কড়াইয়ের বাচ্চা -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

   মেয়ের বিয়েতে নাসিরউদ্দিন স্থানীয় ধনী প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটা বড় লোহার কড়া ধার চেয়ে আনলেন । বেশ কিছুদিন পরে মোল্লা ঐ কড়াইয়ের ভেতর আর একটা ছোট কড়াই রেখে মালিককে ফেরৎ দিতে গেলেন।
   কড়ার মালিক তো দুটাে জিনিষ পেয়ে খুব খুশী। বলে, ‘ভাইসাব, বড় কড়াইয়ের ভেতর ছোট কড়াই কি করে এলো ?
‘আপনি যখন আমাকে বড়টা ধার দেন, তখন ওটা গর্ভবতী ছিল। গতকাল দিন-মাস পূর্ণ হতে একটা বাচ্চ দিয়েছে।  তাই দুটােই তো আপনার প্রাপ্য '—নাসির জলের মত বুঝিয়ে দেন।
   ‘বাঃ, খুব ভালো কথা। এরপর বাসন-কোসন যখন যা দরকার পড়বে, নিয়ে যাবেন কিন্তু।’ ধনী ব্যক্তিটি অনুরোধ জানায় ।
   ক'মাস পরে মোল্লা গেলেন এবার আরো একটু বড় দেখে কড়াই ধার করতে। সানন্দে মালিক রাজী হলেন,—দিলেন সবচেয়ে বড়, শখের কড়াইটা।
   দিন গেল, মাস গেল, বছর গেল। কড়াই আর ফেরং না আসায়, স্বয়ং সেই ধনী ব্যক্তি গেলেন তাগাদ দিতে।
ধনী ব্যক্তিটিকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোল্লা নাসিরুদ্দিন । ‘ভাই, সর্বনাশ হয়েছে। প্রসবের সময় মা আর বাচ্চা, দুটোই মারা গেছে। লজ্জায় তাই মুখ দেখাতে পারছি না।’
   ধনী ব্যক্তিটি রেগে বলে ওঠেন—“ইয়ার্কি মারার যায়গা পাননি? লোহার অতবড় কড়াইট কি কখনো বাচ্চা দিতে পারে?
   ‘বাঃরে, সেবারে ছোট কড়াইটার যদি বাচ্চা হয়, তাহলে বড় কড়াইটা বাচ্চাও দিতে পারে, আবার প্রসবের সময় মারাও যেতে পারে।’—মোল্লার সাফ জবাব ।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য