কাঠুরের মেয়ে -- কাজাখ লোককাহিনী

   এক সময় এক বুড়ো কাঠুরে তার ন’বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকত এক ভাঙা কুঁড়েঘরে । থাকার মধ্যে ছিল কেবল তার একটা ভাঙা কুড়ল, একটা খোড়া ঘোড়া আর বুড়ো একটা গাধা। কিন্তু কথায় বলে ‘ধনীর সুখ তার ঘোড়া-গরুর পালের দিকে তাকিয়ে আর দরিদ্রের সুখ তার সস্তানদের দিকে তাকিয়ে।’ সত্যিই, নিজের ছোট্ট মেয়ের দিকে তাকিয়ে কাঠুরে সব দুঃখকষ্ট ভুলে যেত।
   মেয়ের নাম আয়না-কিজ । সুন্দরী বুদ্ধিমতী আর হাসিখুশী স্বভাব তার। একবার তাকে দেখলেই ভালবেসে ফেলে তাকে সবাই। দূরের দূরের ইয়ুরতা থেকে বাচ্চা ছেলেমেয়েরা আসে তার সঙ্গে খেলা করার জন্য, দূর দূর গ্রাম থেকে বৃদ্ধেরা আসে তার সঙ্গে কথা বলার জন্য ।
   একদিন বুড়ো কাঠুরে খোড়া ঘোড়ার পিঠে কাঠের বোঝা চাপিয়ে মেয়েকে বলল;
‘আয়না-কিজ, বাছা আমার, আমি বাজারে যাচ্ছি, ফিরতে সন্ধ্যা হবে । মন খারাপ করিস না। যদি কাঠ বিক্রি করতে পারি ভাল দামে তো তোর জন্য কিছু কিনে আনব?
   “যাও, কিন্তু সাবধান থেকে বাবা, ভালয় ভালয় ফিরে এস। কথায় বলে, বাজার অতি খারাপ জায়গা সেখানে একজনের থলি ভরে, অন্যজন নিঃস্ব হয় । তাড়াতাড়ি ফিরে এস, রান্না করে বসে থাকব আমি।”
   খোড়া ঘোড়াটাকে চাবুক মেরে রওনা দিল কাঠুরে ।
   বাজারে পৌছে একপাশে দাঁড়িয়ে সে খরিদ্দারের অপেক্ষায় রইল। কিন্তু সময় যায় কেউ এগিয়ে আসে না বুড়োর দিকে।
   ঐ সময় এক যুবক বাই (ধনী ব্যক্তি) বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সবার সামনে তার কালো দাড়ি আর রেশমী আলখাল্লাটা নাড়িয়ে নাড়িয়ে । গরীব বুড়ো কাঠুরেকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাকে নিয়ে মজা করার ইচ্ছা হল বাইয়ের।
   ‘কি বুড়ো, কাঠ বেঁচবে?’ জিজ্ঞেস করল বাই ।
   "বেচব’, বলল কাঠুরে ।
   কি দাম চাস ঐ কাঠের বোঝার জন্য?"
   ‘এক তাঙ্গা (এক আনা)।’
   'ঐ একই দামে কি তুই যা যেমন আছে বেটবি?’ 
   খরিদ্দারের কথা ঠিক বুঝতে পারল না কাঠুরে, কিন্তু তাতে ক্ষতি কিছু নেই দেখে আবার উত্তর দিল, ‘বেচব' ।
   ‘ঠিক আছে, বলল বাই, এই নে পয়সা, চল আমার সঙ্গে।’ 
   বাইয়ের বাড়ীর উঠোনে যখন তারা পৌছল, কাঠের বোঝা ঘোড়ার পিঠ থেকে নামাতে গেল বুড়ো কাঠুরে কিন্তু বাই তার বুকে একটা জোর ধাক্কা দিয়ে পাড়া কাঁপিয়ে চীৎকার করে উঠল :
   কি করছিস তুই, বোকা বুড়ো ঘোড়াটা নিয়ে যেতে চাস নাকি? আমি তো তোর কাছে কাঠ কিনেছি যা যেমন আছে এই ভাবে, তার মানে ঘোড়াটাও এখন আমার! দাম পেয়ে গিয়েছিস, ভেগে পর শীগগির!...'
   কাঠুরে প্রতিবাদ জানাতে লাগল কিন্তু বাই শোনে না কিছুই হাত নাড়িয়ে চীৎকার করে আরো জোরে, শেষে বুড়োর জামা ধরে টেনে নিয়ে চলল তাকে কাজীর কাছে।
   কাজী তাদের কথা শুনে দাঁড়িতে হাত বুলিয়ে তাকাল বাইয়ের রেশমী আলখাল্লার দিকে। ভাল পারিশ্রমিক পাবার আশায় ঘোষণা করল ; কাঠুরে দাম পেয়েছে পুরোপুরি, যে ক্ষতি তার হয়েছে সে জন্য নিজেই দায়ী সে, খরিদারের শর্তে রাজী হয়েছিল সে ।
   কাজীর বিচারের পরে বাই হা-হা করে হাসতে লাগল অনেকক্ষণ ধরে এমন তামাসায় খুশী হয়ে। আর বুড়ো কাঠুরে মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে গুটি গুটি পায়ে ফিরে চলল গ্রামের দিকে ।
   ওদিকে আয়না-কিজ বাবার অপেক্ষায় বারেবারে চুলায় কাঠ গুজছে। তারপর যখন বুড়ো এসে ঘরে পা দিল, তার চোখে জল দেখে মেয়ের বুকটা কেঁপে উঠল উদ্বেগে । ছুটে গিয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে সে জিজ্ঞেস করতে লাগল কি হয়েছে। কাঠুরে সব কথা বলল মেয়েকে, মেয়ে বুড়ো বাবাকে সাস্তুনা দিতে লাগল। কিন্তু বুড়োর চোখের জল থামে না কিছুতেই ।
   পরের দিন বুড়ো শোকে একেবারে বিছানা নিল । আয়না-কিজ বাবার গায়ে পিঠে হাত বুলিয়ে বলল, “বাবা, আজ তোমার শরীরটা খারাপ, আজ বিছানা থেকে উঠো না তুমি । অনুমতি দাও আজ আমি বাজারে যাই ! হয়ত আমি ভাল দামে কাঠ বেঁচতে পারব ।
   বুড়ো কিছুতেই যেতে দেবে না মেয়েকে আর মেয়েও ছেড়ে দেবে না বুঝিয়েই চলে বাবাকে ।
   শেষে হাল ছেড়ে দিল বুড়ো । যা আয়না-কিজ, এতই ইচ্ছে যখন তোর। কিন্তু জানবি যতক্ষণে তুই না ফিরে আসলি ততক্ষণ মনে শাস্তি থাকবে না আমার ।
   আয়না-কিজ বুড়ো গাধাটার পিঠে কাঠ বোঝাই করে তাকে তাড়িয়ে নিয়ে চলল শহরের দিকে ।
   বাজারে পৌছে খানিক বাদেই সে দেখতে পেল সেই কালো দাড়ি, রেশমী আলখাল্লাপরা বাইকে ঘুরে বেড়াতে । নাক উঁচু করে বাজারে মুরে বেড়াচ্ছে বাই। কাঠ বেঁচতে আসা মেয়েটিকে দেখে ব্যঙ্গের হাসি হেসে সে সোজা এগিয়ে গেল সেদিকে ।
   ‘এই মেয়ে, কাঠ বেচবি?’ জিজ্ঞেস করল সে।
   'বেচব !' বলল আয়না-কিজ ।
   “কত চাস এই বোঝার জন্য?'
   ‘দু তাঙ্গা’
   'ঐ দামেই কাঠ যেমন আছে তেমন বেচৰি নাকি?’
   ‘বেচব, যদি আমাকে পয়সা দাও যেমন আছে তেমন ।
   ‘ঠিক আছে, ঠিক আছে। তাড়াহুড়ো করে বলল বাই, গোঁফের আড়ালে হেসে । ‘চল আমার সঙ্গে ’
   ‘কোথায় বাঁধব, চাচা, তোমার’ গাধাটা?’
   মেয়েটির বাধ্যতায় বিস্মিত হয়ে বাই উঠোনের মাঝখানে একটা খুঁটি দেখিয়ে দিল কোন কথা না বলে । গাধাটাকে বেঁধে রেখে আয়না-কিজ দাম চাইল এবার। বাই একটু ব্যঙ্গের হাসি হেসে দুটি পয়সা বাড়িয়ে ধরল তার দিকে, কিন্তু আয়না-কিজ তাকে বলল:
   'চাচা, তুমি আমার কাছে কাঠ কিনেছ যেমন আছে তেমন, তাই গাধা পেলে কাঠসমেত, কিন্তু তুমিও কথা দিয়েছিলে পয়সা দেবে যেমন আছে তেমন। দুটো তাঙ্গার সঙ্গে তোমার হাতটাও চাই আমি।"
   মেয়েটির মুখে এমন কথা শুনে প্রথমটা হতবাক হয়ে গেল বাই । তারপর ভয় দেখাতে লাগল, গালিগালাজ করতে লাগল। কিন্তু আয়না-কিজ ছেড়ে দেয় না কিছুতেই। তখন কাজীর কাছে গেল তারা ।
   কাজী তাদের কথা শুনে যতই দাঁড়িতে হাত বোলাক, যতই তাকাক বাইয়ের রেশমী পোশাকের দিকে, কিছুই ভেবে বার করতে পারল না বাইকে বাঁচাবার জন্য । কাজী বলল, “বাই দুটাে তাঙ্গা দেবে মেয়েটিকে কাঠের দরুণ আর নিজের হাতের বদলে দেবে পঞ্চাশটা মোহর ।
   রাগে অন্ধ হয়ে গেল বাই । কাঠ, খোড়া ঘোড়া, গাধা সবকিছু দিয়ে দিতে প্রস্তুত কিন্তু দেরী হয়ে গেছে।
   আয়না-কিজকে মোহর দিতে দিতে বলল বাই:
   'তুই চালাকিতে আমাকে হারিয়েছিস রে মেয়ে, কিন্তু এ নিয়ে বড়াই করিস না যেন কারুর কাছে । চড়াই আর চিল এক হতে পারে না কখনও । যাই হোক না কেন আমার বুদ্ধি তোর চেয়ে বেশি। দেখতে চাস? তবে আয় বাজী রাখা যাক। কাজীর সামনে আমরা বলব নিজের নিজের জীবনের একটা করে বিস্ময়কর, অবিশ্বাস্য ঘটনা । যার কাহিনী কাজী বলবে বেশি ভাল সেই জিতবে। আরও মনে রাখিস, যে অন্যজনের গল্পকে বিশ্বাস না করে বলবে মিথ্যাবাদী, সে হারবে, রাজী ? পাঁচশো মোহর বাজী রাখছি আমি, তুইও তোর পঞ্চাশটা মোহর বাজী রাখ...'
   ‘আমি কাজী', বলল আয়না-কিঞ্জ, নিজের মাথা বাজী রাখছি আমি। 
   বাই কাজীর দিকে চোখ টিপে ইঙ্গিত করে গল্প আরম্ভ করল : 'একদিন আমি জামার মধ্যে খুঁজে পেলাম তিনটি গমের দানা, জানালার বাইরে ছুড়ে দিলাম সেগুলোকে । কিছুদিন বাদেই গমের ক্ষেত গজিয়ে উঠল আমার জানলার নীচে, আর তা এমন ঘন আর উঁচু যে উট, ঘোড়ার পিঠে যাওয়া লোকেরা পথ হারিয়ে ঘুরে বেড়াত তার মধ্যে কখনও কখনও কয়েকদিন ধরে পথ খুঁজত তারা । একবার এমন এক ঘটনা ঘটল, আমার চল্লিশটা সেরা ছাগল সেখানে গিয়ে হারিয়ে গেল ! কত ডাকলাম তাদের, কত খুঁজলাম কিন্তু ছাগলের হাড়গোড় দেখতে পাওয়া গেল না কোথাও ! সেই গম ঝাড়াই-বাছাই করে ভাঙান হল । ছাগলগুলোর কথা তখন সবাই ভুলেই গেছে। একদিন স্ত্রীকে বললাম রুটি তৈরি করতে ঐ ময়দা দিয়ে তারপর বই পড়তে বসলাম । রুটি সেঁকে আমার দিকে এগিয়ে দিল স্ত্রী। একটুকরো রুটি মুখে দিয়ে চিবোতে লাগলাম আমি । হঠাৎ আমার মুখের মধ্যে থেকে কে যেন ডেকে উঠল ছাগলের মত—বিস্ময়ে মুখ হাঁ হয়ে গেছে আমার...আর আমার মুখ থেকে টুক করে লাফিয়ে পড়ল একটা ছাগল, তারপর আর একটা, এমনি করে চল্লিশটা ছাগল, লাফালাফি আরম্ভ করে দিল বইয়ের ওপর । কি মোটাসোটা যে হয়েছে ছাগলগুলো প্রত্যেকটা যেন একটা চার বছরের ষাঁড়।'
   বাই থামল যখন এমনকি কাজীও অবিশ্বাসের ভঙ্গীতে মাথা নাড়াল। কিন্তু আয়না কিজের চোখের পাতাও একটু নড়ল না !
   'চাচা গো!' বলল সে, তোমার গল্প দেখছি সম্পূর্ণ সত্যি । তোমার মত বুদ্ধিমান লোকের জীবনে আরো ভাল কিছু ঘটনা ঘটা উচিত । এবার আমার কাহিনী শোন '
   বলতে আরম্ভ করল আয়না-কিজ। 
   একবার আমি আমাদের গ্রামের মাঝে একটা তুলোর বীজ পুতে দিই। কি ঘটল জান ? পরের দিন সেই জায়গায় তুলোগাছ গজাল একেবারে আকাশ পর্যন্ত উঁচু হয়ে । যতদূর পর্যন্ত তার ছায়া পড়ে, তিন দিন ঘোড়ায় চড়ে গেলে তবে তার শেষ দেখা যায়। যখন তুলোয় পাক ধরল, তা কেটে পরিষ্কার করে বেচলাম আমি । সেই টাকায় কিনলাম চল্লিশটা ভাল জাতের উট , তাদের পিঠে দামী দামী কাপড় বোঝাই করে আমার বড় ভাই রওনা দিল বুখারা। চলে গেছে ভাই, তিনবছর ধরে তার কোন খবরাখবর নেই। সম্প্রতি শুনতে পেলাম যে, পথে তার মাল লুঠ করে পরে তাকে মেরে ফেলেছে একজন কালো দাড়িওয়ালা লোক। আশা ছিল না যে খুনীকে খুঁজে পাব, কিন্তু ঘটনাচক্রে খুঁজে পেলাম তাকে বুঝলাম এবার সেই খুনী তুমি, কারণ তোমার পরণে আমার হতভাগ্য ভাইয়ের আলখাল্লাটা ।
   এ কথা শুনে কাজী লাফিয়ে উঠল, আর বাই বসেই রইল মেঝেতে । কি হবে এখন? যদি বলে মিথ্যা বলছে মেয়েটি তো শর্ত অনুযায়ী পাঁচশো মোহর দিতে হবে তাকে...আর যদি বলে মেয়েটি সত্যি বলছে তাহলে নিহত ভাইয়ের জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তাছাড়া দামী পণ্যভরা চল্লিশটা উট...
    শেষে আর থাকতে না পেরে চেঁচিয়ে উঠল বাই: 
   ‘জিভ খসে পড়ুক তোর, সব মিথ্যা বলছিস, সব মিথ্যা! নচ্ছার মেয়ে। এই নে পাঁচশো মোহর আর আমার আলখাল্লা কেবল, চটপট ভেগে পড় এখান থেকে!’ 
   আয়না-কিজ মোহরগুলো আলখাল্লায় মুড়ে নিয়ে দিল দৌড় গ্রামের দিকে । কাঠুরে ওদিকে মেয়ের আসতে দেরি দেখে চিন্তায় পথে বেরিয়ে পড়েছে। মেয়ে ছুটে কাছে আসতেই তাকে বুকে চেপে ধরে জিজ্ঞেস করল :
   "এতক্ষণ কোথায় ছিলি রে মা, আর বুড়ো গাধাটাই বা কই ? 
মেয়ে বলল :  বাবা, আমি তো ভালয় ভালয় ফিরে এসেছি, আর গাধাটা কাঠসমেত যেমন আছে তেমন বেচে দিয়েছি কালোদাড়িওয়ালা লোকটাকে ।
   ‘বেচারা', বিষন্ন সুরে বলল কাঠুরে, নিষ্ঠুর বাইটা তোকেও ঠকিয়েছে...সৰ্বনাশ হল আমাদের, দোষ আমারই ।
   বাবা, মন খারাপ কোরো না, কাঠের জন্য ভাল দাম পেয়েছি আমি ' বলে বাবার দিকে এগিয়ে দিল গোটান রেশমী আলখাল্লাট ।
   খুব সুন্দর, দামী পোশাক', তেমনি বিষন্ন সুরেই বলল কাঠুরে, কিন্তু এমন পোশাক আমার কি কাজে লাগবে ? ঘোড়াটা আর বুড়ো গাধাটা ছাড়া আমাদের ভিক্ষা করে খেতে হবে ?
   তখন আয়না-কিজ কোন কথা না বলে বাবার সামনে খুলে ধরল পোশাকটা, তার থেকে চকচকে মোহরগুলো পড়ে গেল মাটিতে । বুড়ো একবার দেখে মেয়ের দিকে, একবার মোহরগুলোর দিকে, বিশ্বাস হয় না, স্বপ্ন না সত্যি। মেয়ে তখন বাবার গলা জড়িয়ে ধরে শহরে যা যা ঘটেছিল সব খুলে বলল ।
   মেয়ের কথা শুনতে শুনতে কাঁদছে হাসছে কাঠুরে, শেষে আয়না-কিজ বলল : বাবা গো! যেখানে ধনী লুকিয়ে রাখে ধূর্ততা, সেখানেই গরীবের থাকে বুদ্ধি। কালোদাড়ি বাইয়ের উপযুক্ত শাস্তি হয়েছে আর এই মোহরগুলো দিয়ে আমরা সারা গ্রামের লোক সুখে শান্তিতে থাকতে পারব।"

এই গল্পটির ইপাব বই আছে

ইপাব ডাউনলোড কর : Epub

বইটি কোন ডিভাইসে পড়তে সমস্যা হলে “সাহায্য” বাটনে ক্লিক কর। সাহায্য
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য