শুনলেই কাজ হবে

    বীরবল হঠাৎ একদিন আকবর বাদশার শয়নকক্ষে প্রবেশ করলেন। অত্যন্ত প্রয়োজন। বাদশা পছন্দ করেন না কেউ তাঁর শোয়ার ঘরে এসে ঢোকে। তিনি রেগে গেলেন, ‘তুমি কি আর সময় পেলে না, কেন এসেছ এখানে এমন অসময়ে? যাও যাও, এখনই এখান থেকে চলে যাও?’
    বীরবল আবেদন জানালেন, জাঁহাপনা, দরবারের খুব জরুরি কাজে এসেছি, ক্ষমা করুন! দয়া করে একটু শুনুন। এ সময় আপনি এমন করলে অনেক ক্ষতি হবে হুজুর!
    ‘না না’, বাদশা ক্রুদ্ধ কন্ঠে বললেন, ‘তোমার সঙ্গে কথা বলার আমার একদম সময় নেই, একটি কথাও আমি বলতে পারব না। যাও, কাল ওসব হবে। আজ এখানে কোনওমতে তোমার সঙ্গে আলোচনা হতে পারে না। আমার এখন ভীষণ কাজ আছে।
    তোমার কথা শোনার জন্য আমি এখন মন স্থির করতে পারব না। তুমি এই মুহুর্তে এখান থেকে যাও ?
    এত বলার পরও বীরবল দাঁড়িয়ে রইলেন। 
    সম্রাট বললেন; যাও বলছি। তোমার সঙ্গে একটি কথাও আমি বলতে পারব না।’
    বীরবল বললেন, আমিও তাই চাই হুজুর। একটি কথাও আপনি বলবেন না, আপনি চুপ করে শুনলেই আমার কাজ হবে। আমি হব বক্তা, আর আপনি শ্রোতা।’
    সম্রাট এবার আনন্দে হেসে উঠলেন। তারপর কী যেন বলতে যাচ্ছিলেন, বীরবল বাধা দিয়ে বললেন, দয়া করে কথা বললেন না হুজুর, শুধু আমার কথা শুনুন। আপনাকে কথা আজকে কোনওমতে বলতে হবে না, কালকে বলবেন।’
    সম্রাট নিজের মুখের হাসি চাপলেন। বীরবলও নিজের কথা বলা আরম্ভ করে তবে ছাড়লেন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য