তীর ছোঁড়া প্রতিযোগীতা -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

  বাদশা তৈমুরলঙ্গ বছরশেষের সৈন্যদের কুচকাওয়াজে মোল্লাকে ডেকে নিয়ে গেলেন বাহিনী পরিদর্শনে। তারা নানারকম কসরৎ দেখাবে, সেই সঙ্গে তীর ছোঁড়া । শেষে তারা তীর ছুঁড়ে মুন্দর নিশানার পরিচয় দিতে থাকে।
   ফিসফিস্ করে মোল্লা বলেন বাদশাকে —‘এ রকম আমিও তীর ছুঁড়তে পারি। ওতে বাহাদুরীটা কি এমন?
   —“বেশ, দেখাও তোমার তীর ছোঁড়া। ভাল হলে পুরস্কার তুমিও পাবে।’
   সম্রাটের আদেশে প্রধান সেনাপতি ধনুক আর কয়েকটা তীর এনে দিলেন মোল্লার হাতে।

   নিশানাটা দূরের একটা গাছের কোটর। নাসিরউদ্দিন জীবনেও তীর ছোড়েন নি। তাই, বলাবাহুল্য, প্রথম তাঁর একেবারে লক্ষ্যভ্রষ্ট হোল। —তাইতে সবাই হেসে ওঠে।
   সঙ্গে সঙ্গে নাসিরের জবাব—জাঁহাপনা, এই এক্ষুণি যে তাঁরটা ছুঁড়লুম-এ রকমটি হোল আপনার লক্ষ্য। সুতরাং ফল কি হোল নিজের চোখেই তো দেখলেন।’ দ্বিতীয় তীরটাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হতে,—মোল্লার সাফাই –“এই ধরণের বাজে তীর ছোড়াটা আপনার উজারের।
   এ ভাবে দু-দুটো তীর ছুড়ে মোল্লার খানিকটা লক্ষ্য আয়ত্তে এসে গেছে, তাই তৃতীয় তীর ছুড়লেন লক্ষ্যের দিকে।
   সেটিও ঠিক যায়গায় না পৌঁছুতে নাসিরউদ্দিন বলেন—‘এ ধরণের তীর আপনার প্রধান ওমরাহ ছোড়ে।’
  তারপর চতুর্থ তীরটি ছোঁড়ামাত্রই সেটি কিন্তু সঠিক লক্ষ্যভেদ করে ফেলে মোল্লার ভাগ্যক্রমে। আর সেই মুহূর্তে আভূমি আনত হয়ে কুর্ণিশ করতে করতে মোল্লা জাঁহাপনাকে নিবেদন করে – হুজুর এতক্ষণে মোল্লা নাসিরউদ্দিন তার তীর ছুঁড়লো।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য