কেঠো পা ভালুক -- রাশিয়ার উপকথা

    এক ছিল বুড়ো আর ছিল এক বুড়ী।
    বুড়োবুড়ী কিছু শালগম লাগিয়েছিল। ভালকে এসে তা চুরি করে খেত। বুড়ো ক্ষেত দেখতে গিয়ে দেখে, কে যেন শালগম উপড়ে চারিদিকে ছড়িয়ে রেখেছে।
    বুড়ো বাড়ী এসে বুড়ীকে সব বলল। বুড়ী বলল: ‘কিন্তু কে একাজ করলে? মানুষ হলে শালগমগুলো উপড়ে নিয়ে পালাত। যত নন্টের গোড়া ঐ ভালুকটারই কাজ। যা বুড়ো, চোরের ওপর নজর রাখিস।”
    বুড়ো একটা কুড়ল নিয়ে চলল, সারা রাত পাহারা দেবে। বেড়ার পাশে চুপটি করে পড়ে রইল বুড়ো। হঠাৎ দেখে, একটা ভালুক এসে শালগমগুলো উপড়াতে লাগল। তারপর বোঝা করে শালগম নিয়ে বেড়া টপকাতে যাবে...
    অমনি বুড়ো লাফিয়ে উঠে কুড়ল ছুড়ে ভালকের একটা ঠ্যাং কেটে নিয়ে লুকিয়ে পড়ল।
    ভালুকটা ডাক ছেড়ে তিন পায়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে বনের দিকে চলে গেল ।
    কাটা ঠ্যাংটা নিয়ে  ‍বুড়ো চলে এল বাড়ীতে। বলল: ‘এই নে বৌ, রান্না করিস।’ 
    বুড়ী সেটার ছাল ছাড়িয়ে সিদ্ধ বসিয়ে দিল। তারপর ছাল থেকে লোম ছাড়িয়ে নিয়ে ছালটা পেতে বসে, লোম পাকিয়ে পশম বানাতে লাগল।
    বুড়ী পশম বোনে আর ভালকেটা এদিকে একটা কাঠের পা তৈরী করে বুড়োবুড়ীর ওপর শোধ তুলবে বলে বেরিয়ে পড়ল।
    ভালুক হাঁটে, কাঠের পা খটখটায়, নিজের মনে গজগজায়:
‘গর্‌র গর্‌র গুরুক,
আমি কেঠো পা ভালুক।
চারিদিকে সবে ঘুমিয়ে,
আমি চলি শুধু খুঁড়িয়ে। 
বুড়ী হোথা ঐ জাগছে, 
আমার গায়ের ছাল পেতে বসে 
লোম দিয়ে সুতো কাটছে! 
স্পর্ধা দেখছ বুড়ীটার! 
আমারি পায়ের মাংস রাঁধছে, 
বসে বসে খাবে বুড়ো তার!”

    বুড়ী শুনতে পেয়ে বলে: --
    বুড়ো, ও বুড়ো, দোরটা দিয়ে দে। ভালকে আসছে...”
    ভালুকটা কিন্তু ততক্ষণে ভিতরে ঢুকে গেছে। দরজা খুলে গর্‌র গর্‌র করে বলল :

‘গর্‌র গর্‌র গুরুক,
আমি কেঠো পা ভালুক।
চারিদিকে সবে ঘুমিয়ে,
আমি চলি শুধু খুঁড়িয়ে। 
বুড়ী হোথা ঐ জাগছে, 
আমার গায়ের ছাল পেতে বসে 
লোম দিয়ে সুতো কাটছে! 
স্পর্ধা দেখছ বুড়ীটার! 
আমারি পায়ের মাংস রাঁধছে, 
বসে বসে খাবে বুড়ো তার!”

    বুড়োবড়ী তো ভয়ে মরে। বুড়ো মাচার ওপরে গামলার তলায় গিয়ে লুকিয়ে রইল। বড়ী চুল্লির ওপর।
    ভালুকটা ঘরে ঢুকে এখান খোঁজে সেখান খোঁজে। খুজতে খুজতে পা ফসকে একেবারে তলকুঠরিতে।
    তখন পাড়াপড়শী সব দৌড়ে এসে মেরে ফেলল ভালুকটাকে।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য