চোখের চিকিৎসা -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

   মোল্লাসাহেব গরীবদের বিনা পয়সায় ওষুধ দিয়ে ভাল করে দিয়েছেন। তাই তাঁর হাত যশও ছিল ।
  রাত দুপুরে এক প্রতিবেশী পেট চেপে ধরে মোল্লার দরজার সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ে। কাতরাতে-কাতরাতে বলে ‘মোল্লাজী, আমাকে বাঁচান।’
   দোতলা থেকে মোল্লাসাহেব লণ্ঠন হাতে নেমে আসেন। জিজ্ঞেস করেন—‘কি হয়েছে তোমার?’
   ‘হুজুর, দারুণ পেটের যন্ত্রণ হচ্ছে । সেই সন্ধে থেকেই।’ 
   ‘কি খেয়েছিলে আজ দুপুরে?’
   'জী, কয়েকটা ছাতা-পড়া বাসী পিঠে।’ 
   ‘ঠিক আছে, ভেতরে এসে তুমি ।’--ভেতরে ডেকে নিয়ে গিয়ে রোগীর চোখ দেখতে থাকেন মোল্লা।
   রোগী কাতরাতে-কাতরাতে বলে, হুজুর, অামার ব্যথাটা পেটে, চোখে নয়।’
   ‘তুমি চুপ করে থাকে । তোমার তো আর্থিক অবস্থা খারাপ নয় শুনেছি। যে লোক বাসী পিঠের ওপর ছাতা দেখতে পায় না, তার চোখের চিকিৎসাই সর্বাগ্রে করা উচিত।’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য