খোদা যারে রাখে তারে মারে কে -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

এক রাতে বাগানে হঠাৎ পৎ পং শব্দে নাসিরুদনের ঘুম ভেঙে গেল। জানলা দিয়ে নাসিরুদিন দেখেন—বাগানের মাঝখানে একটা বিরাটাকায় লোক দাঁড়িয়ে—তার দুটো হাত নড়ছে সমানে।
এহেন জোয়ান লোকটার সঙ্গে সামনাসামনি দাঁড়ানো চাট্টিখানি কথা নয়। তাই গিন্নীকে ডেকে তোলেন মোল্লা । বলেন,– ‘যাও তো, ওঘর থেকে আমার তীর-ধনুকটা নিয়ে এসে। এই ঘরের ভেতর থেকেই ব্যাটাকে ঘায়েল করবো।’
শেষ পর্যন্ত লোকটার পেট এফোঁড়-ওফোঁড় করে নিশ্চিন্ত মনে নাসিরুদিন শুতে গেলেন আবার। গিনীকে বললেন,—‘আজ রাত্তিরের মত নিশ্চিন্তি। কাল সকালে যা হোক করে লোকটাকে কবর দিয়ে দেবো—দুজনে মিলে, কি বলে গিন্নী?
—গিন্নীও তেমনি ভীতু। তিনিও খুশী মনে সায় দেন কর্তার কথায়।
পরদিন ভোরে বাগানে যেতে হোল না, জানাল দিয়েই দেখা গেল, আসলে তীরটা গিয়ে বিধেছে মোল্লার আলখাল্লায়, যেটা তাঁর বিবি দুপুরে কেচে বাগানের দড়িতে শুকোতে দিয়েছিলেন। তুলে আনতে ভুলে গিছিলেন একেবারে।
আলখাল্লার এহেন এফোঁড় ওফোড় অবস্থা দেখে মোল্লা নাসিরুদিন মোনাজাত করতে লাগলো জানু পেতে। ‘খোদা, তুমি সত্যিই মেহেরবান, তুমি যাকে রাখো, কে তাকে মারে?’
বিবি বললেন, ‘রাত্তিরে তো খুব তড়পাচ্ছিলে, কিন্তু এখন খোদা আসছেন কোথেকে?’
‘বাঃ রে, সাধে লোকে বলে মেয়ে মানুষের বুদ্ধি? দেখছে না, আলখাল্লার পেট ফুটো। যদি আমি ঐ আলখাল্লার ভেতরে থাকতাম, তাহলে কি হোত, সেটা ভেবে দেখেছ?’
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য