বেতালপঞ্চবিংশতি: বিংশ গল্প

     বিশালপুর নগরে অর্থদত্ত নামে এক ধনী বণিক বাস করতেন। তিনি কমলপুরবাসী মদনদাস বণিকের সঙ্গে মেয়ে অনঙ্গমঞ্জরীর বিয়ে দিলেন।
     বিয়ের কিছুদিন পর মদনদাস তার স্ত্রী অনঙ্গমঞ্জরীকে তার বাবা মার কাছে রেখে বাণিজ্য করতে বিদেশে রওনা হলো ।
     একদিন অনঙ্গমঞ্জরী জানালায় দাঁড়িয়ে রাস্তার লোকজন চলাচল দেখছিল। এমন সময় কমলাকর নামে এক সুন্দর ব্রাহ্মণপুত্রকে দেখে সে মুগ্ধ হলো। কমলাকরও তাকে দেখে মুগ্ধ হলো ।
      দু'জনেই দুজনের জন্য নাওয়া খাওয়া সব ছেড়ে দিল।
    অনঙ্গমঞ্জরীর সখী ঠিক করলো,  এ অবস্থায় কমলাকরকে এখানে আনতে না পারলে অনঙ্গমঞ্জরীকে কিছুতেই বাঁচানো যাবে না। তাই সে কমলাকরের বাড়িতে গিয়ে সমস্ত ঘটনা বলে তাকে অনঙ্গমঞ্জরীর কাছে যেতে বললো।
    কমলাকর সমস্ত শুনে তখনই অনঙ্গমঞ্জরীর সঙ্গে দেখা করতে ছুটলো। কিন্তু তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে, অনঙ্গমঞ্জরী প্রাণত্যাগ করেছে !
     কমলাকরও দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাটিতে পড়ে গেল। সেই যে পড়ল, সে আর উঠল না।
     দু'জনকেই শ্মশানে নিয়ে গিয়ে একই চিতায় দাহ করা হলো। ঠিক সেই সময় মদনদাসও সেখানে উপস্থিত হলো। সব কথা শুনে সেও মনের দুঃখে জুলন্ত চিতায় ঝাঁপ দিয়ে প্রাণত্যাগ করল।
     বেতাল বললো, বল মহারাজ, এই তিনজনের মধ্যে কার ভালবাসা সবচেয়ে বেশী ছিল?
     রাজা বললেন, মদনদাস ! 
    বেতাল বললো, কেন ?  রাজা বললেন, অনঙ্গমঞ্জরী আর কমলাকর তারা একে অপরকে ভালবাসতো তাই মনের দুঃখে দু'জনেই মারা গেল। কিন্তু মদনদাসের কথাই চিন্তা কর, তার স্ত্রী তাকে ভালবাসে না জেনেও সে প্রাণ ত্যাগ করল। তার ভালবাসা অনেক বেশী ছিল।
    উত্তর শুনে বেতাল আবার গাছে গিয়ে ঝুলল আর রাজাও তাকে নামিয়ে রওনা দিলেন । বেতালও একবিংশ গল্প আরম্ভ করল ।
Previous
Next Post »
0 মন্তব্য