মূর্খদের তালিকা

    ভুল, বোকামি, মূর্খামি মানুষমাত্রেই করে এবং তার ফলও হাতে-হাতেই পায়। অতিবড় বুদ্ধিমানও অনেক সময় মূর্খের মতো কাজ করে বসেন। বাদশা আকবরের মতো অতি বিচক্ষণ এবং অতি বুদ্ধিমানও তেমনি কাজ করেছিলেন।     একবার এক ঘোড়া ব্যবসায়ী নানা জাতের বাল ভাল ঘোড়া নিয়ে বাদশার কাছে এসেছিল বিক্রি করতে।
   বাদশা তার থেকে একটা পছন্দমতো ঘোড়া কিনলেন এবং ওই একই জাতের একটি মাদী ঘোড়া চাইলেন।
কিন্তু তার সঙ্গে ওই জাতের মাদী ঘোড়া ছিল না। ব্যবসায়ী জানাল, অগ্রিম পেলে সে ওই জাতের একটি মাদী ঘোড়া এনে দেবে।
    বাদশা রাজি হলেন এবং দামদস্তর ঠিক করে একথলি স্বর্ণমুদ্রা তাকে অগ্রিম হিসেবে দিলেন। উদারহৃদয় এবং সততার মূর্ত প্রতীক বাদশা আকবর কখনও ভাবেননি যে, ওই ব্যবসায়ী একজন ঠগ এবং সে বাদশার দেওয়া অগ্রিম মোহর মেরে দেবে।
    কিন্তু বাস্তবে তাই ঘটল। সেই ঘোড়া ব্যবসায়ী আর ফিরে এল না।
    বাদশা মনে বড় ব্যথা পেলেন। আল্লার শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ, তাঁর সৃষ্ট জীবও ঠগ হয়!
    বাদশা বুঝলেন তিনি কী মূর্খের মতো কাজ করেছেন। যে কেউ শুনলে আমাকে মূর্খ বলবে। বীরবলকে তিনি রাজ্যের সমস্ত মূর্খদের একটা তালিকা তৈরী করতে বললেন।
    বীরবল আদেশমতো একটি তালিকা গ্রন্থ করে কয়েকদিনের মধ্যেই বাদশাকে দিলেন। এত তাড়াতাড়ি তালিকাটি পাওয়ায় তিনি খুব খুশি হলেন বীরবলের ওপর।
তালিকাটির ওপর নজর পড়তেই তার চক্ষুস্থির! বাদশা দেখলেন তালিকার প্রথম নামটিই তাঁর।
    বাদশা চিৎকার করে উঠলেন, বীরবল, তোমার গর্দান যাবে। তোমার স্পর্ধা তো কম নয়। রাজ্যের মূর্খদের তালিকায় পয়লা নাম আমার! আমি এক নম্বর মূর্খ। আমি সারা ভারতবর্ষের শাহেনশা, আমাকে তুমি মূর্খ বলছ!’
   বীরবল বিনীতভাবে বললেন, ‘বাদশা আকবরের এত উত্তেজিত হলে কি চলে? আগে আমার কথা শুনুন, তারপর আপনি যে শাস্তি আমাকে দেবেন আমি তা মাথা পেতে নেব। বিচার না করে শাস্তি দেওয়া কি ঠিক জাঁহাপনা! এমন মূর্খ কি একজনও এই ভারতবর্ষে আছে যে একজন বিদেশি অপরিচিত লোককে একথলে মোহর অগ্রিম দেবে? আপনি কি তাই দেননি?’
    বাদশা একটু নরম হলেন। তিনি বললেন, তুমি কী করে জানলে যে, সে আর ফিরে আসবে না?”
    বীরবল মুচকি হেসে বললেন, যদি সে আবার ফিরে আসে তবে আপনার নাম কেটে সেখানে তার নামটা বসিয়ে দেব আর আমাকে যে শাস্তি দেবেন তাই আমি মাথা পেতে নেব।”
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য