চাষী আর ভালুক -- রাশিয়ার উপকথা

এক চাষী একদিন বনে গেল শালগম বুনতে। চাষী লাঙল চালাচ্ছে, এমন সময় এক ভালুক এসে হাজির।
‘চাষী, আমি তোর হাড় গুড়িয়ে দিই।’
‘না ভালুকদাদা, হাড় গুড়িয়ে দিও না। তার চেয়ে বরং এসো আমরা দুজনে মিলে শালগম বুনি। আমি কেবল গোড়াটা নেব, তোমায় ডগাটা দেব।’
ভালুক বলল, তা বেশ, কিন্তু বাপু যদি ঠকাও, তাহলে আমার চোখে পড়লে আর নিস্তার পাবে না।’
এই বলে ভালুক চলে গেল ঘন বনের মধ্যে।
এদিকে শালগমগুলো বড় হল। শরৎকাল, চাষী চলল শালগম তুলতে। ভালুকটাও অমনি ঘন বন থেকে বেরিয়ে এল। বলল:
‘শালগম ভাগ করো চাষী, আমার পাওনা দাও।” 
“ঠিক আছে, ভালুকদাদা, গোড়া আমার, ডগা তোমার।’ 
চাষী ভালুককে কেবল পাতাগুলো দিল। আর নিজে শালগমগুলো গাড়ী বোঝাই করে নিয়ে শহরে গেল বেচতে।
পথে ভালকের সঙ্গে দেখা। 
‘কোথায় যাচ্ছ চাষী?’
‘এই শহরে যাচ্ছি ভাই, গোড়াগুলো বেচতে।’ 
‘দেখি, তোমার গোড়াগুলো খেতে কেমন?’ 
চাষী একটা শালগম দিল। ভালুক শালগমটামরখে দিয়েই গর্জন করে উঠল: ‘এ্যাঁ, তুমি দেখছি আমায় ঠকিয়েছ! গোড়াগলো তোমার বেশী মিষ্টি। আমার বনে যদি আর কোনোদিন জ্বালানি কাঠ নিতে আসো রক্ষে রাখব না, হাড় গুড়িয়ে দেব।’
পরের বছর চাষী আবার ঠিক সেই জায়গাতেই চাষ করল। এবার শালগম নয়, রাই। রাই কাটার সময় হয়েছে। চাষী মাঠে গিয়ে দেখে ভালুক ঠিক হাজির। বলল, ‘এবার বাপ আর আমায় ঠকাতে পারছ না! ভাগ দাও আমার!” 
চাষী বলল: ‘যো হকুম। তুমি, ভালুকদাদা, তাহলে গোড়াগুলোই নাও, আমি নেব কেবল ডগাটুকু।’
দুজনে মিলে ফসল তুলল ওরা। গোড়াগুলো সব চাষী দিয়ে দিল ভালুককে। নিজে গাড়ী ভরে রাই নিয়ে গেল বাড়ীতে।
ভালুক গোড়াগুলো চিবোয় আর চিবোয়, কিন্তু বাগে আর আনতে পারে না।
চাষীর ওপর হাড়ে হাড়ে চটে গেল ভালুক। সেই থেকে ভালুক আর চাষীর মধ্যে শত্রুতা।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য