী পার হয়ে অপর পাড়ে পাহাড়ের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যায়।
চেন-এর কথায় বেশ একটু চমকে গেলেন কোহল। কারণ, দশ হাজার ফুটের নিরাপদ উচ্চতা ছেড়ে হঠাৎ কি কারণে একটা সেরাও সমতলভূমির বুকে অবতীর্ণ হতে পারে, সেটা তার মাথায় ঢুকছিল না। কিন্তু কোহলের মনে সন্দেহ থাকলেও, কেন তার বিশ্বাসে অটল । শেষ পর্যন্ত সে তার আত্মীয়টিকে সঙ্গে করে নিয়ে এল । সম্পর্কে সে হল চেন-এর এক নিকট সম্পর্কের ভাই । -
সাহেব এবং তার ভাই-এর কথোপকথনের মধ্যে চেন দোভাষীর ভূমিকা নিল। কোহল তাকে জন্তুষ্টার বর্ণনা দিতে অনুরোধ করলে সে যা বলল, তার ফলে আর কোন সন্দেহ থাকার কারণ ছিল না । চেন-এর ভাইয়ের বর্ণনা অনুসারে প্রাণীটা বেঁটে কিন্তু বলিষ্ঠ গড়নের, ছাগলের আকৃতি বিশিষ্ট। ওজনে হবে প্রায় দুশ পাউণ্ড। গায়ের চামড়া লাল রঙের-রোমশ । ছোট ছোট দুটি শিং সোজা এবং ধারালো । কিন্তু সবচেয়ে আশ্চর্য জন্তুটার কান দুটে । খাড়া ছুচোলে—একদম গাধার মত ; কোহলের পক্ষে এই বর্ণনা যথেষ্টরও বেশী । নাঃ- চেন-এর ধারণা অত্রাস্ত; ঐ গাধার কানওয়ালা মাথাটিই স্মারক চিহ্ন হিসাবে কোহলের প্রয়োজন। এই প্রাণীটার খোজেই এতদিন ধরে পাহাড়ে পাহাড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা ।

চেন-এর ভাই কোহলকে আরও জানাল যে, নদীর অপর পাড়ে জন্তুটার যাতায়াতের পথে একট গর্তের ফাদ কেটে সে ওটাকে ধরার চেষ্টা করেছিল । গর্তের মুখ নমনীয় গাছের ডাল এবং পাতা প্রভৃতি দিয়ে এমনভাবে ঢাকা ছিল যার ফলে কোনমতেই ফাঁদের হদিশ পাওয়ার কথা নয়, কিন্তু আশ্চর্য অনুভূতি বলে হরিণটা আজও নাকি গর্তটাকে এড়িয়ে চলাফেরা করে চলেছে ।
কথাবার্তা শেষ হলে কোহল আত্মীয়টির কাছে একটা প্রস্তাব রাখলেন । হরিণটাকে মারলে কেবলমাত্র মাথাটিই তিনি নেবেন, বাকী দেহাংশ হবে ঐ জাতীয়টির প্রাপ্য। উত্তম প্রস্তাব । গৰ্বরাজী হওয়ার মত কিছু দেখতে পেল না চেন-এর ভাই । সে তৎক্ষণাৎ রাজী হয়ে গেল ।
পরদিন সকালে অকুস্থলে পৌছে ক্রিশ্চিয়ান কোহল এবং চেন উভয়েই সাম্পানে চড়ে নদী পার হলেন । সাম্পান চীনদেশের একধরনের নৌকা। অপর পাড়ে অবতীর্ণ হয়ে সামান্য অনুসন্ধানেই নজরে পড়ল সেরাওটার যাতায়াতের পথ। মসৃণতা দেখে বোঝা যায় যে পথটি বহুব্যবহৃত । প্রায় শ-খানেক গজ এগিয়ে গিয়ে ফাদটাও আবিষ্কার করলেন তারা দুজন । ছড়ানো-ছিটানো গাছের ফঁাকে ফঁাকে চলে যাওয়া পথের উপর লতাপাতা দিয়ে ঢেকে রাখা একটি গর্ত।
দুজনেই ঠিক করলেন যে, পরদিন প্রত্যুষে নদীর যে পাড়ে হরিণটা খাদ্য সংগ্রহের জন্য আসে অর্থাৎ চেন-এর আত্মীয় যে পাড়ে বাস করে; সেই থানেই তারা জন্তুটার জন্য অপেক্ষা করবেন। সমতলভূমির উপর হরিণ শিকার অবশ্যই কোন রোমাঞ্চকর ঘটনা নয়; কিন্তু সেরাও এর সন্ধানে কোহল যে পরিমাণ নাজেহাল হয়েছিলেন, তাতেই সে আপশোযটুকু পুষিয়ে গিয়েছিল।
পরদিন তোর...... ইয়াংজের পীতরঙের জলে সুর্যোদয়ের লাল আলো তখনও বিচিত্র বর্ণচ্ছটার সৃষ্টি করে নি। নদীর পাড়ে একটা পাতাঝোপের আড়ালে আশ্রয় নিলেন কোহুল এবং তার সঙ্গী । ধীরে ধীরে সময় কাটতে লাগল। ক্রমে কেটে গেল সুদীর্ঘ কয়েকটি ঘন্টা। শিকারীদের সতর্কত এবং মানসিক চাপেও ঢিলে পড়তে লাগল। কোহলের তো বেশ একটু গা ছাড়া দেবার ভাব এসে গিয়েছিল। এমন সময় অল্প দূরে গাছ পালার সঙ্গে কোন সচল বস্তুর ঘর্ষণের খসখস্ শব্দ কানে ভেসে এল, তারপরই শিকারীদের উন্মুক্ত দৃষ্টিপথে নদীর তীরবর্তী জমির উপর আবির্ভূত হল একটা বেশ বড়সড় সেরাও। অদ্ভুত আকৃতির মাথাটা উপর নীচে করতে করতে সে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছিল মদীর দিকে ।
বিগত ঘণ্টাকয়েকের নিষ্ক্রিয়তা কোহলের মধ্যে সাময়িক আলস্য এনে দিয়ে ছিল, ফলে বন্দুকের লক্ষ্য স্থির করতে যে সময়টুকু গেল তার মধ্যে হরিণটা সচকিত হয়ে এক বিরাট লাফে প্রায় পনেরো ফুটের মত জমি পেরিয়ে নদীর জলে গিয়ে পড়ল। স্বাভাবিক কারণেই শিকারীর গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হল । নদীৰক্ষে অর্ধনিমজ্জিত জন্তুটার মাথার অল্প দূর দিয়ে কোস্থলের বুলেট জল ছিটকে বেরিয়ে গেল । লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেন ঠিকই, কিন্তু সেই সঙ্গে নিজের ভাগ্যকেও ধন্যবাদ দিলেন কোহল । আরেকটু হলেই সর্বনাশ হয়েছিল আর কি!
যে স্মৃতিচিহ্নর জন্য এত পরিশ্রম, সেই মাথাটাই তিনি অল্পের জন্য গুড়িয়ে দিতে বসেছিলেন । সে যাই হোক, তখনকার মত আর গুলি করার সুযোগ পেলেন না কোহল । একমাত্র উপায় নৌকায় চড়ে জন্তুটার পশ্চাদ্ধাবন করা।
“সাম্পান ।” আড়াল ছেড়ে লাফিয়ে উঠে কোহল ছুটলেন নদীর দিকে। মুহূর্তমাত্র দেরী না করে নৌকা খুলে দুইজনেই তাড় করলেন জন্তুটার পিছনে। কিন্তু চেন নৌকার গতি বৃদ্ধি করতে সর্বশক্তি নিয়োজিত করলেও খানিকক্ষণের মধ্যেই কোহল বুঝতে পারলেন যে, এইভাষে সেরাওটার নাগাল পাওয়া অসম্ভব, কারণ অসাধারণ দৈহিক পটুতায় সে ক্রমেই নৌকার সঙ্গে আর নিজের ব্যবধান বাড়িয়ে চলেছে। সেরাও যখন অপর পাড়ে প্রায় পৌছে গেছে, , কোহলের সাম্পান তখন তার দুশ ফুট পিছনে। বাধ্য হয়েই কোহল তার মত পাল্টালেন।
তিনি ঠিক করলেন যে, হরিণটা নদীর পাড়ে উঠলেই গুলি করবেন।
কোহল বন্দুক নিয়ে প্রস্তুত হলেন, কিন্তু হরিণ জমির উপর উঠল না। হঠাৎ ঘুরে সাতার কেটে এগিয়ে এল নৌকার দিকে। জন্তুটার অকস্মাৎ মতি পরিবর্তনের কারণ কোহল তখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেন নি, যদিও চেন তৎক্ষণাৎ সাম্পানটার গতিপথ পরিবর্তন করার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করতে লাগল । চেন এর প্রচেষ্টা আংশিক সফল হলেও লাভ বলতে তেমন কিছু হল না, নিজস্ব ভরবেগের ধাক্কায় নৌকা এগিয়ে গেল নিকটবর্তী নদীর পাড়ের দিকে। দ্রুতগতিতে জল কেটে নৌকার নিকটবর্তী হল ছাগলের মত আকৃতি বিশিষ্ট জন্তুটা, শুধুমাত্র তার অদ্ভুত মাথা এবং দেহের উপরিভাগের কিছু অংশ জলের উপরে দৃশ্যমান। কোহলের যথেষ্ট সুযোগ ছিল গুলি করার, কিন্তু মৃতদেহটা গভীর নদীগর্ভে তলিয়ে যাবে এই আশঙ্কায় তিনি বিরত হলেন । সেরাওটা ততক্ষণে নৌকার একদম পাশে এসে পড়েছে। জন্তুটার গতিবিধি কোহলের ভাল ঠেকছিল না, বন্দুকের কুদোর সাহায্যে জন্তুটাকে নৌকার পাশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সচেষ্ট হলেন ।
এমন সময় ঘটল সেই অঘটন। কোহলের হস্তদূত বলুকের বাট সেরাওয়ের দেহ স্পর্শ করার আগেই হতচ্ছাড়া জানোয়ারটা অকস্মাৎ সামনের পা-দুটাে জলের উপরে তুলে চকিতের মধ্যে একজোড়া ভারী হাতুড়ির মত প্রচন্ড জোরে আঘাত হানল সাম্পানটার এক পাশে । পরমুহুর্তে, উল্টে যাওয়া নৌকার পাশে জলের উপর ছিটকে পড়লেন কোস্থল এবং তার চৈনিক সঙ্গী চেন । -
সঙ্গীন মুহূর্ত। ঘটনার আকস্মিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠে কোহল প্রাণপণে সাতার কাটতে লাগলেন পাড়ের দিকে, নিজের প্রাণ বাচানোর তাগিদে অন্য কোন দিকে তাকাবার সময় বা ইচ্ছা কোনটাই তার ছিল মা ! এমন সময় চে-এর অসহায় আর্তনাদ তার কানে প্রবেশ করল। আর সঙ্গে সঙ্গে কোহলের মনে পড়ে গেল—চেন সাঁতারে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। একটু দূরে তখন সে প্রাণপণে চেষ্টা করে চলেছে কোনক্রমে জলের উপরে ভেসে থাকতে । কোহল ফিরলেন ।
চেন-কে সঙ্গেনিয়ে সাতার কাটা দুজনের পক্ষেই বিপজ্জনক । সামনে ভাসছিল উল্টে যাওয়া সাম্পান, চেনকে সেটা আশ্রয় করে ভেসে থাকতে বলে কোহল পুনরায় সাতার কেটে এগিয়ে চললেন পাড়ের দিকে। হঠাৎ পিছন থেকে ভেসে এল তীক্ষ্ণ শিষের মত নাসিক্যধ্বনি। সেই সঙ্গীন মুহুর্তেও কোহলের মনে পড়ে গেল পূর্ব-হিমালয়ের একটি গিরিখাতের পাশে দাড়িয়ে অবিকল এই রকম শিষের শব্দই শুনেছিলেন তিনি। পিছনে তাকিয়ে দেখলেন ফুরিতনাসা উন্মত্ত অ্যান্টিলোপ জল কেটে এগিয়ে আসছে তার দিকে । একটা তিক্ত শপথবাক্ষ্য নির্গত হল কোহলের মুখ দিয়ে, সর্বশক্তি নিয়োগ করে তিনি সাঁতরে চললেন পাড়ের দিকে । কোহল অবশ্য বুঝেছিলেন যে, উল্টে যাওয়া নৌকায় সংলগ্ন চেন-এর চেয়ে তার দিকেই হরিণটার দৃষ্টি পড়া স্বাভাবিক, কিন্তু যথাসম্ভব দ্রুতগতিতে সতরে যাওয়া ছাড়া আত্মরক্ষার অন্য কোন উপায় তখনকার মত তার মনে পড়ল না । কোহল জস্তুটার অসাধারণ দৈহিক পটুতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন, ফলে প্রভিমুহূর্তেই তিনি তার পিঠ অথবা কাঁধের উপর দুটাে খুরের প্রচণ্ড আঘাত আশঙ্কা করছিলেন। কিন্তু নদীর পাড়ের বালি যখন কোহলের পায়ে ঠেকল, কোন অজানিত কারণে তখনও তার সম্পূর্ণ অক্ষত। আতঙ্কিত কোহল এবার চেষ্টা করলেন প্রাণপণে দৌড়ে জীবনরক্ষা করতে, কিন্তু বালিতে পা হড়কে বারবার তার গতি রুদ্ধ হতে লাগল।
আচম্বিতে নদীবক্ষ থেকে ভেসে এল এক তীক্ষ্ণ আর্তনাদ! ঘুরে নদীর দিকে চোখ ফেরাতেই কোহলের নজরে পড়ল এক মৰ্মদম্ভ দৃশ্য
কোহলকে তাড়া করার পরিবর্তে জন্তুটা উল্টে যাওয়া সাম্পানটার দিকে এগিয়ে এসে আঘাত করল সেটার পৃষ্ঠদেশে ফেয়ারার মত জল ছিটকে উঠল উপরে এবং নৌকা ও তার সাথে সংলগ্ন চেন কয়েক মুহুর্তের জন্য অদৃশ্য হল নদীগর্ভে একটু পরে উভয় বস্তুই নদীর বুকে পুনরায় ভেসে উঠল বটে, কিন্তু বেশ কয়েক গজ দূরত্বে। প্রাণরক্ষার প্রচেষ্টায় চেন-এর পাগলের মত হাত পায়ের সঞ্চালন সহজেই উন্মত্ত হরিণটার দৃষ্টিগোচর হল। কৌতূহলী হয়ে সে এগিয়ে এল তার দিকে । হরিণাটাকে দেখামাত্রই হতভাগ্য চেন-এর গলা দিয়ে প্রচন্ড আতঙ্কে বেরিয়ে এল তীক্ষু আৰ্তনাদ, কিন্তু শুধু চীৎকার করে আত্মরক্ষা করা যায় না। অ্যান্টিলোপের সামনের দুটাে পা জলের উপর একবার দৃশ্যমান হল, পরিণত হল একটা অফুট ঘড়ঘড় শব্দে তারপর তার দেহ অদৃশ্য হল নদীগর্ভে। সঙ্গীর জীবন রক্ষার শেষ প্রচেষ্টায় কোহুল নদীর পাড় থেকে কতকগুলো পাথরের টুকরো হাতে নিয়ে ক্রমাগত ছুড়তে লাগলেন সেরাওটাকে লক্ষ্য করে । উদ্দেশ্য, যদি চেনকে ছেড়ে কোহলের দিকে তার দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। এমনকি শেষ পর্যন্ত পাগলের মত নদীতে ঝাঁপ দিয়ে কোহল সাঁতরে সঙ্গীর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে ।
মত আর কিছুই নেই।
বারকয়েক নদীর জলে সতর্ক দৃষ্টি নিক্ষেপ করল সেরাও, কিন্তু চে-এর কোন সন্ধান মিলল না কোথাও ! নিশ্চিন্ত হয়ে চোখ ফেরাতে এবার তার নজর পড়ল স্থাণুর মত দাড়িয়ে থাকা কোহলের উপর। নাক দিয়ে শিষের মত শব্দ করে সে তার ক্রোধের অভিব্যক্তি প্রকাশ করল, তারপর তীরের মত জল কেটে এগোল তার দিকে ।
বিপদ আসন্ন! কোহল বুঝলেন যে এবার তার পালা। নিরন্ত্র, অসহায় কোহুল আত্মারক্ষার্থে সচেষ্ট হলেন । সাম্পান উল্টে যাওয়ার সময় রাইফেল তলিয়ে গেছে নদীবক্ষে সুতরাং নাগালের মধ্যে যে গাছগুলো রয়েছে তারই একটাতে আশ্রয় নেওয়া নিরাপদ বলে তার মনে হল । অনতিদূরের অরণ্য ঘন সন্নিবিষ্ট নয়, এধারে ওধারে ছড়ানো বড় বড় গাছের সমাবেশে গঠিত। তারমধ্যে, ওক, চেষ্টনাট এং পাইন গাছই বেশী। প্রথম দুটি জাতের গাছ অত্যন্ত শক্ত হলেও, তাড়াতাড়ি ওঠার পক্ষে সুবিধাজনক নয়। ফলে কাছে একটা পাইন গাছের নীচে ঝুঁকে পড়া ডাল ধরে তাড়াতাড়ি উঠে পড়লেন কোহল। কিন্তু নিরাপদ উচ্চতায় আরোহণ করলেও, গাছে উঠে কোহল আবিষ্কার করলেন যে, আশ্রয়ের পক্ষে গাছটি ঠিক উপযুক্ত নয়। ডালগুলো বেশ নরম এবং পলকা, কিন্তু নতুন করে অন্য কোন গাছের কথা চিন্তা করার মত সময় তখন আর নেই। ওরই মধ্যে অপেক্ষাকৃত শক্ত একটা গাছের ডালকে আশ্রয় করে কোহুল বসে রইলেন ।
নদীর জলে আলোড়ন তুলে তীরে উঠে এল ক্রুদ্ধ সেরাও । গাছের ডালে বসে কোহল নিঃশ্বাস পর্যন্ত বন্ধ করে রইলেন । কিন্তু জন্তুষ্টার চোখ এবং কানকে ফাকি দিলেও প্রাণশক্তিকে ফাকি দিতে পারলেন না তিনি ।
বাতাসে ঘ্ৰাণ নিতে নিতে জন্তুটা পাইন গাছের খানিকটা দূরে এসে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল । সন্দেহের দৃষ্টি দিয়ে গাছটাকে খানিকক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে পিছিয়ে এল সে । তারপর সমস্ত শক্তি সংগ্রহ করে দুরন্ত বেগে ছুটে গেল গাছটাকে লক্ষ্য করে । একটা প্রচণ্ড টু-এ থৰ্ থৰ্ব করে কেঁপে উঠলো গোটা গাছটা, কিন্তু সেই সঙ্গে একটা যন্ত্রণার অভিব্যক্তিও ফুটে উঠল হরিণের দেহে । আবার পিছিয়ে গেল উন্মত্ত অ্যান্টিলোপ, এবং কোহল সভয়ে আবিষ্কার করলেন যে, তিনি যে ডালটিকে আশ্রয় করে বসে আছেন, সেটি এর মধ্যেই চিড় খেতে শুরু করেছে। আর একমুহূর্তও এই গাছটাকে আশ্রয় করে বসে থাকা সম্ভব নয় ।
অদূরবর্তী একটা ওক গাছকে আশ্রয়ের জন্য মনে মনে নির্বাচিত করলেন কোহল। কিন্তু নীচে অপেক্ষমান শৃঙ্গী, মৃত্যুকে ফাকি দিয়ে গাছটায় আশ্রয় নেওয়া খুব সোজা কাজ নয়। সুযোগ খুঁজতে লাগলেন কোহল ।
প্রথম সংঘাতের যন্ত্রণায় জন্তুটা গাছের থেকে খানিকটা দূরে পিছিয়ে গিয়েও তেড়ে আসার বদলে স্তম্ভিতের মত দাড়িয়ে ছিল । এই সুযোগ কোহল হাতছাড়া করলেন না। গাছের উপর থেকে মাটিতে লাফিয়ে পড়েই উর্ধ্বশ্বাসে ছুটলেন ওক গাছটার দিকে । মাটির উপর তার বস্তুর পতনের শব্দে যেন সম্বিত ফিরে এল জন্তুটার। বিদ্যুৎ গতিতে সে ছুটে গেল পলায়নে তৎপর শিকারের দিকে নাঃ, ওক গাছ পর্যন্ত পৌছাতে পারলেন না কোহল। মাঝপথে দুটাে শিং-এর মারাত্মক সংস্পর্শ অনুভূত হল তাঁর কটিদেশের নিম্নভাগে, তারপরেই শূন্যপথে উৎক্ষিপ্ত হয়ে তার দেহ আছড়ে পড়ল বেশ কয়েক গজ দূরে জমির উপর পতনের আঘাতে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার হয়ে এল কোহলের চোখের সামনে । শিরদাঁড়ায় তীব্র যন্ত্ৰণী—পিঠটা ভেঙে গেছে বলে মনে হল তার।
আবার সেই তীক্ষ শিষ। দারুণ আতঙ্ক এবং ভয় কোহলকে তার দুটাে হাটুর উপর দাঁড় করিয়ে দিল, কিন্তু দৌড়োনো দূরের কথা, এক পা এগোবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন তিনি; ফলে ঐ অর্ধেক বসা অবস্থায় তিনি প্রতিমুহুর্তে অপেক্ষা করতে লাগলেন চরম আঘাতের জন্য। কিন্তু আঘাত এল না, পরিবর্তে ভেসে এল সংঘাতের ভারী শব্দ । কোহল আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলেন যে তাকে ছেড়ে দিয়ে হরিণটা ঐ পাইন গাছের কাণ্ডে ক্রমাগত ঔতো মেরে চলেছে। সম্ভবতঃ সংঘর্ষের যন্ত্রণায় পাগল হয়ে সে গাছটাকেই তার প্রধান শক্ৰ বলে মনে করেছে। অবশ্য, সেই সঙ্গে কোহলের বুঝতে ভুল হল না যে, তার দিকে ছুটে আসবে। এই কথাটা উপলব্ধি করে, অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যেও কোহল ধীরে ধীরে হামাগুড়ি দিয়ে হরিণাটার দৃষ্টির আড়ালে যাওয়ার জন্য সচেষ্ট হলেন।
কিছুটা পথ ঐ ভাবে অতিক্রম করার পর হাতে ঠেকল মরম এবং নমনীয় ডালপালা ছড়ানো জমি, আর ভালভাবে একটু পর্যবেক্ষণ করেই জায়গাটার স্বরূপ চিনতে ভুল হল না কোহুলের । ডালপালা দিয়ে আচ্ছাদিত একটা গর্ত-চেন-এর ভাইয়ের পাতা ফাঁদ ; ধীরে ধীরে শরীরটাকে ফঁাদের অন্যধারে টেনে নিয়ে গেলেন কোহল, তার মাথায় তখন এক চমকপ্রদ চিন্তার তরঙ্গ ; সেরাও এবং কোহলের মাঝখানে ঐ ফাদ। একটা মারাত্মক ঝুঁকি নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হলেন কোহল ।
সমস্ত প্রাণশক্তি জড়ো করে সোজা হয়ে বসে তার স্বরে চীৎকার করতে করতে হাত দুটাে নড়াতে লাগলেন কোহল। উদেশ্য হরিণটার দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। গাছে টু মারা বন্ধ করে ফিরে তাকাল রক্তচক্ষু হরিণ। তারপরই জ্যামুক্ত তীরের মত ছুটে এল কোহলের দিকে। তীব্ৰ উত্তেজনার মধ্যে অপেক্ষ করতে লাগলেন কোহল। সেরাও যদি ফাদের হদিশ পেয়ে যায় তাহলে শিং এবং খুরের নিষ্ঠুর আঘাতে কোহলের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী—কিন্তু ভাগ্য সুপ্ৰসন্ন। ঝড়ের বেগে ছুটে আসা হরিণের সামনের দুটাে পা এসে পরড়ল নরম ডালপালাগুলোর উপর এবং পরমুহুর্তেই তার গোটা দেহ অদৃশ্য হল কোহলের চোখের সামনে থেকে। গর্তের মধ্য থেকে শুধু ভেসে আসতে লাগল ক্রুদ্ধ অ্যান্টিলোপের তীক্ষ্ণ নামিক ধ্বনি এবং গর্তের চারিধারে মাটির দেওয়ালে অধৈর্য খুরের আঘাতের শব্দ ।
অর্ধ সচেতন অবস্থায় গর্তের ধারে পড়ে থাকতে থাকতে প্রায় আধঘণ্টা বাদে কোহলের কানে ভেসে এল স্থানীয় চীনাভাষায় কয়েকজন লোকের কথাবার্তার শব্দ সাহায্যের জন্য চীৎকার শুনে তারা অবশেষে এসে কোহলকে আবিষ্কার করে । উদ্ধারকারীদের মধ্যে অন্যতম ছিল চেন-এর ভাই। সাম্পান নিয়ে চেন এবং কোহল যাত্রা করার বহুক্ষণ পরেও তাদের কোনরকম খোঁজ খবর না পেয়ে সে প্রতিবেশীর নৌকায় চড়ে সন্ধান করতে বেরিয়ে পড়ে।
হোয়েইলীতে কয়েক সপ্তাহ কাটিয়ে কোহল সাংহাইতে এসে পৌছালেন এবং সেই সময়ে ডাক্তারী পরীক্ষায় দেখা যায় যে মেরুদণ্ড নয়, ভেঙেছে তার নিতম্ব দেশের হাড় । শল্যচিকিৎসার সাহায্যে তিনি আরোগ্যলাভ করেন।
পরিশিষ্ট না বললে বর্তমান কাহিনী অসমাপ্ত থেকে যায়-শিকারী ক্রিশ্চিয়ান কোহলের


বিবরণী থেকে আমিএই অংশটি তুলে দিচ্ছি—
“হেয়েইলীতে থাকতে থাকতেই আমি চেন-এর মর্মান্তিক মৃত্যুসংবাদ তার আত্মীয়দের দিয়েছিলাম এবং ঘটনারও বিবরণ দিয়েছিলাম । তার কয়েকদিন পরে সেরাওটার মাথা স্মারক হিসাবে সংগ্রহ করতে গিয়ে শুনলাম যে ঐ হরিণটাকে নাকি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে । কারণ স্থানীয় লোকদের বিশ্বাস উক্ত “নৃগেই লাই-ৎজে", চেনকে হত্যা করে নিঃসন্দেহে কোন দৈবশক্তির অধিকারী হয়েছে ।
মহাযুদ্ধের যবনিকা তখন ধীরে ধীরে চীনের উপর নেমে আসছে, কিন্তু আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। কোনদিন যদি আমার নিম্নাঙ্গের সচলতা ফিরে আসে, তবে সেদিনই আমি ইয়াংজে নদীর পাড়ে একটা সেরাও অ্যান্টিলোপের সঙ্গে আমার কিছু বাকী হিসাব চুকাতে যাব। তা সে দৈবশক্তির অধিকারী হোক বা নাই হোক।”
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য