বত্রিশ পুতুলের উপাখ্যান: ২৬তম উপাখ্যান

    পরদিন আর একটি পুতুল বললো, হে রাজন, আমার এই গল্প শুনুন। ঔদার্য, দয়া, বিবেক ইত্যাদি গুণের সমন্বয়ে বিক্রমাদিত্যের সমকক্ষ রাজা আর কেউ ছিলেন না। তিনি যা বলতেন তার অন্যথা করতেন না। শাস্ত্রেও বলেছে— যেমন কথা তেমনি কাজ। সজ্জনদের মন, কথা ও কাজ এক প্রকার হয় ।
    একদিন স্বর্গে ইন্দ্র সিংহাসনে বসে আছেন, তাঁর সভায় অষ্টআশি হাজার ঋষি, তেত্রিশ কোটি দেবতা উপস্থিত আছেন। গন্ধৰ্বরাও আছেন। নারদ বললেন, ভূমণ্ডলে বিক্রমাদিত্যের মত কীর্তিমান, পরোপকারী ও মহাগুণসম্পন্ন রাজা আর নেই। .
    তাঁর কথা শুনে সভায় উপস্থিত সকলেই বিস্মিত হলেন।
    ইন্দ্র তখন সুরভিকে বললেন, তুমি মর্ত্যে গিয়ে বিক্রমাদিত্যের দয়া ও পরোপকারিতা প্রভৃতি গুণের বিষয় সব জেনে আমাকে জানাও।
    তখন সুরভি অত্যন্ত দুর্বল একটি গরুর রূপ ধারণ করে মতে গমন করলেন।
    রাজা বিক্রমাদিত্য পথ দিয়ে যাচ্ছেন এমন সময়  সুরভি নিজে ইচ্ছা করে কাদায় পড়ে গেলেন এবং রাজার দিকে তাকিয়ে করুণস্বরে চীৎকার করতে লাগলেন। 
    রাজা তাঁর কাছে এসে দেখলেন গরুটি অত্যন্ত দুর্বল ও কাদায় পড়ে রয়েছে এবং অদূরে একটি বাঘ। রাজা চেষ্টা করতে লাগলেন গরুটিকে তুলবার। এদিকে সূর্য অস্তাচলে যাবার উপক্রম করেছে, একটু পরেই ঘন অন্ধকার চারদিকে ছেয়ে যাবে। তখন রাজা সেই গরুটিকে রক্ষা করার জন্য সেখানেই রয়ে গেলেন।
    রাত্রি শেষ হয়ে সকাল হল। তখন সুরভি রাজার দয়া ও ধৈর্যগুণ দেখে অবাক হলেন এবং নিজেই সেই কাদা থেকে উঠে এসে রাজাকে বললেন, মহারাজ, আমি স্বর্গ থেকে এসেছি, আসলে আমি গরু নই, আমার নাম সুরভি। আপনার দয়া এবং ধৈর্যগুণ নিজের চোখে দেখতে এসেছিলাম। আপনার মত দয়াশীল রাজা সত্যিই বিরল। আমি সন্তুষ্ট হয়ে বর দেব, প্রার্থনা করুন।
    রাজা বললেন, আপনাদের কৃপায় আমার কোনকিছুরই অভাব নেই। কি প্রার্থনা করব? 
    সুরভি বললেন, আমার কথার অন্যথা হবে না। আমি তবে আপনার কাছেই থাকব। 
    এই কথা বলে তিনিও রাজার সঙ্গে সঙ্গে চললেন। এই সময় এক ব্রাহ্মণ তাঁদের সামনে এসে আশীর্বাদ করে বললেন, বিধাতা আমাকে দরিদ্র করেছেন তাই আমি সকলকে দেখতে পেলেও আমাকে কেউ দেখতে পায় না। 
    রাজা বললেন, কি চান আপনি? 
    ব্রাহ্মণ বললেন, হে রাজন, আপনি আশ্ৰিতের কাছে কল্পতরু। আমার যাতে দারিদ্র্য না থাকে তার ব্যবস্থা করুন। 
রাজা বললেন, তবে আপনি এই কামধেনুটি গ্রহণ করে আপনার দারিদ্র্য দূর করুন। ইনি আপনার সকল ইচ্ছা পূরণ করবেন। 
    রাজা বিক্রমাদিত্য কামধেনুটি তাঁকে দিয়ে নিজ নগরে ফিরে এলেন। 
    পুতুল বললো, পারবেন মহারাজ এমন স্বাৰ্থত্যাগ করতে? 
    ভোজরাজ কিছু বললেন না।


Previous
Next Post »
0 মন্তব্য