দেবতার সাহায্য

   হিমালয়ের পাদদেশে এক ঘাঁটি ছিল। ঐ ঘাঁটিতে কয়েক হাজার বছর আগে এক পাহাড়ী জাতি বাস করত । ঐ জাতের লোক পশু পালন, ধানের চাষ প্রভৃতি করে জীবিকা নির্বাহ করত । কিন্তু ক্রমশ ঐ অঞ্চলে ফসল ফলানো আর পশুপালন করা কষ্টকর হয়ে উঠল । তার কারণ উঁচু পাহাড় থেকে ছোট বড় পাথর গড়াতে গড়াতে ঘাঁটির উপর পড়ত। কয়েকশো বছর ধরে এই ভাবে পড়তে পড়তে সেই ঘাঁটি পাথরের টুকরোতে ভরে গেল ।

   সেই ঘাটিতে বাস করা ক্রমশ মানুষের পক্ষে অসম্ভব হয়ে ওঠে । পাহাড়ী জাতের কয়েকজন যুবক নিজেদের মধ্যে কথা বলে ওদের নেতার কাছে গেল, “দাদু, স্থান পরিবর্তন না করলে আমাদের তো নাম গোত্র লোপাট হয়ে যাবে। পেট ভরে আমরাও খেতে পাচ্ছিনা আর অামাদের পশুদেরও খেতে দিতে পারছিনা। এই ঘাটি ছেড়ে অন্য কোথাও যাই চলুন।”
   বৃদ্ধ নেতা ওদের দিকে রায় ঘোষণা করার ভঙ্গিতে তাকিয়ে বলে, “এই ঘাঁটি অনন্তকাল থেকে আমাদের । আমাদের দাদুরা আর তাদের দাদুরা এই মাটিতেই মিশে গেছে। অন্য অঞ্চলে গেলে আমাদের জীবিকা বদলে যাবে ।”
   “এই ঘাটি মরে গেছে, আমাদের নাম ধাম মুছে যেতে বসেছে, তার চেয়ে আমাদের বদলে যাওয়াই ভাল।" বলল যুবকেরা ।
   "ওরে, এই ঘাঁটি মরে যায়নি, আমি দেখাবো এসো " বলে বৃদ্ধ নেতা যুবকদের নিয়ে গিয়ে দেখাল একটি বিরাট প্রস্তর খণ্ড । ঐ পাথর সরাতে বলল। পাথর ঠেলে সরালো। তার নিচে ছিল চমৎকার কালো মাটি ।
   "ওরে এই মাটিই তো সোনা । এই মাটিতেই সোনা ফলে । প্রত্যেকটা পাথরের নিচে এই ধরণের সোনা ফলানো মাটি আছে।” বলল সেই বৃদ্ধ । ,
   "সমস্ত ঘাঁটিতে পাথর থরে থরে পড়ে রয়েছে । আমরা কটা পাথর সরাবো ? তুমি আমাদের জন্য অন্য কোন অঞ্চল খুজে বের কর।” বলল যুবকেরা ।
   “ঠিক আছে, তবে আমি আমাদের গণদেবতাকে জিজ্ঞেস করি উনি যে আজ্ঞা দেবেন সেই মতো আমরা কাজ করব।” বলল বৃদ্ধ দল নেতা।
   তার পরের দিনই গোষ্ঠীর সবাইকে ড়েকে পাঠাল বৃদ্ধ দল নেতা । ছেলে মেয়ে বুড়ো বুড়ি সবাই বসল সভায়।
   “গণদেবতা কাল রাত্রে আমাকে স্বপ্নে বলেছে যে তার জন্য একটি অালয়
বানাতে হবে । আর আমাদের ঘরগুলো বানাতে হবে সেই আলয়কে ঘিরে । তারপর আমাদের দিন ফিরবে । ভাল দিন আসবে।” বলল সেই বৃদ্ধ ।
   সবাই তার কথায় উৎসাহিত হোল । ছেলেরা বাচ্চারা সব ছোট ছোট পাথরের টুকরো কুড়িয়ে এনে জড়ো করল। কিছুদিনের মধ্যেই আলয় গড়ে উঠল। বৃদ্ধের কথা মতো মন্দিরকে উচু জায়গায় করা হোল । তারপর আরও পাথর জোগাড় করে ঘর তোলা হোল ।
   এই সমস্ত কাজ করতে অনেক পাথর তুলতে হয়েছে। ফলে চার ভাগের তিন ভাগ মাটি দেখা দিল । সেই মাটি বেশ উর্বর। মাটিতে বীজ বপন করতেই গাছ গজিয়ে ওঠে। আর যে জমিতে মাটি কম ছিল সেখানে গজিয়ে উঠল সবুজ ঘাস।
এইভাবে মানুষ আর পশুর খাবার উপযোগী অঢেল ফসল ফলল। এর ফলে সবাই তাদের গণদেবতার কাছে কৃতজ্ঞ রইল।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য