ঋণ পরিশোধ -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

   মোল্লা গেছেন শহরের সরাইখানায়। খিদে পেয়েছে, তাই পরপর তিনটা সিদ্ধ ডিম খেয়ে পকেটে হাত দিয়ে দেখেন—কানাকড়িও নেই। তাই মালিকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন-ফের যখন শহরে আসবে, তখন দামটা চুকিয়ে দেবে।’
   ‘তাতে কি হয়েছে মোল্লাজী! ’–পরে সময় করেই দাম দেবেন।’ 
   বছরখানেক পর মোল্লা গেলেন শহরে। মনে পড়লো সরাইখানার বাকীর কথা । ‘ভাইসাব, আপনার সে তিনটে সেদ্ধ ডিমের দাম বাকী রয়েছে । কত দিতে হবে?
   মালিক অনেকক্ষণ ধরে বিড়বিড় করে কী সব হিসেব করে বলে—বেশী নয়, আপনার কাছে পাওনা দেড়শো মুদ্রা।
   ‘সে কি ? তিনটে ডিমের দাম এতো ? 
   ‘তা হবে না ? ধরুন, আপনি যদি ও তিনটে ডিম না খেতেন, তাহলে তিনটে মুরগী হতো । এক-একটা মুরগী ছ'মাসের মধ্যে কমপক্ষে একশো ডিম পাড়লে, তিনশো হয় ; আবার ঐ ডিমকে বাচ্চা বসালে অনেক, অ-নে-ক বাচ্চা হয় । সেই বাচ্চা বড় হয়ে আবার ডিম, আবার বাচ্চা, আবার ডিম পাড়লে....’
   ‘বটে ? তুমি এক পয়সাও পাবে না। যা খুশী কর।’ রেগে চলে এলেন মোল্লা।
   এদিকে সরাইখানার মালিক বাদশার কাছে নালিশ করলো । বাদশা নাসিরউদ্দিনকে তলব করলেন।
   নির্দিষ্ট দিনে একটা পুরোনো এক বেলচা নিয়ে হাজির হলেন দরবারে । বেশ দেরী করেই যাবার জন্য বাদশা রেগে আছেন । বলেন, “সেই কখন আসার কথা, আর এলে এই সন্ধেবেলায় । খুব সময়জ্ঞান তো '
   ‘জাহাপনা?—মোল্লা নিবেদন করে, একা মানুষ তো! আপনার না হয় সাম্রাজ্য আছে, কিন্তু আমাকে তো খেটে খেতে হয় । তাই এ বারের গম চাষের জন্য গম বীজগুলোকে সিদ্ধ করছিলাম। ঐ সেদ্ধ বীজগুলোকে পুতছি –এমন সময় তলবের কথা মনে পড়ায় তড়িঘড়ি ছুটে এলাম। এই দেখুন হাতে বেলচা।’
   ‘বেকুফ, বোকা পাঁঠা কোথাকার ? গমের সিদ্ধবীজ থেকে কখনো কি অঙ্কুর গজায়?
   ‘কেন নয় হুজুর ? কুর্ণিশ করতে করতে মোল্লার আর্জিঃ ‘জাহাপনা, যদি সেদ্ধ ডিম থেকে শয়ে-শয়ে, হাজারে-হাজারে মুগীর বাচ্চা গজায়, তাহলে সেদ্ধ গম বীজ কি দোষ করলো ?
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য