বত্রিশ পুতুলের উপাখ্যান: ১৫তম উপাখ্যান

    এবার পঞ্চদশ পুতুল বললো, রাজন, আমার নাম নিরুপমা, বিক্রমাদিত্যের পুরোহিতের নাম বসুমিত্র। তিনি দেখতে ছিলেন অত্যন্ত রূপবান আর গুণে ছিলেন সকল বিদ্যায় পারদশী ! সেই কারণে রাজার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনি রাজ্যের সকল লোকের উপকার করতেন।
    শাস্ত্রে আছে, গঙ্গাস্নান ভিন্ন অন্য কোন উপায়ে পবিত্র হওয়া যায় না। তপস্যা, ব্রহ্মচর্য, যজ্ঞ বা দানের দ্বারা সদগতি লাভ না হতে পারে, কিন্তু গঙ্গাস্নান করলে ফল পাওয়া যায়।
    বসুমিত্র এই সব চিন্তা করে বারাণসীতে গিয়ে বিশ্বেশ্বর দর্শন করে ও পরে প্রয়াগে মাঘী পূর্ণিমায় স্নান করে দেশে ফেরার জন্য যাত্রা করলেন।
    পথে এক নগর পড়ল। সেই নগরে সুরবালা নামে এক অঙ্গরা রাজত্ব করতেন। তাঁর স্বামী ছিল না। সেখানে লক্ষ্মীনারায়ণের এক বিরাট মন্দির ছিল। তার মধ্যে একটি বিবাহ মণ্ডপ ছিল। মন্দির-দ্বারে একটি বিরাট লৌহপাত্রে তেল গরম হচ্ছে। সেখানে নিযুক্ত লোকরা যে সব বিদেশী ভ্রমণকারী সেখানে আসছেন তাঁদের বলছিল-- যে এই গরম তেলের মধ্যে নিজেকে নিক্ষিপ্ত করবে সুরবালা তারই কণ্ঠে মালা দেবেন ।
    বসুমিত্র সবকিছু দেখে শুনে নিজ নগরে ফিরলেন। রাজা নিয়মমত জিজ্ঞাসা করলেন, বসুমিত্র দেশের বাইরে গিয়ে বলার মত আশ্চর্য কিছু দেখে থাকলে তা আমাকে বলুন।
    বসুমিত্র তখন সুরবালা ও সেই গরম তেলপাত্রের কথা বললেন।
    রাজা কৌতুহলী হয়ে বসুমিত্রকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলেন। স্নান করে ভক্তিচিত্তে লক্ষ্মীনারায়ণের পূজা করে সেই গরম তেলের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। উপস্থিত সকলে হাহাকার করে উঠল। ঐ গরম তেলে পড়ে রাজার শরীর একটি মাংসপিণ্ড পরিণত হল।
    এই সংবাদ শুনে সুরবালা অমৃত এনে সেই মাংসপিণ্ডের উপর ছিটিয়ে দিলে দেখতে দেখতে রাজা আবার তার আগের রূপ ফিরে পেলেন।
    এরপর সুরবালা রাজার গলায় মালা দিতে এলে রাজা বললেন, যদি আমায় সুখী করতে চাও তাহলে আমার কথা শোন।
    সুরবালা বললেন, হে প্রভু, আপনার ইচ্ছাই পূর্ণ হবে, আপনি আজ্ঞা করুন।
    রাজা বললেন, এই যদি তোমার মনের কথা হয় তবে আমার সামনে উপস্থিত ব্ৰাহ্মণ বসুমিত্রকে বরণ করে নাও।
    সেই অন্সরা ‘তথাস্তু বলে বসুমিত্রের গলায় বরমাল্য দান করে তাঁকে বিবাহ করলেন।
    এরপর রাজা তাঁর রাজধানীতে ফিরে গেলেন। পুতুল বললো, মহারাজ, আপনার যদি এমন সাহস ও উদারতা থাকে তবে অবশ্যই সিংহাসনে বসুন।
    ভোজরাজ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলেন। সেদিনও তাঁর সিংহাসনে বস হল না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য