শেয়াল আর সারস -- রাশিয়ার উপকথা

    শেয়াল আর সারসে খুব ভাব। 
    একদিন শেয়াল ভাবল সারসকে নেমস্তন্ন করা যাক। 
    বলল, ‘এসো সই, এসো আমার বাড়ীতে, নেমন্তন্ন রইল!” 
    সারস তো নেমস্তন্ন খেতে গেল। শেয়াল করল কি, সুজির পায়েস রান্না করে রেকাবে ঢেলে যত্ন করে অতিথিকে খেতে দিল:
    'খেয়ে নাও সই, বন্ধু আমার, নিজে হাতে রান্না করেছি।’
    সারস লম্বা ছুঁচলো ঠোট দিয়ে কেবলি ঠোকর মারে, কিছুই আর গলায় ওঠে না।
    ইতিমধ্যে চেটেপুটে সব পায়েস নিজেই শেষ করে দিল শেয়াল।
    খেয়ে দেয়ে বলল: 
    কিছ মনে করো না সই, পাতে দেবার মতো আর কিছু নেই।’
    সারস জবাব দিল: 
    ঠিক আছে। ঢের খেয়েছি। অনেক ধন্যবাদ। এবার তুমি এসো আমার বাড়ী, একসঙ্গে খাওয়া যাবে।”
    পরদিন শেয়াল গেল সারসের বাড়ী। সারস চমৎকার ঝোল রান্না করেছিল। লম্বা সুরমুখ একটা কলসিতে করে তা খেতে দিল শেয়ালকে:
    ‘খাও সই, খেয়ে নাও! এই সব, আর কিন্তু কিছু নেই।” 
    কলসির মধ্যে শেয়াল মুখ ঢোকাতে চেষ্টা করল। এদিক থেকে এগোয়, ওদিক থেকে এগোয়, একবার চাটে, একবার শোকে, কিন্তু এক ঢোকও খেতে পারল না: কলসির মধ্যে মাথা আর ঢোকে না।
    ঠোঁট ঢুকিয়ে সারস কিন্তু সব খেয়ে শেষ করে দিল। বলল, কিছ মনে করো না সই, পাতে দেবার মতো আর কিছু নেই।’ শেয়াল দুঃখে মরে। ভেবেছিল সাতদিনের খাওয়া খেয়ে নেবে, তার বদলে ঘরে ফিরল থোঁতা মুখ ভোঁতা করে।     যেমন কর্ম তেমন ফল !
  সেই থেকে শেয়াল সারসের বন্ধত্বে ঘুচে গেল।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য