বত্রিশ পুতুলের উপাখ্যান: ১০ম উপাখ্যান

    পরদিন ভোজরাজ সিংহাসনে বসতে গেলে দশম পুতুল বললো, মহাবাজ, আমার নাম চণ্ডিকা, আমার কথা আগে শুনুন, তারপর সিংহাসনে বসবেন ।
    বিক্রমাদিত্য যখন উজ্জয়িনীতে রাজত্ব করতেন তখন এক যোগী এসে উপস্থিত হলেন সেথানে। শোনা গেল এমন কোন বিদ্যা নেই যা তিনি জানেন না। বেদ, চিকিৎসা, জ্যোতিষ, গণিত, সঙ্গীত-- সকল বিষয়ে পারদর্শী তিনি এককথায় তিনি সর্বজ্ঞ ।
    রাজা বিক্রমাদিত্য এই যোগীর সুখ্যাতি শুনে তাঁকে ডেকে আনবার জন্য একজন পুরোহিত পাঠালেন।
   যোগী রাজার সামনে এসে বললেন, রাজন, আপনি যদি মন্ত্রসাধনা করেন তবে জরা মরণ-রহিত হবেন। অথাৎ কখনও মরবেন না।
    রাজা বললেন, সে মন্ত্র আমাকে শিখিয়ে দিন, আমি তার সাধনা করব।
   যোগী তখন রাজাকে সেই মন্ত্র শিখিয়ে দিয়ে বললেন, ব্রহ্মচারী হয়ে এক বৎসর এই মন্ত্র জপ এবং দুর্বা ঘাস দিয়ে মন্ত্র জপের পর দশ ভাগের এক ভাগ হোমের আগুনে দেবেন। এক বছর পর হোমকুণ্ড থেকে একজন দিব্য পুরুষ ফল হাতে এসে আপনাকে সেই ফল দেবে। সেই ফল খেলেই আপনি জরা মরণ-রহিত হবেন। আপনার দেহও বজ্রের মত কঠিন হবে।
    যোগী মন্ত্র ও উপদেশ দিয়ে সে স্থান ত্যাগ করলেন ।
    রাজা লোকালয়ের বাইরে এক বৎসর ব্রহ্মচর্য পালন করে মন্ত্র জপ করে দুর্বাঘাস দিয়ে হোম করলেন। তারপর হোমকুণ্ড থেকে এক দিব্যপুরুষ একটি ফল হাতে আবির্ভূত হয়ে রাজাকে সেই ফল দান করলেন।
    রাজা সেই ফল হাতে নিয়ে নগরে প্রবেশ করে যখন প্রাসাদের দিকে যাচ্ছিলেন তখন কুষ্ঠ ব্যাধিতে আক্রান্ত এক ব্রাহ্মণ রাজার সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে রাজন, রাজা প্রজাদের কাছে পিতৃতুল্য। আপনিও সকলের দুঃখ দূর করেন।আমারও দুঃখ দূর করুন। এই কুষ্ঠব্যাধি আমার দেহকে নষ্ট করছে, শরীর নষ্ট হলে কোন কাজই করা যায় না। সুতরাং এই দেহ যাতে নিরাময় হয় তাই আপনি করুন।
    ফলটি ব্রাহ্মণকে দান করলেন রাজা । তারপর খুশিমনে প্রাসাদে ফিরে এলেন।
    পুতুলটি ভোজরাজকে বললো, এ রকম ঔদার্য গুণ যদি আপনার থাকে তবে সিংহাসনে বসুন।
    পুতুলের এই কথা শুনে রাজা চুপ করে রইলেন।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য