বত্রিশ পুতুলের উপাখ্যান: ২৭তম উপাখ্যান

    পরদিন সুখসাগরা নামে একটি পুতুল এই গল্পটি বললো।
   পৃথিবী পর্যটনে বেরিয়ে রাজা বিক্রমাদিত্য এক ধাৰ্মিক রাজার রাজ্যে প্রবেশ করলেন। সেই রাজ্যের প্রজারাও ছিল সদাচারী, অতিথিপরায়ণ ও দয়াশীল।
   সেখানে তিন-চার দিন থাকবেন ঠিক করে বিক্রমাদিত্য এক দেবালয়ে প্রবেশ করে দেবতাকে প্ৰণাম করে মণ্ডপে বসলেন।
   এই সময় রাজপুত্রের মত দেখতে অতি সুদৰ্শন এক যুবককে দেখতে পেলেন। সঙ্গের লোকদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পর সেই যুবক আবার চলে গেল!
   রাজা বিক্রমাদিত্য মনে মনে চিন্তা করলেন, কে এই যুবক!
   দ্বিতীয় দিন সেই যুবক একা এসে মন্দিরে বসলো। এবার কিন্তু তার দেহে অলংকার ছিল না।
   দেহ গতকালও ছিল অলঙ্কারভূষিত, সঙ্গে ছিল অনেক লোক। আজ কেন তোমার এই অবস্থা?
   সেই যুবক বললো, গতকাল আমি সেইরকমই ছিলাম কিন্তু দৈবদোষে আজ আমার এই অবস্থা হয়েছে।
রাজা বললেন, কে তুমি ?
   যুবক বললো, আমি একজন জুয়ারী। পাশা খেলায় আমার হাত পাকা, তাছড়া আমি শারীরক্রীড়াও জানি, বুদ্ধিবলও যথেষ্ট আছে। কিন্তু সবই নিরর্থক, দৈববলই প্রকৃত বল।
   রাজা বললেন, বিচক্ষণ হয়েও কেন তুমি এমন পাপ কাজ কর?
   যুবক বললো, জুয়া খেলাই আমার জীবিকা, কি ভাবে তা ত্যাগ করব? যদি আপনি অর্থোপার্জনের কোন উপায় করে দিতে পারেন তবে এসব ছেড়ে দেব।
   এই সময় দুই বিদেশী ব্রাহ্মণ এসে দেবালয়ের একপাশে বসে পরম্পরে আলোচনা করতে লাগলেন। একজন বললেন, আমি পিশাচলিপি দেখেছি, তাতে লেখা আছে এই মন্দিরের ঈশান কোণে তিন ঘড়া মোহর পোঁতা আছে; তবে তার কাছেই আছে এক ভৈরব মূর্তি। যে নিজের গলা কেটে দিয়ে ভৈরবকে তৃপ্ত করতে পারবে সে ঐ ধনের অধিকারী হবে।
   রাজা বিক্রমাদিত্য এই কথা শুনে সেখানে উপস্থিত হয়ে যেই নিজের গলা কেটে ভৈরবকে তৃপ্ত করতে উদ্যত হয়েছেন অমনি ভৈরব দেখা দিয়ে বললেন, তোমার ত্যাগ ও সাহস দেখে তুষ্ট হয়েছি, বর প্রার্থনা কর।
   রাজা বললেন, যদি তুষ্ট হয়ে থাকেন তবে এই যুবককে কলস তিনটি দিন।
   ভৈরব রাজার কথামত তা দিলে যুবক রাজার প্রশংসা করে ফিরে গেল। রাজা বিক্রমাদিত্যও নিজ নগরে ফিরে এলেন।
   পুতুল বললো, মহারাজ, আপনার কি এমন গুণ আছে?
   সেদিনও ভোজরাজের সিংহাসনে বসা হল না।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য