সীম বীচি -- রাশিয়ার উপকথা

    এক ছিল মোরগ আর মুরগী। খুটে খুটে খাচ্ছে মোরগ, খুটে তুলল সীমের বীচি।
    ‘কক-কক-কক, গিন্নী, বীচি খাবি আয়!’
    ‘কক-কক-কক, মোরগ, তুই-ই খা!”
    সীমের বিচি খেলে মোরগ কিন্তু গলায় গেল আটকে। তখন মোরগ-গিন্নীকে ডেকে বলল :
    গিন্নী, নদীকে গিয়ে বল আমায় একটু জল দিতে।'
    মোরগ-গিন্নী দৌড়োল নদীর কাছে।
    ‘নদী, নদী, একটু জল দাও না? মোরগের গলায় সীম বীচি আটকে গেছে।’
    নদী বলল:
     ‘আগে লাইম গাছের কাছে যাও, একটা পাতা চেয়ে আনো, তবে জল দেব।’
    মোরগ-গিন্নী দৌড়োল লাইম গাছের কাছে।
    ‘লাইম গাছ, ও লাইম গাছ, একটা পাতা দাও না ? পাতা নিয়ে নদীকে দেব, নদী জল দেবে, তবে মোরগ খাবে, মোরগের গলায় সীম বীচি আটকে গেছে।’
    লাইম গাছ বলল:
    ‘আগে চাষীমেয়ের কাছে যাও, একগাছি  ‍সুতো চেয়ে আনো, তবে পাতা দেব।’
মোরগ-গিন্নী ছটল চাষীমেয়ের কাছে।
    ‘চাষীমেয়ে, চাষীমেয়ে, একগাছি সুতো দাও না? সুতো নিয়ে লাইম গাছকে দেব, তবে লাইম গাছ পাতা দেবে। পাতা নদীকে দেব, তবে নদী জল দেবে, তবে মোরগ খাবে, মোরগের গলায় সীম বীচি আটকে গেছে।’
    চাষীমেয়ে বলল:
    আগে চিরনিওয়ালার কাছে যাও, একটা চিরনি নিয়ে এস, তবে সুতো দেব।’
    মোরগ-গিন্নী ছুটল চিরনিওয়ালার কাছে।
    ‘চিরন্নিওয়ালা, ও চিরুনিওয়ালা, একটা চিরুনি দাও না ? চিরনি দেব চাষীমেয়েকে, তবে চাষীমেয়ে সুতো দেবে। সুতো দেব লাইম গাছকে, তবে লাইম গাছ পাতা দেবে। পাতা দেব নদীকে, নদী জল দেবে, তবে মোরগ খাবে, মোরগের গলায় সীম বীচি আটকে গেছে।’
    চিরুনিওয়ালা বলল:
    ‘আগে রুটিওয়ালার কাছে যাও, একটা রুটি এনে দাও, তবে পাবে চিরুনি।”
    মোরগ-গিন্নী ছুটল রুটিওয়ালার কাছে।
    ‘রুটিওয়ালা, ও রুটিওয়ালা, আমায় একটা রুটি দাও না? রুটি নিয়ে চিরনিওয়ালাকে দেব, তবে চিরুনিওয়ালা চিরুনি দেবে। চিরুনি দেব চাষীমেয়েকে, তবে চাষীমেয়ে সুতো দেবে। সুতো দেব লাইম গাছকে, তবে লাইম গাছ পাতা দেবে। পাতা দেব নদীকে, নদী জল দেবে, তবে মোরগ খাবে, মোরগের গলায় সীম বীচি আটকে গেছে।’
    রুটিওয়ালা বলল:
    ‘আগে কাঠুরের কাছে যাও, জ্বালানি কাঠ এনে দাও, তবে রুটি দেব।’
    মোরগ-গিন্নী ছুটল কাঠুরের কাছে।
    'কাঠুরে, ও কাঠুরে, একটু জ্বালানি কাঠ দাও না? জ্বালানি দেব রুটিওয়ালাকে, তবে রুটিওয়ালা রুটি দেবে। রুটি দেব চিরুনিওয়ালাকে, তবে চিরুনিওয়ালা চিরুনি দেবে। চিরুনি দেব চাষীমেয়েকে, তবে চাষীমেয়ে সুতো দেবে। সুতো দেব লাইম গাছকে, তবে লাইম গাছ পাতা দেবে। পাতা দেব নদীকে, নদী জল দেবে, তবে মোরগ খাবে, মোরগের গলায় সীম বীচি আটকে গেছে।’
    মোরগ-গিন্নীকে কাঠ দিল কাঠুরে।
    মোরগ-গিন্নী কাঠ নিয়ে গেল রুটিওয়ালার কাছে। রুটিওয়ালা রুটিটি দিল। রুটি পেয়ে চিরুনিওয়ালা চিরুনি দিল। চিরুনি পেয়ে চাষীমেয়ে সুতো দিল। সুতো পেয়ে লাইম গাছ পাতা দিল। পাতা পেয়ে নদী মোরগের জন্যে একটু জল দিল।
মোরগ জল খেল। সীম বীচি নেমে গেল।
মোরগ ডেকে উঠল:
‘কোঁকর কোঁ, কোঁকর কোঁ!’

Previous
Next Post »
0 মন্তব্য