নানা রূপ

    বাদশা একদিন বীরবলকে বললেন,‘বীরবল, তুমি আমার কাছে এমন চারটি লোক উপস্থিত করতে পারবে যাদের একজন সাহসী, একজন ভীরু, একজন লাজুক, আর অন্যজন বেহায়ার হদ্দ।’
    বীরবল বললে, হাঁ, পারি হুজুর। এই বলে বীরবল তক্ষুণি লোক খুঁজতে বেরিয়ে গেলেন। তারপর ফিরে এলেন একটি সুন্দরী যুবতীকে নিয়ে।
    বাদশা যুবতীকে দেখে বীরবলকে বললেন,‘তোমার চার গুণের চারটি লোক আনতে বলেছিলাম না বীরবল ? তুমি নিয়ে এলে মাত্র একটি! এর কারণ কী বীরবল ?’
    বীরবল বললেন, ‘এই এক যুবতীর মধ্যেই সেই চারটি গুণই বিদ্যমান হুজুর, তাই শুধু একেই নিয়ে এলাম। প্রমাণ করে দিচ্ছি হুজুর আমার কথা।”
    বাদশা বললেন, ‘একজনের ভেতর চারটি বিপরীত গুণ কী করে থাকা সম্ভব? এ কখনই হতে পারে না, একেবারে অসম্ভব।
    বীরবল বললেন,‘নারীর ক্ষেত্রে সম্ভব হুজুর। এরা যখন কোনও পুরুষের প্রতি প্রেমাসক্ত হন তখন সাহসী পুরুষরাও এদের কাছে বিক্রমে পরাজিত হন। কোনও বাধাবিঘ্নই গ্রাহ্য করেন না এরা—তখন রণচণ্ডী রূপ ধারণ করেন। আবার এরাই যখন বিবাহের পর স্বামীর অধীনা হন, তখন এমন ভীরু ও দুর্বলা হন যে, একাকিনী রাত্রিবেলা নিজগৃহে ঢুকতে ভয় পান। এরা যখন শ্বশুরালয়ে থাকেন তখন এত লজ্জাশীলা যে, সর্বদা বসনাঞ্চলে মুখ ঢেকে থাকেন, কারও সঙ্গে কথাও বলেন না, যেন কত লজ্জাবতী। কিন্তু এরাই যখন কুলের বাইরে গিয়ে বাজারে পতিতা হন, তখন বেহায়ার এক হদ্দ। এমন বেহায়া, চোখে না দেখলে বিশ্বাস। করতে পারবেন না হুজুর’
    বাদশা বীরবলের সঠিক ও নিপুণ বিশ্লেষণে খুশি হয়ে তাকে যথেষ্ট পুরস্কৃত করলেন।

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য