বত্রিশ পুতুলের উপাখ্যান: ৬ষ্ঠ উপাখ্যান

   পরদিন রাজা আবার সিংহাসনে বসতে গেলে আর একটি পুতুল বললো, মহারাজ, আমার নাম অনঙ্গনয়না । আগে আমার কথা শুনুন । একবার চৈত্র মাসে বসন্ত উৎসব কালে বিক্রমাদিত্য রাণীদের নিয়ে প্রমোদবনে গেলেন সেখানে কয়েকদিন উৎসব করতে। সেই বনে ছিল নানা সুন্দর সুন্দর গাছ। গাছের ডালে ডালে ফুল। সমগ্র বনটা সুন্দর কারুকার্য করা পাথর দিয়ে বাঁধানো !
   বনের কাছে চণ্ডিকাদেবীর একটি মন্দির ছিল। সেখানে একজন ব্রহ্মচারী বাস করতেন; একদিন তিনি মনে মনে ভাবলেন, তপস্যা করে করে এই মানব জীবনটা বৃথাই কাটালাম। একবার স্বপ্নেও জানলাম না বিষয়সুখ কি জিনিস। আমার পরম সৌভাগ্য যে ঠিক এই সময়েই রাজা বিক্রমাদিত্য এখানে উপস্থিত আছেন। তাঁর কাছে একখণ্ড ভূমি দান হিসাবে চেয়ে নিয়ে কোন সুন্দরী কন্যাকে বিয়ে করে পরম সুখে দিন কাটাব।
   মনে মনে এই চিন্তা করে ব্রহ্মচারী রাজাকে গিয়ে বললেন, আমি এখানেই চণ্ডিকার পূজা করে থাকি। আজ পঞ্চাশ বছর তাঁর সেবা করছি। আমি এতদিন ব্রহ্মচারী হয়েই ছিলাম। আজ রাত্রিশেষে দেবী এসে আমায় বললেন, হে ব্ৰহ্মচারী, আমি তোমার প্রতি প্রসন্ন হয়েছি, তুমি এখন বিয়ে করে সংসারী হও। তুমি রাজা বিক্রমাদিত্যের কাছে তোমার ইচ্ছা প্রকাশ কর, তিনি তোমার ইচ্ছা অবশ্যই পূরণ করবেন।
   রাজা বিক্রমাদিত্য ব্রহ্মচারীর সব কথা শুনে বুঝলেন এই ব্ৰহ্মচারী মিথ্যা কথা বলছেন, কিন্তু তবু এই ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রার্থী হয়ে এসেছেন। এর ইচ্ছা পূরণ করতে হবে।
   তখন রাজা সেখানে একটা নগর তৈরি করে সেই ব্ৰহ্মচারীকে তা দান করলেন। সেই সঙ্গে একশো জন রাণী, পঞ্চাশটি হাতি, পাঁচশত ঘোড়া, চার হাজার সৈনিক দিলেন । সেই নগরের নাম রাখলেন চণ্ডিকাপুর ; প্রার্থীকে মিথ্যাবাদী জেনেও তিনি তার ইচ্ছা পূরণ করেন ।
গল্প শেষ করে পুতুল রাজাকে বললো, হে মহারাজ, আপনার মধ্যে যদি এই উদারতা ও গুণ থাকে তবে সিংহাসনে বসুন।
ভোজরাজ মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে রইলেন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য