মোল্লাসাহেবের ডাক্তারী -- মোল্লা নাসিরউদ্দিন

নাসিরউদ্দিন মাঝে মাঝে চিকিৎসাও করতেন জনসাধারণের । বলা বাহুল্য বিনা পয়সায়, এবং তাদের সারিয়েও তুলতেন ।নাসিরউদ্দিনের চিকিৎসার প্রশংসা প্রজাসাধারণের কাছে শুনে, এক উজীর এলেন মোল্লা সাহেবের কাছে ।

"শুনেছি আপনি বিনা পয়সায় ভালো চিকিৎসাই করেন । নামডাকও হয়েছে । আমি এক মোহর ফি দিচ্ছি, দয়া করে আমাকে
সারিয়ে তুলুন।
নাসিরউদ্দিন বললেন, ‘ আপনার কী অসুবিধে হচ্ছে বলুন।’
‘আজ্ঞে গায়ে প্রচুর মেদ জমেছে, হাঁটতে চলতে বেজায় অসুবিধা।’

‘ঠিক আছে, দেখছি। পেট, বুক ভুঁড়ি, পিঠ সব পরীক্ষা করে নাসিরউদ্দিন বললেন—আমার বাবার সাধ্যও নেই আপনাকে সারাবার। আপনি এক মাসের মধ্যেই অক্কা পাবেন।
এই কথা শুনেই না রোগীর চক্ষু চড়কগাছ । ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়ী গিয়ে সেই যে শয্যা নিলেন, আর ওঠেন না। খাওয়া দাওয়ার ইচ্ছেও চলে গেল -এভাবে একমাস কেটে গেল ।
রোগা হাড়-জিরজিরে চেহারা নিয়ে উজীর গেলেন নাসিরউদ্দিনের বাড়ী।
রেগে বললেন উজীর ‘তুমি ডাহা মিথ্যেবাদী। এক মোহর নিয়ে বাজে কথা বলেছ। এই দ্যাখ, এক মাস হয়ে গেল, আমি মরিনি। তুমি ডাক্তারীর কিচ্ছু জান না ?
তাই নাকি? মােল্লা হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমি মৃত্যুভয় দেখিয়েছিলাম বলেই না খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে এই এক মাসে গায়ে
এতটুকুও মেদ নাই ! এবারে দেখুন সব রোগব্যাধি চলে গেছে, এবং তা আমারই ব্যবস্থাপত্রে।



Previous
Next Post »
0 মন্তব্য