চোরের উপর বাটপারি -- সুচিত্রা ভট্টাচার্য

     পাক্কা ছ'মাস পর এবার জেল থেকে ছাড়া পেল সনাতন। খালাসের আগে নিয়ম মাফিক ডাক পড়েছে জেলারের ঘরে। গুটিগুটি পায়ে সনাতন হাজির হতেই বজ্রবাহু সাঁপুইয়ের জোর হুঙ্কার, ‘কী রে ব্যাটা, বেরিয়েই আবার চুরি শুরু করে দিবি তো?’
     সনাতন অতি বিনয়ী মানুষ। মিছে কথা বলাও তার ধাতে নেই। ঘাড় চুলকে বলল, ‘প্রত্যেকবার একই প্রশ্ন করেন কেন স্যার? জানেনই তো, চুরি আমাদের তিন পুরুষের পেশা।’ 
     ‘এটা এমন কিছু বড়মুখ করে বলার কথা নয়। নিজেকে শোধরা। ভালো হয়ে যা।’
     ‘ইচ্ছে তো করে স্যার। কিন্তু বংশের বৃত্তি ছেড়ে দিলে পাপ লাগবে না?’
     ‘ওরে আমার পুণ্যবান যুধিষ্ঠির রে! লজ্জা করে না, সাড়ে পাঁচ বছর এই জেলে আমি রয়েছি, তার মধ্যে চার-চারবার তোর চাঁদমুখ আমায় দেখতে হল!’
     দারোগা, জেলারদের সঙ্গে মুখে মুখে তর্ক করার অভ্যেস নেই সনাতনের। কিন্তু আজ যে কী মতিভ্রম হল, দুম করে বলে ফেলেছে, ‘লজ্জা তো আপনারই পাওয়ার কথা স্যার। সরকার আপনাকে প্রোমোশনও দেয় না, বদলিও করে না। এ কি আমার দোষ?’
     ব্যাস, আর যায় কোথায়। আগুনে যেন ঘি পড়ল। চিড়বিড়িয়ে জ্বলে উঠলেন বজ্রবাহু। আঙুল নাচিয়ে বললেন, ‘আমার সঙ্গে ফিচলেমি হচ্ছে, অ্যাঁ? এই বলে রাখছি, আমি থাকতে আর যদি এ মুখো হয়েছিস তো আমার একদিন কী তোর একদিন! তোর হাড় ক’খানা আমি গুড়ো গুড়ো করে ছাড়ব।’
     জেলারসাহেবের অগ্নিমূর্তি দেখে সনাতন আর কথা বাড়াতে ভরসা পেল না। ঢক করে ঘাড় নেড়ে চটপট কয়েদির পোশাক ছেড়ে পরে নিল প্যান্ট-শার্ট। জেলে থাকার সময় খেটেখুটে যে কটা পয়সা রোজগার করেছিল, গুনে-গেঁথে নিয়ে মানে মানে ফটক পেরিয়েছে।
     রাস্তায় নেমেও বজ্রবাহুর শাসনিটা সনাতনের কানে বাজছিল। ছ্যাঁ, ছ্যাঁ, জীবনে ঘেন্না ধরে গেল। জেলখানায় আসা-যাওয়ার স্বাধীনতাটুকুও আর থাকবে না। এই যে জেল থেকে বেরোনোর সময়ে গেটের পাহারাদার রামুদা কী দুঃখু দুঃখু চোখে তাকিয়ে থাকে, যেন বলতে চায় আবার হবে তো দেখা, এ দেখাই শেষ দেখা নয় তো... এই আকুতি কি মিথ্যে হয়ে যাবে?
    সত্যি বলতে কী, উঁচু পাঁচিলের অন্দরেই দিনগুলো বেশি সুখে কাটে সনাতনের। বাইরে থাকা মানেই তো হ্যাঙ্গামা। আজ রাতে এদিকে ছোট তো কাল রাতে ওদিকে। ভিতরে আহার নিদ্রা নিয়ে কোনও দুর্ভাবনা নেই। টাইমে টাইমে খানা, রাত্তিরে তোফা ঘুম। নিয়মিত যাতায়াতের সূত্রে ইয়ারদোস্তও কম নেই। তাদের সঙ্গে মৌজমস্তিও চলে জব্বর। তবে এর পরে এলে আর অত আরাম থাকবে কি? যা চটলেন জেলারবাবু, নির্ঘাত ঠেঙিয়ে ঠেঙিয়ে প্রাণের ঝাল মেটাবেন। ধোলাইকে অবশ্য সনাতন পরোয়া করে না, খাওয়ার অভ্যেস তো আছেই। ধরতে পারলে চোরকে কি কেউ সহজে ছাড়ে? একচোট গোবেড়েন দিয়ে তবেই না ডাকে পুলিশকে। কিন্তু জেলে ঢুকেও যদি মার খেতে হয়, মানসম্মানের আর রইল কী!
     তা হলে সনাতনের এখন কী করা উচিত? বজ্রবাবুর দাবড়ানি খেয়ে ছেড়েই দেবে লাইন? চুরিবিদ্যে ছাড়া আর সে জানেটা কী? গেরস্তবাড়ি বা কোনও দোকান-টোকানে যে কাজ ধরবে, সে গুড়ে মন মন বালি। এ তল্লাটে সনাতন অতি চেনামুখ। সাধ করে কে তাকে পুষবে? একমাত্র মোটফোট বওয়া যেতে পারে। তবে আগে এক-দুবার চেষ্টা করে দেখেছে সনাতন, পোষায়নি। বড্ড ধকল, তুলনায় রোজগার কম। তা ছাড়া কাঁধের মাল লোপাট করার জন্য হাতটাও কেমন যেন নিশপিশ করে। নাঃ, ওসব ছ্যাচড়ামির ফাঁদে পা দিতে মন সায় দেয় না সনাতনের।
     তালবেতাল ভাবতে ভাবতে আচমকাই সনাতন একটা উপায় ঠাওরেছে। কেন মরতে পড়ে থাকা এই শহরটায়? এখানে তো তিনকুলে তার কেউ নেই। কেটে পড়লেই তো হয়। কোথাও গিয়ে নতুন করে পুরোনো ধান্দায় নেমে পড়লে কে আটকাচ্ছে? তার শিল্পী হাত দুটো তো আছে। যেখানেই যাবে, করে খাবে। লাভের মধ্যে লাভ, অন্তত বজ্রবাহুর থাবায় আর পড়তে হবে না।
     মতলবটা ভেজে নিয়ে সনাতন আহ্বাদে ডগমগ। সোজা বাসগুমটির দিকে চলেছে। পথে বাজারের সামনে থমকে দাঁড়াল। যদুময়রার দোকানে শিঙাড়া-জিলিপি ভাজা চলছে, ঘনশ্যামবাবুর রেস্টুরেন্টে চপ-কাটলেট। নানান সুখাদ্যের গন্ধে বাতাস ম ম। ওই সুবাসেই বুঝি সনাতনের খিদে চনচন করে উঠল। তা পকেটে টাকা যতক্ষণ আছে, ভাবনা কী? বুড়িমার হোটেলে ঢুকে দেদার মাংস-ভাত সাঁটাল সনাতন। পেট ভরতেই জড়িয়ে এল চোখ, বাসগুমটির সিমেন্টের বেঞ্চিতে গিয়ে লম্বা হয়েছে।
     ঘুম ভাঙল সাঁঝবেলায়। তুড়ি মেরে হাই তুলতে তুলতে উঠে বসল সনাতন। ফুরফুরে বাতাস বইছে। ওই বাতাসেই বুঝি সনাতনের মন হঠাৎ উদাস। জন্মে ইস্তক এই শহরেই রয়েছে সে। এখানেই মা মরল, বাবা মরল, কত কষ্টেসৃষ্টে
সে হাতের কাজ শিখল...। দুম করে এখান থেকে পাততাড়ি গোটাবে? তাও আবার আজই? এক্ষুনি? আদৌ না গেলে কী হয়?
     ওমনি বজ্রবাহুর গর্জন কানে আছড়ে পড়ল। এখানে থাকলে কাজকর্ম করতেই হবে এবং ধরা পড়লে কারাগারে যেতেই হবে। আর সেখানে গেলে তো এবার...।
     সনাতন ফোঁস করে একটা শ্বাস ফেলল। নাঃ, কেটে পড়াই শ্রেয়। তবে আজকের রাতটা থাক, কাল ভোরেই নয় রওনা দেবে। ব্যাজার মুখে সারাসন্ধে ঝুম হয়ে বসে রইল সনাতন। রাতে আর কিছু খেল না। চারদিক নিশুত হয়ে আসার পর উঠে পড়েছে। দেশত্যাগী হওয়ার আগে পুরোনো চেনা শহরটাকে শেষবারের মতো দেখে নেবে।
     এ পাড়া ও পাড়ায় ঘুরল কিছুক্ষণ। নির্জন রাস্তায় তারস্বরে চেঁচাচ্ছে কুকুরগুলো। শুনতে মন্দ লাগছিল না সনাতনের। ব্যাটারা বিদায়ীসঙ্গীত গাইছে যেন। মোটামুটি চক্কর মেরে সনাতন জেলখানার সামনে এসে দাঁড়াল। এই শহরে তার সবচেয়ে প্রিয় আস্তানা। আর এখানে আসা হবে না, ভাবলেই মনটা কষ্টে মরে যায়।
     জেলখানার পাশের রাস্তাটা ধরে হাঁটতে শুরু করল সনাতন। ফাঁকা পথ। দু-ধারের বাতিগুলো ঠিকঠাক জ্বলছে না আজ। বেশ একটা আবছায়া দানা বেঁধেছে যেন। জেলখানাটা পেরিয়ে সনাতনের পা আটকে গেল সহসা। পাশেই একটা একতলা বাড়ি। দরজায় প্রকাণ্ড তালা ঝুলছে। ভিতরে ঘুরঘুট্টি আঁধার। এই চৈত্র মাসেও সব ক’টা জানলা বন্ধ। নির্ঘাত কেউ নেই।
     কথাটা মনে হতেই সনাতনের প্রাণ আনচান। যাওয়ার আগে শেষ একটা দাও মেরে যাবে নাকি?
     তখনই পিছনে এক মোলায়েম গলা, এখানে কী উদ্দেশ্যে ভাই?’
   ভীষণ চমকাল সনাতন। ঘুরে দেখল, একটা ট্যাঙা লোক তার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসছে। পুলিশও নয়, জেলখানার কোনও পেয়াদাও নয়, একদম অচেনা মুখ।
     সনাতন ঢোক গিলে বললে, না, মানে এমনিই একটু ঘুরতে ঘুরতে... ?
     ‘হ্যা। মানে..না। মানে হ্যাঁ!! কী জবাব দেবে ঠিক ভেবে উঠতে পারছিল না সনাতন | জোর করে একটা তেরিয়া ভাব আনল গলায়, তাতে আপনার কী দরকার?
     আছে, আছে। যদি তুমি চোর হও, তোমাকে আমার কাজে লাগবে?
     ‘মানে?’
     ‘পকেটে চাবিটা নেই, তোমাকে দিয়ে তা হলে তালাটা খুলিয়ে নিতাম।’
     সনাতনের অস্বস্তি বুঝি কাটল খানিকটা। এই লোকটা তার মানে বাড়ির মালিক? কিন্তু হুট করে নিজেকে চোর বলে স্বীকার করে নেওয়া কি ঠিক হবে?
     লোকটা এবার গাল ছড়িয়ে হাসছে, এত সংকোচ করছ কেন? নিশ্চিন্ত থাকতে পারো, আমি চেঁচামেচি করব না। অবশ্য যদি নেহাতই ছিচকে চোর হও, তবে এই তালা খোলা তোমার কম্মো নয়। চুপচাপ সরে পড়তে পারো।
     ফস করে সনাতনের আঁতে লেগে গেল। কাঁধ বাকিয়ে বলল, দুর, দুর! এ তালা খোলা তো বা হাত কা খেল!'
     তবে খেলাটি দেখাও। চক্ষু সার্থক করি! 
     ‘একটা তারটার গোছের কিছু যদি থাকত। সনাতন পকেট হাতড়াল, সরঞ্জাম তো কিছু কাছে নেই।
     স্কু-ডাইভারে চলবে? 
     আছে নাকি?’ 
     ‘থাকে সঙ্গে। যদি কারও কাজেকম্মে লাগে৷’
     ভারী মজার লোক তো! অন্যের জন্য স্ক্রু-ডাইভার পকেটে নিয়ে ঘোরো! সরু মুখওয়ালা যন্ত্রটা নিয়ে শিল্পকর্মে মন দিল সনাতন। খোঁচাখুঁচি করতে করতে চাপ দিল মাপমতো। ব্যাস, তালা হা।
     লোকটা সনাতনের পিঠে আলতো চাপড় কষাল, বেড়ে ওস্তাদ তো। চলো, এবার বাড়ির ভিতরে তোমার কেরামতি দেখি।
     দরজা ঠেলে অন্দরে পা রাখল সনাতন! লোকটা আলো জ্বালাল না, তাকাল ইতিউতি। তাতে অবশ্য সনাতনের অসুবিধে নেই। অন্ধকারে চোখ না চললে এতদিন এই লাইনে সে করেকম্মে খাচ্ছে কী করে?
     আন্দাজ করতে পারছ?’
    আজ্ঞে, পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। ওই তো পরপর দুটো দরজা, ওপাশে রান্নাঘর, ভাড়ার ঘর... ?
     ‘বাঃ, বাঃ! আমাকেও হার মানিয়ে দিলে হে। আমিও তো এত নিখুঁত বলতে পারব না।’
     ‘কেন লজ্জা দিচ্ছেন স্যার ? সনাতন গা মোচড়াল, যদি অনুমতি দেন তো আর-একটা খেলা দেখাতে পারি।
     ‘কীরকম?’ 
     ‘বাড়িতে কোথায় কোথায় টাকাপয়সা রাখা আছে, বের করে দিতে পারি।’
     ‘বলো কী হে? এমনটা পারা যায় নাকি?’ 
     আজ্ঞে, আমার গুরুদেব একটা মন্ত্র দিয়েছিলেন। সেটা জপ করে শুভ কাজে নামলে আপনা আপনি টাকাপয়সার বাস পাই।’
     ‘তোমার গুরুদেবটি কে?”
     আমার বাবা। শ্ৰীযুক্ত বাবু বৃন্দাবন। তিনি মন্ত্রটি পেয়েছিলেন তাঁর বাবার কাছ থেকে।’
     ‘তোমার বংশটি তো বেশ সরেস। তা দেখাও দেখি তোমার ভোজবাজি। আলোটালোগুলো কি জেলে দেব?’
     কিছু লাগবে না স্যার। আঁধারেই তো এই খেলাটা জমে। বলতে বলতে সামনের ঘরটায় ঢুকে পড়ল সনাতন। মনে মনে আওড়াল,

আঁধারং আঁধারং, 
অর্থম অনৰ্থং। 
হিং টিং ছট, উলটে দেব ঘট।
ক্রিং ফুং টুম 
কোথায় গেলি বাপ? 
নিশিকুটুম্ব আহ্বানং 
কেঁচো খুঁড়তে সাপ। 

ব্যাস, সনাতন পেয়ে গিয়েছে গন্ধ। মিশমিশে অন্ধকারেই টেবিলের ড্রয়ার খুলে বের করে আনল বেশ কয়েকখানা নোট। আলমারির মাথা থেকে নামিয়ে ফেলল খুচরো টাকায় বোঝাই টিনের কৌটো। বিছানার তলা থেকে পেয়ে গেল এককাড়ি সিকি-আধুলি। টুপ করে এক খাবলা পকেটস্থ করতে সাধ যাচ্ছিল, কোনওক্রমে সংবরণ করল লোভ। গৃহস্থের সামনেই তাঁর ধন লোপাট করাটা সনাতনের ধর্মে বাঁধে। টাকাপয়সার সবটাই লোকটার হাতে তুলে দিয়ে বলল, “খোলা জায়গায় মোটামুটি এই-ই আছে। বাকিটা আলমারিতে। ঠিক বলছি? 
     ‘তুমি তো ঠিক-বেঠিকের বাইরে চলে গিয়েছ হে! আমাকে মুহুর্মুহু চমকে দিচ্ছ। এবার হয়তো বলে বসবে গয়নাগটির হদিসও তোমার অজানা নেই।’
     ‘আজ্ঞে, সেটিও অনুমান করেছি বইকি। কোণের ওই বেঁটে সিন্দুকটায়...।’
     ‘বিড়ালকেও তো তুমি হার মানালে। চাবি ছাড়া নিশ্চয়ই সিন্দুক খোলার মুরোদ হবে না?
     জবাব না দিয়ে, কাছে গিয়ে, সিন্দুকে আলগা হাত বোলাল সনাতন। লজ্জা লজ্জা মুখে বলল, “কম্বিনেশন লক। যদি অনুমতি দেন তো চেষ্টা করে দেখতে পারি।
     ‘বেশ তো, পারলে খোলো।’ 
     বড় গোল হাতলখানা কয়েক পাক ঘোরাল সনাতন। পাশের ছোট্ট হাতলটাকেও ঘুরপাক খাওয়াল। তারপর একবার বড়টাকে মোচড়ায়, একবার ছোটটাকে । কান নিয়ে গেল সিন্দুকের গায়ে। মিনিটপাঁচেক পর কট করে শব্দ। এবার চাপ দিয়ে একটা টান, খুলে গেল সিন্দুক।
     সনাতনের হাসি আর ধরে না। দু-হাত ঝেড়ে বলল, ‘পেরেছি স্যার।’
     ‘গুড। ভেরি গুড।’ 
    ‘এবার তা হলে আবার লাগিয়ে দিই?’ আহা, থাক না। চলো, অন্যত্র যাই।’ 
     ‘কোথায় স্যার ?’ 
     তুমি এত খেলা দেখালে, এইবার আমি কী পারি তুমি দ্যাখো।”
     কৌতুহলী সনাতন লোকটার পিছু পিছু বেরিয়ে এল। পাশের ঘরে ঢুকেছে। এখানে তেমন কিছু আছে বলে মনে হল না সনাতনের। শুধু একগাদা বই, টেবিল, চেয়ার, একখানা জাম্বো সাইজ টিভি, আর মোড়াটোড়া গোছের কিছু হাবিজাবি আসবাব। কেন এ ঘরে এল বোঝার আগে হঠাৎই লোকটা উধাও। বাইরে থেকে দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল দরজা। দৌড়ে গিয়ে টানল সনাতন, কিন্তু দরজা আর খুলল না।
     সনাতন ব্যাজার মুখে চেঁচিয়ে উঠল, ‘এটা কেমন রসিকতা হল স্যার? আমি তো আপনাকে না জানিয়ে কিছু করিনি। বাইরে থেকে খ্যাকখ্যাক হাসি উড়ে এল, ‘এখন সারারাত ধরে বসে ভাবো, কোন খেলাটা বেশি জব্বর? তোমারটা? না আমারটা?
     জোর ধন্দ জাগল সনাতনের। ‘কাঁপা কাপা গলায় বলল, মানে?’
    আলো জ্বাললেই টেরটিপাবে। লোকটার হাসি চওড়া হল,‘কিছু মনে করো না ভাই, টাকাকড়ি গয়নাগাঁটিগুলো আমার জিন্মায় রইল। গোটা রাত চেষ্টা করেও যা হয়তো আমি পারতাম না, মাত্র আধঘণ্টায় তুমি তা করে দেখিয়েছ। ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। চলি ভাই!’
     সর্বনাশ, এ তো চোরের ওপর বাটপারি। গোমুখ্যুর মতো এই লোকটাকেই কিনা বাড়ির মালিক ভেবে নিয়েছিল সনাতন! কিন্তু এখন সে বেরোবে কী উপায়ে? দৃষ্টি যেন আর কাজ করছে না, সনাতন এখন করেটা কী?
     হাতড়ে হাতড়ে সুইচবোর্ডের কাছে গিয়ে আলোটা জ্বালল সনাতন। টেবিলে চোখ পড়তেই রক্ত হিম। বাঁধানো ফোটোটা কার? এ যে বজ্রবাহু সাঁপুই!
সব্বোনাশ, শেষে কিনা সনাতন ফের বাঘেরই গুহায় বন্দি!
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য