বত্রিশ পুতুলের উপাখ্যান: ১৬তম উপাখ্যান

    পরদিন হরিমধ্যা নামে আর একটি পুতুল ভোজরাজকে বললো, শুনুন মহারাজ, একবার রাজা বিক্রমাদিত্য দিগ্বিজয়ে বেরিয়ে সব দেশের রাজাদের নিজ অধীনে এনে সেই সব রাজাদের কাছ থেকে বহু মূল্যবান সব বস্তু উপটৌকন পেয়ে তাঁদের নিজের নিজের সিংহাসনে বসিয়ে আবার রাজধানীতে ফিরে এলেন।
    নগরে ঢোকার মুখে এক দৈবজ্ঞ বললেন, হে রাজন, এখন থেকে চারদিন নগরে প্রবেশের পক্ষে অশুভ।
    দৈবজ্ঞের কথামত বিক্রমাদিত্য নগরের বাইরেই একটি উদ্যানের মধ্যে তাঁবু খাটিয়ে চারদিন কাটালেন।
    সেই সময় ছিল বসন্তকাল। বসন্তের শোভা দেখে মন্ত্রী সুমন্ত্রী রাজার কাছে বললেন, মহারাজ, আসুন আজ বসন্তের পূজা করি। তাঁর পূজা করলে সব অমঙ্গল দূর হবে।
    মন্ত্রীর কথায় রাজা বসন্ত পূজার আয়োজন করলেন। মন্ত্রী একটি সুন্দর সভামণ্ডপ বানিয়ে ব্রাহ্মণদের, গায়কদের এবং নর্তকীদের ডাকলেন অনুষ্ঠানে যোগদান করার জন্য। রাজ্যের সকল শ্রেণীর মানুষ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হল।
সভাস্থলে রত্নখচিত সিংহাসন রাখা হল এবং লক্ষ্মীনারায়ণের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হল। পূজার জন্য কুমকুম, কর্পূর, কস্তুরী, চন্দন প্রভৃতি গন্ধদ্রব্য এবং জাতি, যুথিকা, মল্লিকা, কুশ, কেতকী প্রভৃতি ফুল সংগ্রহ করে আনা হল। এরপর রাজা পূজা সম্পূর্ণ করে ব্রাহ্মণদের ও উপস্থিত কলাকুশলীদের জামাকাপড়, টাকাপয়সা অনেক দান করলেন।
    এই সময় এক ব্রাহ্মণ এসে রাজাকে আশীর্বাদ করে বললেন, হে রাজন, আমার একটি আবেদন আছে।
   রাজা বললেন, বলুন ! ব্রাহ্মণ বললেন, আমি একজন ব্রাহ্মণ, নন্দিবর্ধন নগরে আমার বাস। আমার আটটি পুত্র, আমি সন্ত্রীক জগদম্বার নিকট সঙ্কল্প করেছিলাম – আমার কন্যা লাভ হলে কন্যার ওজনের সমপরিমাণ সোনা দান করব আর কন্যাকে কোন পণ্ডিত ব্ৰাহ্মণের হাতে সম্প্রদান করব। যথাসময়ে আমার একটি কন্যা হয়। এখন তার বিবাহের সময় উপস্থিত। প্রতিশ্রুতি পালন করতে হলে কন্যার ওজমের সমপরিমাণ সোনা দান করতে হবে। একমাত্র রাজা বিক্রমাদিতাই পারেন।আমাকে এই দায় থেকে উদ্ধার করতে। তাই আপনার কাছে উপস্থিত হয়েছি।
    রাজা বললেন, হে ব্ৰাহ্মণ, আপনি যথাস্থানেই এসেছেন।
    তারপর ভাণ্ডারকে ডেকে বললেন, এই ব্রাহ্মণের কন্যার ওজনের সমান সোনা দাও এবং অন্যান্য কাজে ব্যয়ের জন্য আট কোটি স্বর্ণমুদ্রা দাও।
    রাজার আদেশ সঙ্গে সঙ্গে পালিত হল। ব্রাহ্মণ সন্তুষ্ট হয়ে রাজাকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করে বিদায় নিলেন।
রাজাও শুভমুহূর্তে নগরে প্রবেশ করলেন। পুতুল বললো, রাজন, আপনার মধ্যে যদি এরূপ ঔদার্য থাকে তবে সিংহাসনে বসুন। 
    ভোজরাজ নির্বাক হয়ে রইলেন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য