চিতা নাগেশ্বরী --শক্তিপদ রাজগুরু

    কালীপূজোর রাত্রিই হবে সেটা। নীলুর মামার বাড়িতে গেছি। পুরনো জমিদার বংশ। সুতরাং কালীপূজোটা বেশ জাঁক করেই করেন তারা। পাঁঠা যে কত পড়ত সঠিক গুণি নি, তবে বেশ মনে পড়ে, রক্তে হাঁড়িকাঠের চারদিকের মাটি ভিজে যেত, পাঁঠার পর পাঁঠা বলি হয়ে চলেছে !
    তারপর ভেড়া এবং শেষে মোষ।
    সে এক নারকীয় ব্যাপার। রাতের আবছা অন্ধকারে বন সীমায় ঢাক বাজছে গুরগুরু শব্দে। আর ওই উন্মাদ জয়ধ্বনি। ওদিকে রক্তে ভেজা মাটিতে স্তুপ করা রয়েছে পাঠা, মোষ এবং মোষের মুণ্ডু।
    শুনেছি, তাদের কোন শ্ৰদ্ধেয় ব্যক্তির এক পুত্রকে বলা হয়েছিল একটা পাঠার মুড়ো নিয়ে যেতে। রাতের অন্ধকারে যোগ্য পুত্ররত্ন বেশ বেছে বেছেই সবচেয়ে বড় মুড়োটাই গামছায় বেঁধে বাড়ি নিয়ে যায়, এবং সকলের সামনে গামছা খুলতে দেখা যায়, বড় পাঠার মুণ্ডু ভেবে যা সে গামছায় বেঁধেছে তা একটি মহিষ শাবকের মুণ্ডু। মহিষের মাথাটাই তুলে এনেছে অন্ধকারে ।
    কথাটা নিয়ে এখনও অনেকে হাসাহসি করে। সেই জমিদার বংশও এখন সাধারণ পর্যায়ে নেমে এসেছে। সেই গ্রামের চারদিকে ঘন শালবন—ওদিকে অজয়ের ধার পর্যন্ত বিস্তৃত গহন অরণ্যভূমি আজ প্রায় উধাও, সেখানে গড়ে উঠেছে বিরাট লোহার কারখানা, হেভি মেসিনারীর কারখানা।
    সবই আজ গল্পকথায় পরিণত হয়েছে, তাই আজকের শিকার কাহিনী যা বলব, তাও অতীতের পর্যায়েই পড়েছে, কিন্তু আমি ভুলি নি।
    হ্যাঁ, সেই কালীপূজোর রাত্রিতেই সেবার ঘটনাটা ঘটেছিল। গ্রামটা ঠিক ওই মস্ত শালবনের একটু বাইরে,ওদিকে চলে গেছে গ্রাণ্ড ট্রাঙ্ক রোড—বনের মাঝ দিয়ে চড়াই, ছোট বড় টিলা আর খাদ—চারদিকে শাল মহুয়া আসান গাছের ঘন জঙ্গল, মাঝে মাঝে বনগড়ানী বৃষ্টির জল গিয়ে গিয়ে মস্ত খাদের সৃষ্টি হয়েছে ওপর থেকে নীচে দৃষ্টি যায় না। এই বন চলে গেছে অজয়নদী পেরিয়ে বীরভূমের দিকে। ওপাশে দামোদর পার হয়ে বাঁকুড়ার শুশুনিয়া বিহারীনাথ পর্বত সানু ছুঁয়ে বিহারের দিকে এক নাগাড়ি জঙ্গল।
    রাতের অন্ধকারে ওই শাহী সড়কে ভুলেও লোকজন যায় না। গাড়িও চলে দল বেঁধে, বিশেষ করে ওই জঙ্গলের মধ্যে।
    একটা থমথমে অন্ধকার আর বুকচাপ। ভয়ে সকলেরই বুক কাঁপে এ বনের মাঝে এসে।
    কালীপূজোর পরদিনই ব্রাহ্মণ ভোজনের সমারোহ। বাইরের বাড়িতে থিয়েটারের মহড়া চলছে, একপাশে চুপ করে বসে আছেন নরেনবাৰু, সুন্দর টকটকে চেহারা; সাড়ে ছ’ফুট দীর্ঘ-তেমনি সুপুরুষ। এমন বলিষ্ঠ লোক আমি কমই দেখেছি।
    মহলায় তার মন নেই। চুপ করে কি যেন ভাবছেন। ওদিকে জঙ্গল মহাল মামড়া থেকে ক'জন লোক আসছে খবরটা নিয়ে।
    কয়েকদিন ধরেই একটা বাঘ উৎপাত করছে; আজ এ গায়ে-কাল অন্ততঃ মাইল দশেক দূরে অজয়ের ধারে কোন গ্রামে কাউকে মেরেছে –আবার দু-তিন দিন কোন খবর নেই। হঠাৎ শোনা যায়, কোশ চারেক পশ্চিমে আমলাই-এ কোন চাষীকে মেরেছে। একটা আতঙ্কের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে বাঘটা ওই অঞ্চলে। তারা অনুনয় করে—কোন উপায় নেই, ছোটবাবু! কাল রাতে বড় বলদটাকে নিয়ে গেছে।’
    নরেনবাবু ইতিপূর্বে যে শিকারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তার কিছুটা পরিচয় আমি জানি। সেই শিকার করতে গিয়ে দু’একবার অল্পের জন্যে বেঁচে এসেছেন। এখনও মাথায়, বিশাল বাহুমূলে সেই গভীর ক্ষতের দাগ মিলায় নি তার।
    তবু ঢাকে কাঠি পড়লে গাজনের সন্ন্যাসী নাচবেই, নরেনবাবুও ঠিক থাকতে পারেন না এই খবর শুনে।
    —চল, আজই যাব, বলদটা কোথায় রেখেছে জানিস? 
    --হা। মরা বলদটী বনের মাঝেই নিয়ে গেছে। 
    মহলা রইল পড়ে, দলবল তৈরি হয়ে গেল। দেখে মনে হয়, ওদের ওই দল প্রায়ই তৈরি হয়ে থাকে, শুধু নোটিশের অপেক্ষা। আমিও সঙ্গ নিলাম। আমতা আমতা করে বললাম, কিন্তু, বাঘ বলে কথা, সেবার হাজারীবাগ জঙ্গলে...’
    নরেনবাবু অভয় দেন, কোন ভয় নেই। চল তুমি— 
    ভরসাই বা কি, জানি না। তবু চললাম ওঁদের সঙ্গে । চক্ষুলজ্জা বলেও তো একটা বস্তু আছে, ওরা ভাববে কি!
    সঙ্গে আমরা তিনজন আর নরেনবাৰু। গোটা-তিনেক ব্রিচ লোডার বন্দুক নেওয়া হ’ল আর নরেনবাবু নিলেন একটা ৪৪৪ হেভি রাইফেল। প্রচণ্ড এর শক্তি।
    কয়েকটা রাইফেল থেকে বেছে আজ ওইটাই নিয়ে চললেন তিনি। শাহী সড়ক পার হয়েই আমরা বনে ঢুকলাম। নরেনবাবুকে লক্ষ্য করে চলেছি। এতক্ষণ নরেনবাবু, বেশ হাসিখুশী গল্পবাজ লোক ছিলেন, বনে ঢোকার পর থেকেই কিন্তু কেমন বদলে গেছেন তিনি। পেছনে দল বেঁধে চলেছি আমরা, মাঝে মাঝে হালকা কথাবার্তা বলছি—হাসাহাসিও করছি।
    তোমরা যাকে খুঁজতে বের হয়েছ, সেও যে তোমাদের দেখে নি তা কেউ বলতে পারে! সাবধান, চুপ করে এসো।'
   বনে ঢুকলেই তিনি বদলে যান, আগেও তা দেখেছি। দু'চোখে কেমন একট তীব্র ঔজ্জ্বল্য ফুটে ওঠে তার, বাতাসে সন্ধান করে চলেন কিসের এক গন্ধের!
    সম্মিলিত একটা মিষ্টি সৌরভ, লাল গেরুয়ামাটি আকাশের দিকে উঠে গেছে, ঘন শালবনের সীমা বুকে নিয়ে। সুন্দর ছবির মত মিষ্টি একটা সোনামাখা রোদ-বিকাল সুন্দরী যেন কোন বনভূমি। কিন্তু এর বুকেও লুকিয়ে আছে মৃত্যুদূত। রক্তলোভী কোন পিচাশ।
    হঠাৎ গভীর বনের মাঝে এসে থমকে দাড়ালেন নরেনবুব। আকাশে দুএকটা শকুনি উড়ছে, শ্যেনদৃষ্টিতে তারা সন্ধান করছে কিসের—অরণ্য গভীরে।
    ফিসফিস করে লোক দুটো বলে, ‘এসে গেছি, বাবু। ওই যে— 
    অর্থাৎ বলদের মৃতদেহটা যেখানে বাঘটা রেখে গেছে তার কাছেই এসে পড়েছি। জায়গাটা বেচেছে চমৎকার!
    বনভূমি এখানে বেশ গভীর, কয়েকটা পুরনো শালগাছ মাথা তুলেছে, ওপাশে একটা মস্ত অশ্বথগাছ কাঁকড়া পাতা মেলে ঠাঁইটাকে আঁধার করে রেখেছে।
    এপাশে ওপাশে ছোট ছোট শালগাছের ঝোপ। তারই একদিকে মস্ত বলদটা পড়ে আছে। আর সবচেয়ে বিস্মিত হবার কথা, সেটা এমনিই ফেলে যায় নি, শালগাছের ডালপাতা ভেঙে তাকে ঢাকা দিয়ে গেছে, যাতে ওই শকুনগুলোর নজরে না পড়ে। বেশ সাবধানী আর চতুর বাঘ।
    বালি আর মরা জল গড়ানি খাতের পাশেই সুন্দর বলদটা পড়ে আছে-- চারপাশে থাবার দাগ।
    আমরা স্তব্ধ হয়ে গেছি। বনভূমির গাছপাতায় মর্মরও থেমে গেছে এই নিষ্ঠুর হত্যালীলায়। রক্তের অক্ষরে লেখা কি এক করুণ কাব্য।
    নরেনবাবু চারদিকে চেয়ে চেয়ে দেখলেন। তারপর বলে উঠলেন, মাদী বাঘ। আর অন্তত এগার ফুটের কাছাকাছি হবে। পায়ের দাগ থেকে হিসেব করে বাঘের আয়তন পাওয়া যায় ; বললেন, ‘গাছের ওপর মাচা কর। আর ওই ঝিলের ওপর দিকে যে শালবনটুকু আছে, দুচারটে শাল ডাল কেটে ওটা আর একটু ঝোপ মত কর। এখানের কোন গাছ পাতায় হাত দেবে না। দূর থেকে পাতা ডাল ভেঙে আন।
    মাচা তৈরি করা হ’ল। প্রাচীন অশ্বথ গাছ—মজবুত পোক্ত ডাল। মাচাটা মন্দ হ’ল না। নরেনবাবু বললেন, ‘বলদের মাথার দিকের ঝোপটায় থাকব আমি, তোরা মাচায় ওঠ। নরেনবাবুর ভাইপো দীপুও তরুণ শিকারী, দু'একটা বিগগেম সেও ঘরে তুলেছে। সে বলে ওঠে, মাটিতে থাকবেন?
    —হা। শয়তান বাঘ ওটা। ভারি চালাক। যে বাঘ লোকালয়ে উৎপাত করে, মানুষ মারে সে স্বভাবতই সাবধানী আর সাহসীই হয়ে ওঠে। মানুষকে সবাই ভয় করে ; বনের বাঘ অবধি। তাই এড়িয়ে চলে। কিন্তু যে কোন কারণেই হোক বাঘ যদি একবার মানুষ মারে-সে বুঝতে পারে, এর তুল্য সহজ শিকার আর নেই। হরিণের মত দৌড়তেও পারে না, অন্য কোন জামোয়ারের মত বাধা দিতেও পারে না। সুতরাং সুযোগ পেলেই সে মানুষ মারে—বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
    দীপু বলে ওঠে, তাই বলছিলাম, রাত্রিবেলা নীচে নাই বা থাকলেন? হাসেন নরেনবাবু, একটা সুযোগ সে দিয়েছে, বলদটার সবচেয়ে নরম অংশগুলো আগে খাবে। অর্থাৎ লিভার এবং অন্য জায়গাগুলো তার ফলে অসাবধান তাকে হতেই হবে, আর সেই সুযোগ আমি নিতে চাই।'
    কথাটা ঠিক বুঝতে পারি না। তবু তার নির্দেশ মত গাছেই উঠলাম আমরা। তিনি নীচে রইলেন। নিঝুম বনের মাঝে নামছে সন্ধ্যের অন্ধকার। ওদিকে বাতাসে ভেসে ওঠে জাগর অরণ্যের মর্মরধ্বনি, গাছে পাতায় কি যেন কানাকানি চলছে। মুখ বুজে আছে ওরা-নিষ্ঠুর কোন আদিম বনভূমির হিংস্ররূপের প্রকাশে ওরা ভয় পেয়েছে। পাখ পাখালীর ডাকও থেমে গেছে।
    নরেনবাবু বললেন, ‘কেউ তোরা গুলি করবি নে।’ 
    মাচার ওপর বসে আছি। দীপু আমাকে বেঁধেছে একটা ডালের সঙ্গে। কথা বলাও বারণ। হাঁচি কাশি এলে তাও চেপে বসে থাকতে হবে। যেন কোন অন্তঃহীন প্রতীক্ষা!
    রাত গভীর হয়ে আসে। আকাশের বুকে তারার আলো দেখা যায়-ক্রমশঃ হেমন্তের প্রথম কুয়াশার ফিকে আভা বনভূমির মাথার আকাশটুকু হালকা আবরণে ঢেকে দেয়। শীত শীত করছে—পাতা ঝরছে বনে। এক একটা পাতা। তাদের মৃদু খসখসানিটুকুও শোনা যায়।
    রাতের বনভূমি। দূরে কোথাও একটা শেয়াল ডেকে ওঠে। আবার চুপচাপ কেউ যেন জোর করে তার কণ্ঠরুদ্ধ করেছে।
    মৃত অন্ধকার বনভূমিতে নেমেছে আতঙ্কের কালো ছায়া, লম্ব গাছগুলোকে আঁধারে মনে হয় বিশাল কালো দৈত্য। হাত মেলে আকাশ থেকে কোন তারার টিপ-পরা কাজল মেয়েকে ছিনিয়ে আনতে চায় যেন।
    বাতাসে বাতাসে একটা চাপা গর্জন-ধ্বনি বন-পাহাড়ীর দিক থেকে বেগে নেমে আসছে কি? অসহ্য রাগ জ্বালায় জ্বলছে সে! কেমন জমাট হয়ে বসে আছি মাচার ওপর। হিমরাতেও তেষ্টা বোধ হয়।
    ঘন ঘন শব্দ কানে আসে। ঘন জঙ্গল ভেদ করে একটা আলোর পুঞ্জ ছিটকে বার হয়ে এল। অন্ধকারে ভাটার মত জ্বলছে দুটো চোখ, নীলাভ তীব্র দীপ্তিতে, তারই আলোয় দেখা যায় একটা বিশাল গোল মুখ—আর তার সারা গায়ে ছেকে ধরেছে রাতের জোনাকি পোকা। অসংখ্য জোনাকি; পুঞ্জ পুঞ্জ আলোয় ওর সারা গা ভরিয়ে তুলেছে। বাতাসে জেগে ওঠে বিশ্রী বোটকা গন্ধ।
    এড়ক্ষণে স্তব্ধ আঁধার ঢাকা অরণ্যানী যেন সজীব হয়ে ওঠে। আমরা কোথায় হারিয়ে গেছি, বনের আড়ালে ঝোপের মধ্যে। নরেনবাবুও যেন ওই বনভূমির আতঙ্কিত রূপের অতলে হারিয়ে গেলেন।
    এগিয়ে আসছে মূর্তিটা। একবার কি ভেবে চারদিকে চাইল, গাছের দিকেও। স্তব্ধ আমরা-নিশ্বাস রুদ্ধ করে বসে আছি।
    বাঘটা তারপরই এগিয়ে গিয়ে পেছনের দুটো পা দিয়ে নিমেষের মধ্যে মরা বলদের দেহে ঢাকা দেওয়া ডালপাতাগুলো সরিয়ে ফেলতে থাকে সাঁ-সাঁ শব্দে।
    মনে হ’ল, তার সঞ্চিত খাদ্যে কেউ হাত দেয় নি দেখে নিশ্চিন্তই হয়েছে সে। তারপরেই শুরু হয় ভোজনপর্ব।
    নরেনবাবুর কথাটা যে কতখানি সত্যি তা বুঝতে পারি। স্তব্ধ দৃষ্টি মেলে কেমন বিভ্রান্তের মত চেয়ে থাকি আমি যেন কোন অন্য জগতে এসে পৌছেছি, হিংস আদিম কোন অতীতের জগতে।
    বাঘটা বলদের বিশাল বুকের মধ্যে মাথাটা ঢুকিয়ে দিয়েছে, পাজরার নীচে মাথা ঢুকিয়ে পরম তৃপ্তিভরে সে ক্ষুধা নিবৃত্তি করছে নিশ্চিন্ত মনে।
    হঠাৎ চিৎকার করতে যাব—ঠিক সেই মুহূর্তে আমার মুখ টিপে ধরল দীপু। যেন স্বপ্ন দেখছি আমি।
    বাঘটার কোনদিকে নজর নেই ; মাথাটা ঢোকান রয়েছে মরা বলদটার পেটের মধ্যে। সেখান থেকে একটা চকচক শব্দ উঠেছে মাত্র।
    ঝোপ থেকে বেরিয়ে এলেন নরেনবাবু-হাতে হেভি রাইফেল। কাছে এসেই ব্যারেলটা দিয়ে ঘাড়ে একটা গোত্ত দিতেই বাঘটা চকিতের মধ্যে তার রক্তাক্ত ভীষণ মুখখানা বার করে ওর দিকে চেয়ে হা করে ওঠে বাঘটা। তার দু'পাশের দুটো বড় দাঁত ঝকঝক করছে, দু'চোখে তার অপরিসীম জ্বালা।
    মুহূর্তের মধ্যে বাঘের মুখে রাইফেলের ব্যারেলটা গুজে দিয়ে ফায়ার করলেন নরেনবাবু।
  একটা অস্পষ্ট গর্জন। পুরোটা বার হলো না—অসমাপ্তই থেকে গেল! আহত বাঘটা ছিটকে পড়ল অদূরে —বারকতক লেজটা আছেড়েই স্তব্ধ হয়ে গেল সে।
    নরেনবাবুও গাছের ওপর মাচায় এসে উঠলেন। কয়েকটা জোরাল টর্চের আলো এসে পড়েছে নধর দীর্ঘ বলিষ্ঠ বাঘটার ওপর। দেখলাম, রক্ত ঝরছে কাকুরে মাটিতে—বাঘটা নড়ে না আর।
    হেভি রাইফেলের ওই গুলিতে ওর মাথার খুলি চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
   কয়েকটা মশালের আলো এগিয়ে আসে, ওরা দল বেঁধে আসছে হইচই করে। গ্রামের অনেক লোক। তাদের বনের আতঙ্ক, মনের আতঙ্ক দূর হয়েছে এতদিনে। অবাক হয়ে চেয়ে থাকে তারা।
    রক্তাক্ত বাঘট পড়ে আছে, প্রায় এগার ফুট লম্বা একটা নাগেশ্বরী চিতাবাঘ।
    আজ আর নরেনবাবু বেঁচে নেই। যে জায়গায় বাঘটা মারা হয়েছিল, সেখানের গহন অরণ্য আজ হারিয়ে গেছে, তার বদলে সেখানে গড়ে উঠেছে নতুন কল-কারখানা, নতুন জনপদ।
    দুর্গাপুর মামড়ার অরণ্যের এই স্মৃতিটুকু আজ কাহিনীতেই পর্যবসিত হয়েছে।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য