উচিত জবাব

    বাদশা আকবর বীরবলকে ঠকাবার জন্য প্রায়ই অনেকরকম কলাকৌশল অবলম্বন করতেন।
    একবার এক বিদেশি পর্যটক বাদশার সভায় এসে অনেক কৌশল শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই পর্যটক একটি ফাঁদ তৈরি করে দিয়ে বলেছিলেন যে-কেউ এর মধ্যে হাত দিলেই সে হাত আটকে যাবে। বীরবলকে জব্দ করার জন্য বাদশা একটা বড় পাকা আম ওই ফাঁদের ওপর রেখে বীরবলকে খবর পাঠালেন অবিলম্বে বাদশার সঙ্গে দেখা করার জন্য।
    আমটা এমন স্থানে রাখলেন যাতে বীরবল এসেই তা দেখতে পান। আমটা দেখে বীরবলের খুব লোভ হল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে হাত বাড়িয়ে আমটি ধরতেই তাঁর হাত আটকে গেল।
    বাদশা পাশের ঘরেই লুকিয়ে ছিলেন বীরবলকে জব্দ করবেন ভেবে। যেই না ফাঁদে বীরবলের হাতটা আটকে গেল অমনি বাদশা বেরিয়ে এসে বললেন, ‘ছি ছি বীরবল, তুমি সামান্য একটা আমের লোভ সামলাতে পারলে না! তোমার কাছ থেকে এই হীন কাজ আমি আশা করিনি। লোকে শুনলে তোমার অবস্থাটা কী হবে একবার ভেবে দেখেছ? তোমার সঙ্গে সঙ্গে আমারও মান-সম্মান সব যাবে।
   বীরবলের বুছতে আর কিছুই বাকি রইল না। কিল খেয়ে কিল চুরির মতো চুপটি করে মাথা নিচু করে প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে এলেন। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন, "আচ্ছা বাদশা, এর প্রতিশোধ আমিও নেব।” - সেইদিন থেকে বীরবল কেবলই ভাবছেন কী করা যায়! কেমন করে এর শোধ নেওয়া যাবে, ভাবছেন আর ভাবছেন। অন্য কোনওদিকে তার মন নেই।
    ভাবতে ভাবতেই মাথায় বুদ্ধি এসে গেল। তাঁর একধরনের ঐশ্বরিক ক্ষমতা বলা যায়। .
    বাদশার মলমূত্র ত্যাগের স্থান অর্থাৎ পায়খানাটি ছিল দেখবার মতো। সেখানে যাতে অন্য কেউ না ঢুকতে পারে তার জন্য সর্বক্ষণের একজন প্রহরী নিযুক্ত ছিল। মোটারকম বকশিশ দিয়ে সেখান থেকে তাকে সরিয়ে দিয়ে রাত্রে বীরবল এক ব্রহ্মদৈত্য সেজে পায়খানার মধ্যে ঢুকে থাকলেন। রাত্রে বাদশা পায়খানার মধ্যে ঢুকলে ব্রহ্মদৈত্যরূপী বীরবল সেই বীভৎস চেহারা নিয়ে বাদশার সামনে এসে তাঁকে হত্যার হুমকি দিলেন। বাদশা ব্রহ্মদৈত্যকে দেখে ভয়ে কাপতে কাঁপতে তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইল।
ক’দিন পর বাদশা যখন সভায় বেশ খোসমেজাজে গল্প করছিলেন তখন বীরবলকে জব্দ করার জন্য আম চুরির সেই ঘটনাটি রসিয়ে রসিয়ে বললেন।
    বীরবল এতদিন সেই রাতের ঘটনা কিছুই জানতে দেননি বাদশাকে। তিনি এই দিনটিরই অপেক্ষায় ছিলেন।
তিনি সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মদৈত্যের ঘটনাটা বলতেই বাদশা হকচকিয়ে গেলেন। চতুর এবং বুদ্ধিমান বাদশার আর বুঝতে কিছু বাকি রইল না। তিনি আর টু শব্দটি করলেন না। তিনি বুঝলেন এখন চুপ করে থাকাই একমাত্র বুদ্ধিমানের কাজ। মনে মনে বুঝলেন, সেদিনের সেই ব্রহ্মদৈত্য আর কেউ নয় বীরবলই ছিল।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য