চিত্রকর রোশনলাল

    রাজধানী দিল্লিতে রোশলাল নামে একজন চিত্রকর ছিলেন। তিনি খুব ভাল ছবি আঁকতেন। দেশবিদেশের নানা জায়গা থেকে প্রতিকৃতি এঁকে দেওয়ার জন্য তার প্রায়ই ডাক আসত। ছবি একে তিনি ভালই পয়সা উপার্জন করতেন।
    একবার এক মহাজন রোশনলালের সঙ্গে দেখা করলেন। মহাজনটি ছিলেন খুব কৃপণ, সহজে পয়সা খরচ করতে চাইতেন না। তিনি চিত্রকরকে বললেন, আমার একটি প্রতিকৃতি এঁকে দিতে হবে। তবে সেটা নিখুঁত হওয়া চাই।'
    চিত্রকর বললেন, “এ আর এমন কী কঠিন কাজ! কত বড় বড় নবাব বাদশার প্রতিকৃতি একে পুরস্কার পেয়েছি, আর আপনারটা পারব না ?’
    মহাজন বললেন, ‘এর জন্য আপনাকে কত দিতে হবে?
    চিত্রকর বললেন,‘ আমি প্রতিটি প্রতিকৃতির জন্য এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা নিই।’
   মহাজন বললেন, আপনি যদি আমার প্রতিকৃতি একদম নিখুঁত আঁকতে পারেন তাহলে আপনাকে দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দেব।’
   রোশনলাল খুব খুশি মনে মহাজনের প্রতিকৃতি আঁকতে শুরু করলেন। মাসখানেক পর কাজটা শেষ করে তিনি মহাজনের হাতে ছবিটা দিলেন।
     মহাজন অনেকক্ষণ ধরে ছবিটা পরীক্ষা করে বললেন, কিন্তু চিত্রকর, আপনার কাজ তো ঠিক হয়নি। আমার কানের পাশে যে দাগটি রয়েছে সেটা তো ছবিতে দেখতে পাচ্ছি না।’ 
    চিত্রকর দেখলেন কথাটা ঠিকই। তিনি বাড়ি নিয়ে গিয়ে ছবিটা ঠিকঠাক করে আবার মহাজনের কাছে নিয়ে এলেন।
   এবারও অনেকক্ষণ ধরে খুঁটিয়ে দেখে মহাজন বললেন, “কই এখনও তো ঠিক হল না, আমার বা চোখের ওপর যে তিলটা রয়েছে সেটা ছবিতে কোথায় ?
    চিত্রকর লজ্জিত হয়ে ছবিটা ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন। ঠিকঠাক করে মহাজনকে দেখালে তিনি অপর একটা খুঁত ধরলেন।
    এইভাবে বেশ কিছুদিন চলতে লাগল। মহাজন কোনও-না-কোনও খুঁত দেখিয়ে চিত্রকরকে ফেরত পাঠিয়ে দেন। কিছুতেই তিনি চিত্রকরের পারিশ্রমিক তাকে দেন না।
    শেষে রোশনলাল একদিন বীরবলকে গিয়ে সব কথা বললেন। কী করতে হবে, বীরবল তা চিত্রকরকে ভালভাবে বুঝিয়ে দিলেন।
    পরদিন চিত্রকর মহাজনের কাছে গিয়ে বললেন, ‘এবার আপনি আর কোনও খুঁত ধরতে পারবেন না, একেবারে ঠিক করে এনেছি।’
    মহাজন বললেন,‘বেশ, মোড়কটা খুলুন, ভাল করে দেখি।’
    চিত্রকর মোড়কটা খুললেন, কিন্তু ছবি কোথায় ? এ তো একটা আয়না!
    মহাজনের আর কিছু বলার রইল না। তিনি বুঝলেন যে তিনি হেরে গেছেন।
    চিত্রকর আয়নাটি মহাজনের সামনে ধরে বললেন, ‘দেখুন তো মহাজন, এবার আপনার নিখুঁত প্রতিকৃতি হয়েছে কিনা!
   মহাজন তখন অনেক কষ্টে দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা চিত্রকরকে দিলেন। চিত্রকর সবার আগে বীরবলকে ধন্যবাদ জানালেন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য